শিক্ষা

ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ৫১ ব্যাচের এক ছাত্রীকে বহিরাগত যুবক কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।  

বুধবার (১৩ মে) রাত সোয়া ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা টারজান এলাকায় জড়ো হয়। পরে তারা সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের মেয়েদের আবাসিক হলসমূহ সংলগ্ন সড়ক ও চৌরঙ্গী মোড় হয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এতে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে বারবার নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা গত মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করেন। এসময়, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরও পদত্যাগ দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ওইদিন রাত পর্যন্ত উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতে দেখা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
এক বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাপে আবাসিক জীবন

ঘর থেকে বেরোলেই চোখে পড়ে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সড়কের এ পাশে একটি স্কুল তো ওপাশে আরেকটি। আবাসিক এলাকার একই ব্লকে কয়েক পা হাঁটলেই দেখা মিলছে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও বাংলা মাধ্যম, কোথাও ইংরেজি মাধ্যম। কোথাও মাদ্রাসা, আবার কোথাও কোচিং সেন্টার। রাজধানীর ছোট্ট আবাসিক এলাকা লালমাটিয়া ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘনবসতিতে। অথচ একসময় এলাকাটি ছিল শান্ত আবাসিক জনপদ।   সম্প্রতি একদিন সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় রিকশাচালক দেলোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে লালমাটিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার কাজ শুরু হয় এই প্রতিবেদকের। মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়ার অলিগলি তার চেনা। জাকির হোসেন রোড ধরে সি ব্লকে ঢুকতেই চোখে পড়ে একের পর এক স্কুল। একই সড়কে কয়েক পা হাঁটলেই পাওয়া যায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঘুরে ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া যায়।   রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তথ্য অনুযায়ী, লালমাটিয়া আবাসিক এলাকার আয়তন মাত্র শূন্য দশমিক ৭৩ বর্গকিলোমিটার। এই এলাকায় সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার ও নানা ধরনের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আশপাশেও আছে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাপ শুধু শ্রেণিকক্ষের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই; প্রভাব পড়ছে সড়ক, ফুটপাত ও আবাসিক পরিবেশেও।   সরেজমিন বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান কাছাকাছি অবস্থানে পরিচালিত হচ্ছে। কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানের একাধিক শাখাও রয়েছে। অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল নামে একটি স্কুলের অন্তত ছয়টি ক্যাম্পাস দেখা গেছে এই লালমাটিয়ায়।   লালমাটিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন, অনুমোদিত ক্যাম্পাসের সংখ্যা ও শিক্ষাক্রম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও নিবন্ধনের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর পরিচালনা ও তদারকির বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দেখার কেউ নেই।   সরেজমিনে দেখা গেছে, ইংরেজি মাধ্যমের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোথাও সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাক্রম ও পরিচালনাব্যবস্থা এক নয়। তবে অভিভাবকদের চাহিদা, শিক্ষার ধরন ও অনুমোদনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।   সরকারি-বেসরকারি স্কুল, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা   সরেজমিনে দেখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লালমাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া রয়েছে লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুল ও সহজ পাঠ উচ্চবিদ্যালয়।   ইংরেজি মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, কোকাবুররা অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, সেন্ট পল’স স্কুল, অ্যাকাডেমিয়া, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ক্রেস্টউড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, ম্যাংগ্রোভ স্কুল, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুল, এক্সিলেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, লিজেন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও প্রিমিয়ার স্কুল, ঢাকা।   ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জামিয়া ইসলামিয়া, মাদ্রাসা নূরে মদিনা, মাশকুল কোরআন, মাদরাসাতুল কলম ও ইসলামিয়া মাদ্রাসা। সামাওয়াত ইসলামিক স্কুলের পাশাপাশি হেফজুল কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থার কথাও জানা গেছে।   স্কুলের বাইরে আছে শান্ত-মারিয়াম ইনস্টিটিউট অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ফিউচার ব্যারিস্টার্স অ্যাকাডেমি ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টার। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সঙ্গে এডুকেট অ্যাকাডেমি নামে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালিত হয় এই আবাসিক এলাকায়।   