সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত
ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বৃহস্পতিবার দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।   এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুমিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।   পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনি ফেনীতে এসে পৌঁছান। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।   পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদ ভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।   ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী বিকালে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।   ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে। রাজধানী ঢাকায় ফেরার আগে ওই স্থানে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তরুণ বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় যে কারণ

সকালের শরীরচর্চা, তেল-মসলা ছাড়া ডায়েট— সব মানার পরও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে মুক্তি। কারণ রাতের একটা চেনা অভ্যাসই চুপিসারে ক্ষতি করছে হৃদযন্ত্রের। দেরি করে ঘুম আর মোবাইলের নীল আলোয় আসক্তিই অল্পবয়সে বাড়াচ্ছে হার্টের রোগের ঝুঁকি। এ বিষয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সানসেট কোনো কঠিন কিছু নয়। এটি লাইফস্টাইল রিসেট। মাত্র ২১ দিন মেনে চললেই ঘুম ভালো হবে, মাথা হালকা লাগবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষিত থাকবে হৃদযন্ত্র।   আর সকালে ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চা করার পরও স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া— সবই করছেন। কিন্তু এতকিছু করার পরও আপনি নিশ্চিত হচ্ছে পারছেন না হৃদযন্ত্রটি ভালো আছে? সে জন্য হার্ট ভালো রাখতে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন একান্তই জরুরি। তবে রাতের এক সাধারণ অভ্যাসই নিঃশব্দে অল্পবয়সিদের হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।   রাত বাড়লেই বিছানায় শুয়ে মোবাইলে ডুবে দিচ্ছেন। এই এক অভ্যাসই নীরবে বাড়াচ্ছে রক্তচাপ, নষ্ট করছে ঘুম, আর ৩০ পেরোনোর আগেই ডেকে আনছে হৃদরোগের ঝুঁকি। কার্ডিয়োলজিস্টরা বলছেন, বাঁচতে চাইলে মেনে চলুন ‘ডিজিটাল সানসেট’। কী এই নিয়ম, আর কীভাবেই বা শুরু করবেন?   ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষ্যে কার্ডিয়োলজিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কীভাবে কম ঘুম ধীরে ধীরে অল্পবয়সিদের হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে চলেছে, তা নিয়ে এক আলোচনাসভা আয়োজিত হয়েছিল। দেশ-বিদেশের হৃদরোগ চিকিৎসক, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী হাজির ছিলেন গত ২৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত সভায়। সেখানে কার্ডিয়োলজিস্টরা বলেছেন, দেরিতে ঘুম আর স্ক্রিনের আসক্তিই অল্পবয়সিদের হৃদরোগের নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে। এখানেই আসছে ‘ডিজিটাল সানসেট’ ধারণাটি। সূর্যাস্তের মতোই দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সব ডিজিটাল আলো নিভিয়ে দেওয়ার অভ্যাস কমাতে পারে হৃদরোগের আশঙ্কা। অর্থাৎ রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়, ধরুন রাত ৮টা কিংবা ৯টার পর আর মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি ব্যবহার একেবারেই করা চলবে না।   কেন হার্টের সঙ্গে সম্পর্ক? চিকিৎসক বিএন ঝা বলেন, রাতে মোবাইল, টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, ঘুম গভীর হয় না। বারবার ঘুম ভেঙে যায়। দিনের পর দিন কম ঘুম মানেই শরীরে ক্ষরণ বাড়ে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের। ফলে বেড়ে যায় রক্তচাপ এবং বাড়ে ওজন। এই তিনটিই হার্টের শত্রু।    একটানা ৭ ঘণ্টার কম ঘুম নিয়মিত হলে ৩০-এর আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। ডিজিটাল সানসেটের মাধ্যমে তাই আজ থেকেই ঘুমের চক্র ঠিক করে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা জরুরি।   চিকিৎসক শুভাশিস গাঙ্গুলি বলেন, হৃদযন্ত্রকে যেমন খাটাতে হবে, ঠিক তেমনই বিশ্রামও দিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম পায়। ঘুমের সময় রক্তচাপ সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে যায়, যা রক্তনালিকে শিথিল করে। হৃদযন্ত্রও বিশ্রাম পায়। ঘুম অসম্পূর্ণ হলে বা ঘন ঘন ভেঙে গেলে, স্বাভাবিক রক্তচাপ কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন যতটা কমা উচিত, ততটা কমে না এবং রক্তচাপও প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নামে না। ফলে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। এমনকি রাতের পর রাত চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক।   সে জন্য সানসেট টাইম ঠিক করুন। রাত ১০টা আদর্শ। সেই সময়ে ফোনে অ্যালার্ম দিন, নাম দিন ‘সানসেট’। ওই অ্যালার্মের পর সচেতন হয়ে মোবাইল ব্যবহার একেবারে বন্ধ করুন, টিভি দেখাও চলবে না।   আর ফোন রেখে দিলে হাত নিশপিশ করবে। তার বদলে বই পড়া, গান শোনা এবং পরিবারের সঙ্গে গল্প করা বা হালকা হাঁটার অভ্যাস করুন। ওই সময়টা কীসের জন্য বরাদ্দ করবেন, তা আগে থেকেই ভেবে রাখুন। এ ছাড়া শোবারঘরে ফোন নিয়ে ঢুকবেন না। চার্জ দিন বসার ঘরে। দরকারে সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহার আবার শুরু করুন। যদিও এ অভ্যাস একদিনে বদলাবে না। প্রতি সপ্তাহে ১৫ মিনিট করে এগিয়ে আনুন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
আ.লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না : ফজলুর রহমান

আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।   যুগান্তর মাল্টিমিডিয়ার যোবায়ের আহসান জাবেরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ফজলুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা দেশে ফিরে এসে জনগণের কাছে ভোট চাইলে পরিস্থিতি কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।   তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে যে মহামানবরা আছেন, যাদের নাম শুনি—তারা শুধু এসে একটা জায়গায় বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলুক, আমি নেতা, আমি আবার এসে পড়েছি। দেখেন না কী হয়। তাদের কি এই সাহস আছে?’   আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার এমন কোনো বড় নেতা আছেন, যাদের তিনি মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, যাদের দিয়ে দেশ চালিয়েছেন—তার সেই মন্ত্রী-এমপিরা দেশে এসে আবার বলবেন, এই আমাদের ভোট দেন, আমরা আপনাদের জন্য কাজ করেছি। মানুষ তখন কী করবে?’   শেখ হাসিনা বিদেশে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে শেখ হাসিনা চলে গেছে, দেশে এলেই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় চলে যাবে—এমন তো না।’   আওয়ামী লীগ কবে আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে—এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’   এর ব্যাখ্যায় ফজলুর রহমান বলেন, ‘৭৫-এর পর তো আওয়ামী লীগ দেশেই ছিল, দেশে থাকতেই তো ২১ বছর লেগেছে। আমি বলছি, এবার ৬৩ বছর লাগবে তাদের ক্ষমতায় ফিরতে।’   তবে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে দলটির নাম এখনো আলোচনায় আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ফজলুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ আছে বলেই এখনো ভাষা ভাষা আওয়ামী লীগের নামটা আসে। কারণ আওয়ামী লীগের যিনি প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং পরে যিনি আওয়ামী লীগের মূল নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের নামটা আসলে দুইটা লোকের নাম আসে।’   সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, শেখ হাসিনা ও দলটির সাবেক নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং জনগণের প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ফজলুর রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব যুক্তরাষ্ট্রের

