সর্বশেষ

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

​​​​​মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে তিনি জানান, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে, যদিও তাদের প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই সমঝোতাকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং মালয়েশিয়ায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অনেকেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানান, কিন্তু প্রশ্ন হলো তাদের কোথায় পাঠানো হবে? কারণ ইতোপূর্বে মিয়ানমার তাদের গ্রহণ করতে চাইত না। ঠিক এ কারণেই মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিতে রাজি হয়েছে।   মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা বৃহৎ সংখ্যক রোহিঙ্গার অন্যতম একটি অংশকে আশ্রয় দিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে পেনাংয়ের একটি শিবির থেকে আসা শতাধিক রোহিঙ্গার জমায়েতের পর এই ঘোষণা আসে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সেই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগর এবং পেনাংয়ের অস্থায়ী অবস্থানে স্থানান্তরিত করে।   আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, আঞ্চলিক এই শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করতে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার শিকার হয়ে আসছে এবং চরম কষ্ট থেকে বাঁচতে তারা প্রায়শই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে দেশত্যাগের চেষ্টা করে থাকে।   ২০১৭ সাল থেকে সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র দলগুলোর সহিংস দমনপীড়নের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা পাড়ি দিয়ে অনেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ৩০, ২০২৬
ডা. মুরাদ হাসানের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের আদেশ দিয়েছে আদালত।   বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এই আদেশ দেন। এই মামলায় ডা. মুরাদ হাসানসহ দুই আসামিকে আদালতে হাজির হতে এই আদেশ দেন বিচারক।   মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর-৪ আসনের এমপি ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন এক ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজের টকশোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন ডা. মুরাদ হাসান। অসৎ উদ্দেশ্যে এই মিথ্যাচার, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ১০ হাজার কোটি টাকার অধিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।   এই ঘটনায় জামালপুর জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সহ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা লায়ন রুমেল সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ডা. মুরাদ হাসান ছাড়াও টক-শোর উপস্থাপক চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর এলাকার এ টি এম আবুল কাশেমের ছেলে মহি উদ্দিন হেলাল নাহিদকে আসামি করা হয়েছে।   মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বলেন, গত বছরের ২৪ মে সরিষাবাড়ী আমলি আদালতের তৎকালীন বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুকসানা পারভীন মামলাটি আমলে নিয়ে ডা. মুরাদ হাসানসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। কিন্তু আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে পলাতক থাকায় তাদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বুধবার আদালত আদেশ দেন। আসামিরা যদি এর পরও আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক থাকেন তবে তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলায় বিচারকাজ চলবে।   উল্লেখ্য, এই মামলায় সমন জারির পর আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সেনাদের মোবাইল ব্যবহারে বিপাকে মার্কিন বাহিনী, সুবিধা নিচ্ছে ইরান

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে সহায়তা করছে বলে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এ কারণে অঞ্চলটিতে মোতায়েন কিছু সেনার কাছ থেকে মোবাইল ফোন জমা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   রয়টার্সের হাতে আসা এক চিঠিতে কুপার সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সেনাদের প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইরান হামলার সফলতা বা ব্যর্থতা দ্রুত মূল্যায়ন করতে পারছে।   চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, উন্মুক্ত তথ্য থেকেই ইরান কার্যত হামলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ হামলার পরিকল্পনায় কাজে লাগতে পারে।   কুপার ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময়ের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন। সে সময় এক মার্কিন সেনা স্মার্ট চশমায় ভিডিও ধারণ করে পরে তা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তার অবস্থান ও আশ্রয় নেওয়ার স্থানও দৃশ্যমান ছিল।   রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন কয়েকজন মার্কিন সেনাকে শিগগিরই মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা পুরো অঞ্চলে কার্যকর হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সোর্স: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
ইরান সংঘাতে নতুন করে ৩ দেশের সম্পৃক্ততা, সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা

