বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছে, গণমাধ্যমের ওপর ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। দলীয় কারণে কারো ওপর যেন জুলুম না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে দেশ চালাবে। সরকার বিরোধী দলের পরামর্শ না মানলে সংসদে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াত কোনোভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি মেনে নেবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে এখন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা এই তালিকায় আলোচনায় আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজিন চৌধুরী লিলি। তানজিন চৌধুরীর লিলির বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়। ছাত্রজীবনেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাসে পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২০০৪ সালে অনার্স ও ২০০৫ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হল শাখার আহ্বায়ক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১/১১ ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা, হামলাসহ শিকার হয়েছেন। তানজিন চৌধুরী লিলি ২০০৯ সালে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দলের আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তানজিন চৌধুরী লিলি নারী অধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করেছন। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা এই সভাপতির পাশাপাশি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য সচিব শামসুন্নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার আসনগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় নেমে নারীদের সাথে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয়রা জানান তানজিন চৌধুরী লিলি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদে গেলে ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য তাজ উদ্দিন বলেন, লিলি আপা দলের আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় সামনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। উনি ময়মনসিংহের নারী নেতৃত্বের আইডল। সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে উনি মনোনয়ন পেতে পারেন এই আলোচনা মানুষের মুখে মুখে। রাজপথের এই নেত্রীকে সংসদে দেখতে চাই। তানজিন চৌধুরী লিলি বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
গ্রেফতারের দেড় বছর পর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে একই দিন তার জামিন মঞ্জুর করেন ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত। দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার গণমাধ্যমকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলায় দবিরুল গ্রেফতার হন। একই মামলায় তার ছেলে এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনও গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি এখনো দিনাজপুর কারাগারেই আছেন। দবিরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারাগারে চিকিৎসার অভাবে দবিরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার হাঁটাচলা করার শক্তিটুকুও নেই। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই কারাগারেই অসুস্থ হয়ে মারা যান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
.অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে রাজধানীর হেয়ার রোডের যে সরকারি বাসাতে থেকেছেন আসিফ নজরুল, নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণ করায় সেটি ছাড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে বাসা ছাড়ার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, বাসাটির প্রতি তারা মায়া জন্মে গেছে। আসিফ নজরুল লেখেন, আমরা যখন হেয়ার রোডের এই বাসায় উঠি সবার মন খারাপ হয়ে যায়। বেশি বড় জায়গা, বেশি বড় বাড়ি, এত বড় যে আপন ভাবা যায় না ঠিক। সরকারি বাসায় ওঠার কারণে সন্তানদের মন খারাপ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল তারা। তবে এখন হেয়ার রোডের বাসা ছাড়ার সময় এই জায়গার প্রতি মায়া তৈরি হয়েছে বলে লিখেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে বলেন, দু-একদিনের মধ্যে আমরা চলে যাবে এই বাসা থেকে। আমার মায়া রোগ আছে। এখন দেখি এই বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশটার জন্য। সবশেষে তিনি লেখেন, বিদায় হেয়ার রোড। অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা এবং পরে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন আসিফ নজরুল। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রেক্ষিতে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবহনমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব বলেন জারা। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একেই যদি সমঝোতা বলা হয়, তাহলে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’ এদিকে জারা তার স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। ওনার এই বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়। একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে হলো একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তাই। সাবেক এই এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ তাহলে কি আমরা ধরে নেব, এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করুন। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা হোক। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সাথে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে। জারা স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করুন। প্রকাশ করুন এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে? সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে? এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়। এটি যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যায়। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের হতাশ করবেন না।
