সর্বশেষ

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা প্রাসঙ্গিক মনে করছেন না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।   শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায় জানতে চাওয়া হয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত একজনকে সাজা দিয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে অনেক অন্যায়, অত্যাচার ও কুকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। শেখ হাসিনা কি বলছে না বলছে সেটা প্রাসঙ্গিক না, একেবারে প্রাসঙ্গিক না।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারতের সরকারের সঙ্গে…যেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে, সেই কূটনৈতিক চ্যানেল চলমান আছে। আমরা সঠিক চ্যানেলে চেষ্টা করছি। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় আসামিকে যখন ফেরত আনা হয় বা যে প্রটোকল বা নর্মস (মানদন্ড) আছে, সেটা অনুযায়ী ওনাকে এখানে এনে বিচার করা হবে এবং সেটাই তো বাংলাদেশের জনগণ চায়।   শামা ওবায়েদ বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি, খুন,গুম হয়েছে সেগুলোর একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। আমাদের যে প্রক্রিয়া সেটা ভারতের সরকারের সঙ্গে চলমান আছে। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্য প্রাসঙ্গিক না। তাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে, সেটা চলমান আছে। কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই। এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় না, এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিসয় আছে; তারা এটা নিয়ে কাজ করছে।   শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সহযোগিতা না আইনি জটিলতা আছে এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জবাব, আইনি জটিলতা আছে কি নাই সেটা আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যে প্রক্রিয়া চালানোর দরকার, সেটা আমরা চালাচ্ছি। সেটা কোনো ঘাটতি আমি দেখছি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
যানজট নিরসন: রাজধানীতে বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

  রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক করতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ক্যামেরার ব্যবহার দ্রুত বাড়াচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।    আগামী কয়েক মাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটির ট্রাফিক বিভাগ।    বর্তমানে শহরটির সড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৩৭টি এআই ক্যামেরা এবং বিভিন্ন স্থানে ৮০টি পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে।   ডিএমপি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মতিঝিল, উত্তরা, শাহবাগ-আবদুল্লাহপুর ভিআইপি সড়ক, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) এবং মিরপুর এলাকায় নতুন পর্যায়ের এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।    জানা যায়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে এসব এলাকা এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।    গত মঙ্গলবারই ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আগামী চার মাসে ৬০টি এবং তারপরের চার মাসে আরও ৬০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বাকি ৮০টি পর্যায়ক্রমে বসানো হবে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।    ইতোমধ্যে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।’   চালকদের ট্রাফিক আইন মানা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজধানীর সড়কের পরিস্থিতির উন্নতি করাই এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য।    ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এআই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারে থাকা সংশ্লিষ্ট যানের তথ্য ডিএমপির সার্ভারে আসে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ঘটনা যাচাই করে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার নোটিশ পাঠান। পাশাপাশি সরকারি দুটি নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও মামলার তথ্য জানানো হয়।   ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এআই ক্যামেরা চলমান যানবাহনের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। এটি অপটিক্যাল জুম প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেও স্পষ্টভাবে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে।   ডিএমপি সূত্র আরও বলেছে, ‘স্মার্ট পুলিশিং’ চালু প্রকল্পের আওতায় পুরো রাজধানীতে এআই ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন (চেহারা চেনা) সিসিটিভি, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।    রাজধানীর ট্রাফিক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মোট ১২ হাজার ক্যামেরার প্রয়োজন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বাকিগুলো অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত হবে।   মৎস্য ভবন, সুগন্ধা, পুলিশ ভবন, শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং, বিজয় সরণি, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখন ৩৭টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। আর সব মিলিয়ে ডিএমপির অধীনে ১১৭টি ক্যামেরা কাজ করছে।    রাজধানীর ১০ শতাংশের কিছু বেশি এলাকায় এ প্রযুক্তি চালু হয়েছে। আর গত ৭ মে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। মামলার ভয়ে রাজধানীর এসব মোড়ে ইতোমধ্যে যানবাহনের চালকেরা খুবই সতর্ক থাকছেন।   জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বাসের লেন ছেড়ে অন্য লেনে যাওয়া এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। সিগন্যালে থামার জায়গায় ঠিকমতো না থামার মামলায়ও এগিয়ে বাস। তারপর রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।   তবে সব ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলেছে, যেসব এলাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থাই অকার্যকর, সেখানে সিগন্যাল অমান্যের ঘটনায় মামলা দেওয়ার অবকাশ নেই।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।’’   সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দফতরে তিনি এ কথা বলেন।   আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে, সব শ্রেণির মানুষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।’’   তিনি জানান, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, ‘‘রায়ে ৫৪টি বিষয়ে বলা হয়েছে। জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে ওই ৫৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া এই রায়ে অন্তত চারটি বিষয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।’’   মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা সামনে রেখেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে।’’   এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।   এ আদেশের ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, উদযাপন নিয়ন্ত্রনে রিট

