সারাদেশ

ডিজেলের মজুত পর্যাপ্ত, পেট্রোল-অকটেনে ঘাটতির আশঙ্কা

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

পরিশোধিত তেলের সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ক্রুড অয়েলের ঘাটতিতে সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নতুন চালান না এলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে উৎপাদন এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশের বাজারে সরবরাহ করে। এর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আসে সৌদি আরব থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনালে এক লাখ টন তেল নিয়ে আটকা পড়ে একটি জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না।

ইস্টার্ন রিফাইনারী পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে প্রায় ১২ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চালান দেশে না পৌঁছালে শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত দুটি চালানের মধ্যে একটি জাহাজ আবুধাবির ফুজাইরাতে তেল লোড করে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তবে অপর একটি জাহাজের টেন্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রায় আড়াই লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা আগামী ২০ এপ্রিল লোড হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আরও একটি চালান আনার জন্য প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উৎসে তেল আমদানির সম্ভাবনা, খরচ ও লজিস্টিক সুবিধা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।

এদিকে ‘প্রোলাক্স’ নামের একটি মার্কিন জাহাজ বর্তমানে আটকে রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, জাহাজটি ছাড়িয়ে আনার জন্য উচ্চ পর্যায়ে এবং আন্তর্জাতিকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি ইরান ত্যাগ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নতুন চালানে তেলের দাম কিছুটা বাড়তে পারে জানিয়ে কর্মকর্তা বলেন, প্রতি ব্যারেলে প্রায় ০.২৫ সেন্ট পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে। তবে দেশের জ্বালানির খুচরা মূল্য সরাসরি ক্রুড অয়েলের দামের ওপর নির্ভর করে না; সরকার নির্ধারিত একটি ফর্মুলার ভিত্তিতে তা সমন্বয় করা হয়।

তিনি আরও জানান, দেশে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে আমদানি করা হয়, আর বাকি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে আসে। আগামী ১ তারিখে নতুন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকার জ্বালানির দামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

এ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে আনা হবে। পাশাপাশি রাস তানুরায় আটকে থাকা তেল বিকল্প উপায়ে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করে আনার পরিকল্পনাও চলছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে আটকে পড়া জাহাজটি নিরাপদে বের করে আনা যায়। বিকল্প ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ামে করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১৪ দিনের, যা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে। অকটেনের মজুত মাত্র ৯ দিনের এবং পেট্রোল ১১ দিনের। এই দুই জ্বালানির বড় অংশই দেশীয় শোধনাগারে উৎপাদিত হওয়ায় ক্রুড অয়েলের ঘাটতি সরাসরি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।

অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক পেট্রোল পাম্প সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না, বিশেষ করে অকটেনের ঘাটতি তীব্র।

অন্যদিকে ফার্নেস অয়েল (২৯ দিন) ও জেট ফুয়েল (২৩ দিন) মজুত থাকায় আপাতত এ দুই খাতে তেমন শঙ্কা নেই। কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুতও সন্তোষজনক।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যানুযায়ী, ২২ মার্চ পর্যন্ত ২৩ দিনে মোট ২৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে, যার মধ্যে ২৩টি ইতোমধ্যে পণ্য খালাস করে চলে গেছে। বর্তমানে দুটি জাহাজ থেকে খালাস চলছে এবং পথে রয়েছে আরও দুটি ‘বেওয়েক বর্নহোল্ম’ ও ‘মর্নিং জেইন’, যেগুলো ২৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা।

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি মজুতেও। বিপিসির হিসাবে, ২১ মার্চ পর্যন্ত মোট জ্বালানি মজুত ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৯ মেট্রিক টন, যা দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী মাত্র ৮ থেকে ১২ দিন চলা সম্ভব। অথচ সংরক্ষণ সক্ষমতা রয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৫৬১ মেট্রিক টন-এর মাত্র ২০ শতাংশ এখন পূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আমদানির ওপর নির্ভরতা নয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ মো. মজিবুল হক বলেন, স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিতরণ চ্যানেল শক্তিশালী না করলে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাত বড় ঝুঁকিতে পড়বে।