গত পাঁচ মাস ধরে একটি আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছিল সৌদি আরব। এমনকি যখন ইরানি ড্রোনগুলো তাদের তেল শিল্পে আঘাত হানছিল, তখনও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছিল রিয়াদ। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবকে তিনটি ভিন্ন দিক থেকে শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে— ইরান এবং ইরাক ও ইয়েমেনে থাকা তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো।   গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মিসাইল হামলা, ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলা এবং তেহরানের নতুন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোরে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে রিয়াদের জন্য সংযম দেখানোর সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।    মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সৌদি আরবের ফাইটার জেটগুলোও পূর্ব ইরাকে হামলা চালিয়েছে। তবে এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটি বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রিয়াদের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়বহুল একটি বিকল্প। গত এক দশক ধরে তারা রাজ্যটিকে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত করার দিকে মনোনিবেশ করেছিল। এই লক্ষ্যেই ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু তিন দিক থেকে অসম যুদ্ধে পারদর্শী অপ্রত্যাশিত শত্রুদের মোকাবিলা করা যেকোনো সামরিক পরিকল্পনাকারীর জন্যই দুঃস্বপ্নের মতো এবং তাদের সেই দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এখন চরম হুমকির মুখে।   ইয়েমেন ফ্রন্ট এবং হুথিদের হুমকি সপ্তাহান্তে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলে দুটি সৌদি তেল স্থাপনায় মিসাইল নিক্ষেপ করে। স্যাটেলাইট ইমেজ এবং জিওলোকেটেড ভিডিওতে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জাজানের একটি স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। হুথিরা বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করার পর লোহিত সাগরে দুটি সৌদি ট্যাংকারের ওপরও হামলা চালায়।   সৌদি আরবের জন্য এই অবরোধ একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির সংকেত। হরমোজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় সৌদিরা তাদের তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পরিচালনা করছিল। আগামী তিন বছরে লোহিত সাগর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কিন্তু এশিয়ার বাজারে যেতে হলে ইয়ানবু থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্যাংকারগুলোকে অবশ্যই বাব আল-মানদেব অতিক্রম করতে হবে, যা তাদের রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ হুথিদের হামলার ঝুঁকিতে ফেলছে।   ২০১৫ সালে হুথিদের উৎখাত করতে ব্যর্থ হয়ে সৌদি আরব সাত বছর ধরে লড়াই চালিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও তা কখনোই পূর্ণাঙ্গ শান্তিতে রূপ নেয়নি। সম্প্রতি হুথিরা অভিযোগ করেছে যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্য থেকে ফেরা একটি হুথি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমানকে বাধা দিতে সৌদি আরব সানা বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালিয়েছে। এর জের ধরেই নতুন করে সহিংসতার সূত্রপাত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ আপাতত বিমান হামলার মাধ্যমেই এর জবাব দেবে। ইতোমধ্যে ট্যাংকারে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গত শুক্রবার হুথিদের নিয়ন্ত্রিত হুদাইদাহ বন্দরে হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী।   ইরাক থেকে আসা নতুন বিপদ সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরাকের পাম গ্রোভস থেকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে পরপর ড্রোন হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, হুথিরা এসব মিলিশিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে।   অবশেষে রিয়াদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং মঙ্গলবার ভোরে তারা পূর্ব ইরাকে মিলিশিয়াদের ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সংঘাত বাড়াতে চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই যৌথ অভিযানটি ছিল ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল বলে তারা দাবি করেছে।    সৌদি কর্মকর্তারা ২০১৯ সালে আবকাইক শোধনাগারে হওয়া সেই বিধ্বংসী হামলার কথা ভোলেননি, যা সৌদির তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই হামলার উৎসও ইরাক বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছিল।   ইরানের ছায়া এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট গত মার্চ ও এপ্রিলে যখন ইরানের শাহেদ ড্রোনগুলো সৌদির পূর্ব উপকূলের তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল, তখন সৌদি কর্তৃপক্ষ অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রিয়াদ সফর করে ইরানি ড্রোন প্রতিরোধে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা রাতারাতি স্থাপন করা সম্ভব নয়।   যদিও এপ্রিলের পর থেকে ইরান সরাসরি সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করেনি, তবে চলতি সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ স্বাধীনভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলায় অংশ নিয়েছে। এর আগে সংঘাতের শুরুর দিকে সৌদি আরব ইরানের ওপর কিছু সতর্কতামূলক বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলেও নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতা প্রমাণের একটি বার্তা ছিল।   বর্তমানে সৌদি আরবকে তিনমুখী লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী তেল স্থাপনায় মিসাইল হামলা ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে ট্যাংকার অবরোধ করছে এবং এর জবাবে সৌদি আরব হুথি নিয়ন্ত্রিত হুদাইদাহ বন্দরে সরাসরি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ইরাক থেকে ইরানপন্থী মিলিশিয়ারা রিয়াদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার প্রত্যুত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে সামরিক অভিযান চালিয়েছে রিয়াদ। মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে ইরান সরাসরি হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি ও স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ কারণে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিতে দ্রুত বিনিয়োগ এবং সতর্কতামূলক প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেছে সৌদি আরব।   এই বহুমুখী সংঘাতের কারণে সৌদি আরব ইতোমধ্যেই একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব এবং ধীর অর্থনীতির মোকাবিলায় ব্যয় বাড়ানোর ফলে ২০১৮ সালের পর থেকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক ঘাটতি রেকর্ড করেছে দেশটি। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হলেও তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে আরও বিঘ্ন ঘটলে তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। সৌদির অনেক মেগা-প্রজেক্টের পরিধি ইতোমধ্যেই কমিয়ে আনা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ও গাজা নীতির আকস্মিক পরিবর্তনে সৌদি কর্মকর্তারা বিস্মিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সহযোগিতা নিবিড় থাকলেও, মার্কিন আগ্রহ কমে গেলে একটি আরও বেশি আক্রমণাত্মক ইরানের মুখোমুখি একা হওয়ার আশঙ্কা রিয়াদকে তাড়া করছে। একই সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সম্পর্ক মেরামতের কাজও সবেমাত্র শুরু হয়েছে।    সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সৌদি আরব স্পষ্টতই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আর নীরবে মার খাবে না; বরং পাল্টা আঘাত করার সময় এসেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
অভিজিৎ দীপকে ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
মোদির প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার সময় এসেছে : অভিজিৎ দীপকে