২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ এবং তীব্র শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।    একই সঙ্গে সর্ব সাধারণের জন্য প্রদর্শনী, উদযাপনের সময়, আতশবাজি বা লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা করতে নির্দেশনা এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আতশবাজির ব্যবহার বন্ধেও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।       বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট দায়ের করেন।     পরে রিটকারী আইনজীবী বলেন, “পত্রিকার খবর অনুসারে এই পর্যন্ত ১১ জন বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করা হয়। এতে শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এই রিট করা হয়েছে।”     রিটে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শিরোনামের প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্‌যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে। তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এসময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।     ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই, বিএনপির সাধারণ কর্মী: শাহে আলম

  পরিবার, সম্পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে বন্ধুত্ব হিসেবে দেখানো ঠিক নয়; তিনি বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।   সংলাপে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও কারণেই আমাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন— এটুকুই আমাদের সম্পর্ক।’   দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তার পরিবার নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দাবি করে মীর শাহে আলম জানান, ক্ষমতায় আসার পরও তার পরিবারকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের কেউ কোনও দায়িত্ব পেলে সেটিকে অযথা বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালন করেছি। শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই তার সঙ্গে বহুবার দেখা হয়েছে, সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি আমাদের স্নেহ করেন এবং বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন।’   মীর শাহে আলম বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এইটুকু যোগাযোগ আছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন— এটুকুই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কিন্তু ‘‘তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম’’— এভাবে উপস্থাপন করা হলে আমি, আমার পরিবার কিংবা সমাজের অন্য মানুষ সেটি নিশ্চয়ই ভালোভাবে নেবেন না। এ বিষয়টি থেকে দূরে থাকার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি।   নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিনি স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত মন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে হওয়ায় তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।   সংলাপে নিজের ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়া নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ছেলে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর সমালোচনা শুরু হলে তিনি নিজেই তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন। প্রথম বোর্ড সভার পরদিনই তার ছেলে পদত্যাগ করেন। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।   সম্পদ নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে মীর শাহে আলম জানান, তার নির্বাচনি হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ব্যক্তি নামে নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমি কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা তদন্ত করতে পারে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা উচিত।’ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বক্তব্যের আংশিক অংশ ব্যবহার না করে পুরো বক্তব্য তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।   সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে মীর শাহে আলম জানান, সমালোচনা থাকলেও তিনি কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা সরকারের কাজকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কোনও ভুল বা অনিয়ম নজরে এলে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অবহিত করলে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন? কী বলছে গবেষণা

