দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য রাজধানীর বাসিন্দাদের কোথাও না কোথাও যেতে হয়। আবার যেসসব মার্কেটে যাওয়ার আগে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জেনে নেওয়া জরুরি। তাহলে আর ভোগান্তি বা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। তাই দেখে নিন সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কোন কোন এলাকার শপিং মল ও মার্কেট বন্ধ। যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১ ও ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টার সিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ী একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, সানারপাড়। যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ রামপুরার মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, মেরাদিয়া বাজার, আয়েশা-মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, দনিয়া তেজারত সুপার মার্কেট, আবেদীন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।
বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫টি শহরের তালিকায় আজ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ২৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। তালিকায় বলা হয়েছে, আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শহরটির বায়ুমান স্কোর ২৪৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। একই সময় তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রো, যার বায়ুমান স্কোর ২৪৬। শহরটির বায়ুমানের স্কোরও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। এছাড়া আরও তিনটি দেশের বায়ুমানের স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ২২৩, চতুর্থ অবস্থানে ভারতের কলকাতার স্কোর ২১০, এবং পঞ্চম অবস্থানে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরের স্কোর ২০৪। তালিকায় ১৯১ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি। ভারতের মুম্বাই ১৮৫ স্কোর নিয়ে সপ্তম অবস্থানে এবং একই স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে দিল্লি। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের মধ্যে থাকা এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বনানী মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবির দ্রুত সমাধান চেয়ে এই কর্মসূচি নিয়েছেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শত শত ইজিবাইক, বাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজট তৈরি হয়, যা যাত্রী ও চালকদের জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই ঘণ্টা আটকে থাকার পর কিছু ক্ষুব্ধ যাত্রী শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা পর্যন্ত ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দেন। পরে বেলা দুইটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ফিরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবেন। এর আগে গত বছরের ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল বনানী এলাকায় একই মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ দেখান। এছাড়া, গত বছরের ২০ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দিয়ে একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এ অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফরে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী, সমর্থক, ভোটার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসমর্থনের মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে। মাহদী আমীন জানান, নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার বরিশাল ও ফরিদপুরে যাচ্ছেন। বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে বরিশালে গিয়ে দুপুর ১২টায় বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর বেলা একটায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের বিষয়ে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি অভিযোগ করেছে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে ক্যাডেট মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫,৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকে ৩৪,৪৪২ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন। বিএনপি অভিযোগ করেছে, কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন, যা নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি কমিশনের প্রতি দুটি দাবি জানিয়েছে। প্রথম, পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া এবং অভিজ্ঞতা কম সংস্থার পর্যবেক্ষকসংখ্যা সীমিত করা। দ্বিতীয়, কোনো ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে দুজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা জারি করা। রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, ২০২২ সালে ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব প্রথম তাদের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দলটির মতে, জনগণের ভোটাধিকার ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিএনপি আশঙ্কা করছে, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ক্যাডেট মোতায়েনে হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দল সমর্থক ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রমাণভিত্তিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখনই সময় পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল ও অতীতের আড্ডা ভুলে সৃজনশীল ও অংশগ্রহণমূলক পথ গ্রহণের। তিনি বলেন, “অতীতের কাসুন্দি শোনানোর দিন শেষ। জনগণ এসব আর শুনতে চায় না। তাদের ঘুম পাড়িয়ে রেখে ক্ষমতার সুযোগে লুটপাট যারা করেছে, তাদের জায়গা এই দেশেই আর থাকবে না। আমরা আমাদের প্রিয় জাতিকে টুকরা টুকরা হতে দেব না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। ঢাকার হেলিকপ্টারে করে কটিয়াদী পৌঁছে বেলা ১১টায় মঞ্চে উপস্থিত হন শফিকুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী। জনসভায় তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ জেলা নানা বৈচিত্রে সমৃদ্ধ। এখানকার মানুষ স্বভাবগতভাবে ধর্মপ্রাণ, তবুও অন্য ধর্মের মানুষদের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করে। এটাই ধর্মের সৌন্দর্য। আমরা দেশটাকে সব ধর্মের মানুষ দিয়ে ফুলের বাগানের মতো সাজাব, ইনশা আল্লাহ। শফিকুর রহমান বিগত শাসনামলে জেলা প্রশাসন ও শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “কিশোরগঞ্জ সমতল আর হাওরের মিলনক্ষেত্র, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের পর বছর সরকারি শীর্ষ পদ দখল করা সত্ত্বেও জনগণ উন্নয়নের স্বাদ পায়নি। আমরা জয়লাভ করলে হাওরের কৃষিকে শিল্পে পরিণত করব। বিদেশে পাচার হওয়া কোটি কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনব। এখানে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী বাড়ির কোনো নজির থাকবে না। আমরা মামলামুক্ত, শোষণমুক্ত ও পারিবারিক জমিদারিমুক্ত দেশ গড়ব এবং আপনাদের আস্থা প্রতিদান দেব। