বিশ্ব

হরমুজে পুরনো দুঃস্বপ্ন, ট্যাঙ্কার যুদ্ধ কি ফিরছে আবার?

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর নীল জলরাশি এখন যেন এক উত্তপ্ত রণক্ষেত্র। সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আশির দশকের ভয়াবহ ‘ট্যাঙ্কার যুদ্ধ’-এর স্মৃতি টেনে আনছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেলবাহী জাহাজ সুরক্ষায় নৌবাহিনীর এসকর্ট পাঠানোর কথা ভাবছেন, তখন ইতিহাসবিদরা বলছেন—এ দৃশ্য একেবারেই নতুন নয়।

 

প্রায় চার দশক আগে ঠিক এই একই জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনী ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। সেই সংঘাতের শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক, যেখানে একটি ছোট ভুলই বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূচনা করতে পারে।

 

এই উত্তেজনার সূত্রপাত আশির দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকে। ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেন ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা শুরু করেন। পাল্টা হিসেবে ইরানও ইরাকের মিত্র দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানে। পারস্য উপসাগর উত্তাল হয়ে উঠলে কুয়েত তাদের জাহাজ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চায়।

 

সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম এগিয়ে এলেও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কৌশল বদলে কুয়েতি জাহাজগুলোকে নিজেদের পতাকায় পুনঃনিবন্ধন করে ‘অপারেশন আর্নেস্ট উইল’-এর আওতায় সুরক্ষা দিতে শুরু করে।

 

কিন্তু শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় মার্কিন নৌবাহিনী। ১৯৮৭ সালের মে মাসে ইউএসএস স্টার্ক নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ইরাকি যুদ্ধবিমানের ছোড়া দুটি মিসাইলে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৭ জন মার্কিন নাবিক নিহত হন। পরে ইরাক এটিকে ‘ভুল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও ঘটনাটি প্রমাণ করে—যুদ্ধে ভুল সিদ্ধান্ত কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

 

এরপর ঘটে আরেকটি বিব্রতকর ঘটনা। মার্কিন সুরক্ষায় থাকা ‘ব্রিজেটন’ নামের একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ ইরানি মাইনে আঘাত পায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোই নিরাপত্তার জন্য ওই ট্যাঙ্কারের পেছনে অবস্থান নেয়। ঘটনাটি মার্কিন নৌবাহিনীর মাইন শনাক্ত ও অপসারণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিশ্বজুড়ে প্রকাশ করে দেয়।

 

আজও সেই মাইন আতঙ্ক হরমুজে বড় উদ্বেগ হয়ে আছে। যদিও প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে ইরানের মাইন বসানোর কৌশল এখন আরও আধুনিক ও কার্যকর।

 

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর মাইন অপসারণকারী জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম। বাজেট সংকোচনের কারণে এই খাতটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সহায়তার আশা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নেই।

 

১৯৮৮ সালের ‘অপারেশন প্রেয়িং ম্যান্টিস’ ছিল এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া। ইউএসএস স্যামুয়েল বি. রবার্টস ইরানি মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালায়। এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বড় সরাসরি নৌযুদ্ধ।

 

তবে ২০২৬ সালের বাস্তবতা আরও জটিল। ইরান এখন শুধু মিসাইল বা মাইনে সীমাবদ্ধ নয়; ড্রোন প্রযুক্তিতেও তারা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রপথে সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন মার্কিন রণতরীর জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে।

 

একই সঙ্গে আশির দশকের মতো ইরান এখন অন্য কোনো বড় যুদ্ধে জড়িত নয়। ফলে তাদের মনোযোগ পুরোপুরি হরমুজ প্রণালীর দিকে।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রের মাইন শুধু কৌশলগত বাধা নয়—এটি ভয় সৃষ্টি করে, নৌ চলাচল সীমিত করে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারে কাজ চলছে: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম রোববার বলেন, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ বন্ধ করা এবং লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর নাওয়াফ সালাম এ কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুদ্ধ বন্ধ করা, আমাদের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, সব বন্দীর মুক্তি, ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রাম ও শহর পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’ লেবাননের ১৯৭৫-১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধ শুরুর বার্ষিকীর প্রাক্কালে দেওয়া এই ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আমরা আলোচনার মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দফার ভোটে ‘বামপন্থী শত্রুর’ বিরুদ্ধে জয়ের দাবি ফুজিমোরির

ছবি: সংগৃহীত

বুলগেরিয়ার আগাম নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাদেভ

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘আন্তরিক’: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে শত্রুদের 'প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে' আটকে ফেলার হুমকি আইআরজিসির

 ইরানের বিপ্লবী গাডর্স রোববার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে শত্রুরা 'প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে' আটকে পড়বে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিটিতে মার্কিন নৌ অবরোধের নির্দেশ দেওয়ার পর ইরানের গাডর্স নৌ কমান্ড  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানায়,  ‘সমস্ত যান চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড আরও বলেছে, ‘শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে প্রণালিতেই মারণ ঘূর্ণির ফাঁদে আটকে পড়বে।’ এ সময় একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখানো হয়েছে। একটি পৃথক বিবৃতিতে গার্ডের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। যদিও এসব নিয়মের বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, কোনো সামরিক জাহাজ যে কোনো অজুহাতে প্রণালির কাছে আসার চেষ্টা করলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন যে, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো প্রণালিটিকে মাইনমুক্ত করা এবং সব ধরনের নৌচলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে এর মধ্যে ইরানকে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ থেকে ফায়দা লুটতে দেওয়া হবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত একটি অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের শেষ দিকে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি হলেও, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সেই যুদ্ধবিরতি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0

দায়িত্বের ১০০ দিনে ‘সমাজতান্ত্রিক’ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র

ছবি: সংগৃহীত

হামলা হলে ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না : ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ছবি : সংগৃহীত
এশীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন, ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

পাকিস্তানে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধের নির্দেশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে এ দরপতনের দৃশ্য দেখা গেছে।   সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ কমেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ পতন লক্ষ করা গেছে। তবে তেলের বাজারে অস্থিরতা ছিল সবচেয়ে বেশি।   অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।   বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।   তবে বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেও একটি আশার আলো দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষকরা। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি সোমবার বাজারে যে বড় ধরনের ধস নামত তার মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। শুরুতে পতনের হার ১২ থেকে ৯ শতাংশ থাকলেও এখন তা ১ শতাংশের আশপাশে নেমে এসেছে।   এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। সাধারণত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বাজারকে আতঙ্কিত করলেও সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার বা তার অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ফলে বাজার এখন বড় ধরনের ধাক্কাগুলো সামলে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে, যার কারণে প্রতি সপ্তাহে দরপতনের হার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নৌ অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিশ্চিত: ইরানি সামরিক উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সব বন্দর অবরোধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

0 Comments