সাত মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এপির।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই জবাবে কী বলা হয়েছে অথবা সেটি কোনো প্রত্যাখ্যানমূলক বার্তা কি না, সে বিষয়ে ইরানের ওই কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে উপস্থাপন করেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেব। চুক্তিটি এখন অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।’   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি কর্মকর্তারা। আরাগচি নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হলো।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত মঙ্গলবার ভোরে তারা নিউইয়র্ক ছাড়েন।   আরাগচি তার নিউইয়র্ক সফর ও সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তাবলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে জানান মোহাজেরানি।   গত সপ্তাহে আরাগচি বলেন, তিনি প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।   তবে ট্রাম্প দ্রুতই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে কারণ তারা ‘খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে’, কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব ‘গ্রহণযোগ্য হবে না’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চুক্তি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।   এরইমধ্যে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থিত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সাত মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ২২ জনের প্রাণহানি

আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে পৃথক দুটি স্থানে চালানো ওই হামলায় ২২ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার সকালে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। এর আগে বুধবার রাতে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানায়, দেশটির হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।   তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, বুধবার গভীর রাতে হামলাগুলো চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হেলমান্দ ও কুনারে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।   গত তিন মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা না গেলেও গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ সময়ে একটি মসজিদসহ একাধিক স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর এসব ঘটনার জন্য তালেবান সরকারকে দায়ী করতে শুরু করে পাকিস্তান।   ইসলামাবাদের অভিযোগ, তালেবানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   মসজিদে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরই মধ্যে পাকিস্তান অন্তত দুই দফায় আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের বিষয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দেওয়া পরস্পরবিরোধী তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ঘুম তাড়ানোর পাশাপাশি কফির আরও যত উপকার

সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ কফিই যেন অনেকের ভরসা। তবে কফির কাজ শুধু চোখের ঘুম তাড়ানোতেই শেষ নয়। পরিমিত কফি পান শরীর ও মস্তিষ্কের জন্যও কিছু সম্ভাব্য উপকার বয়ে আনতে পারে।   কফির সবচেয়ে পরিচিত উপাদান ক্যাফেইন। এটি মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে কিছু সময়ের জন্য সতর্কতা, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, কাজ কিংবা ব্যায়ামের আগে অনেকেই কফি পান করেন।   কফিতে ক্যাফেইনের পাশাপাশি রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ। গবেষণায় নিয়মিত ও পরিমিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, কিছু যকৃতের রোগ এবং পারকিনসনস রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও কিছু গবেষণায় ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এসব গবেষণার বেশির ভাগই সম্পর্ক দেখায়, সরাসরি কারণ-ফল প্রমাণ করে না।   শুধু মস্তিষ্ক নয়, শরীরচর্চাতেও ক্যাফেইন কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ব্যায়ামের আগে উপযুক্ত পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ কিছু মানুষের সতর্কতা ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।   কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা ক্রিম যোগ করলে কফির ক্যালরি অনেক বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে কফি খেতে চাইলে চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত উপাদান কম রাখাই ভালো।   সবশেষে, কফি শরীরের সঙ্গে মানানসই পরিমাণে পান করলে এক কাপ কফি হতে পারে সতেজতার পাশাপাশি উপভোগ্য এক স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আজ ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল

এখনকার ফুটবল প্রজন্মের কাছে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল খুব একটা পরিচিত না। বার্সেলোনা, ম্যানইউ, চেলসি সম্পর্কে এখনকার প্রজন্ম যতটা নিখুঁত তথ্য দিতে পারে ততটা দিতে পারবে না ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্কে। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অনেক শক্তিশালী। তাদের ফুটবলের সোনালি অধ্যায় আছে। সেটি কোনোভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করার মতো না।      বাংলাদেশের ঘরে সাফের ট্রফি, সাফ গেমসের ট্রফি, মিয়ানমারে টুর্নামেন্ট জয়ের ট্রফি রয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলে আছে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। আছে অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা। অলিম্পিক ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক আছে। পাঁচবার এশিয়ান কাপে খেলেছে। আছে অনেক ট্রফি। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের সেই ইতিহাস অনেক লম্বা। বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্কটাও দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ তখন নিয়মিত মারদেকা কাপ ফুটবলে খেলছে, মালয়েশিয়ায়। এখনকার ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলও বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী। ফিফার র‍্যাংকিংয়েও এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া।       ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলাররা ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলছে। ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলারও রয়েছে এই দলে। খেলবে নিজেদের মাঠে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে। দুই ম্যাচ হেরেছে, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। হারলেও ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ছিল সমালোচিত। একজন হামজা চৌধুরী ছাড়া পুরো দলের খেলা ছিল হতাশজনক।   তার ওপর বাংলাদেশ দলের আমেরিকান কোচ থমাস ডুলির গেম প্ল্যান পদে পদে সমালোচিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১১টা কর্নার পেয়েও গোল করতে পারেনি। একটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত। সেটপিস নিয়ে কাজ করেছেন কোচ। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটা ম্যাচের পরই কোচ সমস্যা দূর করতে মাথা ঘামিয়েছেন। কিন্তু ফুটবলাররা কখনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।       সবকিছু ভুলে গিয়ে আজ নতুন করে লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুতি নিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জাকার্তার স্টেডিয়ামে দর্শক খুব একটা ছিল না। পুরোটাই ফাঁকা ছিল বলা যায়। কিন্তু আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই স্টেডিয়ামের ছবি বদলে যাবে। স্বাগতিকদের সঙ্গে খেলা। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যেমনই হোক, লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। জামাল ভূঁইয়ারা সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।      গতকাল অনুশীলনে নেমে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন তারা গেম প্ল্যান করছেন। ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচগুলো ভালোভাবে দেখেছেন কোচিং স্টাফ। কোথায় কোথায় ভুল করতে পারে সেগুলো খুঁজে নিয়েছেন কোচ। ইন্দোনেশিয়া যত শক্তিশালী হোক। আজ বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ম্যাচ জেতা। মানসিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা অনেক বেশি চাঙ্গা। অনেক বেশি ক্ষুধার্থ। তারা বিশ্বাস করে ম্যাচ জয়ের লড়াই হবে। লড়াই হবে ইতিহাসের। পেছনের গল্প ভুলে গিয়ে নতুন ইতিহাস করতে জীবনবাজি রাখতেও প্রস্তুত বাংলাদেশের ফুটবলাররা।       ২০২২ সালে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। সাতবারের মুখোমুখিতে জয় আছে এক বার, ৮৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ গোলে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গুর ভ্যাকসিনের বিষয় নিয়ে বর্তমান সরকার এখনো ভাবছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গাভিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনুমোদন দিলে এ বিষয়ে চিন্তা করবে সরকার।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া ৫ লাখ ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চলতিবছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। সব জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিট, তরল স্যালাইনসহ সব ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট নেই।’   এসময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স তৃষিতা মাওলা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর।’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স
তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা চীনের

তাইওয়ানের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরো জোরালোভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।   চীনের জাতীয় দিবসের আগের দিন বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন শি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ভাষণে তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার বিরোধিতা করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও অবস্থান জানান তিনি।       শি বলেন, দুই পাড়ের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।     চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়।       বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটির সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য ঘোষণা করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি। তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শি ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিচক্ষণতা’ অবলম্বনের অনুরোধ করেন তিনি।     তাইওয়ানের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং দ্বীপটি দেশটির কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কিনে থাকে।       তবে তাইওয়ানের জন্য বড় অঙ্কের একটি অস্ত্র চুক্তি ওয়াশিংটন স্থগিত রাখায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সে সময় ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনায় অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসানের পর কমিউনিস্ট বাহিনীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরাজিত জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং বাহিনীর সদস্য ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ পরে তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।     জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে চীনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন শি। তিনি বলেন, দেশটি বর্তমানে জটিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নয়নের নতুন কাঠামো তৈরির কাজ আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। চীনের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি বজায় রাখার কথাও জানান শি। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল ও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনের আরো ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সহিংসতা, ৪ মামলায় আসামি ২ হাজার

ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় হামলা–সংঘর্ষ–ভাঙচুর–আগুনের ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে।   মিরপুর মডেল থানায় হওয়া দুই মামলার বাদী পুলিশ। মিরপুর মডেল থানা ও কাফরুল থানায় হওয়া অপর দুই মামলার বাদী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তারা।   পুলিশ বলেছে, চার মামলায় মোট আসামি দুই হাজার। আসামিদের মধ্যে ২০ জনের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত একজনসহ মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গতকাল মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও ডিএনসিসির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।   পুলিশের করা মামলায় বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, আহত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, গাড়ি–ট্রাফিকবক্স ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনসিসির করা মামলায় সংস্থার গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিটি মামলায় ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় পুলিশের করা মামলায় ২৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর থানায় হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিসহ মোট ২৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যাপারে ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, গতকালের এ ঘটনার পর ৩০ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ২৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে তাঁর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা। এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিকনির্ভর ও কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে প্রাতিষ্ঠানিকনির্ভর (ইনস্টিটিউশনাল বেসড) এবং সম্পূর্ণ কাগজবিহীন (পেপারলেস) করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে প্রচলিত ধারা থেকে বের হয়ে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক এবং একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।     বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।       অর্থমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই ছিল দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়কে আইসিবির মাধ্যমে মূলধন বাজারে রূপান্তর করে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।       দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত খুচরা (রিটেইল) বিনিয়োগকারী নির্ভর।       অথচ বিশ্বজুড়ে ক্যাপিটাল মার্কেট মূলত পরিচালনা করেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরস)। আমাদের বাজারকে রিটেইল-বেসড অবস্থান থেকে ইনস্টিটিউশনাল-বেসড মার্কেটে পরিণত করতে আইসিবিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।       অর্থনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গের ওপর জোর দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের শীর্ষ পদগুলোতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারের সুদৃঢ় নীতি অনুসরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ প্রদান করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।   পুঁজিবাজারে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী ‘নো পেপার ট্রানজেকশন, নথিং পেপার’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এখন থেকে লিস্টিং অ্যাপ্লিকেশন, পারমিশন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।       সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের (যাদের সম্মিলিত নেটওয়ার্ক প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার) প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফল প্রাতঃরাশ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ডিং এবং ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিশ্বমানের মূলধন আনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন আর শুধু ঐতিহ্যগত ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে ‘ওয়াল স্ট্রিট’ মানের আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিসে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।     অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে আইসিবি একটি আধুনিক, দক্ষ এবং বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।        অনুষ্ঠানে নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ ৮ জন নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।   গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও ছিলেন। খবর আল জাজিরার।   তবে হামলার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৬৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করল ইসরাইল।   পৃথক ঘটনায় বুধবার গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।   অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা পরিচালনাকারী মানবিক সংস্থা ‘ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ১৩ জন আহত ব্যক্তিকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।   চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহতরা ‘গুরুতর’ আঘাত পেয়েছেন।   গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, ‘চিকিৎসকরা বলছেন আহতদের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি হামলা ও অবরোধের ফলে সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’   এর আগে, ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।   এছাড়া, ওয়াফার উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন ফিলিস্তিনি আহত হন।   মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আটজন নিহত হয়েছেন এবং আগের আঘাতের কারণে এক নারী মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন, যাদরে মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।   গাজার বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি কতটা ‘ভয়াবহ’ তা তুলে ধরে সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইসরাইলি বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘অবরুদ্ধ এই এলাকার ভেতরে সুপারমার্কেটে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা—সব কিছুতেই মানুষ আতঙ্কিত ‘   স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।   জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্ট মাসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো বৈষম্য নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে বিশেষ বিসিএসের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা জানান।  বিস্তারিত আসছে...

