দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত করতে চীন নির্মাণ করছে শতকের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প 'পিংলু খাল' (Pinglu Canal)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত এই জলপথটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান) ব্যয়ে নির্মিত ১৩৪ কিলোমিটার (৮৩ মাইল) দীর্ঘ এই খালের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এর প্রথম শিপিং রুটে পরীক্ষামূলকভাবে নৌযান চলাচল শুরু হবে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগে। প্রথম রুটটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিং-এর সঙ্গে হাইনান দ্বীপের মুক্ত বাণিজ্য বন্দরকে সরাসরি যুক্ত করবে। বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত ও সময়-খরচ সাশ্রয় পিংলু খালটি চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে সরাসরি 'গলফ অব টনকিন' বা বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট 'আসিয়ান' (ASEAN)-এ পণ্য পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার (৩৪৬ মাইল) কমে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথটি চালু হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ প্রায় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা বছরে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লজিস্টিক খরচ বাঁচাবে। এতদিন এই অঞ্চলের পণ্যগুলোকে ঘুরতি পথে গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর হয়ে সমুদ্রে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। গত বছর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমেছে, সেখানে আসিয়ান দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। এই বিশাল খালের মাধ্যমে চীন তার অন্যতম বড় এই রপ্তানি বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করতে চাইছে। ১০ হাজার টনের বিশাল মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত এই খালটিকে চীনের গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় 'নদী থেকে সমুদ্র' সংযোগকারী খাল প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নাননিং-এ অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম 'চীন-আসিয়ান এক্সপো' (China-ASEAN Expo) চলাকালেই এই খালের উদ্বোধন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'সেরা চলচ্চিত্রের' পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের সিনেমা 'মানুষের বাগান'। উৎসবের সমাপনী দিন এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সিনেমার পরিচালক ও পুরো টিমের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার প্রীতি রহমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পক্ষে প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর এই আন্তর্জাতিক অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিনেমার পরিচালক নুরুল আলম আতিক বলেন, যে কোনো স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে আনন্দের। বেশ আগে কাজটি করা। সবাই তাঁকে দারুণ সহায়তা করেছিলেন। সিনেমাটি শিগগিরই দেশের দর্শকরা দেখতে পারবেন। একগুচ্ছ অভিনয়শিল্পী নিয়ে আতিক সিনেমাটি নির্মাণ ও সম্পাদনা শেষ করেন ২০১৯ সালের শেষের দিকে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, মাহমুদ আলম, প্রসূন আজাদ, দিপান্বিতা মার্টিন, ইকবাল আহমেদ, জয়রাজসহ অনেকে। 'মানুষের বাগান' সিনেমায় মানুষের সম্পর্কের গভীরতা এবং জীবনের জটিলতার দিক তুলে ধরেছেন নির্মাতা। চিত্রনাট্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাঁচটি গল্প নিজস্ব দর্শনে তৈরি করেছেন তিনি। সিনেমায় 'মানুষের বাগান' শিরোনামের একটি গান রয়েছে, যা করেছে চিরকুট ব্যান্ড। গানটির গীতিকার নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি চিরকুটের 'যাদুর শহর' গানটির কথাও লিখেছিলেন। দুই বছর আগে আতিকের 'পেয়ারার সুবাস' সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল, সেটিও নির্মাণের আট বছর পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেন তিনি। এর আগে আতিক নির্মাণ করেছেন 'লাল মোরগের জুটি', 'ডুব সাঁতার', 'কিত্তনখোলা' সহ বেশ কিছু সিনেমা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় কালশির মুখ সীমান্ত এলাকার 'নো ম্যানস ল্যান্ড'-এ বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমা চেয়ে খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে শুক্রবার বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। স্থানীয় বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিএসএফ প্রায়শই নিষিদ্ধ সীমান্ত বিন্দুতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু বিজিবি টহল দলের দ্রুত ও কঠোর প্রতিবাদের মুখে প্রতিবারই খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের পক্ষে একতরফাভাবে সীমান্ত এলাকার 'জিরো লাইন' বা 'নো ম্যানস ল্যান্ড' স্পর্শ করে বা অতিক্রম করে খুঁটি, বেড়া বা স্তম্ভ স্থাপন করা অবৈধ। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণের আগে সীমান্ত ভাগাভাগি করা সব দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করতে হয়। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিএসএফের একটি দল নিয়ম লঙ্ঘন করে কালশির মুখ সীমান্ত এলাকায় খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ও বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়ন এই লঙ্ঘন লক্ষ্য করে, যার ফলে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেন। বিজিবি সদস্যরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবিলম্বে খুঁটি সরিয়ে নিতে বিএসএফের সহকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত খুঁটি সরিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যাহার হয়। ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে।
