বিশ্ব

ইসরায়েলের পারমাণবিক শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনা থাকা দিমোনা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় শহরটির একটি ৩ তলা ভবন ধসে পড়েছে। এতে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (২১ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তটি দেখা গেছে। এতে দেখা যায়, আকাশ থেকে একটি বিশাল গোলা তীব্র গতিতে নিচে নেমে আসছে। এরপর একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের (এমডিএ) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

এমডিএ জানায়, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সেবাবিভাগ তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাও দেয়। আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দিমোনা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলের নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। ধারণা করা হয়, দিমোনার বাইরের এই স্থাপনাটিতে ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে। যদিও ইসরায়েল কখনোই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, দিমোনা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবরের বিষয়ে তারা অবগত আছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

এক বিবৃতিতে আইএইএ বলেছে, হামলাকবলিত এলাকায় অস্বাভাবিক কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ধরা পড়েনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের কথা জানালেন ট্রাম্প

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের (মেরিটাইম ব্লকেড) সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে আনা এবং চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করাই এর মূল লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক অবরোধ মানে হলো সমুদ্রপথে কোনো দেশের পণ্য পরিবহন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা। এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আগে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একই ধরনের কৌশল প্রয়োগের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। সেই সময় সমুদ্রপথে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করা হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। সার্বিকভাবে, আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

তিন ইস্যুতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠক ব্যর্থ

ছবি : সংগৃহীত

নাইজেরিয়ায় 'ডাকাতদের' হাতে ২১ গ্রামবাসী নিহত

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের বার্তা

ছবি : সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলায় এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

 ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। তবে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘সহিংস দাঙ্গা’ চলাকালে একজন সেনা সদস্য গুলি চালায়। মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানায়, নিহত আলি মাজেদ হামাদনে (২৩)। রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে দেইর জারির গ্রামে অভিযানের সময় বসতি স্থাপনকারীরা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। মন্ত্রণালয় জানায়, ‘গুরুতর অবস্থায় তাকে প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ।’ পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। রামাল্লাহ থেকে বার্তাসংস্থা  এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফাও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। ওয়াফা জানায়, ‘ইসরাইলি বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা দেইর জারির গ্রামের পশ্চিম দিক দিয়ে ঢুকে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’ শনিবার রাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দেইর জারিরে এক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এলাকায় ইসরাইলি বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের খবর পেয়ে সেনারা সেখানে যায়। সামরিক বাহিনী জানায়, ‘সেনারা পৌঁছালে পরিস্থিতি সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। সেখানে সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।’ একজন রিজার্ভ সেনা প্রথমে আকাশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। পরে ‘এক হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’ সেনাবাহিনী আরো জানায়, ‘আহত ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’  ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের উপর প্রাণঘাতী হামলাও বেড়েছে। শনিবারের ঘটনার আগে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এএফপি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরেই ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ওপর হামলা চলছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পুতিনের সঙ্গে জ্বালানি বিষয়ে বৈঠক করতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রাশিয়া যাচ্ছেন

ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে ২০০-এর বেশি গ্রেফতার

ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবী যেন মহাকাশে এক ‘জীবনতরী’, ঐক্যের ডাক আর্টেমিস নভোচারীদের

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করায় এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করলেন নেতানিয়াহু

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্যের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল শনিবার তিনি এ সমালোচনা করেন।  একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইসরাইল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এরদোগান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এমন ‘সম্ভাব্য উসকানি ও নাশকতা’ হতে পারে যা এই চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কারা চুক্তি ভঙ্গের চেষ্টা করতে পারে তা উল্লেখ করেননি। গতকাল শনিবার এরদোগানের এই মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু তুর্কি নেতার সমালোচনা করেন। তিনি এক্স-এ এক বার্তায় জানান, ‘আমার নেতৃত্বে ইসরাইল ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, এরদোয়ান ইরানকে ‘সহযোগিতা’ করছেন কুর্দি নাগরিকদের হত্যা করেছেন।’ এরদোয়ান ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘যে কোনো পরিস্থিতিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়’ এবং তুরস্ক এটি বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন দেবে।’ তুরস্ক ইসরাইলের কড়া সমালোচক হলেও মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে এই সংঘাতে যুদ্ধবিরতি আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেয়। পরে শনিবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও এক্স-এ বার্তায় এরদোগানের সমালোচনা করেন এবং তাকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এরদোগান ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় তুর্কি ভূখণ্ডে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি এবং এখন নিজেকে কাগুজে বাঘ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তিনি এখন ইহুদি বিদ্বেষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন এবং তুরস্কে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তথাকথিত বিচার প্রক্রিয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা হাস্যকর। মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন ব্যক্তি, যিনি কুর্দিদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন, এখন ইসরাইলকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন, যখন ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় লড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইসরাইল শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে আত্মরক্ষা চালিয়ে যাবে এবং তার (এরদোগানের) উচিত চুপ থাকা।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা: সমঝোতার পথ বন্ধ নয়

বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে উড়ছে চীন ও ইরানের পতাকা। ফাইল ছবি : রয়টার্স

ওইদিকে এগোচ্ছে আমেরিকা এদিকে চীন, নতুন অশনিসংকেত

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments