সারাদেশ

বাড্ডার ফার্নিচার কারখানার আগুন ১ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে একটি ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

 

বিজ্ঞাপন

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, খবর পাওয়ার পর সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট। পরে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সহযোগিতার প্রয়োজন হবে না বিধায় পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন পথিমধ্য থেকে ফেরত চলে যায়।

 

ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া হতাহতের কোনো সংবাদও পাওয়া যায়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিকায়ন ও বড় বিনিয়োগের হাতছানি, নতুন সম্ভাবনায় মোংলা বন্দর

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ও দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলা এখন এক মহা-রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে। গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম খুলনা সফর। অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনা, চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বড় অঙ্কের ঋণচুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বন্দরটিকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।   প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান হাব বা ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সড়ক, রেল ও আকাশপথের সমন্বয়ে মোংলা বন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।   মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং বন্দরকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। পাশাপাশি মোংলা বন্দর চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অধিক ড্রাফট বা গভীরতার বড় পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে, যা বর্তমানে সীমিত পরিসরে সম্ভব হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ বা প্রথম নোঙর স্থল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যেকোনো বন্দরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক। বিদেশি জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি মোংলা বন্দরে ভিড়তে পারলে পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া ও হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।    শুধু বন্দর আধুনিকায়ন নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও। খুলনা-মোংলা সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা এবং খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াগন ও কনটেইনার ট্রেন চালু এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বড় শিল্পগোষ্ঠী কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হতে পারে।   গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটি ও প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে। মোংলা বন্দর হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।   আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, বিদেশি জাহাজের প্রতিনিধি ও বড় বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ করতে বহুল প্রত্যাশিত খান জাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগমন বাড়তে পারে। এসব অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের দ্রুত সমাধান হলে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা দেশের অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।   মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. সালাহ্ উদ্দিন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নাব্যতা অর্জনসহ বন্দরের সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পরে তিনি প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বন্দর চ্যানেলে ড্রেজিং করা হলে নাব্যতা বাড়বে। ফলে অধিক ড্রাফটের জাহাজ এ বন্দরে ভেড়ানো সম্ভব হবে।   প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে খুলনা, বাগেরহাটসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে মোংলা বন্দর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকর আলী বলেন, মোংলা বন্দরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ ত্বরান্বিত করবে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি মোংলা কাস্টমস হাউস ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফর এসব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা করেন।   বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকার যেসব মানুষ কাজ হারাচ্ছেন, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যাত্রী সংকটে বন্ধের পথে নৌপথ, পেশা বদলের চিন্তায় ট্রলার মালিক-চালকরা

সাগরকন্যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ঘুরলেন ভ্যানে চড়ে

মুন্সীগঞ্জের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পটে এবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।     ডিএমপি জানায়, দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো– শামসুল হক, মো. ইকবাল হোসেন জিহাদ, আরাফাত হোসেন শামীম, মো. আব্দুল্লাহ রাহুল, মোহাম্মদ হোসেন, সাইমুর, ইমন, অভি, মো. রাফিন, জুনায়েদ হোসেন, মো. সাইদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মো. ইমরান আরাফাত, মো. মারুফ হোসেন, সাহিদুর, মো. উজ্জল, মো. রবিন, মো. মাসুদ, মো. দুলু, ফরিদ বেপারী, মো. জনি, কবির, ইউসুফ, মো. আল রাব্বি, মো. শুভ, মো. শাওন, মো. সেন্টু মিয়া ও একজন শিশু। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে একাধিক অভিযানের পরও স্পটটিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। পরে শুক্রবার বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সেখান থেকে ২৮ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।    এর আগে এই স্পটেই গত শনিবার অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।    এরপর স্পটটিতে দুই দফায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৪, ২০২৬

রমনায় পুলিশ কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি, আতঙ্কে থমথমে সাজেক, ধস পর্যটন ব্যবসায়

কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন, তিন শতাধিক পর্যটক নিরাপদে উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ ও ট্রাকে চাপা পড়ে নিহত ৬

ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা-খুলনা-ফরিদপুর মহাসড়কে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বাস-অ্যাম্বুল্যান্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন এবং বালুবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।     এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।     শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস-অ্যাম্বুল্যান্সের সংঘর্ষ ঘটে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা।     তেঁতুলতলায় নিহতরা হলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২) ও তার ছেলে শাওন (৭)।     এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়।     সংঘর্ষের পর ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হলে সেটি মহাসড়কে উল্টে পড়ে। এ সময় একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে তিনজনকে এবং ক্রেন দিয়ে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সুমি বেগম ও তার ছেলে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন।     এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মধুখালীর আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী কিং ফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুল্যান্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রথমে তিনজন নিহত হন। পরে আহতদের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারজনে।     পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অ্যাম্বুল্যান্সে সাতজনের একটি দল ছিল। তারা ‘ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভায় অংশ নিতে ফরিদপুরে এসেছিলেন। সভা শেষে মাগুরায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।     নিহতদের মধ্যে রাব্বি (২১) নামে একজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে সাগর বিশ্বাস (২২) ও রিয়া (২১) রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা।     দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাদের একজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।     ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, বাস-অ্যাম্বুল্যান্সের সংঘর্ষে প্রথমে তিনজন এবং পরে আরো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর কানাইপুরের তেঁতুলতলায় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মা-ছেলের মৃত্যু হয়। দুই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের রামপালে নির্মিত হতে যাচ্ছে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সোমবার চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট পাবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-খুলনা সড়কে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৩

0 Comments