অন্যান্য

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নেতাদের হাতে শিক্ষক হেনস্তা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষককে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে টেনে নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে ওই শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে আনা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে তার মোবাইল ফোনেও তল্লাশি চালানো হয়।   হেনস্তার শিকার শিক্ষক হলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সময় চাকসুর কয়েকজন সম্পাদকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হাসান মোহাম্মদ জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলে তাকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করলে ভয়ে দৌড়ান। এরপর তাকে আটক করে ভিড় তৈরি করা হয়। চাকসুর নেতারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসান মোহাম্মদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষক ভয় পেয়ে দৌড়ান এবং গাছের গুঁড়িতে আঘাত পান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসান মোহাম্মদ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি কোনো দায়িত্বে ছিলেন না এবং কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার বা মামলা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।   পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, তদন্ত চলমান থাকলেও কোনো শিক্ষক বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পরীক্ষা দায়িত্বে থাকতে পারেন। প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তারা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যে বোতলে পানি রাখেন, তা কি নিরাপদ?

পানি আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, সেটা যে পাত্রে রাখা হচ্ছে সেটিও নিরাপদ হওয়া উচিত। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভুল ধরনের বোতলে রাখা পানি শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে।   ঘরে, অফিসে বা বাইরে ব্যবহারের জন্য কোন ধরনের বোতল বেছে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্টিলের বোতল: চিকিৎসকদের মতে, পানি রাখার জন্য স্টিলের বোতল সবচেয়ে নিরাপদ। এটি ভাঙে না, পানির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় না এবং স্বাদ বা গন্ধও পরিবর্তিত করে না। এছাড়া গরম চা বা কফি রাখা যায়, তাই দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আদর্শ। অ্যালুমিনিয়ামের বোতল: হালকা হওয়ায় অনেকেই ব্যবহার করেন, কিন্তু চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন যে অ্যালুমিনিয়াম ঠান্ডা বা গরম তরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম শরীরে জমে শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এড়িয়ে চলাই ভালো। তামার বোতল: গ্রামীণ বাংলায় এক সময় মাটির বা তামার পাত্রে পানি রাখা হতো। তামার বোতলে পানি রাখার সুবিধা হলো এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে তামার বোতলে শুধুমাত্র সাধারণ পানি রাখা নিরাপদ; লেবু পানি বা অ্যাসিডযুক্ত পানীয় তামার সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে। চিকিৎসকেরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যে কোনো ধাতব বোতল কিনুন, তা অবশ্যই ফুড গ্রেড হতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। না হলে বোতলের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।   শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নয়ন ও বাণিজ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি’ চালুর পরিকল্পনা

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি নিরূপণে ‘ধারাবাহিক মূল্যায়নে’র পাশাপাশি ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ বা লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে, যা চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন প্রণীত ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি, ২০২৬’- এর খসড়া অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই নির্দেশিকাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বিদ্যালয়) রেবেকা সুলতানা বাসসকে জানান, প্রাথমিকের জন্য এনসিটিবি প্রণীত খসড়া মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আগামী ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভা আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, সভাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং সচিবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, চলতি বছর থেকে নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে কি না। এনসিটিবি প্রণীত নতুন ‘মূল্যায়ন’ নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথাগত লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিষয়ে বাধ্যতামূলক মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে, পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে পাসের জন্য ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাস নম্বর ৩৩ শতাংশ করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীকে প্রতি প্রান্তিকে মোট ৮৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি থাকতে হবে। আর প্রতি প্রান্তিকের সামষ্টিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতাজনিত/অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে, শিক্ষার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন প্রশ্নপত্রে বিকল্প পরীক্ষা গ্রহণ করবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফলাফল ও শিখন অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরিতে মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ, শিখন অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।  গত ২১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক পত্রে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন ও নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানিয়েছে এনসিটিবি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতে আমরা একটি সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা পাঠিয়েছি। তবে-এ বিষয়ে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করবে, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করবো।’  