তবে বিপিসি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বর্তমান ৫৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ঈদের পর চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, তবে এর প্রভাব মোকাবিলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে।’

সব মিলিয়ে, বিকল্প উৎস ও রুট সক্রিয় না হলে এবং দ্রুত নতুন চালান না এলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
৯০ ফিট পানির নিচে ছিল বাস, টেনে তোলা হয়েছে ৫০ ফিট

  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তলিয়ে যাওয়া বাসটি নদীর ৯০ ফিট গভীরে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা। রাত ১০টার দিকে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, তলিয়ে যাওয়া বাসটি নদীর ৮০-৯০ ফিট গভীরে ছিল। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে বাসটি প্রায় ৫০ ফিট ওপরে তোলা হয়েছে। আরও ৩০-৪০ ফিট ওপরে বাসটি তুলতে হবে। খুব ধীরগতিতে সতর্কতার সাথে বাসটি টেনে তোলা হচ্ছে। দেওয়ান সোহেল রানা আরও বলেন, বাসের জানালা ও দরজা বন্ধ থাকার কারণে আমাদের ডুবুরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। এজন্য পুরো গাড়িটাই টেনে তুলতে হচ্ছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ভারত থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছাবে শুক্রবার (২৭ মার্চ)।

ভারত থেকে আসছে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত

ডিজেলের মজুত পর্যাপ্ত, পেট্রোল-অকটেনে ঘাটতির আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

সিএমপিতে বড় রদবদল, একসঙ্গে সরলেন তিন থানার ওসি

ছবি : সংগৃহীত
জামালপুরে ৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ ৭ জন আটক

জামালপুর সদর উপজেলায় কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় তিন হাজার লিটার পেট্রোলসহ ৭ জনকে আটক করেছেন স্থানীয়রা।   বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে উপজেলার কালিবাড়ি বাজার এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান। আটক ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার মৃত আলতাবুর রহমান ছেলে হাকিম মিয়া (৪০), বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি কাটাপুর বাজার এলাকার দুলাল ব্যাপারির ছেলে ফুল মিয়া (৩৮), হাফিজুর রহমান (৪০), মো. শাহ জামাল (৫০), মো. মারুফ হোসেন (২৪), মো. জুগলু মিয়া (৪৪), মো. জহুরুল ইসলাম (৪৫)।   স্থানীয়রা জানান, মধ্য রাতে কয়েকটি গাড়িতে করে ১৫টি তেলের ড্রাম নিয়ে যাওয়া সময় এলাকাবাসীর নজরে আসে। এ সময় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা গাড়িগুলো থামিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ পেট্রোলসহ ৭ জনকে আটক করেন। জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এলাকাবাসী ৭ জনকে আটক করেছে। উপজেলা প্রশাসন সেখানে পৌঁছানোর পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা ঠেকানো এনামুলকে সম্মাননা

ছবি: সংগৃহীত

২৫ মার্চ ‘কালরাত’ স্মরণে ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস জমে ঘরই পরিণত হলো ‘মরণফাঁদে’

ছবি : সংগৃহীত
ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ নেই এমন অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, একই তেল খোলা বাজারে বোতলজাত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে এলাকায় তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পাম্পে তেল না পেয়ে তারা বাধ্য হচ্ছেন রাস্তার পাশে ও গ্রামাঞ্চলের অবৈধ দোকান থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনতে।   অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে ড্রামভর্তি অবস্থায় বাইরে নিয়ে গিয়ে বোতলজাত করে প্রতি লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।   ঢাকাগামী এক মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পে তেল নেই বলা হলেও রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অধিক মুনাফার আশায় এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।   পাম্প মালিকরা অবশ্য ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকার কথা উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দেশে তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই; বরং কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।   প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মেশিন বিকল বা তেল শেষ, এমন অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।   এদিকে অতিরিক্ত দামে তেল কিনে পরিবহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকেও বেশি ভাড়া আদায় করছেন, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।   স্থানীয়দের অভিযোগ, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।   কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, কোনো পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মেহেরপুরে তেল পাম্পে বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটুনি

বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

বন্ধ পাটকল চালু করা হবে : পাট প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়নো হবে না: অর্থ উপদেষ্টা

0 Comments