ভারতের লোকসভায় সদ্য পাস হওয়া প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল প্রসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, সদিচ্ছা ও সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া শুধু আইন করে সমস্যার সমাধান হবে না।    সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর মাধ্যমে তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তার সমালোচনা করে অভিজিৎ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত পদ ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া। এর আগে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও বলেছিলেন, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বদলে তরুণদের মন জয় করা যাবে না।    অভিজিৎ আরও অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁস মামলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের প্রথম শুনানিতেই সিবিআই আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। তাই বাস্তবায়নকারীরা সৎ না হলে এসব আইনের কোনো অর্থ নেই।   গত ২০ জুলাই নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির পদযাত্রার জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন চালানো হয় এবং মামলা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এফআইআর প্রত্যাহারের সরকারি আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত হলেও, সিজেপির অভিযোগ— সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি অব্যাহত রেখেছে।    অভিজিৎ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে আরও বৃহৎ আন্দোলন হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারে অন্তত চারটি করে ভোট রয়েছে, তাই আঘাতের বদলা শিক্ষার্থীরা ব্যালটেই দেবে। এছাড়া বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত জেন-জিকে প্রজন্মকে কটাক্ষ করলেও, কঙ্গনাকে ‘পার্ট-টাইম’ রাজনীতিক আখ্যা দিয়ে তার মন্তব্যের জবাব দেওয়া নিষ্প্রয়োজন বলে এড়িয়ে যান দীপক। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
ঢাকায় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত চার শিশুকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ।   বুধবার ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।   পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে মানিকদী আমতলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার একটি ঘটনার তদন্তে নেমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চার শিশুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি বাসার ছাদের ইটের স্তূপের ভেতর থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।   প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পার্টি করার সময় অস্ত্রটি দেখানোর একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত গুলি ছুটে একজন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রটি ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং-এর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।   এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ডিম | ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন কতটি ডিম খেলে শরীরের জন্য ভালো?

