ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মুহূর্তেই এক অপ্রত্যাশিত ও মজার ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিক মার্সেলো বেনেদেত্তো। মেক্সিকো সিটি থেকে সরাসরি সম্প্রচারের সময় হঠাৎই বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরাকে দেখে লাইভ রিপোর্টিং ছেড়ে তার সঙ্গে ছবি তুলতে চলে যান তিনি। স্থানীয় সময় ১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি ঘটে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে। সেখানে আর্জেন্টাইন এই সাংবাদিক ডি-স্পোর্টসের হয়ে মাঠ থেকে সরাসরি রিপোর্ট করছিলেন। উদ্বোধনী ম্যাচের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছিল তখন। লাইভ সম্প্রচারের মাঝেই বেনেদেত্তো দেখতে পান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসা শাকিরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত আছেন। মুহূর্তেই তিনি নিজের কাজ ভুলে যান। মাইক্রোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি শাকিরাকে খুঁজতে যাচ্ছি।’ এরপরই লাইভ সম্প্রচার ছেড়ে শাকিরার দিকে এগিয়ে যান। ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। নিরাপত্তাকর্মী, সাংবাদিক ও আয়োজকদের ভিড় পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত শাকিরার কাছে পৌঁছে যান তিনি। পরে গায়িকার কাছে একটি ছবি তোলার অনুরোধ করেন। শাকিরা হাসিমুখে রাজি হন, ছবি তোলেন। কয়েক মিনিট পর নিজের কর্মস্থলে ফিরে এসে তোলা ছবিটি গর্বের সঙ্গে সহকর্মীদের দেখান বেনেদেত্তো। ঘটনাটি দেখে সহকর্মীদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, কয়েক বছর আগে এই সাংবাদিক ব্রিটিশ গায়িকা দুয়া লিপার সঙ্গেও ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার দর্শক তা দেখেন এবং নানা মন্তব্য করেন। অনেকেই লিখেছেন, ‘সুযোগ পেয়েছিলেন, হাতছাড়া করেননি,’ আমরাও হলে একই কাজ করতাম,’ ‘আপনি তো ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ জিতে গেছেন।’ উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি দুর্দান্ত লাইভ পারফরম্যান্স দিয়েছেন পপ তারকা শাকিরা। নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ গেয়ে মঞ্চ মাতান।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে, সংস্থাটির অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসময় দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দেশের সব বিভাগে আগামী এক সপ্তাহ ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে মাঠের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কোচিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এখন বিজ্ঞাপন জগতেও ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে তার। ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক শীর্ষ ব্র্যান্ড তাকে নিয়ে প্রচারণার আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই ইতালিয়ান কোচ। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাহমা, ভক্সওয়াগেন এবং অ্যামাজন, যারা ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের স্পন্সরও। সম্প্রতি তার একটি বিজ্ঞাপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা আনচেলত্তির পায়ের কাছে সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি একটি বল এসে পড়ে। সেটি তুলে নিয়ে তিনি একটি শিরোনাম পড়েন যেখানে লেখা ছিল, ‘ষষ্ঠ শিরোপায় বিশ্বাস করে ব্রাজিল’। মাত্র ১২ সেকেন্ডের এই ভিডিওই ইউটিউবে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। বিজ্ঞাপন জগতে আনচেলত্তির উপস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞাপন নির্বাহী বার্নার্দো পন্তেস বলেন, তার মতো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উচ্চমানের বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রচারণা মিলিয়ে আনচেলত্তিকে নিয়ে তৈরি কনটেন্ট ইতোমধ্যে ৮ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচ এখন ব্রাজিলে নতুন এক জনপ্রিয়তার অধ্যায় তৈরি করছেন। পারিশ্রমিকের দিক থেকেও তিনি অনেক এগিয়ে। সাবেক কোচ তিতের তুলনায় আনচেলত্তির বিজ্ঞাপনী চুক্তির মূল্য অনেক বেশি বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রচারণার জন্য তার চুক্তির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত পৌঁছেছে। ভক্সওয়াগেনের প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিতই ব্র্যান্ডটির গাড়ি ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে ব্রাহমার প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে কার্নিভাল কার্যক্রমেও অংশ নেন। বিশ্বকাপের আগে মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও আলোচনায় রয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