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে স্থায়ী বসবাসের সুযোগে নতুন বাধা

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (পিআর) পেতে বিদেশিদের এখন আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ফি দিতে হবে। নতুন নিয়মে আবেদন ফি বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন (প্রায় ১,২৭০ ডলার) করা হয়েছে।   তবে শুধু ফি বাড়ানোই নয়,পিআর পেতে এখন বিদেশিদের আয়, পেনশন পরিশোধ এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান নিয়েও নতুন শর্ত পূরণ করতে হবে।   এদিকে, ফি বাড়ানোর আগে আবেদন করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাপানের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অফিসে ভিড় দেখা যায়। রাজধানী টোকিওর প্রধান ইমিগ্রেশন ব্যুরোর বাইরে অপেক্ষার সময় ৭ ঘণ্টারও বেশি ছিল বলে জানা গেছে।   বেড়েছে  ভিসা ফি’ও বিদেশিদের জন্য জাপানের অভিবাসন নীতিতে এটি একমাত্র পরিবর্তন নয়। গত জুলাইয়ে দেশটি সব বিদেশির ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে। ৫০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল জাপানের প্রথম বড় ভিসা ফি বৃদ্ধি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ভিসা ফি বাড়ানো হয়েছে।   বিদেশি কর্মীর ওপর বাড়ছে নির্ভরতা জাপানে অভিবাসন এখনো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও তুলনামূলকভাবে কঠোর বিষয়। তবে দেশটির বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।   ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   তবে বিদেশি জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় দেশটিতে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।   দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে তার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি।
দেশের ৪ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের চার বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বভাসে এসব তথ্য জানায় অধিদপ্তর।   পূর্বভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।   এ সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, উত্তর মিয়ানমার, দক্ষিণপূর্ব বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে আজ লঘুচাপে পরিণত হয়ে সকাল ৬টায় উত্তর মিয়ানমার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৮ মাসে কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী তালিকায় সপ্তম সর্বোচ্চ।   পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।   মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০ জন, মার্চে ১ হাজার ৪৩২ জন, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭ জন, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯ জন, জুনে ১ হাজার ৭৯১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ জন এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা তাদের দায়িত্ব।    উল্লেখ্য, যাদের কানাডায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) কাছে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের জন্য পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।   এর আগে, ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।   গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা

অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের আলাদা কোনো যৌথ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও নেই।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো যৌথ বাহিনী গঠনের যেমন পরিকল্পনা নেই, তেমনি অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালানোর চিন্তাভাবনাও সরকারের নেই।   তিনি আরও বলেন, আলাদা করে নতুন কোনো বাহিনী গঠনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। তবে দেশব্যাপী অপরাধ দমনে এবং মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত চলমান যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।   সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে আরও সক্রিয় ও তৎপর থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
এমপি পদ ছাড়তে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।   গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে।   ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।   এছাড়া মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে।   এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নও তৈরি হয়েছিল।   এদিকে ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।    গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।    প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।   রাড্ডা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় ববির ৪ বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীর শাস্তি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং ও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের পৃথক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাসের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা।   বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে প্রথমবারের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সে জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ হলে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।   শাস্তির আওতায় আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণ হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় মোট ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ‘র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ওই চার বিভাগের শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।’   আরেকটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না থাকায় পুনরায় তদন্ত করতে বলা হয়েছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, নামসহ পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৬৩

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে আগের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ৯ জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান চালিয়ে ১৬৩ জনকে আটক করা হয়।   থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে সুধারাম মডেল থানায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে বাকি ২৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৭ জন, সেনবাগ থানায় ৯ জন, চরজব্বর থানায় ৭ জন, সোনাইমুড়ী থানায় ৫ জন এবং কবিরহাট থানায় ৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া হাতিয়া থানায় ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেফতার  পাঁচজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।   নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

অবশেষে প্রকাশ পেল মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