অর্থনীতি

ইউক্রেনের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের শাহেদ ড্রোন

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ০৩, ২০২৬ 0

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ–১৩৬’ ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। সেই ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহার করছে ইরান। ৫০ হাজার ডলার মূল্যের এই ড্রোনগুলো ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দের জন্য আলাদা করে চেনা যায়।

গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে কয়েক শ ‘শাহেদ’ ড্রোন। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখাতে তেহরান এই কৌশল নিয়েছে।

বাহরাইন থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আঁধারে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন ঘাস কাটার মেশিনের মতো (লনমাওয়ার) কর্কশ শব্দে একটি বহুতল ভবনের দিকে ধেয়ে আসছে এবং সজোরে সেটিতে আঘাত হানছে। এতে ভবনের ব্যালকনি দিয়ে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা যায়। সম্ভবত অ্যাপার্টমেন্টটি সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি।

গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশই শাহেদ–১৩৬ মডেলের।

সোমবার বিকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর ৬৮৯টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৫টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ৪৪টি ড্রোন (মোট ড্রোনের প্রায় ৬ শতাংশের বেশি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

 

যেভাবে কাজ করে শাহেদ ড্রোন

শাহেদ–১৩৬ ড্রোন ৩.৫ মিটার দীর্ঘ এবং এর ডানার বিস্তার ২.৫ মিটার। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি সস্তা এবং তৈরি করা সহজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরান বছরে কয়েক ডজন তৈরি করতে পারত। ফলে কিছু সময়ের জন্য চলমান সংঘাতের একটি অংশজুড়ে থাকতে পারে এসব ড্রোনই।

একটি শাহেদ ড্রোন প্রায় ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা একটি আকাশচুম্বী ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট হলেও তা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এই ড্রোনগুলো তুলনামূলক ধীরগতির (যদিও ইউক্রেনে এর দ্রুতগতির জেট ইঞ্জিন সংস্করণও দেখা গেছে), কিন্তু এগুলোর বড় আকৃতি, ইঞ্জিনের উচ্চ শব্দ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ধরন সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

 

বাহরাইন থেকে পাওয়া দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের ঠিক ওপর দিয়ে একটি ডেল্টা-উইং ড্রোন উড়ে যাচ্ছে। ড্রোনটি সফলভাবে নিচের দিকে নেমে একটি রাডার ডোমে আঘাত হানে এবং সেটি ধ্বংস করে দেয়।

এছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও শাহেদ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী (আরএএফ) একটি ঘাঁটিতেও সম্ভবত এই ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

এই ড্রোনগুলোর পাল্লা সর্বোচ্চ দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এগুলো সাধারণত আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া জটিল পথ ধরে উড়তে সক্ষম। রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য এগুলো নিচ দিয়ে উড়ে যায়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে এই ড্রোনগুলো দূর থেকে অপারেটরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যার ফলে একদম শেষ মুহূর্তেও এগুলো দিক পরিবর্তন করতে পারে।

 

শাহেদ–১৩৬ ড্রোনগুলো গত দশকের শেষের দিকে ইরানে নকশা করা হয়েছিল। ২০২১ সালের জুলাই মাসে ইসরায়েলি মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ ‘মার্সার স্ট্রিট’-এ হামলার মাধ্যমে প্রথম এই ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। ওই হামলায় একজন ব্রিটিশ ও একজন রোমানিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।

এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলায়ও সম্ভবত এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানে ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মূলত এই ড্রোনের নকশা করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর অধীনে। তবে ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যাপক ব্যবহারের ফলেই এই ড্রোন বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।

শুরুতে ইরান থেকে রপ্তানি করা হলেও পরবর্তী সময়ে এই ড্রোনের প্রযুক্তি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে তেহরান। এরপর রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীরে অবস্থিত ইয়েলাবুগা শহরের একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণে এই ড্রোন তৈরি করা হচ্ছে।

 