তিনি জানান, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমরা শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘সমন্বিত মূল্যায়ন’ নির্দেশিকা তৈরি করেছি। এখন মন্ত্রণালয় একটি সভা ডেকে নির্দেশিকাটি অনুমোদন করবে।   মূল্যায়নে ফিরছে পরীক্ষা ও নম্বর বিভাজনে যা থাকছে : খসড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে এই স্তরে শুধু শ্রেণি কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হলেও, এখন থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত পরীক্ষা বা সামষ্টিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব করেছে এনসিটিবি।  প্রস্তাবনায় শ্রেণিভিত্তিক নম্বরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে ৫০ নম্বরের এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির হবে ৩০ নম্বরের। অন্যদিকে প্রতি প্রান্তিকে একবার সামষ্টিক মূল্যায়ন করতে হবে। এই মূল্যায়নের নম্বর হবে ৭০ করে।  প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নম্বর বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ৫০ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নে (সারা বছরের পারফরমেন্স) এবং বাকি ৫০ নম্বর থাকবে সামষ্টিক মূল্যায়নে (লিখিত ও মৌখিক)। এই দুই শ্রেণির অন্যান্য বিষয়ে (চার বিষয়) ৫০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বর ধারাবাহিক ও ২৫ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নে বরাদ্দ করা হয়েছে।  এনসিটিবি জানিয়েছে, যে-সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক পেয়ে থাকে,  সে-সকল বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন হবে। যে-সকল বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক নেই, সে-সকল বিষয়ে ৫০ নম্বরের মূল্যায়ন হবে।   অন্যদিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান ও ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নে। আর ৭০ নম্বর থাকবে সামষ্টিক মূল্যায়নে। এই ৭০ নম্বরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হবে। এছাড়া শিল্পকলা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ধারাবাহিক ১৫ এবং সামষ্টিক মূল্যায়নে ৩৫ নম্বর রাখা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বাসসকে বলেন, নির্দেশিকাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। এ সপ্তাহেই মন্ত্রণালয়ে এটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।  তিনি আরও বলেন, ‘সামনে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নতুন সরকারের কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম নিয়ে ভিন্ন কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হলে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে করতে হয়। তাই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর আগে সব দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রমসহ কিছু কিছু মূল্যায়ন পদ্ধতি চলমান রয়েছে। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করার আগে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়েই শুরু করতে হবে। নতুন পদ্ধতিতে যা থাকছে :  প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনটি প্রান্তিকে (টার্ম) মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে। পাঠ্য পুস্তকের কাজ, শ্রেণি কাজে সক্রিয়তা এবং নিয়মিত ক্লাস টেস্টের মাধ্যমে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে; লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি পারফরমেন্স যাচাইয়ে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে; পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৮৫ শতাংশ উপস্থিতি এবং গড়ে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।  ফলাফল প্রকাশ করা হবে ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’-এই চারটি গ্রেডে। অর্থাৎ অতি উত্তম, উত্তম, সন্তোষজনক, সহায়তা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যারা শূন্য থেকে ৩৯ নম্বর পাবে-তাদের গ্রেড হবে ‘ঘ’। মানে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীর মানোন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দাবি আদায়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাওয়ের ঘোষণা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঢাকায় অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কয়েকদিন আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা চলাকালে ও পরে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেন ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অনেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক পরীক্ষার্থী হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঠাকুরগাঁওয়ে লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বরগুনায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। জামালপুরে একই অভিযোগে চার পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন এবং রংপুরে দুইজনসহ সারাদেশে শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতির অভিযোগে ধরা পড়েছেন। তবে জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকলেও পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ছিল। শিগগিরই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে মোট কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত ছিলেন, সে তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি অধিদপ্তর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
কুয়াশাচ্ছন্ন ঢাকার আকাশ। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার শীত নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, ফলে আগের তুলনায় দিনে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্কই থাকবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে, যা তাপমাত্রা সামান্য কমাতে ভূমিকা রাখবে। এদিন ভোর ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৮ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা হাড়কাঁপানো হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রাত গভীর হলেই জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলো ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে, কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। এতে মহাসড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরেই কাজে বের হতে হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শীত এলেই ত্বকে লালচে দাগ?

