প্রবাসী

বাহরাইনে যুদ্ধাতঙ্ক: অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বাংলাদেশি কর্মীদের

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আকাশপথে অনিশ্চয়তার কারণে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এরই মধ্যে অনেক নির্মাণাধীন প্রকল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি।


রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকায় কর্মরত বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কোম্পানি তাদের কাজ সীমিত বা স্থগিত করেছে। বিশেষ করে দেশটির নির্মাণ খাত, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে এই সংকটের চিত্র আরও জটিলতার দিকে এগোচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মো. স্বপন চৌধুরী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাহরাইনে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি নিজেই বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ছোটখাটো কাজ ঠিকাদারি হিসেবে নিতেন। স্বপন আক্ষেপ করে বলেন,
আজ ৯ দিন ধরে আমার হাতে কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকলে এখানে টিকে থাকা কঠিন।
একই চিত্র দেখা গেছে চাঁদপুর হাজীগঞ্জের মো. খোকনের ক্ষেত্রে। ৯ বছর ধরে বাহরাইনে কার্পেন্টার হিসেবে কর্মরত খোকন জানান, তিনি দেশটির লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (এলএমআরএ) ভিসায় আছেন। প্রতি মাসে তাকে ১৫ দিনার ফি দিতে হয়।


খোকন বলেন,
সময়মতো এই ফি দিতে না পারলে আরও ৫ দিনার জরিমানা দিতে হয়। হাতে বর্তমানে কোনো কাজ নেই, চোখেমুখে শুধু অন্ধকার দেখছি।


লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ উপজেলার মো. কামরুল বিভিন্ন কোম্পানিতে জিপসাম সরবরাহের কাজ করেন। আজ ১১ দিন ধরে তিনিও কর্মহীন। মাদারীপুর জেলার শাহ আলমের কণ্ঠেও ঝরেছে একই হাহাকার।


এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়লেও বাহরাইন সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে। বাহরাইন তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ খাদ্যদ্রব্য আমদানি করে থাকে।


যুদ্ধের ফলে পারস্য উপসাগরের শিপিং রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবহন ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক প্রভাব পণ্যের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সীমিত আয়ের প্রবাসীদের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আসন্ন দিনগুলোতে বাড়তি হিমশিম খাওয়ার দুশ্চিন্তা বাড়ছে।


দীর্ঘ ১১ বছর বাহরাইন প্রবাসী শাহ আলম বলেন,
এর আগে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় এরকম একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম। দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিলাম। এখন আবার এই যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। এই সংকট কখন শেষ হবে তা শুধু ওপরওয়ালাই জানেন।


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন,
আমি এলএমআরএ ভিসায় একটি ঠিকাদারি কোম্পানিতে কাজ করি। কিন্তু যুদ্ধের আশঙ্কায় মূল ঠিকাদার বর্তমান প্রকল্পের কাজ স্থগিত রেখেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বাহরাইনের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ। পারস্য উপসাগরের এই দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর থাকায় এবং ইরানের খুব কাছে হওয়ায় যেকোনো আঞ্চলিক উত্তেজনায় দেশটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই দেশটির বড় বড় নির্মাণ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে।


শুধু সাধারণ শ্রমিক নন, প্রবাসী উদ্যোক্তারাও পড়েছেন চরম লোকসানে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘মোমিন কাপতাই কনস্ট্রাকশন’এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মোমিন জানান, তার কোম্পানিতে অধিকাংশ শ্রমিকই বাংলাদেশি।
তিনি বলেন
আমি বড় বড় আরব কোম্পানি থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ নিই। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনার কারণে সেই কাজগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে কর্মীদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।


অন্যদিকে ‘মর্গান সাপ্লাই কনস্ট্রাকশন’ কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে ৬ বছর ধরে কর্মরত জিকু আহমেদ জানান, প্রতিদিন সকালে তার মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন সাইটে কাজ করতে যেতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে কাজ না থাকায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি অনেক ভারতীয় ও পাকিস্তানি শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছেন।


কাজের সংকটের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে দেশে ফেরা বা বাহরাইনে আসা নিয়ে আকাশপথের অনিশ্চয়তা। ছুটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়া মো. করিম বলেন,

ইরান থেকে থেমে থেমে ক্ষেপণাস্ত্র ও মিসাইল হামলার খবরের কারণে আকাশপথ এখন অনিরাপদ মনে হচ্ছে। প্রায়ই ফ্লাইট বাতিলের খবর পাচ্ছি। যারা জরুরি প্রয়োজনে দেশে যেতে চাইছেন, তারা যেমন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তেমনি যারা ছুটিতে দেশে আছেন তারাও বাহরাইনে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।


এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বলেন,
কর্মহীন প্রবাসীর এই সমস্যা শুধু বাহরাইনে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সবাই এখন এক ধরনের যুদ্ধাতঙ্কের মধ্যে আছে। দূতাবাস থেকে পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা বা উদ্যোগ এলে তা দ্রুত প্রবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।


প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাহরাইনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন।


দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ ও হামলার নানা গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক প্রবাসী এখন প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন।


বাহরাইনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাস বলছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা বিপদে পড়লে সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই নিরাপত্তা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর বড় প্রভাব পড়বে প্রবাসী শ্রমবাজারে। তবে সংকটের মাঝেও অনেক প্রবাসী আশাবাদী যে, বাহরাইন সরকার দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে এবং শিগগিরই কর্মক্ষেত্রগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

 

​​​​​​

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কুয়ালালামপুরে আসিয়ানের পরিবহন কার্যদলের ৫০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত

মালয়েশিয়া ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ান ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ৬ থেকে ৮ এপ্রিল রাজধানী কুয়ালালামপুরে টিএফ ডাব্লিউ জি-এর ৫০তম বৈঠকের আয়োজন করে।   এ বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে, কারণ এতে প্রথমবারের মতো আসিয়ানের সদস্য হিসেবে তিমুর-লেস্তে অংশগ্রহণ করে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিধিকে আরও শক্তিশালী করেছে।   কুয়ালালামপুর ট্রান্সপোর্ট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০১৬–২০২৫ সমাপ্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠকে নতুন আসিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেক্টোরাল প্ল্যান ২০২৬–২০৩০ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় পরিবহন সুবিধা সহজীকরণের ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে আসিয়ানের চারটি মূল চুক্তি—এফএএফজিআইটি, এফএএফআইএসটি, এএফএএমটি এবং এএসইএএন সিবিটিপি বাস্তবায়ন বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।   এছাড়াও, বৈঠকে নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া–থাইল্যান্ড–লাও পিডিআর করিডোরে রেলপথের মাধ্যমে আশিয়ান কাস্টমস ট্রানজিট সিস্টেম পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রোটোকল ৯ প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা।   বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টিএডব্লিউজির ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবহন ব্যবস্থায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং চুক্তিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরবরাহ চেইনের ধারাবাহিকতা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।   মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতেও কৌশলগত আলোচনায় নেতৃত্ব প্রদান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে একটি আরও দক্ষ, গতিশীল ও সমন্বিত আসিয়ান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন উদ্যোগ জার্মানির

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু, লাশ আনতে টাকার অভাবে অসহায় পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ব্ল্যাকমেল, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আটক

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সাকিবকে আটলান্টায় দাফন

যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সাকিব আলীকে তার জন্মস্থান জর্জিয়ার আটলান্টায় দাফন করা হয়েছে।   শুক্রবার বাদ জুমা বেথেলহেম ইসলামিক সেন্টার মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জর্জিয়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেটর শেখ রহমান, সিনেটর নাবিলা ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান, রানা খান, টেনেসির কমিউনিটি নেতা সানি ও মাসুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন, কমিউনিটি নেতা শেখ জামাল। ৩০ বছর বয়সি সাকিব অ্যামাজন মিউজিকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী মানিকের একমাত্র ছেলে। সাকিব লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত মেরিনা ডেল রে সিটির একটি বাসায় একাকী থাকতেন। গত ৪ এপ্রিল থেকে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার বাবা মানিক ও মা শাকিরা আলী ৬ এপ্রিল জর্জিয়ার আটলান্টা থেকে মেরিনা ডেল রে সিটিতে যান। সাকিবের বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে অ্যাপার্টমেন্টের সুপারভাইজারের কাছ থেকে কোড সংগ্রহ করে দরজা খুলে। এসময় শয়নকক্ষের মেঝেতে সাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাকিব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে ৭ এপ্রিল তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইসলামিক সেন্টারে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সাকিবের বাবা ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার একমাত্র পুত্রের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর সাকিব আটলান্টাতেই টেলিকম কোম্পানি এটিঅ্যান্ডটি’তে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে অ্যামাজনে যোগ দেন এবং কোম্পানির হয়ে ফ্লোরিডা হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানান্তরিত হন। মাত্র ছয় মাস আগে প্রমোশনের মাধ্যমে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বদলি হয়ে মেরিনা ডেল রে এলাকায় বসবাস শুরু করেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কুয়ালালামপুরে ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনায় ১ বাংলাদেশিসহ ২ জন নিহত

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূলহোতা বোরহান গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে দেয়াল ধসে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু, চার মাসেই শেষ প্রবাসজীবন

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ৩ দিনের আবহাওয়া সতর্কতা, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

সৌদি আরবে আজ থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। এই সময়ে পবিত্র মক্কাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সৌদি ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানায়, আসির, জাজান, নাজরান, আল-বাহা, মক্কা, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, কাসিম এবং উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে।   আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ করে মক্কা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এতে ধূলিঝড় ও দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রিয়াদসহ অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকা ও উপত্যকা এড়িয়ে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে পানি জমে থাকা এলাকায় সাঁতার কাটা বা প্রবেশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে মৃত্যুর ১৮ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শামসুলের লাশ

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

ওমানে দুই ভারতীয়কে বাঁচিয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি তরুণ সাগর

0 Comments