অন্যান্য

তানিম রেজা বাপ্পি। ছবি : সংগৃহীত
অবশেষে ধরা পড়ল সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাপ্পি

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তারের পর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।   মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া রিজন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত বাইনের অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত এই বাপ্পি। সুব্রত বাইনকে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই বাপ্পি ও তার সহযোগীরা আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা অপরাধমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
টকশোতে অনেকে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন : রিজভীর

টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।    তিনি বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?    শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।    রিজভী বলেন, অনেক উপস্থাপক-উপস্থাপিকাকে দেখছি টকশোতে নানাভাবে শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন। যারা পাঁচ আগস্টের পরে ছিলেন না, তারা ধীরে ধীরে জয়েন করছেন এবং শেখ হাসিনার গুণগান গাওয়ার চেষ্টা করছেন।   রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? বেগম খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।    তিনি বলেন, ইতিহাসের যে উল্লে­খযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল, সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।   রিজভী আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ছিল ঘৃতাহুতির (আগুনে ঘি ঢালা) মতো। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের রাজনীতি হচ্ছে বারবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। কিন্তু আমি দেখেছি, কিছুদিন পর পর তারা নিজেরাই ঘোলা পানিতে পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে। কিন্তু তাদের আদর্শ কী? গোটা দেশ স্বাধীনতার পক্ষে গেলেও তারা ছিল বিপক্ষে। সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে জনগণ- তা মেনে নেবে না।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।    তিনি বলেন, ২৪-এর ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশ ছিল। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। নানা বাধা পেরিয়ে প্রেস ক্লাবে পৌঁছানোর পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ করে। পরে আমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।    রিজভী বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমি আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পারি। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।   শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, শিশু হত্যাকারী, কিশোর হত্যাকারী, তরুণ হত্যাকারীর মাফ হবে কী করে? তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়।    তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজেরও মূল্যায়ন করা উচিত। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সারা দেশে নিহতদের স্মরণ করেন রিজভী। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।   সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজপথে এবি পার্টির কফিন মিছিল

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে এবি পার্টি। শুক্রবার বিকাল ৪টায় এই মিছিল শুরু হয়।   মিছিলটি বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।   মিছিল শুরুর আগে বক্তব্য‍ রাখেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।   তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ৭১ এর শহীদদের বাস্তব অনুসারী, তারা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা তাদের সার্থক উত্তরসূরি। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’। যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবেন তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আমাদের আজীবন পথ দেখাবে এবং আমাদের গৌরবময় জুলাই বার বার ফিরে আসবে।    এসময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত: নাহিদ ইসলাম

উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক কৃষক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় বর্তমান সরকার এ অঞ্চলকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলা করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি, যা আঞ্চলিক বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তুলেছে। কৃষিখাতের বর্তমান সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কৃষকদের জন্য প্রবর্তিত ‘কৃষক কার্ড’ কেবল আর্থিক সহায়তার একটি মাধ্যম মাত্র, যা কৃষির মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং এই কার্ডকে ঘিরে নতুন করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কুড়িগ্রামের আলু চাষিদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হচ্ছে। সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষি খাতে আধুনিকায়ন এবং সরকারি খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানান তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের মতো সাহসী সন্তানেরা আত্মত্যাগ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী এই আন্দোলনে অবদান রাখলেও বাজেটে উত্তরাঞ্চলের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহত কুড়িগ্রামের রাজিব হাসানের মা জান্নাতুল ফেরদৌসসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ এতে অংশ নেন। বক্তারা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর পরও সওয়াব পৌঁছায় যে ৬ আমলে

মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তার জন্য জীবিতদের কিছু আমল মৃত্যুর পরও উপকার বয়ে আনতে পারে। ইসলামে এমন কিছু কাজের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, তার অধিকার আদায় করা এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা যায়। তবে এসব আমল অবশ্যই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। নিচে মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে—এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো—   ১. মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং তার ক্ষমা প্রার্থনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন— وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ ‘আর যারা তাদের (পূর্ববর্তী মুমিনদের) পরে এসেছে, তারা বলে— হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন, যারা ইমানের সঙ্গে আমাদের আগে চলে গেছেন।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ১০) রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজা শেষে সাহাবিদের উদ্দেশে বলতেন— اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ؛ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য অবিচল থাকার দোয়া করো। কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (আবু দাউদ ৩২২১)   ২. তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে আল্লাহ চাইলে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— إِنَّ أُمَّ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ تُوُفِّيَتْ... فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ، أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ ‘সাদ ইবন উবাদা (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন— হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সদকা করব? তিনি বললেন— হ্যাঁ।’ (বুখারি ২৭৬২)   ৩. মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটি দ্রুত আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ ‘মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।’ (তিরমিজি ১০৭৮)   ৪. তার ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা মৃত ব্যক্তি যদি শরিয়তসম্মত কোনো ওসিয়ত করে যান, তবে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন— مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ‘(সম্পদ বণ্টন হবে) তার কৃত ওসিয়ত পূরণ এবং ঋণ পরিশোধের পর।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১১) তবে ওসিয়ত অবশ্যই শরিয়তসম্মত হতে হবে এবং ইসলামী বিধানের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।   ৫. তার পক্ষ থেকে হজ করা যদি কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় হজ ফরজ হওয়ার পরও তা আদায় করতে না পারেন এবং শরিয়তের শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে হজ করা বৈধ। এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন— إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا... أَفَأَحُجُّ عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। তার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনে বসে যাত্রা করার সামর্থ্য রাখেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন— হ্যাঁ।’ (বুখারি ১৫১৩, মুসলিম ১৩৩৪)   ৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও তার সৎ বন্ধুদের সম্মান করা মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তার প্রিয় বন্ধুদের সম্মান করা তার প্রতি উত্তম আচরণের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ مِنْ أَبَرِّ الْبِرِّ صِلَةَ الرَّجُلِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ ‘সর্বোত্তম সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হলো— কোনো ব্যক্তি তার পিতার প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’ (মুসলিম ২৫৫২) মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উপকারী আমল হলো আন্তরিক দোয়া, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং তার অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হওয়া। পাশাপাশি তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা, ঋণ পরিশোধ করা, শরিয়তসম্মত ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা, প্রয়োজন হলে তার পক্ষ থেকে হজ করা এবং তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও সুন্নাহসম্মত আমল। এসব কাজের মাধ্যমে আমরা একদিকে মৃত ব্যক্তির প্রতি দায়িত্ব পালন করি, অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমাদের মৃত বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও সকল মুমিন-মুমিনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার এবং তাদের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি
চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান

চেক ডিজঅনারের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের এ আদেশ দেন।   আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।    এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।     মামলার অপর আসামিরা হলেন, আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।   মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি ‘Insufficient Fund’ (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের রায় ২৮ জুলাই

সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুদকের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত।      বুধবার দুপুরে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার দুই নম্বর বিশেষ জজ আয়েশা নাসরিনের আদালত এই দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক এতথ্য নিশ্চিত করেন।   এ মামলায় দুদকের অভিযোগ— আসামি এস কে সুরের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের নামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার জন্য নোটিশ জারি করা হয়। তবে এই আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। Maps   এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন। পরের বছরের ৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।    এ মামলায় ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর  আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকালে ৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনই সাক্ষ্য দিয়েছেন ।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
বৃহস্পতিবার খুলছে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র