শীতকাল মানেই গরম পানীয়, নরম কম্বল আর জানালার বাইরে সাদা কুয়াশার মায়াবী দৃশ্য। কিন্তু এই আরামদায়ক সময়ের সঙ্গে অনেকের জীবনে হাজির হয় এক অস্বস্তিকর সমস্যা—উইন্টার র‌্যাশ। ত্বকে লালচে দাগ, খসখসে ভাব, চুলকানি—সব মিলিয়ে শীতের আনন্দ যেন খানিকটা ম্লান হয়ে যায়। অনেক সময় এ উপসর্গগুলো দেখে মনে হতে পারে, এটা কি একজিমা? নাকি সাময়িক শীতজনিত ত্বকের সমস্যা?   এ দুইয়ের পার্থক্য জানা থাকলে অযথা দুশ্চিন্তা এড়ানো যায় এবং ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়াও সহজ হয় উইন্টার র‌্যাশ কী এবং কেন হয় শীত পড়লেই অনেকের ত্বকে এক অদ্ভুত অস্বস্তি শুরু হয়। বাইরে ঠান্ডা হাওয়ায় বেরোতেই ত্বক যেন টানটান হয়ে আসে, কোথাও লালচে ভাব, কোথাও খসখসে দাগ। এ সমস্যাটিই পরিচিত উইন্টার র‌্যাশ নামে। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়। ফলে ত্বকের বাইরের স্তর খুব দ্রুত নিজের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। আর্দ্রতার অভাবে ত্বক ডিহাইড্রেট হয়ে পড়ে, যার ফলেই দেখা দেয় লালচে ভাব, শুষ্কতা ও টান ধরার মতো অনুভূতি। উইন্টার র‌্যাশ সাধারণত ত্বকের খোলা অংশে বেশি দেখা যায়, যেমন—হাত, মুখ, বাহু বা কবজি। এ অংশগুলো সরাসরি ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে আসে বলেই সমস্যা বেশি হয়। একজিমা আসলে কী? একজিমা একটি ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) ত্বকের সমস্যা, যা মূলত ত্বকের প্রদাহের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, একজিমা তখনই দেখা দেয়, যখন ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এই ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে গেলে ত্বক খুব সহজেই বাইরের পরিবেশের প্রভাবে জ্বালা ও প্রদাহে আক্রান্ত হয়। এমনকি খুব মৃদু আবহাওয়াতেও একজিমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শুধু শীত নয়, একজিমা বছরের যে কোনো সময় হতে পারে, তবে ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় এর উপসর্গ অনেক বেশি বেড়ে যায়। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে, যা একজিমার ফ্লেয়ার-আপকে ত্বরান্বিত করে। একজিমার সাধারণ লক্ষণ হলো—উইন্টার র্যাশের তুলনায় বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী, তীব্র চুলকানি, লাল ও খসখসে দাগ, ত্বকে খোসা পড়া, বারবার চুলকানোর ফলে ত্বক মোটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া। শরীরের কনুই ও হাঁটুর ভাঁজে, গলায়, চোখের পাতায়, হাতে কখনো কখনো বুকের অংশে একজিমা বেশি দেখা দেয়। এই নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে র‌্যাশ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। একজিমার সঙ্গে রয়েছে পারিবারিক যোগসূত্র। যাদের পরিবারে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা একজিমার ইতিহাস রয়েছে, তাদের একজিমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এখানেই একজিমা সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। একজিমা না সাধারণ র‌্যাশ—কীভাবে বুঝবেন? ঠোঁট, হাত, মুখ বা শরীরের অন্যান্য অংশে র‌্যাশ বা চুলকানি দেখা দিলে প্রথমে জানতে হবে এটা কি সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ নাকি একজিমা? বিভিন্ন ধরনের র‌্যাশ চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। র‌্যাশের ধরন ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন: র‌্যাশ কতদিন ধরে আছে, সাধারণ যত্ন বা ওষুধের পরে কতটা উন্নতি হচ্ছে। যদি আপনার ত্বক এক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং চামড়ার প্রতি যত্ন নেওয়ার পরে ভালো হয়, তাহলে এটি সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ হতে পারে। ডার্মাটোলজিস্টরা বলেন, যদি র‌্যাশ সঠিক যত্নের পরও বাড়তে থাকে, ব্যথা শুরু হয়, ফাটতে বা রক্ত পড়তে থাকে, তাহলে এটি একজিমার লক্ষণ। অনবরত চুলকানি থাকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা, যা নির্দেশ করে কিছুটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কখন ডার্মাটোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত? যদি ওভার দ্য কাউন্টার ক্রিম ব্যবহার সত্ত্বেও এক-দুই সপ্তাহে উন্নতি না হয়, ডার্মাটোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শীতকালে ত্বকের যত্নের সেরা রুটিন শীতকালে ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ শীতকালীন র‌্যাশ এবং একজিমার মধ্যে পার্থক্য জানা যেমন জরুরি, তেমনি ত্বককে সঠিকভাবে হাইড্রেট ও সুরক্ষিত রাখার উপায়গুলোও জানা প্রয়োজন। শীতকালে ত্বকের যত্নের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস— হাইড্রেশনই মূল চাবিকাঠি: ত্বককে হাইড্রেট রাখতে ঘন, পেট্রোলিয়ামভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। হাত ধোয়া বা গোসলের পর সঙ্গে সঙ্গেই লাগান, যখন ত্বক সবচেয়ে বেশি আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। নরম, জেন্টল ক্লিনজার ব্যবহার করুন: সুগন্ধিমুক্ত, কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় রাখে। কড়া সাবান বা স্ট্রং ক্লিনজার শীতকালে শুষ্কতা আরও বাড়াতে পারে। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন: বাড়িতে হিউমিডিফায়ার রাখলে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। শীতের শুকনো পরিবেশে এটি ত্বককে নরম ও আরামদায়ক রাখে। সঠিক পোশাক পরুন: কটন বা নরম উলের মতো প্রাকৃতিক ফাইবার ত্বকের সঙ্গে সরাসরি স্পর্শে রাখুন। প্রয়োজনে লেয়ার করুন। ঘষা দেওয়া বা খসখসে কাপড় এড়ান, কারণ এটি ত্বককে র‌্যাশ বা চুলকানি করতে পারে। গরম নয়, উষ্ণ পানি নিন: দ্রুত গোসল করুন এবং গরমের পরিবর্তে উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা দূর করে, যা শুষ্কতার কারণ হতে পারে। শীতকালে ত্বকের যত্ন মানেই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করা, কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করা, বাড়িতে আর্দ্রতা বজায় রাখা আর ত্বককে ক্ষতি করতে পারে এমন পোশাক বা অত্যধিক গরম গোসল এড়ানো। এই ছোট ছোট পদক্ষেপেই আপনার ত্বক শীতের কষ্ট থেকে মুক্ত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির সংঘর্ষ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।   