বাংলাদেশে একজন ভালো বেতনের চাকরিজীবী বছরে বেতন বাবদ ৬ লাখ টাকার মতো (৫০ হাজার মাসিক বেতন ধরে) ইনকাম করেন। সে হিসেবে রোনালদোর ৯০ মিনিটের সমান ইনকাম করতে বছরে প্রায় ৭৪৫ বছর লাগবে! এটিকে আয়ের পার্থক্য বলা ভুল হবে। এটি আসলে আস্ত একটি ‘টাইম মেশিন’! ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফুটবলার কেবল সৌদি আরবের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি থেকেই বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে যা প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা মতো (২৪,৫৯৭,৬২০,০০০)। ধরে নেওয়া যাক, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তিনি পুরো মৌসুমে গড়ে ৫৫টি ম্যাচ খেলেন। এবার তার বার্ষিক আয়কে এই ৫৫ দিয়ে ভাগ করলেই চোখ কপালে ওঠার মতো হিসাব বেরিয়ে আসবে— মাঠে খেলা প্রতিটি ম্যাচের জন্য তিনি পাচ্ছেন প্রায় ৪৪.৭২ কোটি (৪৪ কোটি ৭২ লাখ) টাকার মতো। অন্য কথায় বলতে গেলে, ৯০ মিনিটের একটি ফুটবল ম্যাচ আর সাথে সামান্য ইনজুরি টাইম— তাতেই রোনালদো যে টাকা আয় করেন, বাংলাদেশের অনেক বড় কোম্পানি পুরো বছরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাবদও এত টাকা বরাদ্দ রাখে না। এবার চোখ রাখা যাক তার মোট সম্পত্তির খতিয়ানে। ধারণা করা হয়, রোনালদোর নেট ওয়ার্থ বা মোট সম্পদের পরিমাণ এখন অনায়াসেই ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যদি আমরা একদম কম করেও ধরি, তবে এই অঙ্কটা অন্তত ১২০ কোটি ডলার। বর্তমান মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকায় মূল্য দাঁড়ায় প্রায় বাংলাদেশি সংখ্যায় এটি ১৪ হাজার ৬৪০ কোটি! দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাওয়া চড়া বেতন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বোনাস, ইমেজ রাইটস, স্পন্সরশিপ চুক্তি, নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশাল ফ্যানবেস— সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে তার এই অঢেল সম্পদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফলোয়ারের সংখ্যা তো বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এবার এই বিশাল অঙ্কের পাশে বাংলাদেশের ১ম গ্রেডের একজন সরকারি চাকরিজীবীকে দাঁড় করানো যাক। বর্তমান (২০১৫ সারের) প্রচলিত পে স্কেল অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার বেসিক বা মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রোনালদোর প্রতি ম্যাচের আয়: প্রায় ৪৪ কোটি টাকা বাংলাদেশের প্রথম গ্রেডের চাকরিজীবীর বার্ষিক মূল বেতন: ৯ লাখ ৩৬ হাজার রোনালদো মাত্র একটি ম্যাচে যা আয় করেন, সেই সমপরিমাণ টাকা আয় করতে ওই চাকরিজীবীর প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৭০ বছরের কঠোর পরিশ্রম! (৪৪০০০০০০০ ÷ ৯৩৬০০০= ৪৭০) অন্যভাবে বলতে গেলে, একজন মানুষ যদি উদারহস্তে টানা ৪০ বছরও চাকরি করেন, তবুও রোনালদোর পাহাড়সম সম্পদের সামনে তা বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না। আর রোনালদোর সমান সম্পদ বানাতে গেলে বছরে ৬ লাখ আয় করা প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের এক বছরের আয় লাগবে। এছাড়া রোনালদো ফুটবল মাঠে কাটানো প্রতি ঘণ্টার জন্য প্রকৃতপক্ষে প্রায় ২০ কোটি রুপি আয় করছেন। জমকালো লাইফস্টাইল, ট্রফির রাজত্ব আর ইনস্টাগ্রামের কোটি কোটি ফলোয়ার— সবকিছু যদি বাদও দেওয়া হয়, তবুও এই সাধারণ গাণিতিক হিসাবটাই আসল সত্য বলে দেয়। আধুনিক ফুটবলের একদম চূড়ায় বসে থাকা একজন মানুষের মাত্র ৯০ মিনিটের মূল্য, অন্য কারোর হাজার বছরের সকাল-সন্ধ্যা খাটুনির চেয়েও অনেক বেশি!