উগান্ডার কৃষক মুসা হাসাহিয়া কাসেরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত 'বিশ্বের সবচেয়ে ফারটাইল পুরুষ' হিসেবে। দাবি করা হচ্ছে, তাঁর ১২ জন স্ত্রী, ১০২ সন্তান এবং ৫৭৮-র বেশি নাতি-নাতনি রয়েছে। যেন তাঁর পরিবারের সদস্য দিয়েই গড়ে উঠেছে এক গ্রাম। বিশাল এই পরিবার নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতির কাছেই সন্তান নেওয়া সহজ বিষয় নয়। কর্মব্যস্ততা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা বন্ধ্যাত্ব বিভিন্ন কারণে পরিবার পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। ঠিক এমন এক সময়ে আফ্রিকার একটি গ্রামের সাধারণ কৃষককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কারণ তাঁর পরিবারের আকার যেন ছোটখাটো একটি গ্রামের সমান। মুসা হাসাহিয়ার বয়স প্রায় ৬৮ বছর। তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার একজন কৃষক। সাধারণ জীবনযাপন করলেও তাঁর পরিবার এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের ভাষায়, তাঁর বাড়িতে সবসময়ই উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা এত বেশি যে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খেতে পারে না। মুসা জানিয়েছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম তাঁর মনে থাকলেও মাঝের অনেক সন্তানের নাম তিনি ভুলে যান। তাই তিনি একটি পুরোনো নোটবুকে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রাখেন। কীভাবে এত বড় হলো পরিবার? মুসার দাবি, তিনি বহু বছর ধরে পরিবার বড় করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রীদের অনেককেই অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। আফ্রিকার অনেক গ্রামীণ সমাজে আগে বড় পরিবারকে শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কৃষিকাজে বেশি মানুষের অংশগ্রহণও বড় পরিবারের অন্যতম কারণ ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশক আগে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সন্তান নেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় সেই প্রবণতা অনেক কমেছে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উগান্ডাসহ সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো জন্মহার তুলনামূলক বেশি। তবে ১০২ সন্তানের মতো ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল। পরিবার পরিচালনার হিমশিম এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন মুসা। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকাজ করেই পুরো পরিবার চলে। পরিবারের সদস্যরাও মাঠে কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি এখন আর সন্তান চান না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। মুসার মতে, আগে বিষয়টা সহজ মনে হলেও এখন পরিবার অনেক বড় হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া মুসার গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করছেন, কেউ আবার রসিকতা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই মানুষ একাই একটা গ্রাম গড়ে ফেলতে পারেন! আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এখন একটা সন্তান বড় করতেই মানুষ হিমশিম খায়, আর উনি ১০২ সন্তান বড় করেছেন! অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে প্রতিটি সন্তানের যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুসার স্ত্রী সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে তাঁর ১২ জন স্ত্রী রয়েছে, আবার অনেক ভাইরাল ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে আটজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ সাম্প্রতিক আলোচনায় ১২ স্ত্রী ও ১০২ সন্তানের তথ্যই বেশি প্রচারিত হচ্ছে। জনসংখ্যাবিদদের মতে, আধুনিক সময়ে বড় পরিবার শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ, একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বড় ব্যায়ের প্রয়োজন হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এখনো পরিবারকে শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর সমাজে বেশি সন্তান মানে বেশি কর্মক্ষম মানুষ। মুসা হাসাহিয়া কাসেরার গল্প নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো। তবে এটি শুধু বড় পরিবারের গল্প নয়, বরং আফ্রিকার গ্রামীণ সমাজ, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য ও সামাজিক বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ছোট পরিবার ও পরিকল্পিত জীবনের দিকে এগোচ্ছে, তখন উগান্ডার এই কৃষকের পরিবার যেন অন্য এক বাস্তবতার গল্প শোনাচ্ছে।
আকাশপথে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধবিমান, স্টিলথ ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় আধুনিক ও বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ইরান গত কয়েক দশকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও কার্যকর ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো "খোরদাদ-৩"। ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর অ্যারোস্পেস ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদ আমির আলী হাজিজাদেহর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণে ইরানের হাতে থাকা সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। রা'দ থেকে খোরদাদ-৩ "খোরদাদ-৩" ব্যবস্থার সূচনা হয় "রা'দ" আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো রা'দ ব্যবস্থার কথা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এটি ৫০ কিলোমিটার পাল্লা এবং ২৭ কিলোমিটার উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার সামনে প্রদর্শিত হয় এর আরও উন্নত সংস্করণ "খোরদাদ-৩"। মাঝারি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রাশিয়ার বুক-এম২ই সিস্টেমের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এর নকশা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় উন্নয়নের ফল। উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধক্ষমতা খোরদাদ-৩ ব্যবস্থার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ফেজড অ্যারে রাডার, যাতে প্রায় ১,৭০০টি উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। এই রাডার একই সঙ্গে চারটি পৃথক লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও আটটি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম। প্রথম দিকের সংস্করণে এর পাল্লা ছিল ৫০ কিলোমিটার। তবে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে এবং সর্বশেষ সংস্করণে তা ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। এই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের গতির তিন থেকে চার গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। এর