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ও নারীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে কেবল যুবকেরা নয়, নারীরাও লড়াই করেছে। বর্তমানে মা–বোন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। আমরা মায়েদের সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ হিসেবে মাথায় তুলব।” বেকারত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বিপুল যুবক বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বেকার ভাতা চায়নি, তারা মেধার মূল্যায়ন চেয়েছে। আমরা তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বানাব। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজে তোমাদের বসিয়ে দিব, তোমরাই চালাবা। আমরা পেছনে বসব। বাংলাদেশ তোমরা গড়বা। নির্বাচনে প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, “ছলে–বলে জেতার দিন শেষ। জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে আর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে না। পুরোনো স্লোগান থেকে বেরিয়ে আসুন। আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোট আমি দিব—সেই দিন আর ফিরে আসবে না। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন। আমরা কারও কাছে আনুকূল্য চাইব না, তবে যদি আমাদের ক্ষতি করা হয়, কাউকেই ছাড়ব না।” দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার অধিকার মানে হলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—১৮ কোটি মানুষের অধিকার। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। যারা অন্ধকার গলিতে হাঁটতে চায়, হাটুক। আমরা আলোকিত রাস্তায় হাঁটব। তিনি আরও জানান, “জামায়াতে ইসলামীর পালে হাওয়া লেগেছে। পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বিজয় স্পষ্ট হয়েছে। সবাই ন্যায়–ইনসাফ ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। চব্বিশের পক্ষে। ১১ দল ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরের মধ্যে শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রতিটি শিশুকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হবে। বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, তবে কোনো প্রভুর নির্দেশ মেনে চলা হবে না।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা এবং লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনে যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ভোটারদের মনোভাবেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। নিত্যদিনের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষ ক্রমেই রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, বাস্তব জীবনের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব উদ্বেগের কথা উঠে আসে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আয় ও ব্যয়ের অসমতা এবং অর্থনৈতিক চাপ মানুষের রাজনৈতিক আচরণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে কেবল নির্বাচনী আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বর্তমানে ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা বক্তৃতার চেয়ে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের সংকটকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মানুষকে হতাশ করছে। এই বাস্তবতায় অনেকেই রাজনীতিকে নিজেদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোটার বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। গোলটেবিল বৈঠকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া, সাবেক সচিব সালেহা আফরোজ, বিআইজিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ, অপরাজিতা বিডির সম্পাদক আকলিমা ফেরদৌসী, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাব প্রতিনিধি মোহা. শওকত আলী খান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য হলেও বর্তমানে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি শুধু রাজনৈতিক অনীহার ফল নয়, বরং নাগরিকদের মধ্যে জন্ম নেওয়া আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না বলে মত দেন তারা। আলোচনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে ভোটার আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে বক্তারা বলেন, কেবল বাজার তদারকি বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর নীতি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। মানুষ যখন নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত থাকে, তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা অবাস্তব। বৈঠক থেকে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয় বলে মত দেন বক্তারা।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও সাত কর্মচারীকে ঢাকায় বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুদিনে মোট ১১ কর্মচারীকে বদলি করা হলো। এদিকে এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার আবারও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মবিরতি পালন করা হলেও এবার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি বন্দরের প্রবেশমুখে এবং কাস্টমস মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা এক আদেশে নতুন করে সাত কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মচারীদের সোমবার দুপুর ১২টার আগেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বদলি হওয়া সাত কর্মচারীর মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে এবং তিনজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে একের পর এক কর্মচারীকে বদলি করা হচ্ছে। আজ (রোববার) সাতজনকে বদলি করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। আগামীকালও (সোমবার) কর্মবিরতি চলবে।’ এর আগে গতকাল রোববার শ্রমিক ও কর্মচারীদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতির কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বিকেল ৪টার পর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। পোর্ট ও শিপিং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আন্দোলনে জড়িত অভিযোগে প্রায় ১৮০ শ্রমিক-কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে তালিকায় থাকা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চার নেতাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সেক্রেটারি ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘১৮০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব তালিকাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। খুব শিগগির নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি হবে।’ চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তির মাধ্যমে বিনা দরপত্রে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, সাবেক বন্দর সিবিএ নেতারা এবং জাতীয় শ্রমিক জোটভুক্ত শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শনিবার শ্রমিকরা প্রথম দিনের কর্মবিরতি পালনের পর রাতে বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ৩০ দিনের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এর আগে শ্রমিক ও কর্মচারীদের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্কপ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিলেও পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরে তা স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতা ইফতেখার কামাল খান বলেন, ‘কালো পতাকা মিছিলের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত রাতে সিএমপি মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এজন্য কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করা হয়। আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’ বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। এর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। বন্দর রক্ষা করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও কম নয়। শ্রমিক দলের ডাকা কর্মসূচি থেকে মিছিল-সমাবেশসহ যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট বানচালে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ মিথ্যা। বন্দর রক্ষায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে। তবে শ্রমিক নেতারা পুলিশের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করেছে। পুলিশও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লায় এক নির্বাচনী জনসভায় কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যালট বাক্স সুরক্ষায় কোনো আপস হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, ভোটকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। শনিবার রাতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ১১–দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী। বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে আসবে, তাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষাকে তিনি নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। প্রশাসনের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারীরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের সেবা করতেই তাঁদের দায়িত্ব, কোনো দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন নয়। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের জন্য এটি এক ধরনের পরীক্ষা, যার ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটের দিন। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণকে জনগণের অধিকার রক্ষার পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্য দেন কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা। তিনি নির্বাচনী মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজেদের মত প্রকাশের আহ্বান জানান। জনসভায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী উত্তাপ ও বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও বন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রোববার সকাল আটটা থেকে বন্দর জেটিতে নোঙর করা জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো–নামানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে। এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে শনিবার থেকে দুই দিনব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে পরিচালন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না শ্রমিক-কর্মচারীরা। দ্বিতীয় দিনেও সকাল আটটা থেকে তারা কাজে যোগ না দেওয়ায় বন্দরজুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কর্মসূচি শুরুর পরপরই বন্দরের জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো–নামানোর কাজ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। সিসিটি ও এনসিটিতে সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও কর্মচারীরা বিরত থাকায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বন্দর এলাকায় মিছিল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার ও প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়। নিষেধাজ্ঞা জারির পর রোববার সকালে বন্দর ভবন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বন্দর জেটি ও টার্মিনাল এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। বন্দর জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় জিসিবি টার্মিনালে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত জনবল দিয়ে কাজ চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন। অন্যদিকে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলেই শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির কথাও বিবেচনায় রয়েছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দীর্ঘ সময় ধরে অচল থাকলে বাণিজ্য, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দ্রুত সংকট নিরসনে সরকার ও আন্দোলনরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নগদ, বিকাশ ও রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) একবারে এক হাজার টাকার বেশি অর্থ পাঠানো যাবে না। পাশাপাশি একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারবেন। প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানোই এর মূল উদ্দেশ্য। চূড়ান্ত নির্দেশনায় লেনদেনের পরিমাণে সামান্য হেরফের হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নগদ, বিকাশ ও রকেটের গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন এবং প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। বর্তমানে এমএফএসের মাধ্যমে দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ও মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের সুযোগ থাকলেও নির্বাচনী সময়ে সেই সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এমএফএসের পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর নির্বাচনী সময়ের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এদিকে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক প্রতিবেদন না দিলে বা তথ্য গোপন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যবস্থার ফলে নির্বাচনী সময়ে অর্থের অস্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং টাকার অপব্যবহার কমিয়ে স্বচ্ছ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বিস্তারিত আসছে...