ম্যাচের আগে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেছিলেন, সাইল লারিনের কাছ থেকে দারুণ কিছু চাই—লারিন কথা রাখলেন। দারুণ এক ফ্লিকে বক্সের ভেতর থেকে বল জড়ান জালে। তাতেই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আসে সমতা। বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টও পায় কানাডা। টরেন্টো স্টেডিয়ামের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটির পরিসংখ্যান দেখলে যে কেউ কানাডাকে এগিয়ে রাখবে। র্যাংকিং, মাঠের দখল কিংবা গোলে শট—সব কিছুতে এগিয়েও ছিল। কিন্তু বসনিয়ার ইস্পাত কঠিন রক্ষণ সব সামলে দিয়েছে দারুণভাবে। ১-১ ব্যবধানে ড্র হওয়ার ম্যাচটিতে কানাডার একটি অভিশাপ ঘুচেছে। ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মোট ৬ ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হেরেছিল তারা। এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পেল পয়েন্টের দেখা। এই পয়েন্ট এসেছে সাইলের হাত ধরে। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। লাল রঙে সাজা ম্যাচের ২১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে গোল করেন জোভো লুকিচ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম গোল, বিশ্বকাপের প্রথম গোল, কানাডার বিপক্ষে প্রথম গোল—বাড়াবাড়ি উদযাপন হওয়াটা স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। লাল রঙে সাজা টরেন্টো স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ে ফেলেন ২৭ বর্ষী লুকিচ। সেই রেশ থাকে লম্বা সময়। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি বসনিয়া। ৭৯ মিনিটে কানাডার ত্রাতা হন বদলি নামা লারিনে। বক্সের ঠিক ভেতর থেকে নিকোলা ভাসিলজকে পরাস্ত করে ভলি শটে দলকে ফেরান সমতায়। খেলার শেষদিকে বেশকিছু সুযোগ আসলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দল।
গোড়ালির চোট বড্ড ভুগিয়েছে ক্রিস রিচার্ডসকে। এক মাসের মতো ছিলেন মাঠের বাইরে। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম একাদশে রয়েছেন এ তারকা সেন্টার ব্যাক। বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো তার প্রথম একাদশে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ম্যাট ফ্রিসকেও। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচের আগে রিচার্ডস নিজেকে পুরোপুরি ফিট বলে জানিয়েছেন। তাই তার ওপর বিশ্বাস রাখছেন পচেত্তিনো। বিশ্বকাপে শুভ সূচনার লক্ষ্যে জয় দিয়েই অভিযান শুরু করতে চায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের একাদশ ম্যাট ফ্রিস, সার্জিনিও ডেস্ট, ক্রিস রিচার্ডস, টাইলার অ্যাডামস, অ্যান্টনি রবিনসন, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, টিম রিয়াম (অধিনায়ক), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মালিক টিলম্যান ও ফোলারিন বালোগুন।
ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এরসিলিও লুজ দে ব্রিতো (ব্রিতো) ৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সিবিএফ সভাপতি সামির শাওদ বলেন, ‘ব্রিতো আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে আমাদের তৃতীয় বিশ্ব শিরোপা জয়ে তার অবদান আমরা চিরকাল স্মরণ করব। তার লড়াকু মানসিকতা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক।’ ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ব্রিতো মোট ৬১টি ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিতো ও পিয়াজ্জা। যেখানে পিয়াজ্জা তার কারিগরি দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন, সেখানে ব্রিতো পরিচিত ছিলেন তার শক্তিমত্তা ও শারীরিক সক্ষমতার জন্য। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ব্রাজিল শনিবার মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলকে খেলতে হবে সুপারস্টার নেইমার ছাড়াই। এমনকি পুরো গ্রুপপর্বের ম্যাচেও তিনি মাঠের বাইরে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে শুক্রবার (১২ জুন) আনচেলোত্তি বলেন, ‘সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহে সে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারবে।’ গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ১৯ জুন হাইতির এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। ক্যাফ ইনজুরির (পায়ের পেছনের পেশির চোট) প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি নেইমার। সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিনও দলের অনুশীলনে দেখা যায়নি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ট্রান্সফারের মালিক এই ফুটবলারকে। সান্তোসের এই স্ট্রাইকার চমক দেখিয়ে কোচ আনচেলোত্তির ঘোষিত দলে ফেরার ডাক পাওয়ার পরও পানামা ও মিসরের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেননি। ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আনচেলোত্তি বলেন, শুধু ফুটবলীয় সামর্থ্যের জন্য নয়, অভিজ্ঞতার কারণেও তিনি নেইমারকে দলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে থাকা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সে একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে।’ দলীয় সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নেইমারকে নিজের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং তাকে আবার মাঠে দেখার অপেক্ষায় আছি।’ অন্যদিকে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াবি বলেছেন, নেইমার খেলুক বা না খেলুক—তাদের প্রস্তুতিতে কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি বলেন, ‘নেইমারকে নিয়ে এবং নেইমারকে ছাড়া—দুই ধরনের ম্যাচের জন্যই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের জন্য কিছুই বদলাচ্ছে না।’ তবে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন নেইমারের বিপক্ষে খেলতে না পারায়। পিএসজির এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমি সবসময় সেরাদের বিপক্ষে খেলতে চাই। আর নেইমার অবশ্যই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং সেই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী সময়ে শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, তেহরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে তবেই ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহেও দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচকরা ‘একটি দারুণ সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন এবং খুব শিগগিরই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত সমঝোতার কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেগুলো সত্যের প্রতিফলন নয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা। চলমান আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। এই আলোচনা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করবে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এরপর ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে, যার মূল বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত এই ইউরেনিয়াম দেশটির ভেতরেই ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থনৈতিক বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো অর্থ আগাম দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে তারা ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল বড় ধরনের আলোচনার আগেই ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপও পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে। চুক্তির আওতায় ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং অঞ্চলের অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সমঝোতা পারস্পরিক আস্থা বা প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং ‘কার্যকর বাস্তবায়নের’ ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, ইরান যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান এবং মধ্যস্থতাকারী আরেক দেশ কাতারের পক্ষ থেকে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করা হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হতে এখনো কিছুটা পথ বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাসে এমন কয়েকটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেছে। তবে এবার পার্থক্য হলো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগের চেয়ে বেশি আশাবাদী এবং চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও তুলনামূলক বেশি খোলামেলা অবস্থান নিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘আলোচনার শেষ ধাপ সম্পন্ন হলেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা হতে পারে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রথম বিষয়ই হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ব্যবস্থাপনা ‘আগের মতো থাকবে না’। প্রণালি বন্ধ করার পর থেকে ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, সব জাহাজের জন্য এই পথ উন্মুক্ত ও অবাধ থাকা উচিত। ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান, সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আগের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননের বিষয়টি এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। তবে ইরান এটি অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে জোর দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে তার দেশ। সূত্র: বিবিসি
মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের অনুশীলন ভেন্যুর কাছ থেকে একটি গাড়ির ট্রাঙ্কে পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির সীমান্ত শহর তিহুয়ানার কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে একটি সুপারমার্কেটের গাড়ির ভেতর থেকে এ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এএফপির বরাতে ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়, কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের (যেখানে ইরানের জাতীয় দল অনুশীলন করছে) ঠিক উল্টো দিকে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে ক্যালিফোর্নিয়ার নম্বরপ্লেট–সংবলিত একটি ধূসর রঙের টয়োটা এসইউভি গাড়ি রাখা ছিল। পুলিশ গিয়ে সেটির পেছনের ডালা (ট্রাংক) খুললে লাশটি বেরিয়ে আসে। সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরা অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা লাশটি সরিয়ে নেওয়ার আগে গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিহুয়ানার প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, একটি টহল ইউনিট গাড়িটির ভেতরে মরদেহটি খুঁজে পায়। প্রসিকিউটর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘গাড়িটি তল্লাশি করে ট্রাঙ্কের ভেতরে কালো ব্যাগে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহে সহিংসতার চিহ্ন ছিল।’ তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি বুধবার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিহুয়ানায় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদ ছিল। মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী মাদক চক্রের সহিংসতায় ভুগছে এবং দেশটিতে হত্যার হার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ। যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর সেখানে ১ হাজার ২০০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে দলটির অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় করার পরিকল্পনা ছিল। তবে চলমান বৈরিতার কারণে সেটি পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়। মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর থেকেই ইরান দলকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। সশস্ত্র সেনাদের পাহারায় দলটিকে হোটেল ও স্টেডিয়ামের মধ্যে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট পরই ইরান দল স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।