এত অল্প জায়গায় এত ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও অভিভাবকদের পছন্দের ভূমিকা থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, আবাসিক এলাকার ধারণক্ষমতা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   ডি ব্লকে ‘পিস স্কুল’-এর কার্যক্রম   লালমাটিয়ার ডি ব্লকে আলোচিত ‘পিস স্কুল’-এর কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। ২০১৬ সালের আগস্টে বিতর্কিত কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় লালমাটিয়ার পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঠদানের অনুমতি বাতিলের নির্দেশ দেয়। একই সময়ে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ এবং জাকির নায়েকের বক্তব্যে গুলশানের হলি আর্টিজান হামলাকারীদের কেউ কেউ প্রভাবিত হয়েছিলেন, এমন অভিযোগ সামনে আসার পর পিস স্কুলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড স্কুলটির সাময়িক নিবন্ধন পিস স্কুল বন্ধ হওয়ার পর আগের ভবনটি ভেঙে সেখানে অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পিস স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নতুন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর এর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ নতুন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন বলেও তারা জানান।   একসময় অনুমোদন বাতিল হওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর একই এলাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং পরবর্তী সময়ে আবার পিস স্কুলের কার্যক্রম দেখা যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে ডি ব্লকে পরিচালিত পিস স্কুলটির নিবন্ধন ও অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।   আশপাশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব   লালমাটিয়ার আশপাশে রয়েছে সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা) ও সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। মোহাম্মদপুরে রয়েছে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ ও মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়।   লালমাটিয়ার ভেতরের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের যাতায়াত রয়েছে। ফলে পুরো এলাকার সড়কব্যবস্থা ও আবাসিক পরিবেশের ওপর সম্মিলিত চাপ কতটা পড়ছে, তা নিয়ে পরিকল্পিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।   ‘এলাকাবাসী জিম্মি’   লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটির নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি বেলাল আহমেদ বলেন, ‘লালমাটিয়ায় কোচিং সেন্টার ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে, আমরা এলাকাবাসী এখন অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছি। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। স্কুলের ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। আশপাশের দোকানপাট ও সড়কেও নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। আমরা যারা এখানে বসবাস করি, তারা এখন অনেকটা বিপদের মধ্যে আছি।’   নিজের পরিবারের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এলাকার পরিবর্তনে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লালমাটিয়া আমার খুব প্রিয় এলাকা। আমার বাবা ও দাদার জন্মও এখানে। আমার মেয়েও লালমাটিয়া কলেজে পড়েছে। অথচ একসময় যে এলাকাটি এত সুন্দর ও বসবাসের উপযোগী ছিল, সেখানে এখন একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এত অল্প জায়গায় এতগুলো স্কুল ও কোচিং সেন্টারের আসলেই প্রয়োজন আছে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।’   বেলাল আহমেদের ভাষ্য, একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শাখা গড়ে উঠলেও এলাকার ধারণক্ষমতা এবং বাসিন্দাদের সুবিধা-অসুবিধা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অধিদফতর এ বিষয়ে উদ্যোগ নিক। লালমাটিয়ায় কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, কোথায় সেগুলো স্থাপন করা যাবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরে আবেদন করার সুযোগ থাকলে আমরা সেই উদ্যোগ নিতে চাই।’   লালমাটিয়াকে আরও সুন্দর ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন বেলাল আহমেদ। তবে নিরাপত্তা কমিটির নিজস্ব জায়গা ও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কার্যক্রম চালাতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকেরা পাশে দাঁড়ালে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   লালমাটিয়ায় সেদিন নিজের ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন বাংলাদেশের ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর ড্রামার তৌফিক আহমেদ বিজয়। তিনিও মনে করেন, এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি। তিনি বলেন, ‘এখানে কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, তা সরকারের ঠিক করা উচিত। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো কত টাকা টিউশন ফি নিতে পারবে, সেটিও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এখানে জনঘনত্ব বেশি, রাস্তাও চাপা। স্কুল ছুটি হলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।’   তবে যানজটের জন্য শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেননি এই শিল্পী। তার মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।   লালমাটিয়ায় কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, কোনগুলোর নিবন্ধন ও অনুমোদন আছে, এক নিবন্ধনের আওতায় একাধিক ক্যাম্পাস পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং আবাসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি চান স্থানীয় বাসিন্দারা।