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বর্তমান মিডিয়ার আচরণ দেখে মনে হয় আমরা আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ফিরে গেছি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গনেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একসময় সব প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জন্য থাকত, আর সব দোষ বিএনপি ও জামায়াতের দোষারোপ করা হতো। রানা প্লাজা দুর্ঘটনা উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তখনও সব দোষ বিএনপি–জামায়াতের। তবে বর্তমানে দোষের কাতার থেকে বিএনপি বাদ পড়েছে, কিন্তু জামায়াতের দায় এখনও রয়ে গেছে। তিনি বলেন, মিডিয়ার এমন পক্ষপাত আমরা মনে রাখব এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মও এটি মনে রাখবে। মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব বিষয়ে তিনি আরও অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল, যার কারণে সাধারণ মানুষ এখন আর মিডিয়ার খবর বিশ্বাস করে না। এ অনাস্থার দায়ভার মিডিয়ার ওপরেই পড়েছে। জুলাইয়ে তাদের কার্যক্রমে যখন বাধা দেওয়া হয়েছিল, তখন ডিজিএফআই আমাদের সামনে বসে কিছু টিভি চ্যানেলকে ফোন করেছিল এবং নিউজ পরিবর্তন করানো হতো। এছাড়া, চ্যানেলগুলো এজেন্সির নির্দেশে নিউজ ও হেডলাইন তৈরি করত। ৫ আগস্টের পর এই চ্যানেলগুলো আবারও নাফরমানি শুরু করেছিল। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বিএনপি যখন পল্টনে বড় প্রোগ্রাম করেছিল, তখন একটি চ্যানেল ৫০টির বেশি ক্যামেরা ব্যবহার করে নিউজ করেছিল। হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আরও বলেন, বর্তমান মিডিয়ার আচরণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সাধারণ মানুষের তথ্য গ্রহণের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। তিনি সাংবাদিক ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই পক্ষপাতিত্ব গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও সাধারণ জনগণের তথ্য গ্রহণ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনের জন্য নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি সম্মেলন কক্ষে এই ইশতেহার প্রকাশ করার কথা ছিল। তবে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের বরাত দিয়ে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জানানো হয়েছে, অনিবার্য কারণে এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, অনুষ্ঠান স্থগিত করার মূল কারণ হলো আমির ডা. শফিকুর রহমানের আকস্মিক ও জরুরি শেরপুর সফর। তিনি বলেন, "আমিরের গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সফরের কারণে ইশতেহার ঘোষণার মূল অনুষ্ঠান পেছানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। আমাদের দল চেষ্টা করছে নতুন তারিখ নির্ধারণ করার জন্য। দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, স্থগিত হওয়া এই নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার পরবর্তী সময় ও তারিখ রোববার বিকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ইশতেহার ঘোষণার সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রচার কার্যক্রমও নতুন সময়ে পুনর্বিন্যস্ত করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন একটি স্থগিত ঘোষণার কারণে দলের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তবে দলটি আশ্বাস দিয়েছে যে, ইশতেহারের মূল বক্তব্য, প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনি নীতি অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং এই স্থগিত কেবল সময়সূচির পরিবর্তনের কারণে হয়েছে। জানা গেছে, জামায়াত নিয়মিতভাবে নির্বাচনের আগে ইশতেহার প্রকাশ করে থাকে, যাতে দলের মনোনীত প্রার্থীদের অবস্থান ও ভোটের প্রচারণা কার্যক্রম শক্তিশালী করা যায়। এবারও দলটি প্রচার ও জনমত গঠনের জন্য ইশতেহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছিল। কিন্তু আমিরের আকস্মিক সফরের কারণে পরিকল্পিত অনুষ্ঠানটি স্থগিত হওয়ায় দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা এখন নতুন সময়সূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জে শনিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীর বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। অনেকেই আসবে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে। যারা বিভ্রান্ত করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখিনি, তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে। সভায় তারেক রহমান সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। বিএনপি সেই অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা জনগণের সামনে রেখেছে। মানুষের ভরসা আসে যে দলের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং সেই গুণ একমাত্র বিএনপির মধ্যে আছে। তারেক রহমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষি আছে, তেমন ছোট ছোট মিল-কারখানা আছে। আমাদের লক্ষ্য কৃষিকে এগিয়ে নেয়া এবং কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই। তিনি দেশের তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “যখন তাঁতের কথা বলি, লুঙ্গির কথা বলি, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এই এলাকা। এখানকার বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই, এই শিল্পে উৎপাদিত পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হই। নারী ও মায়েদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক বলেন, “খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি হয়েছিল। আগামী বিএনপি সরকার মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলবে। এজন্য প্রতিটি মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য তিনি বলেন, “কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। আমরা চাই, প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, বীজ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হোক, যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সুবিধা না পায়। এজন্য কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে। তরুণদের জন্য তিনি বলেন, “তরুণদের আইটি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করে বেকার যুবকদের বিদেশে ভালো বেতনে পাঠানো হবে। ধর্মগুরুদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার থেকে মাসিক সম্মাননার ব্যবস্থা করা হবে। শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি ভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকে আমরা রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের কাজ শুরু করব ইনশা আল্লাহ।