ফল স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, তবে এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ মনে করেন খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো, আবার কেউ বলেন খাবারের পর ফল খেলে হজমে সমস্যা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে নানা তথ্য ঘুরে বাড়ালেও বিজ্ঞান আসলে কী বলে, তা জানা জরুরি।   পাকস্থলীতে ফল কি পচে যায়? একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং পচে গিয়ে গ্যাস বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পাকস্থলী প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট একসাথে হজম করার জন্য তৈরি। ফল খাবারের সাথে বা পরে খেলে তা পেটে পচে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে পুষ্টি শোষণেও কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না। ওজন কমাতে চাইলে খাবারের আগে আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে খাবারের আগে ফল খাওয়া আপনার জন্য ফলদায়ক হতে পারে। ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও জল থাকে, যা দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি দেয়। একটি ছোট ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের আগে ফল খেয়েছেন, তারা মূল খাবারের সময় কম ক্যালরি গ্রহণ করেছেন। ফাইবার ধীরে ধীরে হজম হয় বলে এটি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় রাখে। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফলের টাইমিং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফল যেকোনো সময় খাওয়া নিরাপদ। তবে মাঝারি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফলের ক্ষেত্রে মূল খাবারের পর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা কেন হয়? যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা নির্দিষ্ট শর্করার প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা ফল খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তবে এটি খাবারের টাইমিংয়ের চেয়ে ফলের ধরন এবং পরিমাণের ওপর বেশি নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শারীরিক লক্ষণ বুঝে খাবারের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। ফল খাওয়ার কার্যকর উপায় পুষ্টিবিদরা ফলকে একা না খেয়ে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে মিলিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের স্লাইসের সাথে পিনাট বাটার বা টক দইয়ের সাথে বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সংমিশ্রণটি পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে। শেষকথা ফল খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট’ সময় নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনি কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাচ্ছেন কি না। যদি খাবারের আগে ফল খেলে আপনার পেট ভরা লাগে এবং তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে সেটিই আপনার জন্য সঠিক সময়। আবার খাবারের পর ফল খেয়ে যদি আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই। আসল কথা হলো, ঘড়ির কাঁটা নয়, বরং আপনার শরীর যেভাবে ভালো থাকে সেভাবেই নিয়মিত গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা হলে ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি ভ্যান্সের

ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।   ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি এই প্রণালিটি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটাই চূড়ান্ত কথা।   তিনি পূর্ববর্তী একটি সমঝোতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মধ্যে মূল চুক্তিটি ছিল এমন—আপনারা যদি জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করেন, তবে আমরা আমাদের অবরোধ তুলে নেব। কিন্তু আপনারা যদি জাহাজে গুলি বা হামলা চালিয়ে যান, তবে আমরাও পাল্টা আঘাত করব।   গত রাতে ঘটে যাওয়া একটি হামরার দিকে ইঙ্গিত করে ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা চাইলে এই নিয়ম মেনে চলতে পারে, অথবা গত রাতে যা ঘটেছে ঠিক একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। যতক্ষণ না তারা সেই নৌপথটি উন্মুক্ত করছে এবং জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই ব্যবস্থা ক্রমাগত চলতেই থাকবে। সূত্র: আল-জাজিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ের জবাবের অপেক্ষায় পুলিশ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে দেওয়া চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় পুলিশ। ১৬ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই চিঠি পাঠানো হয়। পরদিন তা কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছায়। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানান, সেই চিঠির উত্তর এখনো আসেনি। দুদক ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ১৬ জুন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়। ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় শাখা পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) এআইজি আলী হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল দুদকের অনুসন্ধান দলের সঙ্গে এ কার্যক্রমে অংশ নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলামের উপস্থিতিতে নথিপত্র প্রস্তুত, অনুবাদ ও ফাইল করার কাজ শেষ করে ওই দিন বিকালেই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ছয়টি দুর্নীতি মামলা রয়েছে।   এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্র জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৪৩২ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ ৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।   বুধবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি বলেন, বুশেহর শহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।   এমকিউ ৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। এর মৌলিক কাঠামোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এতে মাল্টি স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোনের দাম ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।   বিশেষায়িত নজরদারি প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত সংস্করণের মূল্য ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বাধীনভাবেও এ দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কোটি টাকার সেতু, কিন্তু উঠতে ভরসা বাঁশের সাঁকো