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফ ব্লকের এক বাসিন্দা জানান, স্কুলের সামনে যানজট, ফুটপাত দখল ও সড়কের ওপর চাপ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। শিক্ষার প্রসার অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই প্রসার যেন আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক জীবনকে গ্রাস না করে, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য   বাংলা মাধ্যমের বেসরকারি বিদ্যালয় স্থাপন, পাঠদানের অনুমতি ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনে পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালের নীতিমালায় এসব অনুমোদনের চূড়ান্ত দায়িত্ব শিক্ষা বোর্ডের হাতে দেওয়া হয়। তবে ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এসব অনুমোদনের দায়িত্ব ন্যস্ত করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই বছরের ২৯ জুলাই একই বিষয়ে সংশোধিত আদেশ প্রকাশ করা হয়।   এরপরও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দিয়ে বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন ও আবেদন যাচাইয়ের পর পাঠদানের অনুমোদন ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির আবেদন যাচাইয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অক্টোবরে প্রকাশিত আদেশেও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির আবেদন যাচাইয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলেও যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা বোর্ড।   অন্যদিকে, ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের নিবন্ধন আলাদা বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। ২০১৭ সালের বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।   জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও স্বীকৃতির বিষয়টি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড দেখে। আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই। এ ধরনের স্কুলের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। স্কুল চালু করা বা বন্ধ করার বিষয়টিও তাদের এখতিয়ার।’   জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের এখতিয়ারবহির্ভূত। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। আগে শিক্ষা বোর্ডের এ দায়িত্ব ছিল। তবে বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। আমরা মূলত পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, নাম সংশোধনসহ পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করি। পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনও অনিয়ম হলে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য কার্যক্রম সাধারণত আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না।’   একই এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। শহরাঞ্চলে একই ভবনে দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানও থাকতে পারে। সেখানে শিক্ষার্থীর অভাব হয় না। তবে গ্রামাঞ্চলে এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে অপরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিচালনা কমিটি পুরোপুরি আমাদের এখতিয়ারাধীন। কমিটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কমিটি ভেঙে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।’   ‘শিক্ষা খাতে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাব’   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আলাপের সময় নাম উদ্ধৃত করে বক্তব্য দিতে চাননি কেউই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন কয়েকজন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণেও প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই। শ্রেণিকক্ষ ও ভবনের মধ্যেই তাদের দিনের বড় অংশ কাটে। স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষায়, ‘শিশুরা যেন ফার্মের মুরগির মতো বড় হচ্ছে।’   সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ, শিশুসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিষয়ক নিবন্ধকার মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ছোট্ট এলাকা লালমাটিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার বিষয়টি শিক্ষা খাতে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবের দিকটি সামনে আনে। দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ ভার্সন, ইংলিশ মিডিয়াম, আরবি মাধ্যমসহ নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সেগুলোর পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের যোগ্যতা, শিক্ষার পরিবেশ, বেতন-ফি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।   তার মতে, সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ আলাদা হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। সরকারি ও অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখতে না পারাও নতুন নতুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় সমন্বিত ও পরিকল্পিত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।   সম্প্রতি শিক্ষায় ক্রমবর্ধমান বৈষম্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধূরী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করতে হবে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। শুধু ইংরেজি মাধ্যম না, দেদার যেখানে সেখানে স্কুল মাদ্রাসা গড়ে উঠছে সেখানে আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারের উচিত এই দেশে কত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন তা নিরূপণ করা। সারা দেশে যে যার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, কিন্তু মনিটরিংয়ের সক্ষমতা কতটুকু। কোথায় প্রতিষ্ঠান দরকার কোথায় দরকার নেই তা নিশ্চিত করা দরকার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে। মনিটরিংয়ের জন্য লোকবল বাড়াতে হবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন ৪ বই

ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘ, আবেদন ১ নভেম্বর পর্যন্ত

ছবি: সংগৃহীত
৮৯ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা নেই

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থাও নেই ৯৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু হয়নি।   শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ প্রতিবেদনের মাধ্যমিক স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত সারণিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা ছিল ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষার্থীদের ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধার বিস্তার সামান্য বেড়েছে।   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৩ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সায়েন্স ল্যাব রয়েছে। সে হিসাবে ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ল্যাব নেই। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে সায়েন্স ল্যাব ছিল ৬১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।   কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে ৪১ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব নেই। আগের বছর কম্পিউটার ল্যাব ছিল ৪০ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে।   শিক্ষাদানের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। ফলে ৩৭ দশমিক ১২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাঠদান করা হয় ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। সে হিসাবে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটভিত্তিক পাঠদান চালু নেই। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইন্টারনেটভিত্তিক পাঠদান চালু ছিলো ৬৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।   ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার মৌলিক সুবিধা রয়েছে। বাকি ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা নেই। প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা রয়েছে ৮১ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা নেই।   পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র রয়েছে ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সে হিসাবে ৬৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র নেই।   ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ৩৫ দশমিক ৫২ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি ৬৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা নেই। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে সিসি ক্যামেরা ছিল ৩৩ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে।   নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের। ফলে ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। এ ছাড়া ৮২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরী রয়েছে। সে হিসাবে ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরী নেই।   সীমানাপ্রাচীর রয়েছে ৬৫ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাকি ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে সীমানাপ্রাচীর নেই। অন্যদিকে, শহীদ মিনার রয়েছে ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এবং র‍্যাম্প রয়েছে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, ৩৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই এবং ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে র‍্যাম্প নেই।   ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে শহীদ মিনার ছিলো ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ মাধ্যমিক স্কুলে। সে হিসেবে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শহীদ মিনার থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে।   ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ৪২ দশমিক ৮৯ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সে হিসাবে ৫৭ দশমিক ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। আইসিটি ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাকি ৬৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ল্যাব নেই।   এ ছাড়া ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান চালু রয়েছে। অর্থাৎ, ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান চালু নেই।   শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা, স্কুল-কলেজে চিঠি

এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

কলেজ বদলাতে পারবেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, আবেদন আহ্বান

নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন শিক্ষার্থীরা

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখছেন শিক্ষার্থীরা। পুরোনো ছবি
২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশের প্রস্তুতি, দেখা যাবে মোবাইলেও

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশ হতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র। সম্ভাব্য এ তারিখে ফল প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর আলোচনা হতে পারে।   ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে ও মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন।     গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।     ওই কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ২৯ অক্টোবরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ওই দিনই ফল প্রকাশ করা হবে।     পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফল সংগ্রহের জন্য শিক্ষা বোর্ড বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে না। অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে।   ১. অনলাইনে ফলাফল দেখার নিয়ম ব্যক্তিগত ফলাফল দেখতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://educationboardresults.gov.bd   এরপর ওয়েবসাইটের ‘Result’ বিভাগে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে- পরীক্ষার নাম নির্বাচন করতে হবে। পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর (Roll Number) দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Registration Number) দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নাম নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ফলাফল দেখার অপশনে ক্লিক করতে হবে।   এভাবে সহজেই ব্যক্তিগত ফলাফল দেখা যাবে। পাশাপাশি মার্কশিটও ডাউনলোড করা যাবে।     ২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল সংগ্রহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ইআইআইএন (EIIN) ব্যবহার করে শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। এ পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর ফলাফল একসঙ্গে ডাউনলোড করা যাবে।     ৩. মোবাইলের এসএমএসে ফলাফল দেখবেন যেভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফলাফল জানতে যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে নির্ধারিত নিয়মে খুদে বার্তা পাঠাতে হবে।     এসএমএস লেখার নিয়ম: HSC Board Name (First 3 Letters) Roll 2026 বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে: HSC DHA 123456 2026 এরপর বার্তাটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে।     এইচএসসি পরীক্ষার আদ্যোপান্ত চলতি বছর দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন।     পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, গত ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।     তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাও চূড়ান্তভাবে শেষ হয়।     ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির লোগো। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ

প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান ববি হাজ্জাজের

ছবি: সংগৃহীত

২০২৮ সালের মধ্যে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়

0 Comments