সকালের নাশতায় একটি গরম সেদ্ধ ডিম কিংবা অমলেট না হলে যেন অনেকের চলেই না। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই অতিপরিচিত খাবারটি নিয়েই বিতর্কের শেষ নেই।   কেউ বলেন, ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায়, আবার কেউ বলেন প্রতিদিন ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। দীর্ঘদিনের এই দ্বিধা কাটিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা কী বলছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিমকে প্রকৃতির অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিডই বিদ্যমান। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, সেলেনিয়াম এবং কোলিন। বিশেষ করে কোলিন, লুটেইন এবং জেক্সানথিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।   দিনে কয়টি ডিম নিরাপদ? ডিম খাওয়ার সংখ্যাটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খেতে পারেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, হৃদরোগের ঝুঁকি নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।   শিশু: শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   সতর্কতা: যাদের হৃদরোগ বা উচ্চমাত্রার ‘এলডিএল’ (খারাপ কোলেস্টেরল) রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   কুসুম কি বর্জনীয়? অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের কুসুমেই ভিটামিন এ, ডি, ই এবং বি১২ এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে। তাই আস্ত ডিম খাওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।   রান্নার সঠিক পদ্ধতি ও খাবার সমন্বয় ডিমের সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ: সেদ্ধ বা পোচ: ডিম সেদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে স্ক্র্যাম্বলড করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অতিরিক্ত চর্বি যোগ হয় না। কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলুন: কাঁচা ডিম খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং শরীর প্রোটিন পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। সবজি ও ওটস: ডিমের সঙ্গে সবজি বা ওটস খেলে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি পূরণ হয় এবং খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে প্রক্রিয়াজাত মাংস বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ডিম না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ডিম কি ক্ষতিকর? যে কোনো পুষ্টিকর খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঠিক নয়। শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করে আঁশযুক্ত খাবার না খেলে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এটি কোলেস্টেরলের মাত্রায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।   শেষ কথা ডিম কেবল একটি খাবার নয়, এটি পুষ্টির একটি সহজ উৎস। তবে মনে রাখতে হবে, আপনি কতটি ডিম খাচ্ছেন তার চেয়েও জরুরি হলো কীভাবে সেটি রান্না করছেন এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন। পরিমিতিবোধ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যে সময় মধু খেলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ উপকার