এক দিনের সফরে আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার বিমানযোগে কক্সবাজার যাবেন। কক্সবাজার নেমে সড়কপথে চকরিয়ায় পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতের ফ্লাইটেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।’ সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ জুন সকালে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছবেন। তিনি সকাল ১০টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন ও পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১২টায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন। সোয়া ১২টায় মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সোয়া ১টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ, পেকুয়ার সন্তান শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বেলা দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে দুপুর ২টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন। পরে তারেক রহমান পেকুয়ায় সাঈদ মঞ্জিলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। বিকেল ৪টায় তিনি চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। চকরিয়া জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কক্সবাজার গিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে সাগর সৈকত ঘুরে দেখবেন। রাত ৮টায় হোটেল লং বিচ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সর্বশেষ রাত ১০টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানযোগে কক্সবাজার ছেড়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজারের সদর, চকরিয়া, পেকুয়ায় আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ওই দিন বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য জনসভাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর সরাসরি তদারকি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুইদিনের সফরে শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজার রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার পৌঁছেছেন সরকারের ৬ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজারে অবস্থান করা ৬ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত দখলদার ইসরাইল বসতিগুলোর জমি বিক্রির প্রচারণা চালানো হতে পারে—এমন অভিযোগ তুলে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য একটি রিয়েল এস্টেট প্রদর্শনী বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শতাধিক আইনপ্রণেতা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১০০ জনের বেশি সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্রেট ইসরাইলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লেবার পার্টির ৬৫ জন এমপি, বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতা এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা সতর্ক করে বলেন,প্রদর্শনীতে এমন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে,যেগুলো ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পর নির্মাণ করা হয়েছে।এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সম্পত্তিও রয়েছে। চিঠিতে আইনপ্রণেতারা দাবি করেন, এ ধরনের সম্পত্তি বিক্রির আয়োজন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এবং তা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে। চিঠির উদ্যোক্তা লেবার পার্টির এমপি অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের এবং ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখন ব্রিটিশ সরকারের সামনে রয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর ও গাজাজুড়ে সংঘটিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং গণহত্যার মতো অভিযোগের বিষয়গুলোও এ উদ্যোগের আওতায় বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিতর্কিত এই প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোও অনুষ্ঠানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের সাবাক বারনাম এলাকায় অভিবাসন বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক নদীতে ঝাঁপ দেন। এমনকি কেউ কেউ দীর্ঘ সময় নদীর পানিতে অবস্থান করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন। শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে সাবাক বারনামের বাগান নাখোদা ওমর জেলেপল্লীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সেলাঙ্গর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের (নিয়ন্ত্রণ শাখা) উপপরিচালক মোহাম্মদ খুসাইরি বিন কামারুদ্দিন এবং (ব্যবস্থাপনা শাখা) উপপরিচালক রেডম্যান বিন সাফার। তাদের সঙ্গে সেলাঙ্গর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারাও অংশ নেন। সেলাঙ্গর রাজ্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এমকেএন) সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে আরও অংশ নেয় মালয়েশিয়া পুলিশ বাহিনী (পিডিআরএম), সেলাঙ্গর অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এপিএমএম) এবং সেলাঙ্গর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ড ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেমেনিয়হ অভিবাসন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইতালি সরকার। ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন রি-ইমিগ্রেশন ডিক্রি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশকারী, আশ্রয়প্রার্থী, ডাবলিন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত ব্যক্তি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ওপর এই আইনের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতালি সরকারের দাবি, নতুন এই ডিক্রির মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসন কমানো, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অতিরিক্ত কঠোরতা মানবাধিকার সংকট তৈরি করতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশকারী অথবা যাদের কোনো বৈধ লিগ্যাল স্ট্যাটাস নেই তাদের বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার বা বর্ডার ক্যাম্পে রাখা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে এসব ব্যক্তিকে। এই সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, আশ্রয় আবেদন মূল্যায়ন এবং আবেদন বাতিল হলে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হতে পারে। ছোট শিশু নিয়ে ইতালিতে প্রবেশকারী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী শিশুদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পরিবারগুলোকে আলাদা পরিবারভিত্তিক কেন্দ্রে রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, একা প্রবেশকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও কিশোরদের জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে। তবে বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাবলিন রেগুলেশন অনুযায়ী, ইউরোপে যে দেশে প্রথম প্রবেশ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়া হয়, সাধারণত সেই দেশই আশ্রয় আবেদন পরিচালনা করে। নতুন ডিক্রির আওতায় ইতালি এখন ডাবলিন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে হাঁটছে। অর্থাৎ, কেউ যদি অন্য ইউরোপীয় দেশ থেকে ইতালিতে আসে কিন্তু তার প্রথম রেজিস্ট্রেশন অন্য দেশে হয়ে থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত সেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। নতুন নিয়মে ‘তৃতীয় নিরাপদ দেশ’ নীতির গুরুত্বও বাড়তে পারে। যদি কোনো আশ্রয়প্রার্থী এমন একটি দেশ হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করে যাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ইতালি তার আশ্রয় আবেদন গ্রহণ না করে সেই দেশেই ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও আলবেনিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটক রাখা, দ্রুত ডিপোর্টেশন এবং সীমান্তে কঠোর নীতি আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে নতুন এই প্রক্রিয়া। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা রাজনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির এই নতুন অভিবাসন ডিক্রি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতেই নয়, বরং পুরো ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ যে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে এই নতুন আইন যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।
মাঠের সাফল্যের জন্য ফুটবল বিশ্বে বেশ পরিচিত কার্লো আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখন বিজ্ঞাপন জগতেও বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি শীর্ষ ব্র্যান্ড তাকে নিয়ে প্রচারণা চালাতে আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ। সম্প্রতি ব্রাজিলের একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওটির শেষাংশে দেখা যায়, সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যানচেলত্তির পায়ের কাছে এসে পড়ে সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি একটি বল। সেটি তুলে নিয়ে তিনি একটি শিরোনাম পড়েন, ‘ষষ্ঠ শিরোপায় বিশ্বাস করে ব্রাজিল।’ মাত্র ১২ সেকেন্ডের এই দৃশ্যই দর্শকদের নজর কাড়ে। কেবল ইউটিউবেই ভিডিওটি ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ব্রাজিলে আসার পর থেকেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পেয়েছেন আনচেলত্তি। তবে তিনি বেছে নিয়েছেন অল্প কয়েকটি ব্র্যান্ডকে। এখন পর্যন্ত ব্রাহমা, ভক্সওয়াগেন এবং অ্যামাজনের বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তিন প্রতিষ্ঠানই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) স্পন্সর। বিজ্ঞাপন জগতে আনচেলত্তির উপস্থিতি কতটা মূল্যবান, সেটি তুলে ধরেছেন বিজ্ঞাপন নির্বাহী ও অ্যালব স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বার্নার্দো পন্তেস। তিনি বলেন, ‘অ্যানচেলত্তির মতো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কাজ করার খরচ যে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি হবে সেটা স্পষ্ট। এমন একজন নামের সঙ্গে কাজ করতে হলে বিনিয়োগ সক্ষমতার দিক থেকে আপনাকে বাজারের একেবারে শীর্ষ স্তরে থাকতে হবে।’ বিভিন্ন প্রচারণা মিলিয়ে আনচেলত্তিকে নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে ৮ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ এবং রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচের জন্য এটাও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। আনচেলত্তির পারিশ্রমিকও তার তারকাখ্যাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্রাজিলের সাবেক কোচ তিতে যেখানে প্রায় ২০ লাখ রিয়াল মূল্যের বিজ্ঞাপনী চুক্তি করেছিলেন, সেখানে আনচেলত্তির চুক্তির পরিমাণ অনেক বেশি। বিভিন্ন প্রচারণার জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি রিয়াল মূল্যের চুক্তি করেছেন বলে জানা গেছে। ভক্সওয়াগেনের নতুন মডেলের উদ্বোধনী প্রচারণার মুখ হওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিতই প্রতিষ্ঠানটির গাড়িতে চলাচল করছেন আনচেলত্তি। অন্যদিকে ব্রাহমার প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি সাও পাওলো, সালভাদর ও রিও ডি জেনেইরোতে কার্নিভাল সফরেও অংশ নিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরে এভাবেই ব্রাজিলে নিজের জনপ্রিয়তার নতুন অধ্যায় লিখছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