সংঘর্ষটি শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীতীরবর্তী করিম বাজার–দরবেশ বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তা নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে এনসিপির এক নেতা ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টের কারণে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যার পর এনসিপির ওই নেতা ও তার সহযোগীরা দরবেশ বাজারে লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে এনসিপির ৭ জন এবং বিএনপির ২ জন আহত হন। এনসিপির আহতরা হলেন: চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির রবিন, এনসিপি নেতা জাফের, দুলাল ও শাহাদাত। বিএনপির আহতরা হলেন: সারওয়ার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারু। এনসিপি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপির নেতা ও ছাত্রদলের কয়েকজন করিম বাজারের পিচঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিলেন। প্রতিবাদ জানিয়ে বাসায় ফেরার পথে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় এনসিপির অন্তত ৮টি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দরবেশ বাজার এলাকায় বালু পরিবহন করতে গিয়ে রাস্তার ক্ষতিপূরণ করা হচ্ছিল। এনসিপি সমর্থিত লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাটি বিক্রি করছে এমন মিথ্যা প্রচারণা চালায়। প্রতিবাদ করলে এনসিপির লোকজন স্থানীয় মুরুব্বিদের ওপর মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। পরে বিএনপির নেতৃত্বে পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এনসিপির নেতা নূর আলম রিপনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আহত করা হয়।   হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আপাতত কমছে না শীতের প্রকোপ

দেশজুড়ে তীব্র শীতের প্রভাব অব্যাহত আছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস এবং শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের উত্তরের জেলা ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবারও দিন-রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং রোববার সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রাতভর শীতের দাপট সকালে কিছুটা স্বস্তি পায় সূর্যের আলো দেখা দেওয়ায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২–৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে তা অতিরিক্ত তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৬–৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৮–১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুড়িগ্রামে কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে মানুষ কাঁপছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা স্থানীয় হাসপাতালে চলছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সৈয়দপুরে (নীলফামারী) শুক্রবার সকাল ৮টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। কৃষকরা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও শীতের কারণে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত তিন দিন ধরে এই এলাকায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মোটের উপর, দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ গভীর। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রভাব বেড়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। এতদিন তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান নিজেই। ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এর ধারাবাহিকতায় দলীয় নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল থাকবেন। দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।   ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত হন, যা বিএনপির রাজনীতিতে তার বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এনসিপির নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সিঁড়ি জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই সমীকরণের মূলেই রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে গড়ে ওঠা নির্বাচনী সমঝোতা। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই জোট শুধু নির্বাচনের আগ মুহূর্তেই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।   এনসিপি নেতাদের মতে, এবারের নির্বাচন দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতায় যাওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ ও বিভাজন। জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, এই জোটের মাধ্যমে দলটি তার ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাদের মতে, নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আপস করা হয়েছে। অন্যদিকে, জোটপন্থি নেতারা বলছেন, এটি কোনো আদর্শিক ঐক্য নয়। বরং নির্বাচন সামনে রেখে একটি সীমিত ও কৌশলগত সমঝোতা। ভোটের মাঠে পারস্পরিক শক্তি ও সংগঠনকে কাজে লাগানোই এই বোঝাপড়ার মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, আদর্শিক মিল না থাকলেও নির্বাচনী জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবেই সাধারণত এ ধরনের জোট গড়ে ওঠে, বিশেষ করে ছোট দলগুলো এই সুবিধা নেয়। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে জোট রাজনীতি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আদর্শিক মিল না থাকলেও নির্বাচনী জোট হতে পারে। উচ্চকক্ষের সুযোগ থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের জোট আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মনে করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপিকে তাদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি সম্পূর্ণ নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৩০টি আসন নিয়ে এই সমঝোতা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি আসনে এনসিপি প্রার্থীদের জন্য জামায়াত নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। এনসিপির নেতারা বলছেন, নানা পক্ষ মাঠে নেমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল বলে তারা জানান। জামায়াতের সঙ্গে মূলত বিচার, সংস্কার ও মৌলিক ইস্যুতে ঐক্য হয়েছে। এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, সংস্কার, সুষ্ঠু বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক বাক্সে ভোট নিশ্চিত করতেই এই সমঝোতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি আদর্শিক কোনো জোট নয়। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানও জানান, এটি শুধু নির্বাচনী কৌশল। প্রত্যেক দল নিজ নিজ আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন এনসিপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাদের মধ্যে ডা. তাসনিম জারা ও মীর আরশাদুল হক উল্লেখযোগ্য। মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের পর বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন—খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, মুশফিক উস সালেহীন, ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেলসহ অনেকে। এছাড়া কয়েকজন নেত্রী প্রকাশ্যে জোটের বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে দুজন মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াত এনসিপির জন্য নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। তার মতে, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, বিচার ও সংস্কারের দর্শনের সঙ্গে জামায়াতের অবস্থান সাংঘর্ষিক। তবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, এখনো কোনো পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। পদত্যাগকারী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং তারা অনেকেই দলে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদস্য সচিব আখতার হোসেনও জানান, দলীয় ঐক্য বজায় রাখতেই পদত্যাগকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
অপারেশন থিয়েটারের পাশেই চলছে রান্নাবান্না

ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে দীর্ঘ দুই বছর ধরে অবাধে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন যেখানে গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়, সেই অপারেশন থিয়েটারের কক্ষই কিছু চিকিৎসক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নার্সদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার নুর জাহান, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের একটি কক্ষে দুইজন সিনিয়র নার্স শীতের পিঠা তৈরি করছেন, অন্য নার্সরাও সেখানে অবাধে যাতায়াত করছেন। ঠিক পাশের কক্ষেই চলছিল গর্ভবতী নারীর সিজার অপারেশন। এমনকি সেখানে রোগীর স্বজনদেরও অবাধ চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চার-পাঁচজন সিনিয়র স্টাফ নার্স রান্নায় ব্যস্ত, অথচ পাশের কক্ষেই চলছে রোগীদের চিকিৎসা। এ ঘটনায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বেহাল অবস্থার বিষয়ে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত। বিভিন্ন সময় এখান থেকে রান্না করা খাবার চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত আয়োজনে পরিবেশন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপারেশন থিয়েটারের মতো স্পর্শকাতর স্থানে রান্নাবান্না করা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায় এবং এটি চিকিৎসা শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন। ইমতিয়াজ আহমেদ নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, যেখানে নারীদের সিজার অপারেশন হয়, সেখানেই রান্নাবান্না—এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। যারা এ জঘন্য কাজে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাকিব নামে আরেকজন বলেন, আমার বোনের প্রসব ব্যথা উঠলে আজ তাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসি। এসে শুনছি দুই বছর ধরে অপারেশন থিয়েটারে রান্না চলে এটা কেমন কথা! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগীর স্বজন জানান, সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করছে জানতে পেরে কয়েকজন নার্স দম্ভের সঙ্গে বলেন, ‘খাইছি আরও খামু, কনে কিয়া কইরবো দেখা যাবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। পরে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না বিষয়টি আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এ বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. রৌকন উদ দৌলা বলেন, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রান্নাবান্না এটা অসম্ভব ব্যাপার। এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন যুগান্তর-কে বলেন, এটি আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। পাঁচ দিনের সময় দিন। একই সঙ্গে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। ভিডিও দেখানোর পর তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তাৎক্ষণিকভাবে তিনি একজন কর্মচারীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠান। তবে তিনি গেলে রান্নার সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়। তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম যুগান্তর-কে বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্নার কোনো সুযোগ নেই। এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত

নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতসহ উত্তরাঞ্চলে সফর করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এ সফর স্থগিত করা হয়েছে।   তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে গুলি করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।   সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
নজরুল ইসলাম খান। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নজরুল ইসলামের সতর্কতা