মধু কেবল একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, এটি অসংখ্য ঔষধি গুণে ভরপুর একটি ‘সুপারফুড’। পুষ্টিবিদ এবং ডায়েটিশিয়ানদের মতে, দিনের যে কোনো সময়ে মধু খাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এটি গ্রহণ করলে শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়।   নিচে মধু খাওয়ার সেরা সময় এবং এর উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো: ১. সকালে খালি পেটে সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। সকালবেলা মধু খাওয়ার ফলে শরীর দিনভর সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।   উপকারিতা: এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এ ছাড়া এটি ত্বক ভালো রাখতে এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।   ২. বিকেলে শক্তির উৎস হিসেবে দিনের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর যখন শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে, তখন এক চামচ মধু আপনাকে নতুন করে চনমনে করে তুলতে পারে। এই সময়ে ক্যাফেইন বা চিনিযুক্ত নাশতার বদলে মধু খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।   উপকারিতা: মধু একটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেয় এবং দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।   ৩. রাতে ঘুমানোর আগে বিশেষজ্ঞরা রাতের বেলা ঘুমানোর আগে মধু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এক গ্লাস গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরের পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।   উপকারিতা: এটি গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। এ ছাড়া রাতের বেলা মধু খেলে তা অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।   ৪. অসুস্থ অবস্থায় বা সর্দি-কাশিতে সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথায় মধু একটি অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজ করে। এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।   উপকারিতা: মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি শরীরের মেটাবলিক ফাংশন উন্নত করে।   ৫. ব্যায়ামের আগে বা পরে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করেন, তাদের জন্য মধু একটি আদর্শ পানীয়। এটি এনার্জি ড্রিংকের চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে।   উপকারিতা: এটি শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং ব্যায়ামের পর পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত রিকভারিতে সাহায্য করে। এটি খুব সহজে হজম হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।   শেষকথা মধু যে সময়েই খাওয়া হোক না কেন, এর পরিমিত ব্যবহার শরীরের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে উপরোক্ত সময়গুলোয় মধু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
আগস্টে বাংলাদেশ সফরে বিশ্বব্যাংকের দুই প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সরকারি ক্রয় ও জবাবদিহি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি বড় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নে আগামী আগস্টে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের দুটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ৯ থেকে ১৩ আগস্ট গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের একটি প্রতিনিধিদল এবং ৯ থেকে ১৬ আগস্ট রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্টস নোট মিশন বাংলাদেশ সফর করবে।   বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন পৃথক দুটি চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।   গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্দার কোচেভস্কি। সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।   এসব বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, ফিডিউশিয়ারি ও নন-ফিডিউশিয়ারি বিষয়, জবাবদিহি এবং চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।   অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের মূল্যায়ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন টাস্ক টিম লিডার ও সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট সামিনা ইয়াসমিন। তার সঙ্গে কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং রেজিলিয়েন্স সূচক বিশ্লেষণের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন বিশেষজ্ঞও মিশনে অংশ নেবেন।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই মিশনের লক্ষ্য হলো রেলি প্রকল্পের ফলাফল, উন্নয়নগত প্রভাব, আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং উত্তম চর্চা নথিভুক্ত করা। এজন্য প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে।   প্রতিনিধিদলটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি), বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগস্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও উন্নয়নগত প্রভাব মূল্যায়ন করবে। তাদের মতে, এসব মূল্যায়নের সুপারিশ ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সৌজন্যে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগ্রিভোল্টাইক এগিয়ে নিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের স্বার্থ ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করেই দেশে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, এনডিসি ৩ দশমিক ০ এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। তাই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির ক্ষতি না হয়।   তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক পদ্ধতিতে একই জমিতে কৃষিকাজ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৃষকের অতিরিক্ত আয়, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কার্বন অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা এবং জাতীয় নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে তিনি জানান, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে, যদিও তাদের প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই সমঝোতাকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং মালয়েশিয়ায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অনেকেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানান, কিন্তু প্রশ্ন হলো তাদের কোথায় পাঠানো হবে? কারণ ইতোপূর্বে মিয়ানমার তাদের গ্রহণ করতে চাইত না। ঠিক এ কারণেই মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিতে রাজি হয়েছে।   মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা বৃহৎ সংখ্যক রোহিঙ্গার অন্যতম একটি অংশকে আশ্রয় দিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে পেনাংয়ের একটি শিবির থেকে আসা শতাধিক রোহিঙ্গার জমায়েতের পর এই ঘোষণা আসে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সেই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগর এবং পেনাংয়ের অস্থায়ী অবস্থানে স্থানান্তরিত করে।   আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, আঞ্চলিক এই শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করতে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার শিকার হয়ে আসছে এবং চরম কষ্ট থেকে বাঁচতে তারা প্রায়শই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে দেশত্যাগের চেষ্টা করে থাকে।   ২০১৭ সাল থেকে সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র দলগুলোর সহিংস দমনপীড়নের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা পাড়ি দিয়ে অনেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ইয়াল জামির। ছবি: রয়টার্স
সব ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইসরাইলি সেনাবাহিনী

ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির জানিয়েছেন, যেকোনো ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে তাদের সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি-দখলকৃত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি সেনা কর্মকর্তাদের এই কথা বলেন।   ইয়াল জামির তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বা অভিযান এখনও শেষ হয়নি, আর তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিস্থিতির যেকোনো ধরনের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য বিস্তৃত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তারা প্রস্তুত আছেন বলে তিনি জানান।   তিনি আরও বলেন, লেবানন সীমান্তে প্রয়োজন দেখা দিলে ইসরাইলি বাহিনী আরও গভীরে প্রবেশ করবে এবং নতুন নতুন এলাকায় পৌঁছাবে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অনেক পয়েন্টে তাদের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ ও ইসরাইলের পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা চলাকালীন সময়েও তারা পর্যায়ক্রমিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যে কারণে বাংলাদেশি যুবককে জীবনসঙ্গী বানালেন পাকিস্তানি ভ্লগার

ভালোবাসার টানে দুই দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ভ্লগার রুবিনা মারুফ। বিয়ের খবরটি আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন তিনি। এবার জানালেন, কেন বাংলাদেশিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।   সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে রুবিনা লেখেন, হ্যাঁ, আমি একজন বাংলাদেশি পুরুষকে বিয়ে করেছি। প্রথমবার বাংলাদেশে যাওয়ার সময় মা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিলেন, সেখানে যেন আমি মারা না যাই বা বিয়ে না করি। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা সব সময়ই আমাদের পরিকল্পনার চেয়ে বড়। তিনি জানতেন, আমি বাংলাদেশকে কতটা ভালোবাসি এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে যুক্ত অনুভব করি।    তিনি আরও জানান, তার স্বামী রকিবুল হাসান বাংলাদেশের রংপুরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কর্মরত। তাদের লাহোরে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।    বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরে রুবিনা লেখেন, বিয়ের দিন শাড়ি পরেছিলাম বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আরও কাছাকাছি আনার সৌন্দর্য উদ্‌যাপন করতেই এই পোশাক বেছে নিয়েছি।    তিনি আরও জানান, তার মা এই বিয়ে নিয়ে খুবই খুশি ও সন্তুষ্ট। বাবা আবেগাপ্লুত হলেও আনন্দিত। খুব শিগগিরই বাবা-মাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   উল্লেখ্য, রুবিনা মারুফের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহু পুরোনো। তার বাবা ১৯৬৮ সালে যশোর থেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেই পারিবারিক শিকড়ের টান এবং বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাই নতুন পোস্টে তুলে ধরেছেন পাকিস্তানি এই ভ্লগার।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
অনলাইন প্রতারণার হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার

মিয়ানমারে অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে মানুষকে অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি আইন পাস করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্ট। দেশটিতে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এই আইন করা হয়েছে।   আজ বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংশোধনী অনুমোদনের পর ‘অ্যান্টি-অনলাইন স্ক্যাম বিল’ পাস হয়। ইউনিয়ন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন ডুয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে আইনটি পাসের কথা জানান।   নতুন আইনে সাইবার প্রতারণায় জড়িত কোনো ব্যক্তি যদি সহিংসতা, নির্যাতন বা বেআইনি আটকের মাধ্যমে কাউকে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেন, তাহলে তার ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এ ধরনের নির্যাতনের ফলে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মে মাসে আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিলেন।   কোভিড-১৯ মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র দ্রুত বিস্তার লাভ করে। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় এবং অনেক মানুষকে পাচার বা জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করানো হয়।   মিয়ানমারের নতুন সরকারের অধীনে পাস হওয়া এটিই প্রথম আইন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে সামরিক সরকার একদিকে আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থান কাটিয়ে উঠতে চাইছে। তবে দেশটির বড় অংশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করা ১৪ হাজার ৭১৮ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্বে কোক্কো ও কে কে পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ জুয়া ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ৭৭টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা।   জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্ক্যাম-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৮.৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল। একই বছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতারণায় প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।   জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে—কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মেকং অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার কেন্দ্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সতর্ক করেছে, এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে আসা এবং পরে রাস্তায় পরিত্যক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা এখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
আজমেরী হক বাঁধন । ছবি: সংগৃহীত
‘গুলশানের চামেলি’তে মানবাধিকারকর্মী রূপে বাঁধন

