উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন একদল অভিবাসী। সমুদ্রপথে যাত্রা শুরুর পর ছয় দিন ও খাদ্য ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ভেসে থাকতে থাকতে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্রেটা দ্বীপের কাছ থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। পরবর্তীতে জানানো হয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদান এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, পাচারকারীদের নির্দেশেই এই কাজ করা হয়েছে। এ সময় দুইজন গুরুতর অসুস্থ যাত্রীকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, নৌকাটি ২১ মার্চ তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে তারা দিক হারিয়ে ফেলে এবং ছয় দিন ধরে খাদ্য ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে আটক করেছে। তাদেরকে মানবপাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি ক্রেটা দ্বীপের দক্ষিণে লেরপেটরা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। একইভাবে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, মাদক পাচার, প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, সশস্ত্র ডাকাতি-ছিনতাই এবং হামলার মতো নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ডিএইচএসের আওতাধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত এক বছরে ৪ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে ৫৬ হাজার জনই দণ্ডপ্রাপ্ত গুরুতর অপরাধী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে থাকা ১০ বাংলাদেশিকে ‘খারাপের চেয়েও খারাপ’ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। উপসহকারী মন্ত্রী লরেন বিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সাম্প্রতিক অভিযানে গুরুতর অপরাধে জড়িত হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব অপরাধী শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। কারণ তারা সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি।’ ‘খারাপের চেয়েও খারাপ’ অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির মধ্যে কাজী আবু সাঈদ ধরা পড়েছেন ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট স্কট এলাকায়। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্ত বয়স্ককে খারাপ কাজে ব্যবহার, অবৈধ জুয়া পরিচালনা এবং জুয়াসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আরেক বাংলাদেশি শাহেদ হাসানকে নর্থ ক্যারোলিনার র্যালি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গোপনে অস্ত্র বহন এবং দোকান থেকে চুরির অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহর থেকে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং যৌন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমডি হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মাহতাবউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি শহর থেকে। তার বিরুদ্ধে গাঁজা বিক্রি এবং হ্যালুসিনোজেন জাতীয় মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মার্লিন শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নেওয়াজ খান। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চুরির অভিযোগে শাহরিয়ার আবিরকে ফ্লোরিডা প্যানস্কলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে আলমগীর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিশিগানের মাউন্ট ক্লেমেন্স থেকে। ভার্জিনিয়ার মানাসাস শহর থেকে ইশতিয়াক রাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং সিন্থেটিক মাদক রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতারণার অভিযোগে অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহর থেকে কনক পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। লন্ডনের হাউস অব কমন্সের জুবিলি রুমে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি ঈদ পুনর্মিলনী ও দোলযাত্রাও উদযাপন করা হয়। কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, এমপি এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক এমপি প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও বিভিন্ন উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আরও বেশি সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের কো-চেয়ার মেহফুজ আহমেদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন চেয়ার আনজান্নেরা হক। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শ্যাডো ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার ওয়েন্ডি মর্টন এমপি, শ্যাডো হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটিজ মিনিস্টার ডেভিড সিমন্ডস এমপি, ডেইম হ্যারিয়েট বাল্ডউইন এমপি, জ্যাক র্যাঙ্কিন এমপি এবং অনুষ্ঠানের হোস্ট বব ব্ল্যাকম্যান এমপি। বক্তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটেন একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
মালয়েশিয়ায় ২০২৫ সালে প্রতারণা-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় এ ক্ষতি বেড়েছে ৭৬ শতাংশ। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফর্টিনেট মালয়েশিয়ার তথ্যমতে, উৎসবকাল—বিশেষ করে হারি রায়া (ঈদ) ঘিরে এ ধরনের প্রতারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার কেভিন ওং জানান, ফিশিং প্রচারণা, ভুয়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং প্রতারণামূলক পেমেন্ট লিংকের মাধ্যমে অধিকাংশ জালিয়াতি সংঘটিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ই-ডুইট রায়া’ বা ডিজিটাল সালামি ব্যবস্থাকে টার্গেট করছে সাইবার অপরাধীরা। কিউআর কোড ও পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার করে লেনদেন অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উৎসবের সময় শুধু ভোক্তাই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে, কর্মীসংখ্যা কম থাকে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স সেন্টারে ২ হাজার ২০টি ঘটনার রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ছিল ফিশিং ও অনলাইন প্রতারণা। কেভিন ওং বলেন, উৎসবকালকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘বিরতির সময়’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সার্বক্ষণিক নজরদারি, কর্মীদের সচেতনতা এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ভোক্তাদের জন্য তিনি কিছু সতর্কতার কথাও জানান—যাচাইকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করা, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা, কখনোই ওটিপি বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করা এবং আর্থিক লেনদেনে পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলা। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে দ্রুত হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়। দক্ষ জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।