নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে আটজন দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় উইলসন রোডে অবস্থিত আকিজ পলিফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন: প্রকৌশলী তারেক (২৬), মেকানিক মো. খোরশেদ (৩৫), মেকানিক ফেরদৌস (৩৫), অপারেটর মো. মঞ্জুর (২৮), অপারেটর হাবিব (৪৩), অপারেটর মো. রাকিবুল (২৫) এবং গাড়িচালক মো. হান্নান (৪৬)। দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা। স্থানীয়রা জানান, রাত ৮টার দিকে কারখানার ভেতরে বয়লার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। এ সময় সেখানে আট কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দগ্ধদের দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। এ সময় আতঙ্কে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে কারখানার সামনে জড়ো হন। কারখানার ব্যবস্থাপক মো. শুভ জানান, বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং হিট এক্সচেঞ্জার মেশিনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিস্ফোরণে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কারখানা কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ও বন্দর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি সিমেন্ট কারখানার ভেতরে বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে আটজন আহত হয়েছেন।’ দগ্ধদের তাৎক্ষণিক রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানান ওসি। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমাদের বন্দর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যায়। তবে দগ্ধদের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তাদের ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি কারখানার ভেতরে বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে আটজন দগ্ধ হয়েছেন।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মাদরাসাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে একটি জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি জারি করা ওই চিঠিতে বলা হয়, যেসব মাদরাসা আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর তালিকা ও সঠিক সংখ্যা আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত ইমেইলের মাধ্যমে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবকে জানানো হয় যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাবে। এ কার্যক্রমে সমন্বয় ও সহায়তার জন্য চিঠির অনুলিপি দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতসহ তিনটি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকেরা পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্র জানায়, বিকেল তিনটার দিকে প্রথমে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা ছয়টায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং সন্ধ্যা সাতটায় মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকদের স্বাগত জানান দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক। আলোচনায় পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনগণকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার এটি বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে প্রথম সফর। একই সঙ্গে কূটনীতিকেরা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পৃথক শোকবার্তা দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সরাসরি ভোটের প্রচারণায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দিন থেকেই তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবেন এবং ধারাবাহিকভাবে দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচারের সূচনা হবে ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান থেকে, যেখানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি জনসভা, পথসভা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দলের নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরবেন। বিএনপি মনে করছে, তারেক রহমানের সরাসরি প্রচারে নামা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়াবে। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান, দাবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এই প্রচার কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর মিরপুর রোডে একটি গ্যাসের ভালভ ফেটে লিকেজ সৃষ্টি হওয়ায় শহরের একাংশে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভালভ ফেটে যাওয়ায় লিকেজ তৈরি হয়। সমস্যা মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের কয়েকটি ভালভ বন্ধ করা হয়েছে, যার ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভালভ পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপ সমস্যা চলছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিতাস জানায়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতের সময় পাইপে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া শহরে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি থাকায় ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) দাখিলের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক এ কে এম গোলাম মাহমুদ স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা প্রকাশিত হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৬ জুন ২০২০-এর সার্কুলার নম্বর-২৬ অনুযায়ী, কোনো এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ অর্থ বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা জমা বা উত্তোলন হলে ব্যাংককে অবশ্যই বিএফআইইউ বরাবর CTR দাখিল করতে হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী নগদ লেনদেন রিপোর্ট সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে। প্রতি সপ্তাহের রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে। এটি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। ১–১০ জানুয়ারির CTR আগামী ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিতে হবে। যথা সময়ে CTR দাখিলে ব্যর্থতা, ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনার মাধ্যমে নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন–পরবর্তী নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকাজ, এমনটি মনে করছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। নতুন সরকারের প্রধান কাজ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আজ শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত “বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তা দেখা দেবে। ব্যাংকের উচ্চ সুদহার এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না, যা বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে আন্দোলন ঘটে, তার পেছনে এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাই কাজ করেছে। বাজারে চাকরি কম, সরকারি চাকরিতেও কোটা–সংকট, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রবল চাপ তৈরি করেছে। ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠী। দেশের গড় বয়স মাত্র ২৬–২৭ বছর। এই তরুণদের সঠিকভাবে কাজে লাগালে অর্থনীতিতে গতি ফিরানো সম্ভব। তিনি যোগ করেন, প্রযুক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে এবং তরুণরা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ সক্ষমতা রাখে। নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফাহমিদা খাতুন বলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আগামী নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ রাখতে নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। তিনি বলেন, নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার যেন না হয় এবং ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশি–বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং জাতীয় বাজেটের বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশে এলপিজি (অ্যাপেলগ্যাস) সরবরাহ সংকটের কারণে অটোগ্যাস স্টেশনসমূহ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে অটোগ্যাস মালিক সমিতি। সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল ও গ্যাস সরবরাহ ঠিকঠাক না থাকলে অনেক স্টেশন কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হবে। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অটোগ্যাসের অভাবে যানবাহনের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ জনগণের চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। অটোগ্যাস মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি সংকট দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যানবাহনের চলাচল প্রভাবিত হতে পারে এবং এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী জেলার বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত সফরটি পরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলের দিক থেকে বলা হয়েছে, দেশের শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে ইসি এই পরামর্শ দিয়েছেন। এই স্থগিতাদেশের ফলে তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত সকল সভা ও ভ্রমণ কার্যক্রম পুনঃনির্ধারণ করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা ইসির নির্দেশনা মেনে চলবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বিএনপির জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোট অনেক এগিয়ে রয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়ায় দেশে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও মাঠে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জামায়াত ও এনসিপির জোট অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানানো হয়েছে যে, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তাদের এখন পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়নি। নাহিদ অভিযোগ করেন, কিছু বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সিগন্যালিং করা হচ্ছে এবং ঋণ খেলাপি থাকা অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি নানাভাবে লঙ্ঘন হচ্ছে, এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যাংকের সুদের হার এই মুহূর্তে কমানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাংক ঋণের সুদহার হঠাৎ করে কমানো সহজ নয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ব্যর্থ হতে চান না এবং দ্রুত বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই তার বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাত বর্তমানে অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, তবে সুদের হার কমাতে হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির সহযোগিতা ছাড়া সরকারের একার পক্ষে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে অর্থসচিব মো. খাইরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুল হাই সরকার, ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুরসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
গোলাগুলি ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। কক্সবাজারের টেকনাফের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও। রাত থেকে শুরু হয়ে অনেক ক্ষেত্রে সকাল পর্যন্ত এসব শব্দ অব্যাহত থাকায় বসতবাড়ি কেঁপে উঠছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি রাত থেকে শনিবার ১০ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের হোয়াইক্যং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। মাঝে কিছু সময় থামলেও আবার ভারী অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হচ্ছে। এতে সীমান্তের এপারের মানুষ গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ওইসব অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে। এর জেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী জনপদে। গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক জেলে পরিবার নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছেন না। সীমান্ত এলাকার বহু মানুষ ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে। নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে রাকিব হাসান বলেন, রাখাইন সীমান্তে যেকোনো সময় গোলাগুলি শুরু হওয়ায় মাছ ধরতে যেতে তারা আতঙ্কিত। সীমান্তের ওপার থেকে গুলি এসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় জীবিকার ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে থেমে থেমে ভারী বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। রাতের বেলায় শব্দ আরও তীব্র হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় সংঘর্ষ চলায় শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত। অতীতেও মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এপারের বাসিন্দাদের গায়ে লাগার ঘটনা ঘটেছে, ফলে যেকোনো সময় গুলি এসে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা সবার মধ্যে কাজ করছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র ও জনকল্যাণকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যে কোনো মূল্যে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে হলে মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। অতীতের হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিণতি জাতি দেখেছে, তাই ভবিষ্যতে এমন রাজনীতি থেকে সরে আসাই সময়ের দাবি। শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে তা যেন কখনোই বিভেদ বা সংঘাতের কারণ না হয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতভিন্নতা দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার অভিজ্ঞতা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। ৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না। দেশ আগেও সমস্যায় ছিল, এখনও আছে, তবে কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। নিজেকে একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, আগামী ২২ তারিখ থেকে দলের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতেই রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করতে চান তিনি। জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমান দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন। এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও বলেন, এই সুবিধা হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিভিত্তিক বিভাজনের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে। স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী। এই কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এমন গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশিত যা দেশের মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে সহায়ক হবে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জনস্বার্থে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকারের স্মৃতিসহ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, বহু আগে থেকেই তিনি বেগম খালেদা জিয়ার একজন ভক্ত। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। আসিফ নজরুল লেখেন, সাংবাদিক জীবনের শুরুর দিকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৮–৮৯ সালের দিকে ধানমন্ডিতে বিএনপির কার্যালয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেন। সে সময় দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন ফজলুর রহমান পটল এবং মহাসচিব ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। আসিফ নজরুল লেখেন, লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে একটি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নেতা আপত্তি জানান। তবে খালেদা জিয়া হস্তক্ষেপ করে হাসিমুখে সেই প্রশ্নের জবাব দেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তার একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পান বলেও জানান তিনি। দেশে ফিরে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর কলাম লেখা ও টকশোতে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা লেখেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হলেও তিনি দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে সেসব মোকাবিলা করেছেন। এ সময়েই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও গভীর হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা থেকে বিরত থাকেননি। তার ভাষায়, সে সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া খুব কম নেতাকেই তিনি প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার পক্ষে কথা বলতে দেখেছেন। পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের দিনে তিনি তার পরিবার–পরিজনের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া এবং জাতীয় পতাকায় মোড়ানো নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোকে তিনি নিজের জীবনের একটি বড় সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের জাতীয় পতাকা সমুন্নত রাখতে খালেদা জিয়াকে আজীবন ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সেই পতাকা তার সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার অংশীদার হতে পারাকে তিনি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের ভোট স্থগিত হয়েছে এমন সংবাদ সঠিক নয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশন গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছে। শুক্রবার সকালে কিছু গণমাধ্যমে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন স্থগিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুধু এ দুটি আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে। পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন সংক্রান্ত এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাইকোর্টের রায়ের পর। হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ ডিসেম্বর এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সেই অংশ স্থগিত করে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এক প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানির পর এ আদেশ দেন। এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা পাবনা-১ আসনে এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিশন ভোটার ও প্রার্থীদের বিভ্রান্তি এড়াতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্বাচন স্থগিত হয়নি, শুধুমাত্র আপিল বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গণভোট সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়, যাতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা উল্লেখ রয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের দৃশ্যমান স্থানে অন্তত একটি গণভোট সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যানারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা সহজেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পান। এতে আরও জানানো হয়, গণভোট সংক্রান্ত ব্যানারের একটি নির্দিষ্ট নমুনা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নমুনা অনুযায়ী ব্যানারগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে মুদ্রণ করা হবে। ব্যানার প্রস্তুত ও সরবরাহের দায়িত্ব থাকবে সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসারদের ওপর। তারা স্থানীয়ভাবে ব্যানার মুদ্রণ করে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে সরবরাহ করবেন। প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্রের উপযুক্ত ও সহজে দৃশ্যমান স্থানে ব্যানার প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এসব ব্যানার মুদ্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসারদের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে ভোটগণনার বিবরণী প্রেরণ সংক্রান্ত নির্দেশনাও পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৬-এর দফা ১৫ অনুযায়ী, প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্র থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর একটি কপি সরাসরি ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এ উদ্দেশ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দরের জন্য দুটি