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে এবার দেখা যেতে পারে নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে। রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মাণাধীন এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের বিষয়ে তার সঙ্গে নির্মাতাদের আলোচনা চলছে।   গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁধন নিজেই। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সিনেমাটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আগস্টের ১ তারিখ সম্ভবত সিনেমাটির ঘোষণা আসবে। এখানে আমি একজন মানবাধিকারকর্মী, অর্থাৎ আইনজীবীর চরিত্র করছি।’   জানা গেছে, সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক যৌনকর্মীর জীবনকে ঘিরে। কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার নিপীড়নের শিকার হন তিনি। তার জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সমাজ, রাজনীতি এবং অভিজাত শ্রেণির অন্ধকার বাস্তবতা তুলে ধরা হবে।   এর আগে সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। নারীপ্রধান এই সিনেমায় তিনিই মূল চরিত্রে অভিনয় করবেন। প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে সিনেমাটিতে কোনো প্রচলিত নায়ক থাকছে না; বরং একজন নারীর সংগ্রাম ও জীবনকাহিনিকেই কেন্দ্র করে এগোবে পুরো গল্প।   সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে শুরু হবে ‘গুলশানের চামেলি’-র শুটিং। আগামী ১ আগস্ট সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

ঢাকাসহ দেশের ১০ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।   বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।   এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
আব্বাস আরাগচি ও ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি : সংগৃহীত
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে হামলা অনিচ্ছাকৃত, জানাল ইউক্রেন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় একটি ইরানি কার্গো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক দিন পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইআরএনএর।     বুধবার (২৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি জানান, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানি জাহাজে হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ইউক্রেন কোনো ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না।     আরাগচি বলেন, ইরানও উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।       তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   সূত্র : আইআরএনএ

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ডাক বিভাগের লোগো। ছবি: সংগৃহীত
ডাক বিভাগের ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস’ কার্যক্রম চালু করল ডাক বিভাগ। এতে করে ডাক বিভাগের পরিচালনা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।   বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।   এ সময় মন্ত্রী বলেন- পোস্ট অফিস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা নতুন কোনো ধারণা নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু বছর ধরে এটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ উদ্যোগের মাধ্যমে ডাকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।     তিনি আরও বলেন, জনগণ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে আরও উদ্যোক্তা এ কার্যক্রমে যুক্ত হন।     মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব পোস্ট অফিসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে, এতে একদিকে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোক্তাদের শুভকামনা জানিয়ে আশ্বস্ত করেন, কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হলে ডাক বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।     ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে ঢাকার অভ্যন্তরে ৪টি এবং ঢাকার বাইরে ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের সকল অঞ্চলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।     এরপর মন্ত্রী ডাক বিভাগের অবিভাগীয় (ইডি) এজেন্টদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাস রমজান ও আনন্দ উৎসব ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রাক্কলন প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জর্ডান নিউজ।     জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব ও সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র রমজানের প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি সনের শাবান মাসের ২৯ তারিখ অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং সেই হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিয়াম সাধনা শুরু হবে।     একই প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা বলছে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস এবার ২৯ দিনের হতে পারে। সেই গাণিতিক হিসেবে ৮ মার্চ (সোমবার) রমজান মাস শেষ হবে এবং ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।     উল্লেখ্য, হিজরি ১৪৪৮ সনের শুরু নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে একদিনের পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। কিছু দেশে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে নতুন বছর শুরু হলেও অন্য দেশগুলোতে ১৭ জুন থেকে মহরম মাস গণনা শুরু হয়। সময়ের এই পার্থক্যের কারণে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে ভিন্নতা আসতে পারে।       তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ প্রতি বছরের মতো স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই হিসাব মূলত সাধারণ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ জানার লক্ষ্যে করা হয়ে থাকে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্ন্যাপচ্যাটের নতুন ফিচার ‘নাও প্লেয়িং’, জানা যাবে বন্ধুদের গান