শিক্ষাক্রম রিভিউ করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় লিখিত বক্তব্যে শিক্ষা নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন নতুন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না, আমরা শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র গড়ব।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর ৫ দিন পর মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সদস্যরা। গঠিত হয়েছে নতুন সরকার ও নতুন সংসদ। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও নেননি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির এমপিরা। আর সে কারণে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল। এ নিয়ে একটি গণমাধ্যমে বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক। উত্তর দিয়েছেন বেশ কিছু প্রশ্নের। প্রশ্ন : সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্যরা।এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। এ অবস্থায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কী হবে? শাহদীন মালিক : এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। এটা একটা নতুন পরিস্থিতি, নতুন অভিজ্ঞতা। দুই পক্ষের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এই পরিষদকে শপথ পড়াবেন কে? পরিষদে সভাপতিত্ব করবেন কে? জাতীয় সংসদের স্পিকারই কি এখানে সভাপতিত্ব করবেন? নাকি এখানকার জন্য আলাদা স্পিকার নির্বাচিত হবেন? এই বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি।তাই দুই পক্ষের অবস্থান দুই রকম। প্রশ্ন : এর সমাধান কী? শাহদীন মালিক : সমাধান খুঁজতে হলে দেখতে হবে, সাধারণ মানুষ কী চায়। সাধারণ মানুষ কিন্তু জেদাজেদি চায় না। তারা চায় স্থিতিশীলতা। গত দেড় বছরের অস্থিরতার পর মানুষ এখন চায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক হবে ইত্যাদি।তাই সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। সাংবিধানিক কোনো ব্যাপার থাকলে বা আইনে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে এখন তো সংসদ গঠিত হয়েছে। সংসদ আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, যা কিছু হওয়া উচিত সংসদ থেকেই। প্রশ্ন : নতুন সরকার কেমন হয়েছে? শাহদীন মালিক : পত্রিকায় দেখলাম ৭০ শতাংশ এমপিই নতুন, মানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। এখান থেকেই তো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী হয়ে সরকারে গেছেন ওনারা। তার মানে এমপিদের মতো নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও অনেকে নতুন। তাই নতুন মন্ত্রিপরিষদ স্বাভাবিক হতে একটু তো সময় লাগবেই। প্রশ্ন : নতুন সংসদ কেমন হয়েছে? শাহদীন মালিক : একই উত্তর প্রায়। তবে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওনারা। খবরে দেখলাম বিরোধী দল ও সরকারি দল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না সংসদ সদস্যরা। তার মানে সদিচ্ছা থাকলে সংসদ থেকেও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। সূত্র : খবরের কাগজ
নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধের তথ্য জানতে ওয়েবসাইট চালু করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি মির্জা ফখরুল ওই ওয়েবসাইটে সরাসরি তাকে সমস্যার কথা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ এর যেকোনো এলাকায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায়/অপরাধ বা যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি আমাকে আমার ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে জানান। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি ওয়েবসাইট উদ্বোধন হবার পর থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমার টিম মেসেজ কম্পাইল করছে। শিগগিরই রেস্পন্ড করব।
পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজানসহ আরও কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে মোট ৩৬ দিনের টানা ছুটিতে যাচ্ছে স্কুলগুলো। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে নতুন শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন মহলের আলোচনা ও মতামত পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, রমজান মাসের ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮ দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এর আগে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। একজন আইনজীবীর করা রিটের পর হাইকোর্ট বিভাগ স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর চেম্বার আদালতে গেলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়। ফলে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে সরকারের বাধা ছিল না। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, ইবাদত-বন্দেগি ও পারিবারিক পরিবেশে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়া ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্ধারিত ছুটির পর যথাসময়ে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় একাডেমিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে আকস্মিক ছুটির ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কেউ পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাঠ্যসূচির ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরের কথা স্মরণ করিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আর সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যেতে চাই না।’ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। জামায়াত আমির বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই জুলাই। ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে বর্তমান সরকারি দল ও আমরা—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। ভিন্নমত দমন নয়—স্বাগত জানানোই হোক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এদিকে, রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। বলেন, বিশ্বের সব দেশের মুসলমান ভাই ও বোনদের রমজানুল মোবারক। এ রমজান সবার জীবনে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত নিয়ে আসুক। সঙ্গে একটি বরকতময় ঈদ—ঈদুল ফিতর। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।পাশাপাশি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপ-নেতা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন।
পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজানসহ আরও কয়েকটি ছুটিসহ মোট ৩৬ দিনের টানা ছুটিতে যাচ্ছে স্কুলগুলো। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রমজান মাসের ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। এই ছুটি টানা ৩৬ দিন চলবে। এরমধ্যে হিন্দু ধর্মালম্বীদের একটি পূজা, পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর, মহান স্বাধীনতার দিবসের ছুটি রয়েছে। এদিকে আকস্মিক ছুটির ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাঠ্যসূচির ঘাটতি পূরণে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মাদ্রাসা ও কলেজগুলো আগে থেকেই পুরো রমজান মাস ছুটি ঘোষণা করেছে। তাহলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে কেন ছুটির বৈষম্য থাকবে? আমরা মূলত সব স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির বিষয়টি সমান করতে চেয়েছি। টানা ৩৬ দিন ছুটির প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, দিন হিসাব করলে ৩৬ দিন কিন্তু কর্মদিবস বললে হবে ২৬দিন। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি এবং স্বাধীনতা দিবস ও ঈদের সরকারি ছুটি বাদ দিলে ক্লাসরুম বন্ধ থাকবে মাত্র ১৮ দিন। এহসানুল হক মিলন আশ্বস্ত করে বলেন, এই ১৮ দিনের যে পাঠদান ঘাটতি হবে, তা পরবর্তীতে কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর আগে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। একজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে আদালত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে সরকার হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে গেলে হাইকোর্টে আদেশ স্থগিত করে দেন। ফলে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে সরকারের বাধা নেই। কিন্তু নানা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই নিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, ইবাদত-বন্দেগি এবং পারিবারিক পরিবেশে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়া ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, নির্ধারিত ছুটির পর যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় একাডেমিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য শিক্ষকদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (ঢাকসাস) ২০২৬-২৭ সেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে এখন টেলিভিশনের ফরহাদ বিন নূর সভাপতি এবং দৈনিক জনকণ্ঠের মো. ফয়সাল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকসাস কার্যালয়ে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ৯টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সহ-সভাপতি পদে আমার দেশের মো. ইমরান হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক জনকণ্ঠের মো. আল জোবায়ের বাদশা, অর্থ সম্পাদক বাণিজ্য প্রতিদিনের সাইদুর রহমান নোমান এবং দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মাহাদী হাসান নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের মো. ওয়ালিদ হাসান, টাইমস টুডের ওবায়দুল ইসলাম ও এখন টেলিভিশনের মো. রাব্বি আল রাহিদ। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে সংগঠনটির নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল এআই ক্লাব আয়োজিত ‘ডিজিটাল টুইন: ট্রান্সফর্মিং দ্য ফিউচার অব ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমের নকশা ও অপ্টিমাইজেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। আইসিএইচ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। শিল্পখাতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জিআইএস অ্যানালিস্ট সাকিব রহমান সিদ্দিকী এবং ওয়াহিদ ইবনে জাকির। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফখরে হোসেন, ড্যাফোডিল এআই ক্লাবের কনভেনর অধ্যাপক ড. ফারনাজ নারিন নূর, কো-কনভেনর সহযোগী অধ্যাপক নাজমুন নেসা মুন, সহকারী অধ্যাপক মো. হাসানুজ্জামান দীপু, উপদেষ্টা শাহরিয়ার সরকার এবং প্রভাষক ইন্দ্রানি সেন টোমা, ড্যাফোডিল এআই ক্লাবের সভাপতি মো. রনি, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মো. লাতিফুর রহমান রাফি, জয়েন্ট অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মিনহাজুল ইসলাম। সোমনারে ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী বলেন, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমের নকশা ও অপ্টিমাইজেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও দায়িত্বশীল এআই উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছে। অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক উল্লেখ করেন, ‘ডিজিটাল টুইন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেম এবং সিমুলেশনের একটি শক্তিশালী সমন্বয়, যা বহুমাত্রিক আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।’ শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ সাকিব রহমান সিদ্দিকী ও ওয়াহিদ ইবনে জাকির বলেন, জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা, অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ এবং রিয়েল-টাইম সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডিজিটাল টুইন প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর করে তোলে। ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি -এর ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফখরে হোসেন বলেন, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণ ও ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে শক্তিশালী করে, পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে নৈতিক সচেতনতা ও যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্বও তুলে ধরে। ড্যাফোডিল এআই ক্লাবের কনভেনর অধ্যাপক ড. ফারনাজ নারিন নূর বলেন, এই সেমিনারের লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী গবেষণাভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদীয়মান এআই প্রযুক্তি অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করা।
তরুণদের আত্মত্যাগ ও যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের নবযাত্রা সূচিত হয়েছে। অথচ তামাকের মরণছোবলে আজ প্রতিনিয়ত তরুণরাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই নবগঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে তরুণরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নটরডেম কলেজে নারী মৈত্রী ও নটরডেম কলেজ সোশিও -ইকোনোমিক ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি’ শীর্ষক যুব সমাবেশে তরুণরা এই দাবি জানায়। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ও সোশিও-ইকোনোমিক ক্লাবের মডারেটর ফারজানা হোসেন। সমাবেশে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ২ লাখ মানুষের, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি। তামাক ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৩৯.২ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত একটি ‘তামাক মহামারী’তে রূপ দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নিকোটিন পাউচ এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় ঘোষিত অন্য কোনো নিকোটিন দ্রব্য, তা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে; ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসের ব্যবহার, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার শর্তাধীন করা হয়েছে; ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও অধিক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে; এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। ফারজানা হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটিকে আইনে পরিণত না করা হলে এর প্রভাব সীমিতই থেকে যাবে।’ জনস্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে অনুমোদিত অধ্যাদেশটিকে কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনে রূপান্তর করতে নবনির্বাচিত সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘তামাক খাত থেকে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও তামাক ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং অকালমৃত্যুর কারণে দেশে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই ক্ষতি হ্রাস এবং মৃত্যু রোধের লক্ষ্যেই অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর টেকসই বাস্তবায়নের জন্য সংসদে পাস হওয়া অত্যাবশ্যক।’ তরুণদের পক্ষ থেকে মো. সাব্বির ফরাজী বলেন, ‘তামাক কম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু আমাদের মতো তরুণরাই। কারণ একজন তরুণকে একবার তামাক ধরাতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সে তামাকজাত দ্রব্যের ভোক্তা হিসেবে থাকবে। এমন প্রেক্ষাপটে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি অনুমোদন করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার দায়িত্ব নবনির্বাচিত সরকারের। কেননা রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে অঙ্গীকারও করেছিলো। তাই একটি তামাকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাস করে আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’ দিনব্যাপী আয়োজিত এই যুব সমাবেশে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মামলায় শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বরাবর এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। তার সেই জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি হবে। এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ মোট আসামি সাতজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তবে এই মামলার সব আসামি পলাতক। এদিকে, এ মামলায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক। তবে শেষ না হওয়ায় তার অবশিষ্ট জবানবন্দি আজ (বুধবার) গ্রহণ করার কথা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে দুজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমনপীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