খালের ওপর নির্মাণ হয়েছে কোটি টাকার সেতু। কিন্তু সেতুতে ওঠার জন্য নেই সংযোগ সড়ক। ফলে বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাড়াইকান্দি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।   উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়াইকান্দি খালের ওপর সেতু নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। জুনের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই পুরো বিল তুলে নিয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।   সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়াইকান্দি গ্রামের খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সেতুর দুই পাশে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্য কোনো ছোট-বড় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও পারাপার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।   স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি পিআইওকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ক্ষোভ এলাকাবাসীর।   স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। পাশাপাশি, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই কীভাবে বিল পরিশোধ করা হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। দুশ্চিন্তা হয়, কখন পানিতে পড়ে যায়।   কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ পথ দিয়ে বাজারে যেতে হয়। কৃষিপণ্য কখনো ঘাড়ে, কখনো মাথায় করে সেতু পারাপার হতে হয়। সংযোগ সড়ক থাকলে ভ্যান বা সাইকেলে করে নেওয়া সহজ হতো। কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতু নির্মাণ করা হলেও কোনো উপকারই আমরা পাচ্ছি না। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।   এ বিষয়ে জানতে মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানকে অফিসে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।   এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও ৩

দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে আটক হন দুই নেতা। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী। গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম, মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলাম।   পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, তাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।   তবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
কাঁঠালের বিচি। ছবি: সংগৃহীত
কাঁঠালের বিচি খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? জেনে নিন

গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা সবখানেই। তবে সাধারণত আমরা কাঁঠালের কোষ খাওয়ার পর এর বিচিগুলো ফেলে দিই। অথচ জানলে অবাক হবেন, একটি কাঁঠালে ১০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত ভোজ্য এবং পুষ্টিকর বিচি থাকতে পারে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিচিগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়; বরং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।   পুষ্টির পাওয়ার হাউস কাঁঠালের বিচি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের চমৎকার উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৫ মিলিগ্রাম আয়রন। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্তর্গত থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিন এতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।   কেন খাবেন কাঁঠালের বিচি? হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: কাঁঠালের বিচিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন—ফ্ল্যাভোনয়েড ও স্যাপোনিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ‘জ্যাকালিন’ নামক উপাদানটি ক্যানসার বিরোধী হিসেবে পরিচিত। জীবাণুনাশক গুণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ই-কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। কখন এটি ক্ষতিকর হতে পারে? উপকারী হলেও সবার জন্য বা সব অবস্থায় কাঁঠালের বিচি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য কাঁঠালের বিচি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার গতি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কাঁচা কাঁঠালের বিচিতে ট্যানিন এবং ট্রিপসিন ইনহিবিটর থাকে, যা শরীরকে সঠিক পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। সঠিক প্রস্তুতিই সুস্থতার চাবিকাঠি কাঁঠালের বিচি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এবং ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে এটি কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। তাপ প্রয়োগ করলে এর মধ্যকার ক্ষতিকর উপাদানগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কীভাবে প্রস্তুত করবেন? সিদ্ধ করা: ২০-৩০ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে সালাদ বা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন। রোস্ট করা: ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট বেক করে বা খোলায় ভেজে মচমচে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। অন্যান্য ব্যবহার: এটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে আটা হিসেবে বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়, এমনকি স্মুদি বা হুমাসেও যোগ করা সম্ভব। সুতরাং, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে কাঁঠালের বিচি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি চমৎকার পুষ্টিকর যোগ হতে পারে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মেসিই দেখালেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের হৃদস্পন্দন: পূর্ণিমা

লিওনেল মেসির অনন্য পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সেই উচ্ছ্বাসে শামিল হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাও।   আর্জেন্টিনার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টে আর্জেন্টিনা ও মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরেন। পূর্ণিমা লেখেন, ‘আর্জেন্টিনার জন্য কী দুর্দান্ত একটি রাত।’   তিনি আরও লেখেন, ‘যখন সারা বিশ্ব ভেবেছিল সব শেষ, মেসি এবং তার যোদ্ধারা দেখিয়ে দিলেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের হৃদস্পন্দন কেমন হয়। সাহস, আবেগ আর বিশ্বাস এক নান্দনিক উপায়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ।’ আর্জেন্টিনার এই জয়ের পর অভিনেত্রীর পোস্টে ভক্তরাও শুভেচ্ছা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তারকাদের প্রভাবে কি পরকীয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যেকোনো সম্পর্কের দুটি মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও সম্মান। কিন্তু প্রতারণা হলো সেই উইপোকা, যা সম্পর্কের ভিত্তিকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয় এবং একপর্যায়ে তা ভেঙে পড়ে। বর্তমান যুগে পরকীয়াকে বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হলেও তারকারা যেন বিষয়টিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তুলছেন।   সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা রাম কাপুর বলেছেন, সম্পর্কের কঠিন সময়ে একজন মানুষ ‘ভুল করে’ সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করে বসতে পারে। এর আগে ‘টু মাচ’ অনুষ্ঠানে টুইংকেল খান্না ও কাজলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় সঞ্চালক বলেছিলেন, ‘রাত গায়ি, বাত গায়ি’ (রাত পোহালেই কথা শেষ)। অনলাইনে এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।   দশকের পর দশক ধরে তারকাদের প্রেমের গুঞ্জন ট্যাবলয়েডগুলোর খোরাক জুগিয়ে আসছে। কিন্তু কেউ খেয়ালই করেনি যে, এ বিষয়গুলো ধীরে ধীরে পরকীয়া বা প্রতারণার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে।   প্রতারণা বা পরকীয়া আসলে কী প্রতারণা বা পরকীয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সাদা-কালো (স্পষ্ট) নয়। এর সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। ভারতের এশিয়ান হাসপাতালের কনসালট্যান্ট-ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. দীপিকা শর্মা বলেন, ‘প্রতারণা বলতে মূলত সম্পর্কের পারস্পরিক নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করাকে বোঝায়, যা বিশ্বাসের অমর্যাদা করে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়াও পরকীয়া বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। যেমন—আবেগের সম্পর্ক, গোপনে রোমান্টিক কথোপকথন, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের কথা লুকিয়ে রাখা, অনলাইনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানো বা এমন কোনো মেলামেশা গোপন করা, যা সঙ্গীর জানার কথা।’   ‘অ্যান্ডউইমেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা শালিনী সিং জানান, প্রতারণা কেবল শারীরিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, ‘মূলত প্রতারণা নির্দিষ্ট কোনো কাজের চেয়েও দুজন মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।’   প্রতারণা কি আগের চেয়ে বেশি সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে? কোনো বিষয় যদি বারবার চোখের সামনে আসে, তবে এর প্রভাব কমতে থাকে এবং মানুষ বিষয়টির প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। প্রতারণার ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটছে। তারকাদের পরকীয়া নিয়ে মজা করা, উপহাস করা বা এমনকি এর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে নীরবে প্রভাবিত করছে।   গেটওয়ে অব হিলিং-এর প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সাইকোথেরাপিস্ট ডা. চাঁদনি তুগনাইত বলেন, ‘তারকাদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং হাই-প্রোফাইল পরকীয়ার খবর সমাজে কী স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে। যখন জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি বলেন যে পরকীয়া কেবল একটি ভুল ছিল, তখন ধীরে ধীরে এটিকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা শুরু হতে পারে।’   এ প্রতিক্রিয়া শুধু প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। এই সাইকোথেরাপিস্ট আরও বলেন, ‘তারকাদের আপস করে নেওয়া বা ক্ষমা করার বিষয়টির সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক গবেষণা নেই। তবে এই প্রবণতা অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন একজন নারী তার প্রতারক সঙ্গীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা করে দেন, তখন তার মহানুভবতার প্রশংসা করা হয়। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে একজন পুরুষ যখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন সেটাকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।’   খ্যাতি কি তারকাদের বাড়তি সুবিধা দেয়? যখন কোনো তারকার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়, তখন মানুষ প্রায়ই পক্ষ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা অনেক সময় পুরো ঘটনা না জেনেই প্রতারণাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক কট্টর ভক্তের কাছে তারকার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আলাদা।   ডা. শর্মা জানান, ‘নিঃসন্দেহে তারকাদের প্রায়ই সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যখন খ্যাতি, ক্ষমতা, অর্থ বা প্রতিভাধর কোনো ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার মতো ক্ষতিকর আচরণ করেন, তখন তাদের মর্যাদার কারণে সেই আচরণ অনেক সময় বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হতে পারে।’   ডা. তুগনাইত মনে করেন, যখন কেউ যথেষ্ট বিখ্যাত হন, তখন তার আচরণ বিশ্লেষণের চেয়ে সাফাই গাওয়া হয় বেশি। তিনি বলেন, পরকীয়া পরিণত হয় সম্পর্কের ‘কঠিন সময়ে’, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হয়ে যায় ‘জটিল পরিস্থিতি’। আর সাধারণ মানুষের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিঃশব্দে তাদের জন্য অকার্যকর হয়ে যায়।   আগুনে ঘি ঢালে সংবাদমাধ্যমের খবর। যখন কোনো ঘটনা বিক্রির জন্য রসালো গালগল্প হিসেবে প্রচার করা হয়, তখন এর আসল মানসিক পরিণতিগুলো ঢাকা পড়ে যায়। বিশ্বাসভঙ্গ, শোক ও মানসিক আঘাত প্রায়ই এই কোলাহলে হারিয়ে যায়। শালিনী সিং বলেন, ‘পিআর (জনসংযোগ) ন্যারেটিভ, গণমাধ্যমের খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবকিছুই কোনো ঘটনা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা প্রভাবিত করে। ভক্তদের মনে রাখা উচিত, তারা কেবল ঘটনার একটি সাজানো অংশ দেখছেন। পুরো পরিস্থিতি না জেনে কাউকে সমর্থন বা নিন্দা করতে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।’   বর্তমান যুগের যুগলেরা প্রতারণাকে কীভাবে দেখেন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া নতুন কোনো ধারণা নয়। সমাজে এর অস্তিত্ব বরাবরই ছিল। শালিনী সিং বলেন, ‘গত ১০ থেকে ২০ বছরে প্রতারণার বিষয়টি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ২৪ ঘণ্টার সংবাদপ্রবাহের কারণে প্রতারণা নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে।’   ডা. তুগনাইত মনে করেন, বিশ্বাসভঙ্গের কারণে মানুষ এখনো আগের মতোই গভীর কষ্ট পায়, তবে এর ধরন ও কাঠামো বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতারণা বলতে আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে এখন অনেক বেশি আলোচনা হয়। আর এ অস্পষ্টতার বড় একটি অংশ মানুষ অনলাইন ও তারকা সংস্কৃতি থেকে সরাসরি গ্রহণ করছে।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রতারণা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সম্পর্ক, তারকা সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে মানুষের এ পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়টিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সালমান খানের আসন্ন ‘‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’’ চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত
নতুন লুকে চমক দিলেন সালমান খান, মুগ্ধ ভক্তরা