স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। আর এই ফিচারের নাম  ‘নাও প্লেয়িং’, যার মাধ্যমে এখন বন্ধুদের রিয়েল টাইমে শোনা গান দেখা যাবে।   ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি স্ন্যাপ ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে এটি স্পটিফাইয়ের সঙ্গে কাজ করবে।  টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে নিজের স্পটিফাই অ্যাকাউন্ট স্ন্যাপচ্যাট-এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এরপর তিনি বর্তমানে যে গানটি শুনছেন, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ন্যাপ ম্যাপে বন্ধুদের কাছে দেখা যাবে।     একইভাবে বন্ধুরাও কী গান শুনছেন, তা রিয়েল টাইমে জানা যাবে। স্ন্যাপচ্যাটের মিউজিক বিভাগের প্রধান ম্যানি অ্যাডলার বলেন, গান মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগই দেবে ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচার।   ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি শুধু স্ন্যাপ ম্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়।     স্পটলাইট ভিডিওর সঙ্গেও এটি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনো স্পটলাইট ভিডিওতে পছন্দের গান শুনলে সেটি সরাসরি স্পটিফাইয়ে সংরক্ষণ করা যাবে। চাইলে গানটির স্পটিফাই পেজেও প্রবেশ করা যাবে। তবে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। কে আপনার শোনা গান দেখতে পারবেন, তা আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।     এ ছাড়া আপনার আগের শোনা গান বা পুরো প্লেলিস্ট কেউ দেখতে পারবেন না। শুধু বর্তমানে যে গানটি বাজছে, সেটিই দেখা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই ফিচার এনেছে স্ন্যাপচ্যাট। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্পটিফাই ইতিমধ্যে এ ধরনের সুবিধা চালু করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো স্ন্যাপচ্যাটও। যেসব দেশে স্পটিফাই ও স্ন্যাপচ্যাট উভয় সেবা চালু আছে, সেখানে ধাপে ধাপে নতুন এই ফিচার উন্মুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।  

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ কমলেও ৯২৩ কোটি টাকা মুনাফা বৃদ্ধি

বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে সংকোচনের ধারা অব্যাহত থাকলেও মুনাফা, আমানত এবং বৈদেশিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।     ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এসব ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে ৯২৩ কোটি টাকা।       একই সময়ে আমানত সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রপ্তানি আয়ে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণ বিতরণ ও ব্যাংকিং খাতে বাজার অংশীদারি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম : প্রবণতা ও পরিচালনাগত পর্যবেক্ষণ (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।     প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বেশি।   এর ছয় মাস আগে, জুন শেষে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা বেড়েছে ৯২৩ কোটি টাকা।   একই সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা, যা জুনের তুলনায় ৭৭ কোটি টাকার বেশি। যদিও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের অংশ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।   অন্যদিকে ঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ১২২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বছরে ঋণ কমেছে প্রায় ৫ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। শুধু জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই ছয় মাসেই ঋণ কমেছে ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকার বেশি।   ফলে দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশও ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। খাতভিত্তিক ঋণ বিতরণের চিত্রে দেখা যায়, শিল্প খাতই বিদেশি ব্যাংকগুলোর প্রধান ঋণগ্রহীতা। মোট ঋণের ৫২ শতাংশ গেছে শিল্প খাতে। ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে বিতরণ হয়েছে ২০ শতাংশ, ভোক্তা ঋণে ১৬ শতাংশ এবং বাকি অংশ গেছে অন্যান্য খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প খাতে ঋণ কিছুটা বাড়লেও ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছে, যা ওই সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছে, যা মোট আমদানির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান।   তবে প্রবাস আয় আহরণে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট রেমিট্যান্সের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এসব ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে।   আর্থিক সক্ষমতার বিভিন্ন সূচকেও বিদেশি ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে তারল্য পরিস্থিতিও শক্তিশালী এবং খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম, যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং খাতে বাজার অংশীদারি সংকুচিত হওয়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘ মেয়াদে উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সেবায় এসব ব্যাংকের শক্ত অবস্থান এখনো দেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

জাতীয়

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মোহাম্মদ রাসেলকে সম্মাননা দিয়ে ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