নিখোঁজের একদিন পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহম্মেদ প্রধানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে তাকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। জিসান আহম্মেদ প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি। শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় লাকসাম জংশন ক্লাব মাঠের পাশে একটি দোকানের পাশে জিসানকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পৌরসভা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. নুরে আলম ও জামায়াত কর্মী আবুবকর জাহিদ তাকে উদ্ধার করে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জিসানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছেছেন, নিখোঁজ থাকার সময়ে তার সঙ্গে কী ঘটেছে কিংবা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাকী বলেন, খবর পেয়ে আমরা ক্লিনিকে ছুটে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জিসানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি এখনো সচেতন অবস্থায় আছেন। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।
পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে নিজের ফিটনেস নিয়ে সব ধরনের সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল অধিনায়ক জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট, আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে মুখিয়ে আছেন। চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে শুরু থেকেই খেলেছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। যদিও গোল পাননি, তবুও নিজের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন দেখছেন না তিনি। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, “শারীরিকভাবে? আমি পুরোপুরি ভালো আছি। আপনারা কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি? রোনালদো জানান, তিনি তার দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘এটি ভালো ছিল তবে ক্লান্তিকর, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের ম্যাচগুলোতে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যখন ১৭ তারিখে প্রথম ম্যাচে বল গড়াবে এবং যখন চাপ সত্যিই বাড়তে শুরু করবে — তখনই আমরা আসল চ্যাম্পিয়নদের দেখতে পাব,’ যোগ করেন ফুটবলের এ সুপারস্টার। জাতীয় দলের হয়ে ২২৭ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ডধারী রোনালদো। এখন তিনি তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা বড় ট্রফিটি নিজের করে নিতে মুখিয়ে আছেন। পর্তুগাল বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার কি না জানতে চাইলে রোনালদো বলেন, ‘আমরা কেবল শেষেই তা জানতে পারব। আমরা সত্যিই এটির জন্য উন্মুখ হয়ে আছি; আমরা জানি বিশ্বকাপ সবসময়ই একটি বিশেষ টুর্নামেন্ট, ঠিক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো, তাই আমরা পূর্ণ আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি।’ পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি এবং তারা এর সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছিল ১৯৬৬ সালে, যখন তৃতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল। তবে এবারের টুর্নামেন্টে তাদেরকে অন্যতম শক্তিশালী দল মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। তিনি এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের (২১টি) রেকর্ড ভেঙেছেন এবং প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন। এ বিষয়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনালদো বলেন, ‘আমাদের একটি খুব ভালো প্রজন্ম রয়েছে, তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, যেমন ম্যাচগুলো — জয় বা পরাজয়ই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।’ ‘আমি বিশ্বাস করি এটি এমন একটি প্রজন্ম যা পর্তুগালবাসীকে অনেক আনন্দ দেবে,’ যোগ করেন তিনি। আশা প্রকাশ করে পর্তুগিজ এ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো ভালোভাবে শুরু করা, গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা। তারপর প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে, ধাপে ধাপে, শান্তভাবে এগিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং আমাদের ছন্দ খুঁজে নেওয়া। এটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে, তবে আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে সবকিছু ভালোভাবেই কাটবে।’ উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে আগামী ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল তাদের মিশন শুরু করবে, এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে।
চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়। তিনি বলেন, ‘নতুন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্ব, সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।’ মন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের জনগণ যাতে বাস্তব ও প্রত্যক্ষ উপকার লাভ করতে পারে, সে রকম টেকসই সম্পর্ক সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারই প্রতিফলন এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন, কারণ আমরা আতিথেয়তাপূর্ণ ও উষ্ণ শহর কুনমিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করছি। চীনের মাটিতে এমন উদযাপন করতে পারা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার এক উজ্জ্বল প্রতীক, যা বছরের পর বছর ধরে লালিত ও বিকশিত হয়েছে। আমরা গর্বের সঙ্গে আমাদের দেশকে সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি হিসেবে অভিহিত করি। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং চীনের কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট লিউ কী লিন।
