জাতীয়

অননুমোদিত বা মানহীন ক্লিনিক চলতে দেওয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মারিয়া রহমান মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মানোন্নয়নে কোনো ধরনের অননুমোদিত ও মানহীন ক্লিনিক চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী জানান, ঈদের আমেজ শেষ হতেই আজ থেকে রাজধানীর বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিশেষ পরিদর্শন ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হচ্ছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেই অনুযায়ী, অনিয়মকারী ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। যদি কোনো ক্লিনিক ন্যূনতম চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই তদারকি কার্যক্রম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা বাজেট পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয় এ সভায়। ছবি: সংগৃহীত
ইউনেস্কো সভায় শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান

প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের ২২৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশ শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য তুলে ধরেন। সচিব তার বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা বাজেট পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।   টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৪) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে আব্দুল খালেক জানান, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাধ্যমিক স্তর থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।  তবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) এর আওতায় অনুদান কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ আমরা ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম সংকটে পড়বে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বপ্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানান। নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সচিব ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির নবনির্বাচিত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ তৃণমূল পর্যায়ে ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে।    অধিবেশনে সচিব ইসরাইল কর্তৃক গাজার শিক্ষা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি গাজার ৮১ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিক নিহত হওয়া এবং ইরানের স্কুলে ভয়াবহ হামলা এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ‘ইউনেস্কো-৮০ রোডম্যাপ’ সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে সচিব সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে গিয়ে যেন উন্নয়নশীল দেশ, আফ্রিকা এবং উন্নয়নশীল দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর (এসআইডিএস) জন্য কারিগরি সহায়তা বা মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। সচিব আবদুল খালেক বক্তব্যের শেষে বলেন, আমরা ইউনেস্কোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২৫০

ছবি: সংগৃহীত

জলঢাকায় শ্মশান কালী মন্দিরের সামনে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত
আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, ব্যয়ে ফল কম: আইনমন্ত্রী

আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, গত দুই দশকে কমিশনের পেছনে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও ইউএনডিপি আয়োজিত যৌথ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   আইনমন্ত্রী জানান, আইন কমিশন এখন পর্যন্ত ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করলেও এর মধ্যে মাত্র আটটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলেও কার্যকর ফল খুবই সীমিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।   তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, অবসরের পর কেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মতে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদে নিয়োগ বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এতে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিরা।   আইন পেশার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিক ও যুগোপযোগী করা জরুরি। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন বলে উল্লেখ করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা আইন পেশার জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।   আইনমন্ত্রী জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সংস্কার আনা এবং এর বাজেট বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও সমাধান প্রয়োজন।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের জ্ঞান, সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১০৫

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সেচ পাম্পে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত
মাদক ও মানবপাচার রোধে শিগগিরই বিশেষ অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদক ও মানবপাচার বন্ধে শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মাদক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মারাত্মকভাবে বিপথগামী করছে। এ কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ জন্য সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।   মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ এজাহার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   মানবপাচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কয়েকটি অঞ্চল, বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব এলাকায় মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব পয়েন্ট ব্যবহার করে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়, সেগুলো চিহ্নিত করে সুসংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।   তিনি বলেন, সরকার মানবপাচার বন্ধে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া উদ্বেগজনক হারে বিস্তার লাভ করছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বের করা যায়।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে বিএনপি। বিএনপি যা বলে, তা করে। কৃষকই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সবশেষে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য সরবরাহ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।   এর আগে সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটিঘাটের পরিস্থিতি, বন্দরের গুদাম, ভবন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া বন্দর ভবনের ওপর উঠে নাফ নদীর জলসীমা দেখেন তিনি।   টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে বন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে কখন থেকে স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্থবির রয়েছে, সেটিও জানানো হয়েছে।   পরিদর্শনকালে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর, প্রশাসন ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

গরম উপেক্ষা করে হাতিরঝিলে জনস্রোত, উৎসবের আমেজে নববর্ষ বরণ

ছবি: সংগৃহীত

বাঁধভাঙা জনস্রোতে বৈশাখ উদযাপন: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ছবি : বাংলা একাডেমি

নাসির আলী মামুনের ৬৭তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

0 Comments