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।   শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর চিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা জানান।   তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, সেটা দল দেখছে। আমাদের মতে, এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। সেখানে অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত মনে করছে তাকে যদি মনোনীত করা হতো, তাহলে আরও ভালো হতো। তারা সে জন্য চেষ্টা করছে।’   তিনি বলেন, ‘প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি তাদের যে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আমরা আশা করছি, যে তারা প্রত্যাহার করবেন। অনেকেই অলরেডি প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন আমাদের। সে জন্য আমি মনে করি যে প্রত্যাহার করার সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়ে যাবে।’   সতর্ক করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’   তারেক রহমানকে তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তান জনাব তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি বাংলাদেশের এখন অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের রাজনীতির মস্ত বড় একজন অংশীদার। আমরা মনে করি যে বাংলাদেশের মানুষ তার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায় এবং সে জন্যই তাকে নিয়ে মানুষের এত আকাঙ্ক্ষা, মানুষের এত আবেগ।’   ‘আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি তার পিতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরোত্তম এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনগণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন। তারেক রহমান সাহেব অলরেডি বলেছেন, যে আমার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, আমি সেখান থেকে শুরু করব।’   স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা মনে করি যে দেশ এবং দেশমাতৃকার জন্য দেশনেত্রী যা করেছেন, সেখান থেকে শুরু করে এটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই শুধু দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। আমরা আশা করি যে এই কাজে আমরা আমাদের গণমাধ্যমসহ সবারই সহযোগিতা পাব।’

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব নেন।   এদিন রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।   এ পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক দলটির স্থায়ী কমিটির বৈটক শুরু হয়। বৈঠকে তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন।   ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো।   বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে ‘যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’   সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর’ মতো একটি ঘটনা, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।   বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনি কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।   ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়, যা দলের ভেতরে তার বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করছেন ইউট্যাব নেতারা।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ইউট্যাবের শ্রদ্ধাঞ্জলি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।   শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ সবার জন্য দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।   শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি এমন একজন নেত্রী, যিনি এই দেশের জন্য তার স্বামী, সন্তান ও বাড়ি সবকিছুই হারিয়েছেন। তিনি জেলের খাটে শুয়েছেন। সে সময় তিনি চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন, তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা না করালে, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরপরও তিনি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার এক ইঞ্চি জমি নাই, এক ইঞ্চি মাটি নাই। এই দেশের মাটিই আমার জায়গা, এই দেশের মানুষই আমার সন্তান। এমন একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।   তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আমরা প্রার্থনা করি ও আশা করি তার স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি ফিরে আসবে এবং আগামী দিনে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না।   এ সময় ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়া নিজ হাতে সিগনেচার করে ২০১২ সালে ইউট্যাব অনুমোদন দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু। বড় বড় আন্দোলনে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) নেতৃত্বে ইউট্যাব তার পাশে ছিল। ম্যাডামের যে ত্যাগ, সেই ক্ষতিপূরণ আর কেউ দিতে পারবে না। ম্যাডাম আমাদের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তার বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র অর্জনের পথে এগিয়ে এসেছি। আসন্ন নির্বাচনে আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ী হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাক।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাবের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ড. মো. নূরুল ইসলাম, ড. মো. আব্দুর রশীদ, ড. মো. আবদুল করিম, ড. মো. কামরুল আহসান, ড. সোহাগ আওয়াল, ড. মো. নজরুল ইসলাম, ড. শামছুল আলম, ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ড. মো. ইলিয়াস, মো. শফিউল্লাহ, ড. মো. আখতার হোসেন খান, ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, শাহ শামীম আহমেদ, তাহমিনা আখতার টফি, ড. আব্দুস সালাম, ড. মো. জাফরুল আজম, ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ড. মো. খালেদউজ্জামান, ড. মো. আতাউর রহমান, ড. জিএম শফিউর রহমান, ড. মো. কুদরত-ই-জাহান, মো. মিনহাজুল আবেদীন, ড. মো. রবিউল ইসলাম, ড. এস এম হেমায়েত জাহান, ড. মো. মামুন অর রশিদ, ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ড. মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, ড. মেহেদী হাসান সিকদার, ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ, ড. মো. নুরুল আমিন, ড. মো. আব্দুল লতিফ, ড. মোহাম্মদ জামশেদ আলম, ড. এফ এম আমিনুজ্জামান, ড. কাজী আহসান হাবীব, ড. মো. আব্দুল্লাহেল বাকী, ড. মো. রাশেদুল ইসলাম, ড. নূর মহল আখতার বানু, ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ড. মো. মাহবুবুল আলম, ড. রঞ্জন রায়, ড. মো. তোজাম্মেল হোসাইন, ড. মো. ইদ্রিস আলী, ড. মো. আবু জাফর খান, ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড. মো. খায়রুল ইসলাম, ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম, মো. আনিছুর রহমান, মো. তানভীর আহসান, খাঁন মো. মনোয়ারুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ ইকবাল, ড. সালমা আখতার, ড. মাসুমা হাবিব, নাছির আহমেদ, মো. শওকত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম, ড. রবিউল ইসলাম, নওশের ওয়ানসহ শতাধিক শিক্ষক।