রাশিয়া সাধারণত ইউক্রেনে হামলার সময় একসঙ্গে প্রায় ৮০০টি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন, একই রকম দেখতে জেবেরা ডেকয় (ধোঁকা দেওয়ার ড্রোন) এবং অল্পসংখ্যক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। মূলত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতেই ‘ঝাঁক বেঁধে’ এই হামলা চালানো হয়, যাতে ড্রোনের আড়ালে আরও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হতে পারে।

তবে গত সপ্তাহান্তে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শাহেদ ড্রোনের বেশির ভাগ ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ড্রোনের বিশাল কোনো ঝাঁক নয়, বরং বিচ্ছিন্নভাবে একেকটি ড্রোনকে আঘাত হানতে দেখা গেছে।

ইউক্রেনে শাহেদ ড্রোনগুলো স্থির লক্ষ্যবস্তুতে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে চলতি শীতে দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ ঘরবাড়িতে এর প্রভাব পড়েছে।

ইরান যদি এই একই কৌশল অবলম্বন করে তবে তারা সফল হতে পারে। সোমবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ফলে শোধনাগারটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি শাহেদ ড্রোন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এর ধ্বংসক্ষমতা ছিল একই রকম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক থেকে ২ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাড়তি আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক।   এই অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বর্তমানে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-তে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকের সাইডলাইনে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন তিনি। প্রতিনিধিদলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা পেতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।   মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক উর্জিত প্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জন জুট-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাড়তি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, “চলমান কর্মসূচির অধীনে নির্ধারিত কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়টি তো থাকছেই, তবে এর বাইরেও আরও ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”   তিনি আরও জানান, আগামী জুনের মধ্যে এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। “সামগ্রিকভাবে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা যে অর্থনৈতিক ঘাটতির মুখে পড়েছি, তা মোকাবিলায় অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারব বলে বিশ্বাস করছি,” যোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য, উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য আইএমএফ ইতোমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাংক ২৫ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে।   বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী জুনের মধ্যে দুটি কিস্তিতে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অতিরিক্ত সহায়তা স্বল্পমেয়াদে চাপ কমাতে সহায়ক হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে কাঠামোগত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রিজার্ভে স্বস্তি, বেড়ে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার

ছবি : সংগৃহীত

ঋণের বদলে বিনিয়োগ‑ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাইছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পতন: দীর্ঘমেয়াদে নিম্নমুখী হতে যাচ্ছে সোনার দাম

ছবি: সংগৃহীত
৭ দিন বন্ধের পর মঙ্গলবার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু

পবিত্র শবেকদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিন বন্ধ থাকার পর আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হচ্ছে।   ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ ছুটি শেষে স্বাভাবিক নিয়মে আবার লেনদেন কার্যক্রম চালু হবে।   স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও ঈদের ছুটি উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।   ঈদের পর থেকে প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী ডিএসই ও সিএসইর অফিস সময় হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। এরপর ২টা ২০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পোস্ট ক্লোজিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।   রমজান মাসে লেনদেন সময় কমিয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর ১০ মিনিটের পোস্ট ক্লোজিং সেশন পরিচালিত হয়।   স্টক এক্সচেঞ্জ দুটি জানিয়েছে, ছুটি শেষে এখন থেকে আগের নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য পাম অয়েল কিনছে সরকার

ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে ১১ দেশ : জেলেনস্কি

ইউক্রেনের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের শাহেদ ড্রোন

দুবাই ও আবুধাবিতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার সকালে ইরানে একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিন আমিরাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণ মিসাইল বা ড্রোন আঘাত হানার কারণে হয়েছে, না এগুলো প্রতিহতকারী মিসাইলের শব্দ—এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ০৩, ২০২৬ 0

ইরানে হামলার ‘ঘোর বিরোধী’ চীন

খামেনি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নিহত ২৪, সেনা মোতায়েন ও তিন দিনের কারফিউ জারি পাকিস্তানে

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু। ছবি : সংগৃহীত

‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ চলতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নতুন অর্থমন্ত্রীর

0 Comments