করে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুদ্রিত বিশেষ খাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি এসব বিশেষ খাম যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনার সময় পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়ে ডাক বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব নির্দেশনার লক্ষ্য হলো গণভোট সংক্রান্ত তথ্য ভোটারদের কাছে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা এবং ভোটগণনার ফলাফল দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কমিশনের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে শুক্রবার দুপুরে তিনি নিজেই এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। দলীয় সূত্র জানায়, এটি কোনো নিয়মিত বা পূর্বনির্ধারিত বৈঠক নয়। সে কারণে বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো লিখিত এজেন্ডাও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখান থেকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং দলীয় নেতৃত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। নতুন বছর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তারেক রহমানই এই মুহূর্তে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে। তার ওই বক্তব্যের পর থেকেই দলটির ভেতরে এ বিষয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দল পরিচালনা করে আসছেন। সব মিলিয়ে, এই জরুরি বৈঠক বিএনপির নেতৃত্ব নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে এই দুই আসনের ভোট গ্রহণের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোটের জন্য প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু কিছু অপ্রত্যাশিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে ভোট গ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটের নতুন সময়সূচি পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোট গ্রহণের পরিবেশ সুরক্ষিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে। স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের কার্যক্রম স্থগিত থাকা অবস্থায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ভোটের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হলে ভোটারদের তা সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে, স্থানীয় জনগণকে ভোটার হিসেবে সচেতন ও নিরাপদভাবে ভোট কেন্দ্রে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন আগের মতো সাধারণ বা বাধাগ্রস্ত নির্বাচন নয়। তার ভাষায়, এটি শুধুমাত্র আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং দেশের আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় গোরে শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ভোটের গাড়ি প্রচারণা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ভোটারদের বলেন, যদি আপনি সংস্কার চান, সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় রাখতে চান, ক্ষমতা যেন এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত না হয় এবং মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। অন্যদিকে, যদি মনে করেন সংস্কারের প্রয়োজন নেই, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন। তবে ভোটের ক্ষেত্রে কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সংস্কারের জন্যই ১ হাজার ৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। ফাওজুল কবির খান জানান, তিনি নিজেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। উপদেষ্টা জানান, জুলাই মাসে অভ্যুত্থান ঘটেছিল মূলত ভোট প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে। তখন মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা নির্বাচনের সঠিক হিসাব হয়নি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আশ্বাস দেন, যে কোনো প্রার্থী—যে দলের হোক, যে ধর্মের হোক, যে বর্ণ বা গোত্রের হোক—ভোটাররা যাকে চান, তাকেই বিজয়ী হিসেবে দেখতে চায়। ফাওজুল কবির খান বলেন, এই জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটার রয়েছেন। তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা ভোটারদের দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই। দলীয় সূত্র জানায়, এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত বৈঠক নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডাও ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার ইন্তেকালের পর দেশ ও দলের মধ্যে শোকের আবহ কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। নতুন বছর এবং সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের নেতৃত্ব কাঠামো পূর্ণাঙ্গ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানিয়েছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। সেই থেকে তিনি বিদেশে অবস্থান করেও দলের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আজকের জরুরি বৈঠক থেকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ দিনের কার্যক্রম আজ নির্বাচন কমিশনে চলমান রয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সকাল থেকেই প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে আপিল গ্রহণ কেন্দ্র। কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে অঞ্চলভিত্তিক মোট ১০টি বুথ স্থাপন করে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার বুথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল জমা দিচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ আপিল গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামীকাল শনিবার থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে। এসব শুনানি শেষে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যা নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। যাচাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত চার দিনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। ওই দিন মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ১৬৪টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে ১০টি আপিল করা হয়। এর আগের দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে আপিল জমা পড়েছে। বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং প্রথম দিন সোমবার ৪২টি আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয়। সোমবার জমা পড়া আপিলগুলোর মধ্যে ৪১টি ছিল মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে এবং একটি ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত অডিটোরিয়ামে এসব শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি করে আপিল শুনানির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। আপিল শুনানি শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।