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’’-এর নতুন লুক প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লুকটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভক্তরা ছবিটি নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানাতে শুরু করেন।   প্রকাশিত পোস্টারে সালমান খানকে আগের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। গম্ভীর অভিব্যক্তি, রাগেড স্টাইল এবং অ্যাকশনধর্মী উপস্থিতি অনেকের নজর কেড়েছে। ভক্তদের একাংশের মতে, এটি হতে পারে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সালমানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী লুক। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন পর নতুন ধরনের একটি চরিত্রে দেখা যেতে পারে এই অভিনেতাকে। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ছবিটিকে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত বলিউড সিনেমা বলেও উল্লেখ করছেন।   যদিও ছবির কাহিনি সম্পর্কে নির্মাতারা এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে এটি একটি যুদ্ধ ও দেশপ্রেমভিত্তিক অ্যাকশন-ড্রামা হতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ছবির বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করছে, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।   বলিউড বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন লুক প্রকাশের মাধ্যমে ছবির প্রচারণায় জোরালো সূচনা করেছে নির্মাতা দল। ট্রেলার প্রকাশের আগেই সিনেমাটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ায় মুক্তির পর বক্স অফিসেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে সালমান খানের অনুরাগীরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন ছবিটির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের। নতুন এই সিনেমায় তিনি কতটা ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, সেটিই এখন বলিউডপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
১৯ বছর পর মিসরে কনসার্ট করবেন শাকিরা