দেখতে নিরীহ আর বিশ্বাসী হলেও মানুষের সামান্য ছোঁয়া প্রাণ কেড়ে নিতে পারে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনদের। সম্প্রতি পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন, যেখানে পেঙ্গুইনদের থেকে অন্তত ৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মানুষের শরীরে থাকা অতি সাধারণ কিছু জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া পেঙ্গুইনদের জন্য মরণব্যাধি হয়ে দাঁড়াতে পারে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম। এ ছাড়া মানুষের হাতের তেল বা লোশন পেঙ্গুইনের পালকের বিশেষ পানিরোধী ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে শরীরের উষ্ণতা হারিয়ে ঠাণ্ডায় জমে মারা যেতে পারে এই জলজ পাখিগুলো। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনের পথে বাধা দেওয়া বা তাদের স্পর্শ করা এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়ম ভাঙলে পর্যটকদের বড় অংকের জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঙ্গুইনরা নিজেরা মানুষের কাছে এলেও নিজের জায়গায় স্থির থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রকৃতিতে মানুষের সহমর্মিত অনেক সময় বন্য প্রাণীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই আমার লক্ষ্য। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন জায়গায় নিতে হবে, যাতে উন্নত দেশগুলোও আমাদের শিক্ষা ও গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ কথা বলেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমি কাজ করতে চাই। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব।’ এ সময় শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘হাস্যকর অবস্থান’ থেকে উন্নত পর্যায়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনো কম। আগে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। তারপর বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কারিকুলাম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। যেকোন পরিবর্তন বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে ৫৪ বছর পরও যদি শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে তা হতাশাজনক। আগে ঠিক করতে হবে আমরা কী চাই। অগ্রাধিকার ঠিক না করলে বাজেট বণ্টনেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট কম। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় জ্ঞানী না হলেও বোঝা যায়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে যথাযথভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। ফলে বাজেটে জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ দুই শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে। এটি পাঁচ বা ছয় শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।
মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রদত্ত গাইডলাইন পবিত্র কোরআন। হেরা পর্বতে আল্লাহর ধ্যানে থাকা অবস্থায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) হাজির হন রসুল (সা.)-এর কাছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি রসুল (সা.)-কে কোরআনের যে আয়াতটি প্রথমে পৌঁছে দেন সেটি হলো ‘পড়, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। মানবজাতিকে তিনি সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পড়, আর তোমার প্রতিপালক সম্মানিত, যিনি কলম দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তারা জানত না।’ সুরা আলাক-১-৫। কোরআনের এ আয়াতটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যারা আল্লাহকে সব ক্ষমতার মালিক এবং জগৎ-মহাজগতের সবকিছুর স্রষ্টা হিসেবে বিশ্বাস করেন, যারা মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর রসুল বলে স্বীকার করেন, যারা জিবরাইল (আ.)-কে ফেরেশতা হিসেবে বিশ্বাস করেন তাদের জন্য ওই আয়াতটি দিকনির্দেশনামূলক। পবিত্র কোরআনের সূচনা ‘পড়’ এই হুকুমসংবলিত শব্দের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য জ্ঞান অর্জনকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন তা এ আয়াতটিতে স্পষ্ট। অথচ রসুল (সা.) নিজেই ছিলেন অক্ষরজ্ঞানহীন। তিনি অক্ষরজ্ঞানের অধিকারী না হলেও আল্লাহর ইচ্ছা এবং জাগতিক ও পারলৌকিক জ্ঞানের ভান্ডার কোরআনের বদৌলতে উম্মতদের আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। আল্লাহ ও রসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাসের কারণেই মোমিনদের অবশ্য কর্তব্য হলো- জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হওয়া। কারণ আমাদের যিনি স্রষ্টা তিনি মানবজাতির চলার পথের গাইডলাইন হিসেবে যে পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন তাতে প্রথমেই পড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ পড়া অর্থাৎ জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কোনোরকম হেলাফেলার অবকাশ নেই। আমাদের উচিত হবে নিজেদের যেমন জ্ঞানার্জনে মনোযোগী হওয়া, তেমন আমাদের শিশুসন্তানকেও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। সে যাতে কোরআন-হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে তা নিশ্চিত করা। বড় হয়ে কর্মজীবনের উপযোগী শিক্ষাও সন্তানের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। যাতে সন্তান বড় হওয়ার পর জীবিকার জন্য কারও মুখাপেক্ষী না হয়। রসুল (সা.) অপরের কাছে হাত পাতাকে অপছন্দ করতেন। তিনি তাঁর উম্মতদের স্বাবলম্বী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত। শিক্ষা ব্যতিরেকে কোনো জাতির উন্নতি কল্পনা করা যায় না। জাগতিক ও পারলৌকিক উভয় জগতের সফলতা অর্জনে শিক্ষার বিকল্প নেই। এজন্য নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক ঐশী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষা প্রয়োজন। শিক্ষা, অজ্ঞতা ও অন্ধকার দূর করে মানুষকে কল্যাণ ও সমৃদ্ধির পথ দেখায়। মানবতার মুক্তির মহাগ্রন্থ আল কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দটি যেহেতু ‘পড়’ সেহেতু মানুষের কল্যাণ সাধনে শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। পবিত্র কোরআনে রসুল প্রেরণের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার কথা বর্ণনা করে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই ওই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মাঝে স্বয়ং তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসুল পাঠিয়েছেন যিনি তাদের তাঁর (আল্লাহর) আয়াত পাঠ করে শোনান, তাদের আত্মিক পরিশুদ্ধ এবং তাদের কিতাব (আল্লাহর বাণী) ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন। অথচ এর আগে তারা স্পষ্ট অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।’ সুরা জুমু’আ-২। ইসলাম জ্ঞানবিজ্ঞানে পান্ডিত্য অর্জন করা ও শিক্ষাদীক্ষায় দক্ষ ও সুশিক্ষা লাভ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এজন্য ইসলামের প্রথম যুগের মনীষীগণ শিশুদের একত্র করে শিক্ষাদীক্ষা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের শীর্ষে পৌঁছার প্রতি উৎসাহ প্রদান করতেন। হজরত হিশাম ইবনি উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর সন্তানদের একত্র করে বলেন, হে আমার সন্তানেরা! তোমরা ইলম শিক্ষা কর। যদিও তোমরা আজ জাতির ছোট শিশু। আশা করা যায় অচিরেই তোমরা পরবর্তীদের বয়োজ্যেষ্ঠতে পরিণত হবে। আর কোনো বয়োবৃদ্ধের জন্য এর চেয়ে খারাপ কোনো অবস্থা নেই যে, কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে তার কাছে কোনো ইলম (তথ্য) পাওয়া যাবে না। -সুনানে দারিমি। এ ব্যাপারে রসুল (সা.) এর দৌহিত্র হজরত হাসান (রা.)-এর একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনাও বর্ণিত আছে হজরত শুরাহবিল বিন সাঈদ (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত হাসান (রা.) তাঁর ছেলে এবং ভাতিজাকে ডেকে বললেন, হে আমার বৎস এবং ভাতিজা, তোমরা আজ জাতির ছোট শিশু-অচিরেই তোমরা পরবর্তীদের বয়োজ্যেষ্ঠতে পরিণত হবে। অতএব তোমরা ইলম শিক্ষা কর। তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি তা বর্ণনা করতে অথবা মুখস্থ করে সংরক্ষণ করতে সক্ষম না হয় সে যেন তা লিখে রাখে এবং তা নিজ ঘরে রেখে দেয় (সংরক্ষণ করে)।-সুনানে দারিমি। উল্লিখিত দুটি ঘটনা শিশুদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানের দলিল ও প্রমাণের নির্দেশনা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে ‘মাইন্ড দ্য হ্যাক’ শীর্ষক ইনট্রা ইউনিভার্সিটি বিজনেস কেস কম্পিটিশন ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) বিকাল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে ৮টি দল উদ্ভাবনী ও কৌশলনির্ভর ব্যবসায়িক সমাধান উপস্থাপন করে। বাস্তবধর্মী কেস বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের বিশ্লেষণী সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ ও পেশাগত প্রস্তুতির পরিচয় দেয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ‘ডুইং ইট ফর দ্য প্লট’ দল। রানারআপ হয় ‘টিম এজেডই’। এছাড়া ‘বিএডি আরওআই’ দল ইমার্জিং টিম হিসেবে পুরস্কৃত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। এসময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই আগামী দিনের স্বপ্ন বুনতে হয় এবং এখান থেকেই বাস্তব জীবনের প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। খুবি উপাচার্য বলেন, বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের বহুমুখী দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের বর্তমান পেশাগত অবস্থান জানতে একটি ট্রেসার স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই তা প্রকাশিত হবে। এর মাধ্যমে অ্যালামনাইদের সক্ষমতা ও কর্মক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আয়োজক ক্যারিয়ার ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও প্রতিযোগিতার বিচারক প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা থাকলেই পার্থক্য স্পষ্ট হয়। বাজার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে ব্যবসায় সফল হওয়া কঠিন। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জনই এ ধরনের প্রতিযোগিতার মূল শিক্ষা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, ক্যারিয়ার ক্লাবের উপদেষ্টা ও দি অফিস অব দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, প্রতিযোগিতার বিচারক সিটি ব্যাংকের খুলনা ব্রাঞ্চের এরিয়া ম্যানেজার হিমাদ্রি শেখর হোর ও ন্যাশনাল কেস কম্পিটিশনের চ্যাম্পিয়ন মোঃ আকিবুর রাহাত জিম। ক্লাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল ফয়সাল ও সেক্রেটারি রাহুল ঘোষ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ডেপুটি পাবলিক রিলেশন্স এন্ড কমিউনিকেশন সেক্রেটারি নাঈমা শিরিন দীপ্তি ও সদস্য তৌফিকুর সরকার ভূবন। এ সময় অংশগ্রহণকারী দলের সদস্য, ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্য ও আমন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এককভাবে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। মঙ্গলবার (১ে৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা হাসান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বিবৃতিতে এ কথা জানান। সাদা দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বৎসর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করায় জবি সাদা দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের উষ্ণ অভিনন্দন। নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নবগঠিত সরকার বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন সরকার আন্তরিক হবে এবং তাদের নেতৃত্বে এক নতুন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। সাদা দলের নেতারা আরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর মাতার হাতে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভূত উন্নয়ন নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।