জাতীয়

হাইকোর্টে অর্ধশত আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকতে পারে নিষ্পত্তি

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রায় অর্ধশত আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেছেন বিভিন্ন দলের পরাজিত প্রার্থীরা। এসব মামলায় ইতোমধ্যে আদালত বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট পেপার ও ফলাফল শিট নির্বাচন কমিশনকে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলাকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা।

 

আইনজীবীরা বলছেন, এসব নির্বাচনসংক্রান্ত মামলা মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। ফলে চলমান সংসদের মেয়াদের মধ্যেই এসব মামলার নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় সরাসরি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা যায় এবং এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আরও বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে মামলা গ্রহণ, নোটিশ প্রদান, ইস্যু নির্ধারণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

 

তাদের মতে, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং প্রতিদিন শুনানি পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায় বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে।

 

বর্তমানে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এসব নির্বাচনী পিটিশনের শুনানি গ্রহণ করছে। তবে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিচার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করা যায়, যেখানে পুনর্গণনা, ফল বাতিল বা পুনঃনির্বাচনের আবেদন করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ পরিচয়ে বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মাগুরার সদর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক বিএনপি নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম ছাকাম মোল্যা (৫২), তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলা-এর গোপালগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছাকাম মোল্যার বাড়িতে আসে। তারা তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানিয়ে দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়, পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিতে দেয়নি।   পরবর্তীতে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী বেরইল পলিতা এলাকায় রাস্তার পাশে তাকে মারধর করে গুরুতর অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।   ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের দাবি, যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তারা প্রকৃত পুলিশ নয়, বরং ছদ্মবেশী দুর্বৃত্ত।   জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।   তবে মাগুরা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতরা প্রকৃত পুলিশ সদস্য নয়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে ঘন ঘন লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

হজ খরচ কমাতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

এনটিআরসিএ’র অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা আজ

ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবিরের কর্মসূচি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি চলতে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেরোবি শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দুই দিনব্যাপী নববর্ষ প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর বিভিন্ন কর্মসূচিও ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।   অভিযোগ রয়েছে, এসব রাজনৈতিক আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও অংশ নিচ্ছেন। উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী-এর উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, অতীতে সহিংসতা ও অনিয়মের অভিজ্ঞতা থেকে তারা রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। এখন সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনরায় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো একটি সংগঠনের অপকর্মের দায়ে পুরো ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধ রাখা যৌক্তিক নয় এবং সুস্থ ছাত্ররাজনীতি চালুর সময় এসেছে।   ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করে; তবে অন্যান্য সংগঠন আগে নিয়ম ভঙ্গ করায় সমানভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র রাজনীতির সম্ভাবনা নষ্ট করছে শিবির—আব্দুল কাদেরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

‘জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলেই এমন শাস্তি’—অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত
হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, দেশ ও জাতির কল্যাণে চাইলেন দোয়া

হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে (১১ টা ৩৫ মিনিটে) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ফ্লাইটে গিয়ে হজযাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি দেশ ও জাতির জন্য তাদের কাছে দোয়া চান।    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।   আল্লাহর মেহমানদেরকে দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য নেয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি। তিনি আগামী বছর থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ কমানোর আশ্বাস দেন।    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজগুলো হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি, অন্তত ১২ হাজার টাকা কমানোর চেষ্টা করেছি। আগামী বছর যাতে আরো খরচ কমাতে পারি, কম খরচে যাতে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।   উদ্বোধনী ফ্লাইটটি রাত ১২ টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এবছরের প্রথম ফ্লাইটে যাত্রী রয়েছে ৪১৯ জন।   উদ্বোধনী দিনে মোট ১৪ টি ফ্লাইট রয়েছে যার মধ্যে ১২টি জেদ্দা বিমানবন্দরে এবং দুইটি মদিনা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এই ১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি এবং সৌদি আরবের সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস চারটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রথমদিন ৫,৭৫৯ জন হজযাত্রী সৌদিতে যাচ্ছেন।    শেষে হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও  অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।    এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।    এর আগে প্রধানমন্ত্রী আশকোনার হজক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং হজযাত্রীদের সাথে কথা বলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হাজীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

রোড টু মক্কা কার্যক্রম উদ্বোধন, হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন হবে দেশেই

আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments