রাজধানীর মিরপুরের বেনারসি পল্লিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে। রোববার (১৫ মার্চ) দিনগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দুটি ইউনিট প্রায় ২৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশিদ বিন খালিদ জানান, মিরপুর-১০ নম্বর বেনারসি পল্লিতে রাত ১টা ২০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট সেখানে যায়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণ বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। তবে বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার বায়ুমান কিছু ভালো আজ। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে বায়ুদূষণের তালিকায় ২০তম অবস্থানে বাংলাদেশের ঢাকা। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১০০, যা সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। একই সময়ে ৪০৪ স্কোর নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে মিসরের কায়রো। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ২২৮ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের দিল্লির স্কোর ২০০। এছাড়া ১৬৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আরেক শহরের স্কোর ১৬১। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি এই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিয়ে থাকে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা জানায়। একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো, ৫১–১০০ সহনীয় বা মাঝারি, ১০১–১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর। বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)-এর ভিত্তিতে। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অনুসারে, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
রাজধানীর হাতিরঝিল মধুবাগে বৃষ্টির সময় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায় , নিহত ওই নারীর নাম রাশেদা বেগম। মধুবাগ ৩ নম্বর গলির প্রফেসর বাড়ির সামনের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল হঠাৎ ভেঙে পড়ল তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দেয়ালের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজে আটজনের মরদেহ এসেছে, আর রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রয়েছে। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৮ জনের মরদেহ এসেছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী, দুইজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং তার চিকিৎসা চলছে।
জুলাই সনদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই স্ট্যাটাস দেন তিনি। স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, ‘জুলাই সনদ Non-negotiable’। মাত্র ৪ শব্দের এ স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এক ঘণ্টায় স্ট্যাটাসটিতে প্রায় ১৫ হাজার রিঅ্যাক্ট পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ছয়শত আইডি থেকে স্ট্যাটাসটির মন্তব্যের ঘরে নানা মন্তব্য করা হয়েছে।
রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সিকান্দার মিয়া (৩২) নামে এক অটোরিকশা মালিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিবাগের ভাঙারি গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সিকান্দারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বড় ভাই আমির আলী জানান, তার ভাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক ছিলেন। রাতে বাসায় ফেরার পথে শান্তিবাগ এলাকায় পৌঁছালে মো. হান্নান, মামুনসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহত সিকান্দারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার গাজীপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুর রব। তবে তিনি ঢাকার শাহজাহানপুরের শান্তিবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় দুই মুরগি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরের দিকে বঙ্গভবনের সামনে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মো. রিপন (৪৫) ও মো. সুলতান (৫০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মো. শাহিন জানান, ভোর চারটার দিকে একটি মুরগিবাহী ভ্যান বঙ্গভবনের সামনে ইউটার্ন নেওয়ার সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানে থাকা দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যু নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, নিহত রিপনের বাড়ি শেরপুর জেলার নবীনগর এলাকায়। তার বাবার নাম সাখাওয়াত হোসেন। অন্যদিকে সুলতানের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার বেপারিপাড়া এলাকায়, তার বাবার নাম জমশেদ আলী। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বরে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লেগেছে। ওই ভবনের ছাদে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে মিরপুর ২ নম্বরের স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে ১১তলা ভবনের (এল এ প্লাজা) ৩য় তলায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পান। ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ১টা ৫৮ মিনিটে। পরে আরও ৩টি ইউনিট যোগ দেয়। এ ছাড়া আরও ২টি ইউনিট পাঠানো হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) প্রতিরোধে সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। সোমবার (৯ মার্চ) কমিশনের অডিটোরিয়ামে খসড়া অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালার ওপর অংশীজনদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক ড. দুর্গা রানী সরকার। অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা তৈরি করেছে এবং সেগুলো বিছিন্নভাবে বাস্তবায়ন করছে। ইউজিসির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা তৈরি করা হলে তা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এ নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়মসহ গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গবেষকরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। এটি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন। ইউজিসির এ সদস্য আরও বলেন, দেরিতে হলেও ইউজিসি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ালে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি হবে না বলে তিনি মনে করেন। ড. দুর্গা রানী সরকার বলেন, উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ-এর সঞ্চালনায় কর্মশালায় ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকসহ ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুজনকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। রোববার (০৮ মার্চ) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জাবের এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। প্রসঙ্গত, শনিবার (০৭ মার্চ) দিবাগত রাতে হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইফতারের পর শহীদ হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জাবের তার পোস্টে বলেন, শহীদ হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনে সহায়তাকারী, খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিচার করতে হবে। আর কিছু চাই না। তিনি জানান, মিছিলে মঞ্চের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে এর পেছনে কারা রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার আহবান জানানো হয়েছে। জাবের অভিযোগ করেছেন, আগের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। আগামী ১১ তারিখে দেওয়া হতে যাওয়া চার্জশিটে যদি একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে সবার পরামর্শও চাওয়া হয়েছে।
রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্সে বাজানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত সাউন্ড বক্সটি জব্দ করে পুলিশ। জানা গেছে, আটক হওয়া শিক্ষার্থীর নাম আসিফ আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহিদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। তার সঙ্গে সাউন্ড বক্স পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরেকজন অপারেটরকেও আটক করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চানখাঁরপুল মোড়ে সাউন্ড বক্সে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল। এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে এসে উপস্থিত হলে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীর কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়।একপর্যায়ে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে সাউন্ড সিস্টেমটি জব্দ করেন এবং সংশ্লিষ্ট দুইজনকে আটক করেন। শাহবাগ থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো মনিরুজ্জামান বলেন, ওটা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিল। এইটা তো নিষিদ্ধ এজন্য নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ দিচ্ছে বলেই তো তারে নিয়ে আসা। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এইটা আমাদের সিদ্ধান্ত হবে। এত তাড়াতাড়ি যদি সিদ্ধান্ত জানতে চান তাইলে কেমনে দিব? এটা আমাদের সিদ্ধান্তের বিষয় আছে। নিয়ে আসছি, সিদ্ধান্ত নিব, স্যারের সাথে আলোচনা করি তারপর বলতে পারব। এখন আপনারা এসেই যদি ‘কি করলেন’ এই কথা বললে কেমনে পারব? আমরা মাত্র নিয়ে আসলাম, সিদ্ধান্ত নিই তারপর। ঠিক আছে?
ইরাক–এর কুর্দি–অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধাদের তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর আল জাজিরা। তাসনিম নিউজ এজেন্সি–তে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ অঞ্চলে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো যদি ইরান–এর আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, ইরানে সরকারবিরোধী বিদ্রোহ উসকে দিতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন ইরানবিরোধী দল ও ইরাকভিত্তিক কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন–এর লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে বড় শহরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ তৈরি করা। অন্যদিকে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, দেশ দুটিতে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক ও সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এ অভিযানে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে ৯ এপ্রিল। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে ২৭ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার ৬ আসামি হলেন-বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ। মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে দাবি প্রসিকিউশনের। তাই সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশাও তাদের।
ভোরের আলো না ফুটতেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ১২৩ শহরের মধ্যে ৩০৩ স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে এ শহর। বায়ুদূষণের এ তথ্য প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বর্তমান বায়ুমান ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়। একই সময়ে ২৩৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। যথাক্রমে ২২৫ ও ১৩১ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি। পঞ্চম অবস্থানে থাকা চীনের বেইজিং শহরের বায়ুমানের স্কোর ১৭৭। একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সামনের ঈদ রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে গিয়ে উদ্যাপন করবেন’-এমন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস-কে পাশে বসিয়ে এমন আশার বার্তা দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর মেয়াদও শেষ হয়েছে, কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষা শেষ হয়নি রোহিঙ্গাদের। গেল বছর রমজানে (১৪ মার্চ) রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করতে গিয়ে এ কথা বলেছিলেন ড. ইউনূস। এরপর রোহিঙ্গারা আশায় বুক বাঁধলেও শুরু হয়নি একজন রোহিঙ্গারও প্রত্যাবাসন। উল্টো প্রায় প্রতিদিন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা, নোবেলজয়ী পরিচিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা সব মিলিয়ে তাঁর এমন অঙ্গীকারে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে তৈরি হয়েছিল নতুন প্রত্যাশা। সময় গড়িয়েছে। ড. ইউনূস সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সামনে ঈদও এসেছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা বন্দি রয়ে গেছে কাঁটাতারের শরণার্থী শিবিরে। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আট বছরেও প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখেনি। তবে স্বাভাবিকভাবেই তাদের সংখ্যা বেড়েছে; যা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে প্রায় ১২ লাখ হলেও বেসরকারি হিসাবে ১৪ লাখের কাছাকাছি। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাত এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোয়নি। এ কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতা রয়ে গেছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রোহিঙ্গাসংকট মোকাবিলায় যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা বর্তমান সরকারও বজায় রাখবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাবিষয়ক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগে শুরু করা প্রক্রিয়াগুলো অব্যাহত রাখবেন বলেই বিশ্বাস করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সীমিত সময়ের মধ্যেও রোহিঙ্গাসংকট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান করেছে দাবি করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘে একটি স্পেশাল কনফারেন্স হয়েছে। বাংলাদেশে তিন দিনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের নজরে বিষয়টি আনা হয়েছে। বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এসেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবার এ নিয়ে সম্পৃক্ততা শুরু হয়েছে। এটা বড় বিষয়। রোহিঙ্গাসংকট আন্তর্জাতিক ফোরামে অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। ইস্যুটা আবার আলোচনায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।’ ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবির গড়ে উঠেছে কক্সবাজারে। বাংলাদেশ বহুবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব নিশ্চয়তা না থাকায় তা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারে বিদায়ের পর ইউনূস সরকার স্বপ্ন দেখালেও শুরু করতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবাসন। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে। তারা আশা করছে শিগগিরই নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে স্বদেশে ফিরতে পারবে। ক্যাম্প-১৮-এর বাসিন্দা আবদুল হাই বলেন, ‘১৯৯১–৯২ সালে বিএনপি সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করিয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও অতীতের মতো উদ্যোগ নিয়ে তাদের নিরাপত্তার সঙ্গে স্বদেশে ফেরত পাঠাবে বলে আশা করছি।’ উখিয়ার ক্যাম্প-১৬-এর বাসিন্দা করিম আলী বলেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় আমরা নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে অনেক আশাবাদী ছিলাম। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসায় আমরা নতুন করে আশা করছি, একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে বসবাসরত আবদুস সালাম বলেন, ‘ড. ইউনূসের আশ্বাসে আমরা সত্যিই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মনে হয়েছিল এবার হয়তো সত্যি ফিরব। কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না।’ ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গা’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো জাতীয় নীতিমালা নেই। প্রতিনিধিত্বমূলক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।’ উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক দাঙ্গা, সংঘাত ও সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন এখন অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। সেখানে কোনো বৈধ, কার্যকর সরকার নেই। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন বাস্তবসম্মতভাবে অনিশ্চিত।’ রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্টদের মতে বাস্তবতা এখন আরও জটিল। নতুন সরকারের সামনে রোহিঙ্গাসংকট আগের মতোই এক কঠিন বাস্তবতা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত পরিস্থিতি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কঠিন করে তুলেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য, জাতীয় নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। এছাড়া স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও অপরিহার্য। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে রোহিঙ্গা, প্রায় ১৪ লাখের বেশি নাগরিক। ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে আনুমানিক দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু ফুসফুসের সংক্রমণসহ কিছু জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ডা. মাহমুদা মিতুর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তার স্বামী। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কিছু জরুরি বিষয় জানাচ্ছি। আমার স্ত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর গত ২৩ তারিখ হঠাৎ গাইনোকোলজিকাল ইমার্জেন্সি দেখা দেওয়ায় জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে। অপারেশনের পূর্বে তিনি প্রায় শক অবস্থায় ছিলেন এবং পেটের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই দৌড়ে এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সহায়তা, আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় সেই কঠিন সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অপারেশনের পর কিছু জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে অপারেশনজনিত সমস্যা না থাকলেও পোস্ট-অপারেটিভ ফুসফুসের সংক্রমণসহ আরও কিছু জটিলতার কারণে তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেপটিসেমিয়ার ফিচারসহ, ডি ডাইমার, লিভার এনজাইম, সি আর পি, WBC সব প্যারামিটার রেইজসড সাথে নিউট্রোফিলিয়া। নতুন করে হাই ডায়বেটিক (অন ইন্সুলিন) অবস্থায় আছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার এখনো স্যাচুরেশন ফল করছে, তবে যেগুলো বেশি ছিল সেগুলো এখন কমে আসছে, আজকে শুধু WBC বেড়েছে। এই সকল প্যারামিটার রেইজ যেহেতু এবং বর্তমানে তার ফুসফুস আক্রান্ত, তাই আপাতত কোনো ভিজিটর অনুমোদন করা হচ্ছে না, বিষয়টি সবাই সহানুভূতির সাথে গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি। দুদিন আগে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আপাতত সেই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পেরেছি, তবে এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন আরও ৪/৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিন তার অনলাইনে অনুপস্থিতি দেখে আপনাদের শত শত কল ও বার্তা এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন যোগাযোগের কারণে বিষয়টি জানানোকে দায়িত্ব মনে করেছি। অনেকে হাসপাতালের ঠিকানা জানতে চেয়েছেন। তিনি পাশ করার পর প্রায় ৯ বছর যে গাইনি ক্লিনিকে কাজ করেছেন, সেটিকেই তিনি নিজের দ্বিতীয় ঘর মনে করেন। আমি ঢাকা মেডিকেলে ডিউটিরত থাকার সময়ও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। তার কমফোর্ট জোন বিবেচনায় আমরা তাকে সেখানেই রেখেছি। গত ২২-২৩ তারিখ থেকেই তিনি অনেক বেশি শারীরিক কষ্ট পেয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে আমার স্ত্রীর জন্য আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করছি। তার কথা বা অবস্থানের কারণে যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বাচ্চারা, আমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এই মুহূর্তে কিছুটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পবিত্র রমযান মাসের বরকতময় সময়ে আপনাদের আন্তরিক দোয়ার উছিলায় মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এই কামনাই করছি। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, তার নাম মনে পড়লেই নাম ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের জন্য অনেক বড় শক্তি। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের অন্তরে তার জন্য যে ভালোবাসা ও সম্মান সৃষ্টি করেছেন, সেই ভালোবাসা ও দোয়াতেই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং আপনাদের আশানুরূপ স্থানে আমরা অতি দ্রুতই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবো ইনশাআল্লাহ।
প্রথমবারের মতো সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে সংস্থাটির নিজস্ব কোনো সংরক্ষণাগার না থাকা, এলপিজি পরিচালনায় সীমিত অভিজ্ঞতা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর বাজার কাঠামো—সব মিলিয়ে এ উদ্যোগ ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিপিসি মূলত জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহে অভ্যস্ত। এলপিজি পরিচালনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিপিসির বর্তমানে নিজস্ব কোনো এলপিজি সংরক্ষণ সুবিধা নেই। ফলে আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণের জন্য তাদের বেসরকারি অপারেটরদের ওপর নির্ভর করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি জেটি ব্যবহার করে প্রায় ৫০ হাজার টনের জাহাজ খালাস করা যাবে। সংরক্ষণ সুবিধার জন্য প্রতি মেট্রিক টনে মাসে প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হতে পারে বিপিসিকে। দীর্ঘ সময় পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকলে ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ বাবদ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি খাত। তাদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর সঙ্গে বিপিসির দরকষাকষি চলছে। ব্যবসায়ীরা চান সরকার নিজ উদ্যোগে বড় চালান আমদানি করুক এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৫০০ টনের ছোট লটে কিনবে। তবে বিপিসির আশঙ্কা, নিজস্ব স্টোরেজ না থাকায় বড় চালান এনে দ্রুত বিক্রি সম্ভব না হলে ভাড়া ও ডেমারেজের চাপ বাড়বে। এ বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কীভাবে আমদানি করবে আর কতটুকু আমদানি করবে, তা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের আমদানি করে দিলে আমরা তা বিক্রি করব।’ এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে এলপিজির দাম কমেছে। আমরা কোথাও কারও কাছ থেকে বেশি নিচ্ছি না। সরকার মনিটরিং করলে কেউ বেশি দাম নিতে পারবে না।’ বর্তমানে বিপিসি বছরে ২৭ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহ করে, যা মোট বাজারের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিপিসি কিছু অবকাঠামোগত উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। চট্টগ্রামের সাগরিকা (উত্তর কাট্টলি) এলাকায় প্রায় ৪০ একর জমিতে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাসের সঙ্গে যৌথভাবে বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) বাস্তবায়িত হলে দেশের শোধন ক্ষমতা বাড়বে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংকট সামাল দিতে বিপিসি সৌদি আরব, আজারবাইজানসহ ১১টি দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে আমদানির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর না হলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার আশঙ্কা রয়েছে। বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরব, আজারবাইজান, আলজেরিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, ওমান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১২টি সরকারি কোম্পানির কাছে এলপিজি সরবরাহের আগ্রহ, শর্ত ও সক্ষমতা জানতে চাওয়া হয়েছে। গত ২১ ও ২৪ জানুয়ারি এসব কোম্পানির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সচিব শাহিনা সুলতানা কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা এলওএবির মাধ্যমে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগামী তিন মাসের এলপিজি চাহিদা সংগ্রহ করেছি। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯টি জি-টু-জি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমদানির আগ্রহ জানতে চাওয়া হয়েছে এবং আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোটেশন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত সভা করছি। গত ১২ জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে অপারেটরদের পক্ষ থেকে এলসি খোলা সহজ করা, ডায়নামিক মূল্য নির্ধারণ এবং এলপিজিকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরাসরি মনিটরিং করছে।’ এ ছাড়া সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিপিসি এলপিজির ডায়নামিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুততম সময়ে আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত দেশে এলপিজি সংকট দূর হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ফের স্থিতিশীল হবে। দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা এখন প্রায় ১৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। চাহিদা দ্রুত বাড়লেও বাজারটি এখনো প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশের এলপিজির বার্ষিক বাজারের আকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আমদানির বাজারে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠেছে মেঘনা গ্রুপের মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, তাদের দখলে বাজারের ১৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি ১৬ শতাংশ, যমুনা স্পেকটেক জয়েন্ট ভেঞ্চার ১৪ শতাংশ, ওমেরা পেট্রোলিয়াম ১২ শতাংশ এবং বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড ১০ শতাংশ।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, রমজান উপলক্ষে বাজারে আমেরিকান খেজুর, বাদাম, শুকনো ফল, ট্যাং ও ফলের জুস দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রমজানের ইফতার আয়োজনের সময় এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের ভোক্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন। রমজানকে সামনে রেখে দেশে বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা খেজুর, বাদাম ও বিভিন্ন পানীয়ও রয়েছে।
রমজানের ইফতার ও সাহরির বিশেষ আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চড়া। বিশেষ করে মুরগি, গরুর মাংস এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা জানান, স্বাভাবিকের তুলনায় সরবরাহ গত কয়েক সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। এছাড়া রমজানের বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজন ও ইফতার-সাহরির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ বাজারে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকায়। লেবু পিস প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। মরিচের দামও কেজিতে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সবজির দামও বেড়েছে। গোল ও লম্বা বেগুন কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে কেজিপ্রতি ৪০ এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকায়। শিম কেজিপ্রতি ৪০ এবং টমেটো ৫০-৬০ টাকায়। বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০-৪০, ফুলকপি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। নতুন পিঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮২০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,০৫০-১,১০০ টাকায়। মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই, কাতলের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকায়, কাতলা ৩২০-৩৫০, পাঙাশ ১৮০-২০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ৬৫০-৭৫০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৫-৮৮ টাকা এবং রশিদ মিনিকেটের দাম ৭৫-৮০ টাকা। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায় এবং দামি মিনিকেট মোজাম্মেল ৯০ টাকায়। ডালের মধ্যে চিকন মসুর ১৫৫, মোটা মসুর ১০০, বড় মুগ ১৪০, ছোট মুগ ১৭০, খেসারি ১০০, বুটের ডাল ১১৫, ছোলা ৮০-৯০ এবং মাষকলাই ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানজুড়ে চাহিদা বেশি থাকায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। তারা সতর্ক করছেন, পণ্যের সরবরাহ ও বাজার পর্যবেক্ষণ না করলে ইফতার-সাহরির বিশেষ সময়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর চড়া দাম আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি নির্দেশনায় নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় এই বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত মোট ২০ দিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া) এই বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি, অন্যান্য সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৫টি জেলা শহরে ৫টি করে মোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাক থেকে ৪০০ জন সাধারণ ভোক্তা ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর কেনার সুযোগ পাবেন। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩৫ লাখ উপকারভোগীর মাঝে মোট ২৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। একজন ভোক্তা ট্রাক থেকে সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা দরে, ১ কেজি চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে, ২ কেজি মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে, ১ কেজি ছোলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে এবং আধা কেজি খেজুর ১৬০ টাকা দরে কিনতে পারবেন। টিসিবি জানায়, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রায় ৬৬ লাখ পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত পণ্য বিতরণ কার্যক্রমও চলমান থাকবে। রমজান উপলক্ষে কার্ডধারীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন এবং মার্চ মাসে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। কার্ডধারী পরিবারগুলো আগের নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য হিসেবে ছোলা ৬০ টাকা কেজি এবং খেজুর ১৬০ টাকা কেজি দরে কিনতে পারবেন। টিসিবি জানিয়েছে, যেকোনো সাধারণ ভোক্তা নির্ধারিত ট্রাক সেল পয়েন্ট থেকে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
বর্তমান দ্রুতগতির ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশে টিম ম্যানেজমেন্ট ও কর্মীদের কার্যকরভাবে মনিটর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ক কালচারের বিস্তারের ফলে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় অটোমেটেড টাইম ট্র্যাকিং ও প্রোডাকটিভিটি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ‘টিমোডেস্ক’ (TimoDesk) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে। শুরু থেকেই গ্লোবাল টিমের প্রয়োজন মাথায় রেখে ডিজাইন করা ‘টিমোডেস্ক’ ম্যানুয়াল টাইম ইনপুটের ঝামেলা কমিয়ে প্রোডাকটিভিটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সহায়তা করে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সহজ ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেস ও সিম্পল প্রাইসিং মডেলের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সফটওয়্যারটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ‘টিমোডেস্ক’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর স্মার্ট টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মঘণ্টা ট্র্যাক করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্ক্রিনশট ক্যাপচার, ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন মনিটরিং এবং প্রতিটি টাস্কের বিস্তারিত লগ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি কর্মীদের কার্যক্রমের একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। ট্র্যাডিশনাল টাইমারের তুলনায় এর অ্যাকটিভিটি-ভিত্তিক ট্র্যাকিং পদ্ধতি ম্যানুয়াল ভুল কমিয়ে সময় ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল করে তোলে। প্রোডাকটিভিটি রিপোর্টিং ফিচারটিও সফটওয়্যারটির একটি বড় শক্তি। ‘টিমোডেস্ক’ ভিজ্যুয়াল ও ডেটা-ড্রিভেন রিপোর্ট তৈরি করে, যেখানে অ্যাকটিভিটি লেভেল, অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য, টাইমলাইন ভিউ, প্রজেক্ট ব্রেকডাউন এবং ডেইলি, উইকলি ও মান্থলি সামারি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব রিপোর্টের মাধ্যমে ম্যানেজাররা সহজেই টিমের দুর্বলতা ও সময় অপচয়ের জায়গাগুলো শনাক্ত করতে পারেন। ক্যাপটেরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৫১ শতাংশ এইচআর লিডার টাইম ট্র্যাকিংকে টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এছাড়া, ‘টিমোডেস্ক’-এর অ্যাক্টিভিটি অ্যানালাইসিস ফিচার কর্মীদের কাজের ধরণ বিশ্লেষণ করে অপটিমাইজেশনের সুযোগ তৈরি করে। কোনো টিম মেম্বার যদি নির্দিষ্ট কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন, তাহলে ম্যানেজাররা সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ বা অটোমেশন পরিকল্পনা নিতে পারেন। এই ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া টিমের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সফটওয়্যারটির স্ক্রিনশট মনিটরিং ফিচার নিরাপদ ও প্রাইভেসি-ফ্রেন্ডলি। শুধুমাত্র ওয়ার্কিং আওয়ারে স্ক্রিনশট নেওয়া হয় এবং সেগুলো এনক্রিপটেডভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ‘টিমোডেস্ক’ এর তথ্যমতে, ইতিমধ্যে ৪০ মিলিয়নের বেশি স্ক্রিনশট ক্যাপচার করা হয়েছে, যা এর ব্যাপক ব্যবহারের প্রমাণ দেয়। প্রজেক্ট ও টাস্ক ম্যানেজমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে কাজগুলোকে সহজে ভাগ করে নেওয়া যায়। অফলাইনে কাজের সময়ও সফটওয়্যারটি ডেটা সংগ্রহ করে এবং ইন্টারনেট সংযোগ পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিঙ্ক করে। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি প্রজেক্ট মনিটর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘টিমোডেস্ক’। প্রাইসিংয়ের দিক থেকেও সফটওয়্যারটি বেশ সাশ্রয়ী। প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য মাসিক মাত্র ১ ডলারে সব ফিচার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি লিনাক্স সাপোর্ট যুক্ত হওয়ায় ওপেন-সোর্স ব্যবহারকারীদের কাছেও এটি সহজলভ্য হয়েছে। ডেটা প্রাইভেসি ও সিকিউরিটির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘টিমোডেস্ক’ ইউরোপীয় জিডিপিআর নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনক্রিপশন ও সিকিউর স্টোরেজ ব্যবহার করছে। এর ফলে রিমোট ওয়ার্কিং পরিবেশে ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ছে। সব মিলিয়ে, কম খরচে কার্যকর ও অটোমেটেড সমাধান হিসেবে ‘টিমোডেস্ক’ রিমোট টিম ও আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শক্তিশালী প্রোডাকটিভিটি টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে: https://timodesk.com/
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।