ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্যে নতুন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এক ইসরায়েলি সেনাকে নিহত দাবি করলেও তিনি নিজেই জানিয়েছেন—তিনি সম্পূর্ণ জীবিত।
সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
ওই সেনা জানান, কয়েক দিন আগে ঘুম থেকে উঠে তিনি জানতে পারেন যে তাকে নাকি মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি ফেসবুক গ্রুপে তার ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে, তিনি ইসরায়েলের আটজন আইডিএফ রিজার্ভ সেনার সঙ্গে নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “এক বন্ধু আমাকে ‘ইরানিয়ান মিলিটারি’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের স্ক্রিনশট পাঠায়। সেখানে আমার একটি পরিষ্কার ছবি ছিল এবং আরও সাতজন আইডিএফ রিজার্ভ সেনার ছবিও দেওয়া ছিল। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল—আটজন আইডিএফ সৈন্য নিহত, যার মধ্যে আমিও আছি।”
ঘটনার শুরুতে বিষয়টি শুনে তিনি হেসেই উড়িয়ে দেন। তার ভাষায়, “প্রথমে মনে হয়েছিল এটি সেই ধরনের অদ্ভুত ইন্টারনেট গুজব, যা কিছু সময়ের জন্য দেখা যায় এবং পরে হারিয়ে যায়।”
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করলে বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, “পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। তখন মনে হলো আমার পরিবারের সদস্যরা হয়তো আমার কাছ থেকে কিছু শোনার আগেই এই খবরটি দেখতে পারেন।”
এ কারণে তিনি দ্রুত তার স্ত্রী ও বাবা-মাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি তাদের বলেন, “ইরানের সামরিক বাহিনীর মতে আমি নাকি মারা গেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ঠিকই আছি।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের শাসনব্যবস্থা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর কৌশল ব্যবহার করে আসছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও প্রক্সি বাহিনীর পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধকেও তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
ইসরায়েলি সেনা হতাহতের ভুয়া খবর, কাল্পনিক যুদ্ধজয়ের গল্প এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা না পেলে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতেই এসব কৌশল ব্যবহার করা হয়।
ওই সেনা আরও বলেন, কৌতূহলবশত তিনি পরে ইরানের সামরিক বাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও যান। সেখানে তিনি নিম্নমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কিছু ছবি দেখতে পান, যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকেও মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তার মতে, বাস্তবতা হলো—লাখ লাখ ইরানি নাগরিক এসব চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য পান। অনেকের কাছে এসব প্রচারণা কল্পকাহিনি নয়, বরং সত্য ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়।