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও মিসরের ঐতিহাসিক গিজার পিরামিডে গান গাইতে আসছেন কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরা। আগামী ২৮ নভেম্বর ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে একটি জমকালো কনসার্টে পারফর্ম করবেন তিনি। ২০০৭ সালে একই ভেন্যুতে পারফর্ম করার পর মিসরে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম কোনো শো।    মধ্যপ্রাচ্যের বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘ভেঞ্চার লাইফস্টাইল’ এই বিশেষ কনসার্টটি আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভেঞ্চার লাইফস্টাইল এর আগে জেনিফার লোপেজ, জন লেজেন্ড, কেটি পেরি এবং ডেমি লোভাটোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের মধ্যপ্রাচ্যের মঞ্চে নিয়ে এসেছে। শাকিরার এই প্রত্যাবর্তন মূলত তার সাম্প্রতিক ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো ইয়োরান’ অ্যালবামের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে ঘটছে।  তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতজগতে রাজত্ব করা শাকিরা বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন। একাধিক গ্র্যামি এবং লাতিন গ্র্যামিজয়ী এই তারকা বিশ্বমঞ্চে লাতিন সংগীতের সবচেয়ে সফল আইকনদের একজন। সম্প্রতি তার নতুন গান ‘দাই দাই’ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ট্র্যাক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।  মিসরে এই কনসার্টের বিষয়ে এক বিবৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাকিরা বলেন, মিসরের গিজা পিরামিডে পারফর্ম করতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একইসঙ্গে ভক্তদের প্রতি নিজের ভালোবাসাও প্রকাশ করেন এই পপতারকা। সূত্র: আরব নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের মন্তব্যে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা: ইরান

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ও যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে।   ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ‘আগুন ধরানোর ঝুঁকি’ তৈরি করছে।   ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনির উর্ধ্বতন উপেদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুঃসাহসিক অভিযানের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।”   তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক শান্তিচুক্তি বাতিল নিয়ে ট্রাম্প যে নতুন উস্কানিমূলক মৌখিক ঘোষণা দিয়েছেন, তা এ অঞ্চলকে আগুন জ্বলে ওঠার দিকে ঠেলে দিয়েছে।”   বেলায়েতি জানান, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইরানের প্রতিরোধের অক্ষ (ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মিত্রদের নেটওয়ার্ক) ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়ে রেখেছে।’   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অর্ন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে এর আগে মৌখিক ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়াটা কেবল সময়ের অপচয় এবং তিনি আর তাদের সাথে কোনও চুক্তি চান না।   তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, এই যুদ্ধবিরতি শেষ।” তিনি সরাসরি ইরানের নেতাদের “অসুস্থ, সহিংস ও পাগলও” আখ্যা দেন। ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, “আমরা ইতরামির জবাব ইতরামি দিয়ে দেইনা, বরং নির্ভয়ে এবং বাহাদুরির সঙ্গে কাজ করে দেখানোর মাধ্যমে দেই।”

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল বিশ্বে আরেক বড় খবর সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মধ্যেই প্রতারণা ও অর্থ পাচারের সন্দেহে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই তদন্ত শুরু করেছে।   আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র লা নাসিওনের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও স্পোর্টস মেক্সিকোর প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন এবং  ফক্স স্পোর্টস মেক্সিকোর বরাতে জানা গেছে, এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই ফুটবল ফেডারেশন এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং এফবিআই-এর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে শত শত মিলিয়ন ডলার লেনদেন করা হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো অর্থ পাচার বা ব্যাংক জালিয়াতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।   মার্কিন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই ফুটবল সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কীভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা খতিয়ে দেখা। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনিকে টানা তিন ঘণ্টা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং এফবিআই এজেন্টরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তবে তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এএফএর প্রধান ক্লদিও তাপিয়া।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। তদন্তকারীরা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের সাবেক কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রাখার কথা ভাবছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এএফএর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারক করেছিলেন কিংবা সংস্থাটির সংবেদনশীল তথ্য যাদের কাছে রয়েছে, তাদের কাছ থেকেই জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে। জানা গেছে, ২০২৫ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক তদন্তের রূপরেখা তৈরি হচ্ছিল। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে কুমিল্লা বোর্ডে বহিষ্কার ২০, অনুপস্থিত ২ হাজার ৪২৭