  নতুন কোনও দুর্যোগ না হলে আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে পর্যটকদের জন্য বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সানিউল ফেরদৌস।   তিনি বলেন, বান্দরবানের অসংখ্য মানুষ পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই ১৫ জুলাইয়ের পর বড় ধরনের কোনও দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলে ১৬ জুলাই থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আবার চালু করা হবে।   জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এই দুর্যোগে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। এভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করলে যে কোনও দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব   সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না, বরং তা ছিল শোষণের পুরোনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক সাতমাথায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।   বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সারজিস আলম বলেন, গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ যে কথাগুলো বলেছেন, আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। যে গণভোটের পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে, তা যদি বৈধ না হয়, তবে এই সরকারেরও কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। বৈধ হলে সরকারের সবকিছুই বৈধ হবে, অবৈধ হলে দুটিই অবৈধ হবে।   এর আগে, বিকেল থেকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জুলাই পথসভা শেষে সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের দত্তবাড়ী এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি থানামোড় এলাকায় পৌঁছালে সারজিস আলম ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এতে যোগ দেন। পরে পদযাত্রাটি শহরের সাতমাথায় এসে মূল সমাবেশে মিলিত হয়।   সমাবেশে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের ‘ব্রয়লার মুরগি’ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বলে ছোট করার সুযোগ নেই। তারা যখন রাজপথে রক্ত ও জীবন দিচ্ছিল, তখন আপনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না। আপনি ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং তাদের সমস্যা বুঝে ব্যবস্থা নিন। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে দুই-চার দিন পরীক্ষা পেছানো কোনোদিন বড় হতে পারে না।   বিগত সরকারের আমলে বগুড়ার প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। শুধু বগুড়ার বাসিন্দা হওয়ার কারণে চাকরির ভেরিফিকেশন ও ভাইভা বোর্ডে মানুষকে অপমান করা হয়েছে। আমরা আগামীতে এই বৈষম্য আর দেখতে চাই না। তবে বগুড়ার নাম ভাঙিয়ে আগামী ৫ বছরে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজি করার স্পর্ধা দেখায় তাদেরও বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না।   সমাবেশে তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। একই সঙ্গে দিনের বেলা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে রাতে তার ভাগ নেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের হুঁশিয়ারি দেন।   সাতমাথার এই সমাবেশ থেকেই বগুড়া সদর উপজেলার আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে জাতীয় ছাত্র শক্তির বগুড়া জেলার আহ্বায়ক এ এম জেড শাহরিয়ার জুহিনের নাম ঘোষণা করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, আমরা টাকা বা পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নয়, জুলাইয়ের পক্ষে ইনসাফ ও ন্যায়ের লড়াইয়ে থাকা তরুণ প্রার্থীকে বেছে নিয়েছি।   এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আবদুস সবুর সুমনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমা না চাইলে সারজিস-তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপি। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির নেতারা।    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারকে মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে জেলাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় পাবনায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।   সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার জানান, ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক সফর করেন। বিএনপি তাদের স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দুই নেতা তাদের সভা-সমাবেশে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির পাবনা জেলা শাখা এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তাদের বক্তব্য ছিল উসকানিমূলক ও সংসদ সদস্যের সম্মানহানির অপচেষ্টা। তাদের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শিমুল বিশ্বাসের নামে তারা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পাবনার মানুষের মনে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য পাবনাবাসীর কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে পাবনার জনগণ যেকোনো সভা-সমাবেশে সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন।   মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, ‌‘সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজে পাবনার জনগণের নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। পাবনার জনগণ তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে পাবনার জনমনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করা সম্ভব নয়।’   সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, আনিসুল হক, নূর মোহাম্মদ মাসুম, শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিমেল রানাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   এ বিষয়ে পাবনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক বরকতুল্লাহ ফাহাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বক্তব্য দিয়েছি। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, সেটিও আমরা জেনেছি। আজ সন্ধ্যার পর এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’   গত ৯ জুলাই পাবনা সফরে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষার অভিযোগ করেছিলেন, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ইন্ধনে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছেন না। জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানসহ পাবনার আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তিনি। ওই বক্তব্যর পর থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। গত কয়েক দিনে জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, সেচ্ছাসবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবে বিএমইউ

শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসাবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করতে পারবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এই ক্ষমতা দিয়ে আনা ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।   মূলত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য এ বিল পাস করা হয়েছে। তবে বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দল।   বিল পাস হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, এই বিল পাস হলে চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ হবে। এটি নজিরবিহীন হবে। এটি হলে এই হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষ এখনকার মতো সেবা পাবেন না। দরিদ্র মানুষ সেবাবঞ্চিত হবে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় আয় বা ব্যবসার জন্য কাজ করবে, তখন আর জনকল্যাণ থাকবে না।   বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশে স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাই। এখানে তাঁরাই আসেন, যাদের সামর্থ্যে কুলায় না। এখন লাভজনক কোনো বিষয় যুক্ত করা হলে জনগণের ওপর দায় চাপবে। যতটুকু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে তাতেও বিঘ্ন ঘটবে।   বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দক্ষ, উঁচু মানের একটি হাসপাতাল করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ হাসপাতাল থেকে লাভ হলে, সেটা কেউ বাইরে নিতে পারবে না। এখানে সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটাকে কোম্পানি আইন দিয়ে অধিক বিজ্ঞ এক্সপার্ট লোক এনে আরও ভালো, উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। অনেক দরিদ্র মানুষ এখানে যেতে পারবেন না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা ঠিক না। দরিদ্রদের জন্য কোটা থাকবে। হাসপাতালকে জনকল্যাণমুখী করা হচ্ছে। এখানে সন্দেহ থাকার কোনো অবকাশ নেই।   একপর্যায়ে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসেবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের অধীনে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা বা অন্য কোনো আইনের অধীনে দাতব্য কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্যে কোনো সংগঠন গঠন করা এবং এ ধরনের কাজ থেকে উদ্ভূত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। যেকোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করতে পারবে।   বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এবং পরিচালনার পদ্ধতি সুস্পষ্ট না হওয়ায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পরিচালনা পদ্ধতি ও জনবল নিয়োগ করার জন্য এই হাসপাতালকে কোম্পানি আইনের অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা পেছাল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহস্পতিবারে (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স ও ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিমের স্বাক্ষর করা পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত তারিখ অনুযায়ী ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জুলাই এবং প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষা হবে ১১ আগস্ট।   এ ছাড়া পূর্বঘোষিত অন্য সব তারিখ ও সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত অথবা যেকোনো তথ্যের জন্য www.nu.ac.bd ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ব্যতিত অন্য কোন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসরণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।   বিস্তারিত দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
পদার্থ, হিসাব ও যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষা আবার হবে : শিক্ষামন্ত্রী

‘ফার্মের মুরগী’ বক্তব্য ইস্যুতে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬ পাসের আগে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী এই দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি।   যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।   এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীর এই দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান।   পরীক্ষা পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা। এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল, অনেকেই ভিজেছে এবং পরীক্ষায় সঠিক ভাবে দিতে পারেনি- এই ধরণের কমপ্লেন এসেছে। আমরা যদিও সবসময় প্রশ্নপত্রের ব্যাপারে সজাগ ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসছে এই পরীক্ষাটি নিয়ে।    তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় পরীক্ষা নিতেই হবে। এইক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষার আরেকটি প্রশ্নপত্রের সেটে যখন আমরা নিতে যাব— পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাব বিজ্ঞান, সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব- ইনশাআল্লাহ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
শেয়ারদর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ডিএসইর সতর্কতা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। কোম্পানি তিনটিতে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ডিএসই। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।   কোম্পানি ৩টি হলো- এটলাস বাংলাদেশ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং দেশ গার্মেন্টস।   জানা গেছে, ১২ জুন এটলাস বাংলাদেশ, ১৩ জুন শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ১৪ জুন দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর ব্যাখ্যার উত্তরে কোম্পানি ৩টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই তাদের শেয়ার দর এভাবে বাড়ছে।   বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটলাস বাংলাদেশের শেয়ার দর ৩০ জুন ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। আর ১২ জুলাই লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ ৭ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২২ টাকা বা প্রায় ৩৩.৩৮ শতাংশ।   এদিকে, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর ৫ জুলাই ছিল ২১ টাকা ৯০ পয়সা। আর ১৩ জুলাই লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ২০ পয়সায়। অর্থাৎ ৬ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৩৩.৩৩ শতাংশ।   অপরদিকে, দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর ৮ জুলাই ছিল ১৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ১৪ জুলাই লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬৯ টাকা ৩০ পয়সায়। অর্থাৎ ৪ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২১ টাকা ৭০ পয়সা বা প্রায় ১৪.৭০ শতাংশ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ত্রুটি, ৪ শিক্ষককে শোকজ

এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নে ত্রুটি ও অসঙ্গতির ঘটনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের দায়িত্বে থাকা ৪ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড।   সোমবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীনের সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।   নোটিশ পাওয়া শিক্ষকরা হলেন-শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান ও সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।   নোটিশে বলা হয়, ১৩ জুলাই (সোমবার) সকালের পরীক্ষা চলাকালীন পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১ম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নং প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি ও অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি থাকায় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের চরম মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।   একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও পরিশোধক হিসেবে প্রশ্নপত্রে এই ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার শামিল এবং এ ধরনের কাজে সিলেট বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।   প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতি থাকার কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এর জবাব পত্র প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
এক মাস ধরেই হরিদাসের খোঁজে ছিল সিআইডি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের আগে প্রায় এক মাস ধরে তার আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।   পুলিশের এই তদন্ত সংস্থার দাবি, অনুসন্ধানে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মঙ্গলবার সিআইডি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে কথা বলেন।   তিনি বলেন, "প্রায় এক মাস আগে আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য পাই।"   সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে চারটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং একটি সিটি ব্যাংকে রয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দুটি হিসাব ময়মনসিংহ শাখায়, একটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি শাখায় এবং একটি ঢাকার উত্তরা রবীন্দ্র সরণি শাখায়। সিটি ব্যাংকের হিসাবটি পলাশবাড়ি শাখায়।   এ ছাড়া দুটি বিকাশ, একটি নগদ এবং একটি রকেট অ্যাকাউন্টের তথ্যও পেয়েছে সিআইডি।   মনিরুজ্জামান বলেন, এসব হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হয়েছে। উত্তোলন করা হয়েছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা।   সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পলাশবাড়ি শাখার হিসাবে, প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে উত্তরা রবীন্দ্র সরণি শাখার হিসাবে, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়ে পুরো অর্থই উত্তোলন করার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।   মনিরুজ্জামান বলেন, মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি হরিদাসের তিনটি ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছেন।   "এ ছাড়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর হরিদাস আমাদের বলেন, মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তরা বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ দিয়েছেন।"   সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেশে ও বিদেশ থেকে হরিদাসের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।   "যারা টাকা পাঠিয়েছেন, তারা অন্য কারও হয়ে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। আবার জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাসও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"   মনিরুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরিদাসকে নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর সিআইডি নিজস্ব গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে।   তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় অঙ্কের লেনদেন হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে কোনো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আগে জানায়নি।   গত রোববার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।   পরে একই রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।   মামলায় বলা হয়, লেনদেন হওয়া অর্থ ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার তথা হুন্ডির মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্জিত’—এমন প্রাথমিক সন্দেহ থেকে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনও চলছে।   মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ লেনদেন না করে মন্দিরের নামে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হলে অর্থের উৎস ও ব্যয়ের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকত।   সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশাল বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, এটি হবে এশিয়ার বৃহত্তম রাম বিগ্রহ।   এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।   স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন হরিদাস। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন।   সিআইডি বলছে, হরিদাসরা চার ভাই। তার দুই ভাই ভারতে থাকেন এবং হরিদাসসহ দুই ভাই বাংলাদেশে বসবাস করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেন শামীম হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বতন্ত্র সাবেক ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এনইউবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকতার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত ৮ জুন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন।   বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলা অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধানের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পদত্যাগপত্রটি ওই তারিখ থেকেই কার্যকর করেছে।   পদত্যাগপত্রে তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটিতে কাটানো কর্মদিবসগুলোর অভিজ্ঞতা, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে নর্দান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছিলেন শামীম। তবে যোগদানের অল্প কিছুদিনের মাথাতেই তিনি এই শিক্ষাকতা পেশা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৪, ২০২৬
বক্তব্য দিচ্ছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্যে কাজ করবে এবি পার্টি