কানাডার ফুটবল ইতিহাসে শুক্রবারটি ছিল এক বিশেষ দিন। প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের সাক্ষী হলো দেশটি। সেই উপলক্ষে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে সংগীত, নৃত্য, আলো আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামজুড়ে। মেক্সিকোতে একদিন আগে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এবার তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রও আলাদাভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কানাডার প্রথম ম্যাচের আগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকরাও। উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দেশের প্রথম অধিবাসীদের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত কানাডীয় গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স। তার পরিবেশনার পর লাল পোশাকে সজ্জিত একদল নৃত্যশিল্পী মঞ্চে এসে বিশাল এক সোনালি ফুটবলের আবরণ সরিয়ে দেন। এরপর মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় কানাডীয় শিল্পী আলেসিয়া কারা। তিনি ‘ওয়াইল্ড থিংস’ ও ‘ফায়ার’ গান পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান। তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি, ফ্রেঞ্চ হিপ-হপ শিল্পী ভেগেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়ের যৌথ পরিবেশনা। আকর্ষণীয় ড্রাম বিট, নৃত্য ও আলোকসজ্জার সমন্বয়ে তাদের পরিবেশনা মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের উপস্থিতি বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন নোরা ফাতেহি। তার নৃত্য ও মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপ ২০২২-এর অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়া নোরা এবারও বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখেন। এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্নার ‘ইলুমিনেট’ গান, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম গান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কানাডীয় শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ এবং মাইকেল বুবলের পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশ্বকাপের থিম, আধুনিক আলোকসজ্জা ও বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে সাজানো অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের বৈশ্বিক বন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। টরন্টোর বিখ্যাত নেথান ফিলিপস স্কোয়ারেও ছিল বিশ্বকাপের উৎসবমুখর আবহ। টরন্টো সিটি হলের সামনের এলাকা বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়। সেখানে তৈরি করা হয় ছোট আকারের ফুটবল মাঠ। দিনভর সমর্থকদের ভিড়, ফুটবল খেলা, ছবি তোলা এবং উৎসবের আমেজে মুখর ছিল পুরো এলাকা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডও। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৩৬। আয়োজকদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহে টরন্টো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের মর্যাদা পাওয়া কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। সেই ম্যাচের আগে জাঁকজমকপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক, মহেন্দ্র, নছিমন, করিমনসহ সব ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিসহ তিন দফা দাবিতে এ পরিবহন ধর্মঘট পালিত হবে। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠকের পরও তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় রোববার থেকে তারা ধর্মঘট শুরু করবেন। ধর্মঘট শুরু হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় এই ধর্মঘটের আওতায় থাকবে। বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি চলে। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি হুইলার অবাধে চলাচল করছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। মহাসড়কে পরিবহণ ধর্মঘট যেনো না হয় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ৩ দফা দাবিগুলো হল- ১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা। ২. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার, মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা। ৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক এজবাস্টন স্টেডিয়ামে শুক্রবার পর্দা ওঠে বিশ্ব নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে ম্যাচ শুরুর আগে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের উত্তেজনার আগে এজবাস্টন রূপ নেয় এক সাংস্কৃতিক মঞ্চে। আলো, সঙ্গীত, নৃত্য এবং নাট্যশৈলীর সমন্বয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ আকর্ষণ। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন ব্রিটিশ থিয়েটার জগতের জনপ্রিয় দুই তারকা এমা কিংস্টন ও জিজি স্ট্র্যালেন। তাদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে নারী ক্রীড়াবিদদের সংগ্রাম, সাফল্য এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নারীদের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের গল্প। সুর, নৃত্য এবং নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে তারা নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রাকে উদযাপন করেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে তাদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন। আইসিসি এবারের বিশ্বকাপকে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় আসরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আয়োজকরা জানান, নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে এবং এই বিশ্বকাপ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। আলোকসজ্জা, বিশেষ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং সঙ্গীতের সমন্বয়ে পুরো স্টেডিয়াম উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা ম্যাচ শুরুর আগেই উপভোগ করেন এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এরপর মাঠের লড়াইয়ে নামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। তবে ম্যাচের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই ছিল দিনের প্রথম বড় আকর্ষণ। এমা কিংস্টন ও জিজি স্ট্র্যালেনের পরিবেশনা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচনাকে আরও বর্ণিল ও স্মরণীয় করে তোলে। বিশ্বের সেরা দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে শিরোপার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের যাত্রা শুরু হলো এজবাস্টনের ঝলমলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।