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চারজন বিএনপিপন্থী শ্রমিকনেতাকে বদলি করা হয়েছে। আজ শনিবার বন্দর অচল হওয়ার পর তাঁদের ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে স্থানান্তর করা হয়। সকালের আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত শ্রমিক ও কর্মচারীরা এনসিটির বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। বন্দরের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে ডাকা এই কর্মবিরতির কারণে প্রায় আট ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে চারজনকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। বদলিকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং প্রকৌশল বিভাগের এস এস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান। প্রথম দুজন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক এবং অন্য দুজন সংগঠনের নেতা। তাদেরকে আগামী রোববার দুপুর ১২টার আগে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে এই বদলি কার্যকর করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের পর হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, “আন্দোলন করার কারণে আমাদের বদলি করা হয়েছে। আমরা পানগাঁও টার্মিনালে যোগ দেব না। আন্দোলন আরও তীব্র হবে। পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বর্তমানে বিদেশি কোম্পানি সুইজারল্যান্ডের মেডলগের হাতে রয়েছে, যারা ২২ বছরের জন্য সম্পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, মেডলগ পুরো দায়িত্বভার গ্রহণ করলে বন্দরের কোনো কর্মচারীর সেখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। অন্যদিকে, সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমোডর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েলকে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষটি উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে সংঘটিত হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌধুরী, তার গাড়িচালক মামুন, হাটবাইর গ্রামের মৃত মফিজুর রহমান খাঁনের ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মিজানের মা আমেনা বেগম, বোন নাজমা ও নার্গিস, উপজেলা বিএনপির সদস্য মীর আহমেদ মীরু, আব্দুল হক খান, মনির চৌধুরী, ইয়াকুব আলী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাত সানি, বিজয় করা গ্রামের রবিউল হোসেন রকি, নোয়াগ্রামের জাকারিয়া রাসেল ও পায়েরখোলা গ্রামের মিলন। আহত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌদুরী অভিযোগ করেন, তিনি জগন্নাথদিঘীর বেতিয়ারা গ্রামে নির্বাচনী সভা করছিলেন। তখন খবর পান, পাশের হাটবাইর গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে ৫০–৬০ জন জামায়াত নেতা ও কর্মী হামলা চালাচ্ছে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারিকে নিয়ে মিজানের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে স্থানীয় চৌধুরী বাজারে পৌঁছালে জামায়াতের সংঘবদ্ধ দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সোলায়মান চৌদুরী বলেন, “চালকের কারণে কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে এসেছি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম সানি জানান, তারা ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা শেষে হাটবাইর গ্রামে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন দাবি করেন, তাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতারা হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন জামায়াত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বেলাল হোসাইন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি ন্যাক্কারজনক। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাসব্যাপী আয়োজনে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, এবং সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। এসময় এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২২৪.২৬ কোটি টাকা। এ রপ্তানি আদেশ এসেছে পাট পণ্য, ইলেকট্রনিক ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স ও হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, হোম টেক্সটাইল, নকশিকাঁথা, ফেব্রিক্স এবং তৈজসপত্রের উপর। এই পণ্যগুলো আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কে রপ্তানি হবে। স্থানীয়ভাবে মেলায় আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে, যার মধ্যে রেস্তোঁরা সেবাও অন্তর্ভুক্ত। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়ে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষভাবে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ৬টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এই মেলা দেশের পণ্য ও রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বহুমুখী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
জানুয়ারি মাসে দেশে মব–গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সন্দেহভাজন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে মারধর করা হয়, যার বেশ কয়েকটি ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু ঘটে। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারিতে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম উচ্চ। একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যাও বেড়েছে। নদী, খাল, রেললাইনসংলগ্ন এলাকা ও জনবিরল স্থান থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, ফলে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়। মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এই অজ্ঞাতনামা লাশের একটি অংশ সহিংসতা কিংবা সংঘবদ্ধ হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গণপিটুনি বাড়ার পেছনে আইনের শাসনের প্রতি আস্থার ঘাটতি, অপরাধ দমনে ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়া এবং সামাজিকভাবে ‘তাৎক্ষণিক শাস্তি’ দেওয়ার প্রবণতা কাজ করছে। অনেক সময় গুজব, সন্দেহ বা সামাজিক অভিযোগের ভিত্তিতে মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মব–গণপিটুনি কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। এতে নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারানোর ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি অপরাধ দমনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা গণপিটুনির প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মব সহিংসতা প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে এবং এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মত, কেবল আইনগত পদক্ষেপ নয়—বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি, সামাজিক সচেতনতা এবং গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই প্রবণতা কমানো কঠিন হবে। সামগ্রিকভাবে জানুয়ারি মাসের এই চিত্র দেশের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। মব–গণপিটুনি ও অজ্ঞাতনামা লাশ বৃদ্ধির এই ধারা বন্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের রেল ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা, ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং রেল অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সম্ভাব্য নাশকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণপরিবহন হিসেবে রেলপথকে লক্ষ্য করে ক্ষতিকর কার্যক্রমের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে রেলের যাত্রী, ট্রেন পরিচালনা ব্যবস্থা এবং রেললাইনের সেতু, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় নির্ধারণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জানাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ট্রেন চলাচলের সময় সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা, নাশকতার প্রস্তুতি কিংবা রেল অবকাঠামোর ক্ষতি সাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটবর্তী রেলস্টেশনে দায়িত্বরত কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত হটলাইন নম্বর ১৩১-এ ফোন করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনকালীন পুরো সময়ে রেল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নির্দেশনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের আগমন নিশ্চিত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি আগের যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্মিলিতভাবে অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী আরও ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৩০ জনে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবারের পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। অতীতের নির্বাচনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, একাদশ নির্বাচনে ১২৫ জন এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাভিত্তিকভাবে পর্যবেক্ষক দলে নেতৃত্ব দেবেন ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এ ছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট থেকে একজন পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর ও কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, আমন্ত্রিত কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করেনি। ফলে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব দেশ এখনো প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম থেকেও শিগগিরই পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরদারির আওতায় থাকবে।
২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত। বিদেশি কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসের অবহেলায় ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয়, পরিবেশগত ক্ষতি, কৃষিজমি ধ্বংস এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়। ঘটনার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে নানা হিসাব সামনে আসে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নে ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে দীর্ঘ দুই দশক আইনি লড়াই শেষে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ে বাংলাদেশ যে ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে, তার পরিমাণ মাত্র ৫১২ কোটি টাকা—এই ব্যবধানই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল পার্থক্যের পেছনে একাধিক আইনি ও প্রক্রিয়াগত কারণ কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে শুধু সম্ভাব্য ক্ষতি নয়, বরং প্রমাণিত আর্থিক লোকসান, চুক্তির শর্ত, দায় নির্ধারণের সীমা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আইনের কাঠামো কঠোরভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়। টেংরাটিলা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পক্ষ যে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেছিল, তার বড় অংশই ছিল ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্ষতি, পরিবেশগত প্রভাব ও পরোক্ষ আর্থিক লোকসানের হিসাব, যা আন্তর্জাতিক সালিসে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আওতায় পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইকসিডের রায়ে মূলত গ্যাস অপচয়ের সরাসরি আর্থিক মূল্য, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যয়ের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস, কৃষি ও জীবিকাগত ক্ষতির মতো বিষয়গুলো স্বীকৃতি পেলেও, সেগুলোর আর্থিক মূল্যায়ন প্রমাণের ঘাটতির কারণে বড় অঙ্কে নির্ধারিত হয়নি। পাশাপাশি, নাইকোর সঙ্গে করা চুক্তিতে দায় ও ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা থাকাও রায়ের অঙ্ক কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। বিস্ফোরণের পরপরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হলে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করা গেলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ভিন্ন হতে পারত—এমন মত দিচ্ছেন জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলার ফলে প্রমাণ সংগ্রহ, ক্ষতির পরিমাণ যাচাই এবং দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পক্ষ কিছুটা দুর্বল অবস্থানে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই রায়কে পুরোপুরি পরাজয় হিসেবেও দেখছেন না অনেকে। কারণ, নাইকোর পাল্টা দাবি ও সম্ভাব্য বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সালিসে রাষ্ট্রের পক্ষে রায় আসা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হওয়াকে একটি কূটনৈতিক ও আইনি সাফল্য হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা, কঠোর দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে নিয়ে এসেছে। টেংরাটিলা ট্র্যাজেডির বিচার শেষ হলেও বিতর্ক শেষ হয়নি। ১২ হাজার কোটির দাবির বিপরীতে ৫১২ কোটির ক্ষতিপূরণ কেন—এই প্রশ্ন আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি নীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।