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন থাকাই স্বাভাবিক। তবে তাদের এসব অপচেষ্টা জুলাইপন্থী শক্তির ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।   আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জীবনপণ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।   মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরব। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। যারা আজ জুলাইকে খাটো করার চেষ্টা করছে, তাদের অতীত অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা বরাবরই জুলাইবিরোধী শক্তির অংশ ছিল। অথচ আবরার ফাহাদ হত্যা, বিশ্বজিৎ হত্যা কিংবা ধারাবাহিক ধর্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে তারা কখনোই সোচ্চার ছিল না।   তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। তারা ভুলে গেছে, প্রায় তিন শতাধিক সংসদীয় আসন নিয়ে ক্ষমতায় থাকার পরেও জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিষেধক।   মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উঠলেই এবি পার্টির নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। এই অবস্থান কাউকে দিয়ে অর্জন করা হয়নি; অসীম ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তা অর্জিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এবি পার্টি নিজেদের সামর্থ্যেরও বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। সার্বক্ষণিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল, কারফিউ ভেঙে মিছিল হয়েছে, নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।    আন্দোলন সফল না হলে এবি পার্টির কার্যালয় হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত এবং দলের নেতৃত্বের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন।   তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবি পার্টি বিশ্বাস করেছে,জনগণই আন্দোলনের মূল শক্তি। আমরা বলেছিলাম, জনগণই রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শূন্য থেকে গড়ে ওঠা একটি অর্গানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে এবি পার্টি শুরু থেকেই ঝুঁকি নিয়েই পথচলা শুরু করেছে।   তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনেক দল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বিভক্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। এবি পার্টি মধ্যপন্থার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা ধর্মীয় দল নই, তবে ধর্মভিত্তিক সব দলের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা ক্ষমতাসীন দলও নই, কিন্তু রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখি। এখন এবি পার্টির রাজনীতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে গণভিত্তিক ও ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।   সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান বলেন, এবি পার্টির রাজনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।   যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা রাজপথে ছিলাম। ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও আমরা একইভাবে প্রস্তুত থাকব। যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করে যুব পার্টিকে শক্তিশালী করা হবে।   সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ,  সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব পার্টির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান ইমতু, সদস্য সচিব ইশরাত জাহান লিজা, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সাবেরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ফিরলেই কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে: প্রধান কৌঁসুলি

প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরানো হলে তার আত্মসমর্পণের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।   তিনি বলেছেন, “সরকার—ভারত সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে যে তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো নিজে নিজে তার আসার কোনো সুযোগ নাই।   “হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন) আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হ্যান্ডওভার করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।”   রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।   মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।   বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।   এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এ বক্তব্য দিয়েছে শেখ হাসিনা। বরং সরকার কূটনৈতিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”   দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন হয়েছে, এরকম নজির নাই।   দেশে ফেরার পর আইনি পদক্ষেপ কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে তো সংগত কারণেই যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ—তিনি প্রথমত জেলে যাবেন এবং জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।”   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেখ হাসিনা আপিলের অধিকার খুইয়েছেন জানিয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “সেকশন ২১ এর ৩ পরিষ্কার করে বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয় তা হবে।”   সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেন্টেন্সের সাথে কিন্তু তার সম্পত্তি যেগুলো আছে বাংলাদেশে, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সেটাও বাজেয়াপ্ত করেছে। অতএব তার ব্যাংকে যদি কোনো টাকা থাকে; তার যদি ইমুভেবল কোনো প্রপার্টি থাকে, তাহলে সেটা কিন্তু এখন রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা। এটার মালিকানা কিন্তু আর তার নাই।”   ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।   জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।   ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।   ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।   এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে । দ্রুতই এগুলোর প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।   আওয়ামী লীগের শাসনামলের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অভিযোগগুলোও তদন্তাধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যেভাবে দেখবেন প্রাথমিক বৃত্তির ফল

প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসএমএস কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই ফল জানতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।   অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে DPE লিখে একটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। কিছুক্ষণ পর ফিরতি এসএমএসে বৃত্তির ফল জানা যাবে।   এ ছাড়া অনলাইনে ফল দেখতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করে বিস্তারিত ফলাফল ও মার্কশিট দেখা যাবে।   ফলাফল দেখতে ভিজিট করুন: https://ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক বৃত্তির তালিকায় ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার মোট বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন।   আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।   এসময় অন্যান্যের মধ্যে প্রাথনিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।   এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।   এবার প্রাথমিকে মোট বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন। ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড শুরু হয়েছে। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে ফল আপলোড শেষ হবে। তখন সবাই ফল পেয়ে যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

আমরা হরমুজ প্রণালির নাম দেব ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’: ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