লেজারভিত্তিক প্রক্সিমিটি ফিউজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুর নিকটে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম, যা আকাশযুদ্ধে এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তোলে। "গুলি করে সরে যাও" কৌশল খোরদাদ-৩'র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ গতিশীলতা। পুরো সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দ্রুত মোতায়েন, আক্রমণ এবং অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। সামরিক ভাষায় একে বলা হয় "Shoot and Scoot" কৌশল বা হামলা করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করার কৌশল। এই কৌশলে প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে অবস্থান নেয় এবং সুযোগমতো শত্রুর উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। ফলে শত্রুপক্ষের জন্য সিস্টেমটির অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সমুদ্রপথেও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা খোরদাদ-৩ শুধু স্থলভিত্তিক নয়, নৌযানেও স্থাপনযোগ্য। এর ছোট ও সমন্বিত নকশা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌ ইউনিটকে সমুদ্রপথে আরও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সুবিধা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হলে এই ব্যবস্থা উপকূল থেকে বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করতে সক্ষম। এর ফলে সমুদ্রভিত্তিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা ২০১৯ সালের ২০ জুন হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি "ট্রাইটন" ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে সোম খোরদাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এই ঘটনাকে ইরানের দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির একটি বড় সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয় যে আধুনিক ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ফুটবলে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। অভিজ্ঞ জার্মান-মার্কিন কোচ থমাস ডুলি জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (BFF) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা দেয়। ৬৫ বছর বয়সী থমাস ডুলির রয়েছে সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ফুটবল অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেন। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তিনি দলের অধিনায়কত্বও করেন। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলেও তার ছিল সফল ক্যারিয়ার। কোচিংয়ে এসে তিনি কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কিংবদন্তি কোচ ইউর্গেন ক্লিন্সমান–এর সঙ্গে। পরে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিলিপাইন ও গায়ানা দলের, যেখানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও অর্জন করেন। বিশেষ করে তার অধীনে ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়—যা দেশের ফুটবলে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন বড় প্রত্যাশা ঘিরে নতুন যাত্রা শুরু করছেন ডুলি। দলে রয়েছেন ইউরোপে খেলা তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী এবং অধিনায়ক হামজা চৌধুরী। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়াই তার মূল লক্ষ্য। এর আগে বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তার বিদায়ের পর থেকেই নতুন কোচ খোঁজ চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দায়িত্ব নিলেন থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখন আশাবাদী—ডুলির অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় দেশের ফুটবল নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ নতুন কোচের দিকেই—তিনি কি পারবেন বাংলাদেশের ফুটবলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে?
দুই পা হারানোর পরও অদম্য সাহস আর দৃঢ় মনোবল দিয়ে ইতিহাস গড়লেন রুস্তাম নাবিয়েভ নামের এক রুশ পর্বতারোহী। কৃত্রিম পা ব্যবহার ছাড়াই কেবল দুই হাতের সাহায্যে তিনি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন। এর মাধ্যমে পা-বিহীন ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের প্রথম এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শুক্রবার (২২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দুই পা হারানো সাবেক রুশ প্যারাট্রুপার নাবিয়েভ নেপালে চলমান বসন্তকালীন অভিযানের সময় বুধবার (২০ মে) বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছান। ঐতিহাসিক এই অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, যারা ভেবেছিল পতনের পর জীবন শেষ, এটি তাদের জন্য। রুস্তাম নাবিয়েভ, এভারেস্ট ২০২৬। নাবিয়েভ জানান, বুধবার সকালে তিনি শৃঙ্গে পৌঁছেছেন। তার এ অর্জনকে তিনি সারা বিশ্বের অনুসারী ও সমর্থকদের উৎসর্গ করেছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ২০ মে নেপালের সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে, পর্বতারোহণের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমি, রুস্তাম নাবিয়েভ, শুধু আমার দুই হাতের সাহায্যে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছি। আমি এই আরোহণ উৎসর্গ করছি তাদের সবাইকে, যারা আমাকে দেখছে। যতক্ষণ আপনার মধ্যে জীবন আছে, লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত লড়ুন। কারণ এর মূল্য আছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের মাঠ সমন্বয়কারী খিম লাল গৌতম আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে নাবিয়েভের এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নাবিয়েভ সফলভাবে এভারেস্টে উঠেছেন। এখন তিনি বেস ক্যাম্পে ফিরে আসছেন। ২০১৫ সালে একটি সামরিক ব্যারাক ভবন ধসে নাবিয়েভ তার দুই পা হারান। তবে সেই দুর্ঘটনায় ভেঙে না পড়ে তিনি নিজের পুনরুদ্ধারের যাত্রাকে পর্বতারোহণ ও বহিরাঙ্গণ অভিযানের অনুপ্রেরণায় পরিণত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নাবিয়েভের অসাধারণ সাহস, ধৈর্য ও অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, অভিনন্দন! এক মুহূর্তের জন্যও সন্দেহ করিনি।” আরেকজন বলেন, “আমি এখানে বসে কাঁদছি। পুরো মাসজুড়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। আপনি সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। এখন নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আপনি পেরেছেন জেনে আমরা খুবই আনন্দিত! এই অসাধারণ জয়ের পর সুস্থভাবে ফিরে আসুন। আপনার এই সাফল্য আমাদের সবার মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। অসম্ভব বলে কিছু নেই। মানুষের ভেতরের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তার ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে যান। তখন পেছন দিক কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় যুবক আহত হয়। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতারা বিক্ষোভ করেন। তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে।’ তিনি লেখেন, ‘প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়। এ সময় হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।’ ঘটনার পর থানায় অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি এনসিপির এ নেতা লেখেন, ‘মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘ ১০ বছর পর বড় ধরনের অগ্রগতি ও নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার পর সব আলামত অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা এবং দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটিত না হওয়ায়, ঘাতকদের শনাক্তে এখন একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষা। স্পর্শকাতর এই মামলাটির তদন্ত দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকার পর এবং ৮১ বার তারিখ পেছানোর পর, সম্প্রতি তদন্তে নাটকীয় গতি এসেছে। গত ৬ এপ্রিল মামলার ষষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা আদালতে একটি বিশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পূর্বে উদ্ধারকৃত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তিন সাবেক সেনা সদস্য- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সিপাহি শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার অনুমতি চাওয়া হয়। এরমধ্য দিয়ে তনু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট সন্দেহভাজনদের নাম সামনে এলো। এই অগ্রগতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তনু হত্যাকাণ্ডের ১০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো। বর্তমানে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। এই গ্রেপ্তারের পর তনুর পরিবার ও দেশবাসীর মনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পাওয়ার আশা নতুন করে জেগে উঠেছে। ৪ অজ্ঞাতনামাকে ঘিরে তদন্তের আবর্তন ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি জানিয়েছিল, তনুর পোশাক থেকে নেওয়া আলামত পরীক্ষা করে ৩ অজ্ঞাত পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে। তবে অতি সম্প্রতি পিবিআই-এর বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ল্যাব থেকে নতুন তথ্য পেয়েছেন যে, ৩ পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও তনুর পোশাকে আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের উপস্থিতি মিলেছে। ফলে সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা ঘাতকের সংখ্যা এখন ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ৪ জনের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গেই সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষার তালিকায় থাকা অন্য দুই সন্দেহভাজন বর্তমানে পলাতক। তাদের মধ্যে সাবেক সিপাহি শাহিনুল আলম (ঘটনার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক ছিলেন এবং ঘটনার পরপরই চাকরি থেকে অবসর নেন) বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলা সচল হওয়ার খবরে দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালিয়েছেন। পিবিআই-এর বিশ্বস্ত সূত্র তার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনই মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ (যিনি ঘটনার সময় ১২ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন এবং তনু তার দুই মেয়েকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন) বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। তিনি দেশত্যাগ না করলেও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। পিবিআই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। তনুর বাবা-মা শুরু থেকেই এই সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে (শাহিনুল আলম) জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তনু হত্যা মামলার স্থবিরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আইনমন্ত্রীর কাছে মামলার অগ্রগতি জানতে চান। এর পরপরই পিবিআই সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর আদালতের অনুমতি নেয় এবং হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে আদালতে শনাক্ত করেছেন। ঘটনার সময় হাফিজুর রহমান ৫ সিগন্যাল ইউনিটে কর্মরত ছিলেন এবং প্রায়ই সেনানিবাসের ভেতরের অনুষ্ঠানে তনুকে জিপে করে নিয়ে যেতেন। তনু সেনানিবাসের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতেন ও উপস্থাপনা করতেন। ইয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর দুদিন আগে (১৮ মার্চ, ২০১৬) সেনা কল্যাণ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের বন্ধুদের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে পিকনিকে গিয়েছিলেন তনু। এ নিয়ে সেনানিবাসের ভেতর তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা তনু তার বাবাকে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন। সেনানিবাসের একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী হওয়ায় ইয়ার হোসেন তখন মুখ খোলার সাহস পাননি। আলামত ধ্বংস ও ময়নাতদন্ত নিয়ে বিতর্ক ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি ঝোপ থেকে নাট্যকর্মী ও ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল অনুযায়ী, তনুর লম্বা চুল কেটে ফেলা হয়েছিল এবং মাথার পেছনে থেঁতলানোসহ নাক ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত ও আলামত সংগ্রহ নিয়ে চরম জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা ‘ফরমায়েশি’ প্রতিবেদন দিয়ে কানের ক্ষতকে পোকার কামড় বলে উল্লেখ করেন। ৩০ মার্চ লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করেন কুমেক ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ (কেপি) সাহার নেতৃত্বাধীন বোর্ড। তারা লাশ পচে যাওয়ার অজুহাতে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করেননি। উল্টো তৎকালীন র্যাবের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল থেকে মাটি সরিয়ে হেলিকপ্টারে করে আলামত নষ্ট করার এবং কুমেকের এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের আলামত গোপন করার অভিযোগ তোলেন তনুর পরিবার ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ পরীক্ষাতেই তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়। বিগত ১০ বছরে তনু হত্যা মামলায় তদন্তের দায়িত্ব মোট ৫ বার হাতবদল হয়েছে এবং ৬ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন। প্রথমে কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম, এরপর ডিবির ওসি এ কে এম মনজুর আলম, সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং এএসপি জালাল উদ্দিন আহম্মদ মামলাটি তদন্ত করেন। বর্তমানে পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার পরিচালনা করছেন। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, নতুন করে একজনের রক্তের সন্ধান পাওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও সুনির্দিষ্ট হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মামলাটি তদারকি করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার প্রক্রিয়া এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারের অভিযান একসঙ্গেই চালানো হচ্ছে।
আসন্ন পবিত্র হজকে সামনে রেখে ভিজিট ভিসায় হজ পালনের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির জননিরাপত্তা অধিদপ্তর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রবাসীদের সাবধান করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের ভিজিট ভিসা ব্যবহার করে হজ পালন করা যাবে না। পর্যটন, পারিবারিক, ব্যক্তিগত কিংবা ট্রানজিট—সব ধরনের ভিজিট ভিসাধারীদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। হজ পালনের জন্য অবশ্যই নির্ধারিত হজ ভিসা অথবা বৈধ হজ পারমিট থাকতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বেআইনিভাবে হজ করানোর প্রলোভন দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতারক চক্র সম্পর্কে তথ্য দিতে দেশটির নাগরিক ও প্রবাসীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের জন্য ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৌদি আরব এবার আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ইস্যুতে আলোচনা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক চা-বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তবে আলোচনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গত ২০ মে দুই দিনের সরকারি সফরে চীন সফরে যান পুতিন। সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা বর্তমানে ৬০ শতাংশ। এটি আরও বৃদ্ধি পেলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। ইরানের এই ইউরেনিয়াম মজুতকে কেন্দ্র করে গত বছর দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইউরেনিয়াম ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির এক সপ্তাহ পর ইরানকে ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ইরান এতে সম্মতি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। সূত্র: এএফপি
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম এমপি। শুক্রবার কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসছে। অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার ও আহত ৩৩ জনের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৫৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এসময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী সড়কে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বগুড়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের বেতার শাখার সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে পুলিশ লাইন্সের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা থেকে শুক্রবার সকাল আটটার মধ্যে যে কোনো সময়ে গলায় রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত আরিফুল ইসলামের (৩৮) নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পদ্মবিল ঘড়িয়া এলাকার মো. আশরাফের ছেলে। তিনি স্ত্রী রোমা বেগম ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার বিপি নম্বর ৮৮০৭১২৭৪৮৫। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে বেতার শাখায় কর্মরত এএসআই আরিফুল ইসলাম গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে লাশটি উদ্ধার করে নামানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেতার শাখার দোতলার একটি কক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন আরিফুল ইসলাম। ওই কক্ষে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকেও তাকে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার সকালে তাকে কক্ষে না পেয়ে সহকর্মীরা প্রথমে ধারণা করেন তিনি নিচতলায় দায়িত্বে আছেন। পুলিশ জানায়, পরে সকাল ১০টার পরও তার খোঁজ না মেলায় পাশের একটি ওয়ার্কশপ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান সহকর্মীরা। সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ জানান, নিহতের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কোনো পারিবারিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণসংক্রান্ত চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি। বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) আতোয়ার রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এএসআই আরিফুলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
