সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো ক্রমেই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কার্যকর প্রতিরোধ ও অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যায় বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি বেড়ে ১৯৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে এ অঞ্চলে বন্যার কারণে বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ২১০০ সাল নাগাদ এই ক্ষতি বেড়ে ৫২০ বিলিয়ন থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।
উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে সময়মতো বিনিয়োগ করলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ খাতে বছরে ৯ বিলিয়ন থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে বার্ষিক ১৭৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে।
এডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসব অঞ্চলের জনবসতি, জীবিকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে ফেলছে।
ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এডিবির সদস্য দেশগুলোতে ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ সমুদ্র উপকূলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করেন। এসব এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও পর্যটনকেন্দ্র থাকায় উপকূলীয় দুর্যোগের প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতির বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে।
ব্যাংকক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোও উপকূলীয় বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এসব শহরে বর্তমানে শত বছরে একবার ঘটার মতো ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যা প্রতিবছর ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, উচ্চ কার্বন নিঃসরণের পরিস্থিতিতে ২১০০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র প্রবালদ্বীপনির্ভর দেশগুলোর বার্ষিক বন্যাজনিত ক্ষতি তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি বন্দর কার্যক্রম ও বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে প্রতিবছর ৪০ বিলিয়ন থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বা বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অভিযোজন পরিকল্পনা ও অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান
উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় এডিবি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজন অন্তর্ভুক্ত করা, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ২০১৫ সালের ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২২–২০২৩ সালে বার্ষিক গড়ে ১১.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অর্থায়নের ঘাটতি এখনো উল্লেখযোগ্য।
এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং যৌথ অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর ৩৩টি নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর পলাশী মোড়ে প্রতিমা বিসর্জনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ। তিনি জানান, এবার ঢাকা মহানগরীর ৩৩টি স্থানে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকেশ্বরী থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত বিসর্জন শোভাযাত্রা ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে প্রতিমা বিসর্জনের মূল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে রাজধানীর ওয়াইজঘাট এলাকায় গিয়ে শেষ হবে। সেখানে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করা হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নির্ধারিত স্থানে আনার প্রস্তুতি চলছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো কার্যক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তায় পুলিশের একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং পুলিশের অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), এসআরইউ ও এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিমা বিসর্জনের পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এবারের দুর্গাপূজা ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিসর্জনের বাকি সময়ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরবাসীর সহযোগিতা চাইল ডিএমপি প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন সফল করতে রাজধানীবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার। তিনি সবাইকে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রেখে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। ডিএমপির প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও নগরবাসীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো ক্রমেই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কার্যকর প্রতিরোধ ও অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যায় বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি বেড়ে ১৯৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে এ অঞ্চলে বন্যার কারণে বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ২১০০ সাল নাগাদ এই ক্ষতি বেড়ে ৫২০ বিলিয়ন থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে সময়মতো বিনিয়োগ করলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ খাতে বছরে ৯ বিলিয়ন থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে বার্ষিক ১৭৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে। এডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসব অঞ্চলের জনবসতি, জীবিকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে ফেলছে। ঝুঁকিতে কোটি কোটি মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এডিবির সদস্য দেশগুলোতে ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ সমুদ্র উপকূলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করেন। এসব এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও পর্যটনকেন্দ্র থাকায় উপকূলীয় দুর্যোগের প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতির বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ব্যাংকক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোও উপকূলীয় বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এসব শহরে বর্তমানে শত বছরে একবার ঘটার মতো ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যা প্রতিবছর ঘটতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ কার্বন নিঃসরণের পরিস্থিতিতে ২১০০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র প্রবালদ্বীপনির্ভর দেশগুলোর বার্ষিক বন্যাজনিত ক্ষতি তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি বন্দর কার্যক্রম ও বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে প্রতিবছর ৪০ বিলিয়ন থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বা বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অভিযোজন পরিকল্পনা ও অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় এডিবি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজন অন্তর্ভুক্ত করা, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ২০১৫ সালের ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২২–২০২৩ সালে বার্ষিক গড়ে ১১.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অর্থায়নের ঘাটতি এখনো উল্লেখযোগ্য। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং যৌথ অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি।
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের কবল থেকে মুক্ত হওয়া দেশকে কিভাবে নতুন করে বিনির্মাণ করা যায় এবং তাতে দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা কেমন হবে তার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সভায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের আকাঙ্ক্ষা, দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ, দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা এবং আগামী স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন। একই সাথে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়েও কথা বলেন। গত ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে আয়েজিত সাংগঠনিক সভায় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরীর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টায় রেডিসনে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিক সভায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে। এখন দায়িত্বে থাকার কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না, সেগুলো বাস্তবে রূপ দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ কী চায়, তাদের প্রত্যাশা কী এবং কোন সমস্যাগুলো তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে সেগুলো বুঝতে হবে। জনগণের কথা শুনে তাদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের আচরণ এমন হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সেবা পান।’ তিনি বলেন, ‘এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারলেই আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সফল হবে।’ নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও নেতাকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধানে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। এ সময়ে অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের বাধা ও চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগ ও অবদানকে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে এবং এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো এলাকার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা অন্য দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করে সবাইকে একটি জায়গায় আসতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই সবাইকে এক সঙ্গে বসে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।’