গত ১০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থীর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন আত্মহত্যা করেছেন, নয়জন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাকি চারজন অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং অন্যরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একদিনেই। এছাড়া পদ্মায় বাসডুবির ঘটনা একই দিন মারা যান চার শিক্ষার্থী।
গত মাসের ১০ তারিখ (মঙ্গলবার) সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজশাহীর বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আনিসা শারমিলা নাফিসা। গত ৩ মার্চ মেডিকেল কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরীর লিলি হল সংলগ্ন এলাকায় মিনি ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও পরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাফিসা।
বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২১তম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ আসমাত নিবিড় মারা যান গত মাসের ১৩ তারিখ (শুক্রবার)। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। আসিফ আসমাত নিবিড়ের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তিনি চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অধ্যয়নের পর প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। করতেন অনুবাদও।
গত ১৬ মার্চ (সোমবার) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালি এলাকায় বাসার ছাদ থেকে পড়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা রিজু মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার একটি ছেলে ও মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।
একই দিন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী দীপা দাস দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেন। জানা গেছে, আগেরদিন বিকেলে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় দীপার। পরে তিনি তার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার কর্মকারপাড়ায় গত ১৮ মার্চ সজীব দত্ত (২৭) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সদর থানার এসআই মহাসিন আলীর ভাষ্য, সজীব শৈশব থেকেই নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। সকালে ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান ইমন গত ২২ মার্চ (রবিবার) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যান। সেদিন সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২৩২ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গত ২৫ মার্চ পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় একই দিন চার শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। এর মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোহরা অন্তি ও তার স্বামী বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ ও সিআরপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএইচপিআইয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সোমা (অকুপেশনাল থেরাপি, ১৭তম ব্যাচ)।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ডুবির এ ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) তড়িৎ ও প্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম খায়রুল গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আবদুর রহিম খাইরুলের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চায়না বাজার এলাকায়। তিনি রংপুরের কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে হাবিপ্রবির তড়িৎ ও প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঘড়িয়ালডাংগা ইউনিয়ন সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
রাজধানীর ভাটারার একটি বাড়ির ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাট থেকে গত ২৯ মার্চ (রবিবার) আনিপা নিন্দিয়া (২৫) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আনিপা লালমাটিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার একলাসপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আশফাক ভূঁইয়া। তিনি ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ভাটারা এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
গত ৩০ মার্চ (সোমবার) প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার। খুলনা মহানগরীর জেলা পরিষদ ভবনের সামনে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মৌমিতা হালদার নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি পাটকেলঘাটা।
দুর্ঘটনার পরপরই স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজধানীর হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের ভাড়া বাসায় গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত ‘বিষাক্ত দ্রব্য পানে’ আত্মহত্যা করেন। হাজারীবাগ থানার এসআই জাহিদ হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, রাত দেড়টার দিকে আমরা খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষার্থী ছারপোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তুরাগ থানার ডিউটিরত অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে একই বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, সাবিত কয়েকদিন ধরেই মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু অস্বাভাবিক পোস্টও দিয়েছিলেন। গতকাল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জানা যায়, তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন।
একই দিন (শুক্রবার) শিক্ষকের রোষানলে পড়ে এক বিষয়ে পাঁচ বার ফেল করে অভিমানে ১০৯ টি ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন।
নাম প্রকাশ করলে শিক্ষকের রোষানলে পড়ার আশঙ্কা থাকায় উহ্য রাখার অনুরোধ জানিয়ে অর্পিতা নওশিনের বন্ধুরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমিতে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। গত তিন বছরে নওশিন আরও চারবার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই পরীক্ষায় ফেল হয়েছেন। তার এই অসফলতার সুনির্দিষ্ট কারণ কেউ জানে না। তবে বন্ধুরা বলছেন, প্রথম বর্ষে থাকা অবস্থায় মনিরা শারমিন প্রকাশ্যেই নওশিনকে ফেল করার হুমকি দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ নাফিজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গৌরনদীর নিজ বাড়িতে মারা যান। গত ১৬ মার্চ অসুস্থতার কারণে তাকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শুক্রবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের (এসএইচএসএমসি) পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সাবরী মাহি (২৩) মারা যান ডায়রিয়াজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে। সহপাঠীরা জানিয়েছেন, মাহি এসএইচএসএমসির ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মনের একজন মানুষ।
এসব শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করে গভীর বেদনা প্রকাশ করছেন। কারও কাছে তারা ছিলেন প্রিয় বন্ধু, কারও কাছে সহযোদ্ধা কিংবা স্বপ্ন ভাগাভাগির সঙ্গী—হঠাৎ করেই তাদের অনুপস্থিতি তৈরি করেছে এক অপুরণীয় শূন্যতা। অনেকেই লিখছেন, হাসিখুশি মুখগুলো এত দ্রুত হারিয়ে যাবে, তা কখনো ভাবেননি। এই ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগও বাড়ছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ক্যাম্পাস পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী মাহির বন্ধু শ্রেয়া বসু ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘মুগদা মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর আমার প্রথম বন্ধু ছিল মাহি। মেয়েটা ছিল ভীষণ শান্ত, ভদ্র আর অসাধারণ ভালো একজন মানুষ। আমাদের রোল কাছাকাছি ছিল, তাই প্রায় সবসময়ই আমরা একসাথেই থাকতাম। কিছুদিন পর মাইগ্রেশনে মাহি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে চলে যায়। সেদিন ওকে জড়িয়ে ধরে আমি অনেক কেঁদেছিলাম… কারণ জানতাম, আর প্রতিদিন দেখা হবে না, একসাথে ঘোরা হবে না। তারপর থেকে আমাদের কথা হতো মেসেজে… কিন্তু দূরত্ব কখনো আমাদের বন্ধুত্বকে কমাতে পারেনি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গভীর রাতে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পৌরসভার বাঁশের তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হীল জামান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন ছাদিয়া আক্তার (৭), শামিম মিয়া (২৮), জাহিদুল ইসলাম (৩৮)। লিমন মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন। তারা সবাই ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আহত ১১ জনকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরনগরীর আকাশ ছিল মেঘলা। বেলা ১০টার পর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় এবং বেলা ১১টার দিকে ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। এরপর দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমতে শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় গোলপাহাড় মোড় থেকে প্রবর্তক মোড় হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনের সড়ক পর্যন্ত। দুপুর ১টার দিকে বদনা শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি জমে যায়। ওই সড়কে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে দেখা গেছে। মাজার সংলগ্ন নার্সিং কলেজ সড়কও পানিতে তলিয়ে যায়। বিপরীত পাশের সিএসসিআর ও সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে আসা রোগীরা পানিতে আটকা পড়েন। এর আগে সোমবার বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতেও এই অংশটি ডুবে গিয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সড়কের ওই অংশে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে কয়েকটি অটোরিকশা আটকা পড়েছে। সড়কের এক পাশে রাখা একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটর সাইকেল অর্ধেকের বেশি পানিতে ডুবে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার বাসিন্দা সামিউল হক। প্রবর্তক মোড়ে পৌঁছানোর আগেই তিনি পানিতে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, এখানে মেডিকেল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে। এই সড়কে বারবার পানি ওঠে। সামনে বর্ষা আসছে, তার আগে খালের এই অংশটি কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সেটা কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত ছিল। প্রবর্তক মোড়ের অদূরে হিজড়া খালের পাঁচলাইশ অংশে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সেখানে খালের ভেতর মাটি দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের ভারি বৃষ্টিতে ওই এলাকায় খাল ও সড়ক একাকার হয়ে যায়। কাতালগঞ্জেও খালের কালভার্ট সংস্কারের কারণে গত দুই মাস ধরে সড়কের একপাশ বন্ধ রয়েছে, সেখানেও পানি জমেছে। এছাড়া মুরাদপুর এন মোহাম্মদ অংশে খালের পানি উপচে মূল সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনের ধীরগতি এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। নগরীর বহদ্দারহাট, তিন পোলের মাথা, জামালখানের প্রচ্ছদ গলি ও রহমতগঞ্জ এলাকায়ও পানি জমে যায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) উপ-প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, এসব জায়গায় কোথায় কী সমস্যা আছে সেটা আমরা দেখছি। খালে বাঁধ যেখানে আছে, সেসব স্থানে মাত্র একটি করে পাইপ দেওয়া আছে পানি যাবার জন্য। অথচ খালের প্রস্থ ২০ ফুট। ভারি বৃষ্টিতে এত পানি একটা পাইপ দিয়ে সরা সম্ভব না। বেলা আড়াইটার দিকে প্রবর্তক মোড় ও চমেক এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। পরে তিনি বলেন, “যেখানে যেখানে সমস্যা আছে সেটা আমি দেখতে সরেজমিন এখানে এসেছি। ইতোমধ্যে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, গোসাইলডাঙা, সিডিএ, আগ্রাবাদ, চকবাজার, ফুলতলি ঘুরে এখানে এসেছি। আমি মনিটরিং এর মধ্যে আছি। একটা কর্মযজ্ঞ চলছে আসলে। গতবছর বর্ষাতে আমরা জলাবদ্ধতা কমিয়ে দিতে পেরেছিলাম। এবারেও আশাবাদী, হিজড়া খালের কাজ যদি ১৫ মে এর মধ্যে শেষ করতে পারি তাহলে জলাবদ্ধতা কমাতে পারব। প্রবর্তক মোড় ও আশেপাশের এলাকায় হিজড়া খালের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে জানিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্পের অধীনে হিজড়া খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুরের যে অংশ সেখানে কাজ এখনো শেষ হয়নি। হিজড়া খালের প্রবর্তক, পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জের অংশে কাজ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দেওয়ার কারণে চকবাজার, প্রবর্তক ও মেডিকেলের সামনে পানি উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে তারা রিটেইনিং ওয়ালের কাজ করছে। তারা আমাদের বলেছে ১৫ মে এর মধ্যে বুঝিয়ে দিতে পারবে। পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৬ মিলিমিটার। এদিকে দেশের আট বিভাগেই কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে সিডিএ, যার বেশিরভাগ শেষ হলেও হিজড়া ও জামালখান খালের কাজ এখনো চলমান।
যশোর সফরে এসে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে উলাশীর উদ্দেশে রওনা দিলে পুরো পথজুড়ে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাস্তার দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে অবস্থান নেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান, করতালি ও শুভেচ্ছা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রী বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দেন। বিশেষ করে ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালী ও ঝিকরগাছা এলাকায় ছিল ভিন্ন এক আবহ। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান। অনেকেই সড়কে ফুল ছিটিয়ে রাখেন, আর প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বাস গদখালী এলাকায় পৌঁছালে ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম যশোর সফর হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস। সফরকালে তিনি উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি পরিদর্শন করবেন, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন এবং পরে ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।