ইনস্টাগ্রাম নিয়ে একটি মন্তব্য করে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। এক্সে তার এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি শুরু হয় যখন মাস্ক একটি ভাইরাল থ্রেডে মন্তব্য করেন। সেই থ্রেডে পুরুষ ও নারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে আলাদাভাবে আচরণ করেন তা নিয়ে আলোচনা ছিল। মূল পোস্টে ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন টুলস নিয়ে রসিকতা ছিল। এর জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘ইনস্টাগ্রাম মেয়েদের জন্য।’ এই ছোট্ট মন্তব্যটিই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর আরেকটি পৃথক জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘মাঝেমাঝে পরিণত বয়সের পুরুষরা আমাকে তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পাঠায় আর আমি ভাবি, তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করছো নাকি?’ এই দ্বিতীয় মন্তব্যটি সমালোচনাকে আরও তীব্র করে তোলে। অনেকে বলেছেন এটি লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ এবং সমাজে বিদ্যমান কঠোর লিঙ্গ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও বিভক্ত। এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ হয়ে এই ধরনের কথা বলো কীভাবে?’ আরেকজন বলেন, ‘মাস্কের মতো বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এই ধরনের কথা এলে এটি আর সামান্য ইন্টারনেট মন্তব্য থাকে না, রাজনৈতিক বিষয় হয়ে ওঠে।’ একজন তথ্যভিত্তিক পাল্টা জবাব দেন এই বলে যে ইনস্টাগ্রামে নারী ও পুরুষ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সমান। তবে সবাই সমালোচনা করেননি। কেউ কেউ দুটি প্ল্যাটফর্মের তুলনা নিয়ে রসিকতা করেছেন। একজন লেখেন, ‘এক্স হলো সেই জায়গা যেখানে একটাই টাইপোতে যুদ্ধ, কোম্পানি, ষড়যন্ত্র আর গ্রুপচ্যাট শুরু হয়ে যায়। ইনস্টাগ্রাম হলো সেখানে যেখানে ৩৭টি ফিল্টার লাগিয়ে বলা হয় — আমি বাইরে আছি।’ বিতর্কটি এখন শুধু ইনস্টাগ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। স্ক্রিনশট ও প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক প্ল্যাটফর্মে। সেলিব্রিটিদের প্রভাব, অনলাইনে লিঙ্গবৈষম্য আর ভাইরাল বিতর্কের ক্রমবর্ধমান শক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফুটবল ইতিহাসে ১০০০ গোলের দেখা পাবেন, এই মাইলফলকটি এখন আর দূরের স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবের দোরগোড়ায় রয়েছে। এই বিরল কীর্তি গড়ার বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মিস্টার সি আর সেভেন। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান এই পর্তুগিজ তারকা। দামাকের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তিনি দুটি গোল করেন, যার মধ্যে একটি ছিল দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক। এই গোলের পর তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৩-এ। ফলে ইতিহাসের ১০০০ গোল পূরণ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২৭টি গোল। ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর গোল করার ধার অব্যাহত রয়েছে। চলতি মৌসুমে আল নাসরের হয়ে ৩৭ ম্যাচে তিনি ২৯টি গোল করেছেন এবং ৫টি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার নামের পাশে। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে এবার আল নাসর সৌদি প্রো লিগের শিরোপাও জয় করেছে। ক্লাব ক্যারিয়ারে স্পোর্টিং সিপি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও আল নাসরের হয়ে তিনি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। জাতীয় দল পর্তুগালের হয়েও তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অবস্থান করছেন। এখন ফুটবলপ্রেমী এবং রোনালদো ভক্তদের একটাই অপেক্ষা—রোনালদো কবে ছুঁবেন ঐতিহাসিক ১০০০ গোলের মাইলফলক?
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর স্থায়ী টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান ও ওমান। এর মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এই নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন-নেজাদ বুধবার (২০ মে) প্যারিসে ব্লু মবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নৌ চলাচল সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ইরান ও ওমানকে সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে খরচ হবে, তাই যারা এই পথ ব্যবহার করে সুবিধা নিতে চায়, তাদেরও এর অংশ বহন করতে হবে।’ এ ছাড়াও পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হবে বলেও জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই পথ খোলা ও মুক্ত থাকুক, আমরা কোনো টোল চাই না।‘ অন্যদিকে, এ বিষয়ে ওমান সরকার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। এর জেরে জ্বালানিসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর এলাকায় নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যও এই রুটে পরিবাহিত হয়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
গরমকালে অনেকেরই চুল পড়া, শুষ্কতা এবং দুর্বল চুলের সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দামি হেয়ার প্রোডাক্ট নয়—আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। স্ট্রেইটনার, কার্লার এবং হেয়ার ড্রায়ারের মতো হিট স্টাইলিং টুলস বেশি ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলোর ব্যবহার সীমিত করা এবং ব্যবহারের আগে হিট প্রোটেক্টেন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন চুল ধোয়া চুলের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে, যা চুলের আর্দ্রতা ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার চুল ধোয়া ভালো, তবে এটি চুলের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। কিছু শক্তিশালী বা হার্শ শ্যাম্পু চুলকে শুষ্ক ও প্রাণহীন করে তুলতে পারে। তাই মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো, যা স্কাল্প পরিষ্কার করলেও চুলের ক্ষতি করে না। খুব টাইট পনিটেইল বা বান করলে চুলের গোড়ায়চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে চুল পড়া বাড়াতে পারে। ঢিলেঢালা হেয়ারস্টাইল চুলের জন্য বেশি স্বাস্থ্যকর। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার না করলে চুলের আর্দ্রতা কমে যায় এবং চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। কন্ডিশনার চুলকে নরম করে। ভেজা চুল জোরে তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকালে চুল ভেঙে যেতে পারে এবং ফ্রিজি হয়ে যায়। তাই আলতোভাবে চুল শুকানো বা মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করা ভালো। ভেজা চুল খুবই নাজুক থাকে, তাই এ সময় চুল আস্তে আস্তে আঁচড়ানো উচিত। মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করে নিচের দিক থেকে চুল আঁচড়ানো ক্ষতি কমায়। খুব গরম পানি দিয়ে গোসল করলে চুল ও স্কাল্পের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন ফাস্ট ফুড, স্ন্যাকস এবং সফট ড্রিংকস বেশি খেলে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। প্রোটিন, ফল এবং সবজি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য চুলের জন্য উপকারী। নারিকেল, রোজমেরি এবং আর্গান অয়েলের মতো প্রাকৃতিক তেল স্কাল্প পুষ্টি দিতে সাহায্য করতে পারে। হালকা মাথা ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুল শুধু দামি প্রোডাক্ট ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। সঠিক দৈনন্দিন অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর রুটিন চুল পড়া কমাতে এবং চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সূত্র- সামা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ধর্ষণের মতো ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। এ ছাড়া মাদকাসক্তির বিস্তার বিকৃত অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে শোকাহত পুরো দেশ। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই নৃশংস ঘটনার বিচার দাবি করছেন। শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন ‘রামিসার মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন মা হিসেবে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। এমন নৃশংসতার বিচার চাই আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়। রামিসা তুই শান্তিতে থাক মা।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্ব মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাপান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে। আইবিসিএতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবলিশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) হলো একটি বৈশ্বিক জোট, যা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে টাইগার, লায়ন, লেপার্ড, স্নো লেপার্ড, পিউমা, জাগুয়ার এবং চিতা এই সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত ২৪টি দেশ এ জোটের সদস্য। আইবিসিএ’র মূল উদ্দেশ হলো সদস্যভুক্ত দেশসমূহের বিগ ক্যাটের আবাসস্থল সুরক্ষা, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হোম কান্ট্রি হওয়ায় সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিবেচনায় এ জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ অভিবাসনে জিসিএম-ন্যাপ অনুমোদন ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খসড়া জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। বিশ্বে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি রাষ্ট্র জিসিএমের পক্ষভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং জিসিএম ধারণার প্রবক্তাও বাংলাদেশ। এ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে জিসিএম চ্যাম্পিয়ন কান্ট্রি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। জিসিএমের অবজেকটিভ এবং অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে আইওএমের সহযোগিতায় ২০২৬-৩০ মেয়াদের জন্য খসড়া ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান (জিসিএম-ন্যাপ) প্রণয়ন করা হয়, যা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ আমলে দায়িত্ব পালন করা বিতর্কিত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া সেই পদক্ষেপেই অটল বর্তমানে সরকার। এরই অংশ হিসেবে গত ৩ মে পুলিশের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন ডিআইজি। এর আগে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আরো ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্বরত ও সংযুক্ত ছিলেন। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো নিয়ে পুলিশে আলোচনা চলছে; আর কোনো কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে। জানা যায়, যেসব পুলিশ কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারা এখন আতঙ্কে আছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ের আরো ৫৩ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে। এর মধ্যে ১৩ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩১ জন এসপি এবং ৯ জন এএসপি রয়েছেন। এসব এসপির মধ্যে আওয়ামী সরকারের ডামি ও রাতের ভোটে দায়িত্ব পালন করেন অনেকে। এছাড়া বিগত সময়ে এইসব পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। তারা বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন। সূত্র জানায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চাকরির বয়স থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর দিয়ে থাকে সরকার। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার ওই কর্মচারীকে ‘জনস্বার্থে’ যেকোনো সময় অবসরে পাঠাতে পারে। এ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর প্রয়োজন নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অতিরিক্ত আইজিপি জানান, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী গত দেড় বছরে কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। আরো একাধিক কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা জানান, বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন হলে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে যাবে। যাচাই-বাছাই করে পদায়ন ও পদোন্নতি দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগার হয়ে অপকর্ম করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পুলিশের মধ্যে দলীয়করণ করলে পুরো বাহিনীর বদনাম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনে অতিউৎসাহী ছিলেন। তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অযাচিত দমনপীড়ন চালিয়েছেন। এদের কিছু কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পদায়ন হওয়ায় খোদ পুলিশের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সূত্র জানায়, মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ৫ মে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা আছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন । ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, হামলা ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী সরকারের পতন হলে মাহবুবের কর্মকাণ্ড সামনে আসে। দুটি হত্যা মামলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জ থানায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। এ ঘটনায় নিহত যুবদল নেতার বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি মাহবুব আলম খান। এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফিরোজ আহমেদ নামে আরো একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় অপর হত্যা মামলাটি করেন। মাহবুব ওই মামলায় ৩ নম্বর আসামি। জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ভোলা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান হোসেনসহ ৩৬ পুলিশ সদস্যের নামে হত্যা মামলা হয়। সেই আরমানকে সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে আর সেখানে পদায়ন করা হয়নি। সূত্র জানায়, বিতর্কিত এসব কর্মকর্তার পদায়নে পুলিশ প্রশাসনে ঝড় ওঠে। এসব কর্মকর্তা যাতে আবার বাহিনীটির গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন না পান, এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো প্রায় ৫৩ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাবে বলে জানা গেছে। পুলিশের ১১৪ কর্মকর্তা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বর্তমানে সংযুক্ত আছেন। এদের বড় অংশকেই অবসরে পাঠানোর চিন্তা রয়েছে সরকারের। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার পুলিশে পেশাদার ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ পেশাদার কর্মকর্তা আগে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকের আওয়ামী আমলে পদোন্নতি না পেয়ে মনোবল ভেঙে গেছে। প্রায় সোয়া দুই মাস আগে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী পদত্যাগ করার পর মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা সংকটের কারণে এ বিলম্ব হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, এ সংকট শিগগির কেটে যাবে।
তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মানুষের হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘নীরব ক্ষতি’ সৃষ্টি করে। এই চরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকলে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। তীব্র গরমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা নীরব ঘাতকের রূপ ধারণ করে। আগে গ্রীষ্ম অবকাশ বলে টানা এক মাস ছুটি থাকত স্কুল। গরমের দাপট বাড়লে সেই ছুটির মেয়াদ আরও সপ্তাহখানেক চলত। কিন্তু এখন নিয়ম পাল্টে গেছে। গত কয়েক দশক ধরে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ নির্দিষ্ট কোনো মাসে আবদ্ধ নেই। দিনের পর দিন গরম যেভাবে তার রেকর্ড গড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক জীবনঝুঁকিতে ফেলবে ফলে হিটস্ট্রোক দেখা দেবে। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন যে পরিমাণ গরম সহ্য করতে করতে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। শরীর সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। একটানা এ পরিমাণ গরমের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের হৃদযন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বয়সভেদে ঝুঁকির ধরন আলাদা। মানবদেহের নিজস্ব কিছু মেকানিজম রয়েছে। গরম বাড়লে সে নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে এবং রক্ত সঞ্চালনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং চরম অবসাদ তৈরি হয়। সে জন্য প্রবল গরমের মধ্যে শুধু পানি খেলে শরীর পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস, ডাবের পানি, লবণ-চিনির পানি, ঘোল কিংবা বাটারমিল্ক এবং পুদিনাপাতা বা লেবু ইনফিউজড ওয়াটার নিয়মিত খেতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে শুধু ফ্যান চালিয়ে লাভ হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরের ভেন্টিলেশন কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়। শরীর অতিরিক্ত গরম মনে হলে ঘাড়, হাত-পা এবং বুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্পঞ্জ করা যেতে পারে। আর একটানা রোদে ঘোরাঘুরি বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে শরীরে বারবার ডিহাইড্রেশন কিংবা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্তে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পেশি নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের ওপর চাপ পড়ে এবং রক্তে বিপজ্জনক ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সও দেখা দেয়। তীব্র গরমের মধ্যে থাকা শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন কিডনিতে পাথর এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীর রক্তপ্রবাহকে ত্বকের দিকে পাঠাতে চেষ্টা করে। তখন হার্টকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাম্প করতে হয়। সে কারণে হৃদস্পন্দনের গতি বা হার্ট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। মাসের পর মাস এ অবস্থা চলতে থাকলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বা সংবহনতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আবার তীব্র গরমের মধ্যেও যদি কোনো ব্যক্তির ঘাম না হয়, তবে বুঝতে হবে— শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে এবং ওই ব্যক্তি হিটস্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। মানুষের শরীর রাতের ঘুমের সময় স্বাভাবিক নিয়মেই নিজেকে ঠান্ডা করে এবং ব্রেন ও হরমোন নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত গরম হয় এবং তারা প্রচণ্ড ঘামে। ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, খাওয়ার অনিচ্ছা ও অলসতা। নবজাতকদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া বা শরীর অতিরিক্ত গরম কিন্তু ত্বক শুকনো থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। তাই ৪৫ ডিগ্রি গরমে প্রবীণদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিদমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ডিমেনশিয়া বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত প্রবীণরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথাবার্তা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হ্যালুসিনেশনও হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।