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার চতুর্থ দিনে ইংরেজি (আবশ্যকি) দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় দুই হাজার ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়াও অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   তিনি জানান, বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোট ৮৫ হাজার ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২ হাজার ৭০৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অবশিষ্ট ২ হাজার ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।   এদের মধ্যে কুমিল্লায় ৮৬৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩০৪ জন, চাঁদপুরে ২১৪ জন, ফেনীতে ১৯১ জন, নোয়াখালীতে ৫৭৯ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ২৭৬ জন। উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন আরও বলেন, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কুমিল্লা জেলায় ৫ জন, চাঁদপুরে ১০ জন, নোয়াখালীতে ২ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩ জনসহ মোট ২০ জন পরীক্ষার্থীকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
চলন্ত যাত্রাতেই হানিমুন, ভাইরাল নবদম্পতি

বিয়ের পর হানিমুনকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেকেই বেছে নেন বিলাসবহুল হোটেল বা মনোরম পর্যটনকেন্দ্র। তবে ভারতের মহারাষ্ট্রের জালনার এক নবদম্পতি সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে চেন্নাইগামী একটি ট্রেনের ফার্স্ট এসি কেবিনকেই হানিমুন স্যুটে রূপ দিয়েছেন। তাদের সেই ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   মহারাষ্ট্রের সাজসজ্জা প্রতিষ্ঠান ‘রাহাত রুম ডেকোরেশন’ আগে থেকেই বুক করা কেবিনটি সাজিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের করিডোর পেরিয়ে কেবিনের প্রবেশপথে গোলাপি রঙের পুঁতির পর্দা এবং হৃদয় আকৃতির সাজসজ্জা। ভেতরে লাল ও সাদা বেলুনে ঢাকা ছাদ, মেঝেজুড়ে গোলাপের পাপড়ি এবং গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধার ফুল দিয়ে সাজানো দেয়াল ও জানালা। দেয়ালে লেখা ছিল ‘আই লাভ ইউ’।   ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই এই অভিনব আয়োজনের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনের এটি একটি ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয় উপায়। তবে অন্যদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন রেলের কামরা এভাবে সাজানোর অনুমতি ছিল কি না। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বেলুন, কাগজ ও ফুলের মতো সাজসজ্জার উপকরণ আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মজা করে এই কেবিনের নাম দিয়েছেন ‘সুহাগরাত এক্সপ্রেস’ বা ‘হানিমুন অন হুইলস’। এ নিয়ে বিভিন্ন মিম ও রসিকতাও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়নি। তাদের ভাষ্য, নবদম্পতি ফার্স্ট এসি কেবিনের দুটি বার্থই বুক করেছিলেন। ফলে কেবিনটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। সাজসজ্জার কারণে রেলের সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ট্রেন পরিচালনায়ও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। এ ধরনের আয়োজন নিষিদ্ধ করার মতো নির্দিষ্ট কোনো বিধানও নেই।   ‘রাহাত রুম ডেকোরেশন’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জালনার এক দম্পতির অনুরোধে কেবিনটি সাজানো হয়েছিল। তারা গাড়িতে ঔরঙ্গাবাদ থেকে জালনা স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই তাদের দল ট্রেনের কেবিনটি প্রস্তুত করে রাখে। নিরাপত্তার স্বার্থে নবদম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বে শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝে নিলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি। বুধবার রাত আটটায় বিএফডিসি'র আট নাম্বার ফ্লোরে অনুষ্ঠিত হয় এই শপথ গ্রহণ।   এতে নব নির্বাচিত সভাপতি শিবা সানুকে শপথ পাঠ করান বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর। পরে কমিটির অন্যদের শপথ পাঠ করান নব নির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু।   শপথ গ্রহণ শেষে শিবা সানু গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমরা আবার সবাই এক। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে শিল্পী সমিতিকে এগিয়ে নিতে। বিজয়ী এবং বিজিত সবাইকে নিয়েই শিল্পী সমিতির মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমাদের যেসব শিল্পীরা নির্বাচিত হতে পারেন নি তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন করে শিল্পী সমিতির উৎকর্ষ সাধন করতে চাই। শিল্পীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায়  সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।   শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতি শিবা সানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রের নবীন ও প্রবীন শিল্পীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে নেইমার-ভিনিসিয়াস। ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

পুরো ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত নেইমার, জানালেন আনচেলত্তি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