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ধূমপানের ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে সাহায্য করে যে ৫ খাবার

বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতেই ধূমপান এক ভয়ংকর আসক্তি। প্রতিদিন লাখো মানুষ ধূমপান করেন। এই ধূমপানের ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসে আঘাত করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা দুর্বল করে। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা কিংবা ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, ধূমপান হলো ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু আশার কথা হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর ধীরে ধীরে আবার সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্ষতি সবসময় স্থায়ী হয় না। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার পরিবর্তন শরীরকে নিজস্ব শক্তি ফিরে পেতে সহায়তা করে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, কোনো খাবারই বছরের পর বছর ধূমপানের ক্ষতি পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট খাবার প্রদাহ কমিয়ে, ফুসফুসকে পরিশুদ্ধ করে এবং শরীরের প্রাকৃতিক আরোগ্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সম্প্রতি ভারতীয় পালমোনোলজিস্ট ডা. সোনিয়া গোয়েল এক ভিডিও বার্তায় ধূমপান-পরবর্তী ফুসফুসের যত্নে ৫টি বিশেষ খাবারের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধূমপান ছাড়াই প্রথম ধাপ, কিন্তু এরপর খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবার যুক্ত করলে সুস্থ হওয়ার গতি বহুগুণে বেড়ে যায়। চলুন, জেনে নিই সেই ৫ খাবারের নাম ও তাদের কার্যকারিতা— ক্রুসিফেরাস সবজি ব্রোকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজিতে আছে সালফোরাফেন নামক যৌগ। এটি ফুসফুসের ডিটক্স এনজাইম সক্রিয় করে, যা সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। বিট ও ডালিম বিট ও ডালিমে প্রচুর নাইট্রেট থাকে। এটি ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। ধূমপায়ীদের শরীরে যে অক্সিজেন ঘাটতি তৈরি হয়, এই দুটি ফল তা কাটাতে সহায়তা করে। গ্রিন টি গ্রিন টিতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন। এটি ফুসফুসের প্রদাহ কমায়, পাশাপাশি সিওপিডি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। শুধু ফুসফুস নয়, গ্রিন টি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক সতেজতাতেও কার্যকর। আপেল ও সাইট্রাস ফল আপেলের কোয়েরসেটিন ও সাইট্রাস ফলে থাকা ভিটামিন সি ফুসফুসের কোষ মেরামতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব ফল নিয়মিত খেলে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। হলুদ হলুদে থাকা কারকিউমিন হলো শক্তিশালী প্রদাহনাশক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই সোনালি মসলা শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত মেরামতে সহায়তা করে। শেষকথা ডা. সোনিয়া গোয়েল মনে করিয়ে দেন, ফুসফুস সুস্থ রাখার প্রথম শর্ত হলো ধূমপান ত্যাগ করা। এরপর সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসকে নতুন শক্তি দেয়। তাই সিগারেট ছেড়ে প্রকৃতির দান এই খাবারগুলোকে প্লেটে রাখুন, শরীরে ধীরে ধীরে ফিরবে নতুন শক্তি। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পেয়ারা খোসা সহ খেলে উপকার দ্বিগুণ! জানুন কেমন

মিষ্টি-টক স্বাদের জন্য পেয়ারার জনপ্রিয়তা সবার কাছেই। কাঁচা খাওয়া থেকে শুরু করে জুস, জ্যাম কিংবা স্মুদি—নানাভাবে পেয়ারার ব্যবহার রয়েছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ও হজমে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। তবে পেয়ারার ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে, খোসাসহ খাওয়া ভালো নাকি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত? অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে—পেয়ারার খোসা কি বাড়তি উপকার দেয়, নাকি এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে? সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপসিখা জৈন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পেয়ারার খোসাসহ খাওয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দীপসিখা জৈনের মতে, পেয়ারা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ফল হলেও কীভাবে তা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, খোসাসহ পেয়ারা খেলে পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি-এর মতো অতিরিক্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়, যা ত্বকের গঠন উন্নত করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য পেয়ারার খোসা এড়িয়ে চলাই ভালো। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ও লিপিড প্রোফাইলের অবনতি হতে পারে। সে কারণে উচ্চ রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য খোসা ছাড়ানো পেয়ারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। কেন পেয়ারা ‘সুপারফ্রুট’? রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পেয়ারা ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস, যা কমলার চেয়েও বেশি। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে। একটি পেয়ারা থেকেই দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ হতে পারে। হজমে সহায়ক ও আঁশসমৃদ্ধ পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, যা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। আঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে খোসা ছাড়িয়ে খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা একটি ভালো খাদ্য হতে পারে। ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন ও ভিটামিন এ-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পেয়ারা ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমায় এবং বয়সের ছাপ পড়া ধীর করে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও গঠন উন্নত হতে পারে। হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখে। ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ কমে এবং লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি ঘটে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখার উপায় মাঝসকালের নাশতা হিসেবে টাটকা পেয়ারা খেতে পারেন ফলের সালাদে কুচি করা পেয়ারা যোগ করতে পারেন স্মুদিতে ব্লেন্ড করে পান করতে পারেন লবণ ও মরিচগুঁড়া ছিটিয়ে খেতে পারেন ডেজার্ট বা জ্যামে পেয়ারার পিউরি ব্যবহার করতে পারেন খোসাসহ হোক বা খোসা ছাড়িয়, যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন পেয়ারা একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই সুপারফ্রুট রাখলে সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। সূত্র : এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? জেনে নিন

কলা আমাদের খুব চেনা এক ফল। গ্রামে-গঞ্জে কিংবা শহরের বাজারে, বছরের সব ঋতুতেই সহজলভ্য। দামও হাতের নাগালে, খেতেও ঝামেলাহীন। তাই নাশতা, দুপুর বা বিকেল—যে কোনো সময়েই অনেকের প্লেটে জায়গা করে নেয় কলা। কিন্তু জানেন কী, এই সাধারণ ফলের ভেতরে লুকিয়ে আছে শক্তি জোগানোর ক্ষমতা, হজম ভালো রাখার গুণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়তা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলা কখন খাচ্ছেন তার ওপরই নির্ভর করে এর উপকারিতা। ব্যায়ামের আগে, খাবারের সঙ্গে কিংবা স্ন্যাকস হিসেবে—সময় বুঝে কলা খেলে তা শরীরের জন্য হতে পারে বাড়তি আশীর্বাদ। কখন খেলে বেশি শক্তি পাওয়া যায় ব্যায়ামের আগে : ব্যায়াম করার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে একটি কলা খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে, পেশি কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়। নাশতার সঙ্গে : দই, ওটস বা পাউরুটির সঙ্গে কলা খেলে দিনের শুরুটা হয় চাঙা, ক্লান্তি আসতে দেরি হয়। দুপুর বা বিকেলে : দুপুরের খাবারের পর বা বিকেলের ক্ষুধায় একটি কলা খেলে শক্তি ফিরে পাওয়া যায়, মনও ভালো থাকে। হজমশক্তি ভালো রাখার উপায় খাবারের সঙ্গে : নাশতা বা দুপুরের খাবারের সঙ্গে কলা খেলে ফাইবার হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে তোলে। অপক্ব কলা : আধাপাকা বা কাঁচা কলায় থাকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা পেটে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় ও হজমে সাহায্য করে। রাতে খাওয়া নিয়ে দ্বিধা : অনেকে মনে করেন রাতে কলা খেলে হজম ধীর হয়। তবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তেমন নেই। যাদের সমস্যা হয়, তারা রাত এড়িয়ে চলতে পারেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা খাবারের আগে : ভাত বা রুটি খাওয়ার আধঘণ্টা আগে একটি কলা খেলে দ্রুত পেট ভরে যায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। স্ন্যাকস হিসেবে : দুপুর ও রাতের খাবারের মাঝের সময়ে একটি কলা ক্ষুধা মেটায়, ক্যালরিও বাড়ায় না বেশি। ব্যায়ামের আগে : ব্যায়ামের আগে কলা খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি মেলে, যা পরে ক্যালরি পোড়াতে কাজে দেয়। অপক্ব কলা : এতে ফাইবার বেশি, চিনি কম। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমাতে উপকারী। পুষ্টিগুণ একটি মাঝারি আকারের কলায় থাকে প্রায় ১০৫ ক্যালরি, পাশাপাশি পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬। পাকা কলায় চিনি কিছুটা বেশি হলেও অপক্ব কলায় ফাইবার ও স্টার্চ বেশি থাকে। নাশতার সঙ্গে কিংবা ওটমিলের সঙ্গে খেলে কলার পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে কাজে লাগে। সতর্কতা দিনে একটি কলাই যথেষ্ট। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে নিয়মিত কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ছাড়া সীমিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে খেলে কলা উপকার দেবে বেশি। সূত্র : ওয়েব এমডি ও ভেরি ওয়েল হেলথ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বারবার ঘুম ভেঙে বাথরুমে যেতে হচ্ছে? হতে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত

রাতে একবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে ওঠা অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু যদি এটা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে, তাহলে বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার নয়। বারবার মাঝরাতে প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা একটি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় নক্টুরিয়া। এটি শুধু ঘুম নষ্ট করে না, বরং শরীরের ভেতরে চলা কিছু সমস্যার আভাসও দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নক্টুরিয়া হতে পারে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, বয়সজনিত পরিবর্তন বা কোনো লুকিয়ে থাকা রোগের লক্ষণ। তাই নিয়মিত রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হলে এর সম্ভাব্য কারণগুলো জানা জরুরি। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সম্ভাব্য কারণ সন্ধ্যার পর বেশি পানি বা পানীয় পান করা ঘুমানোর আগে বেশি পানি, চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করলে রাতে মূত্রাশয়ে চাপ বাড়ে। বিশেষ করে চা, কফি ও অ্যালকোহল প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে মূত্রাশয়ের পরিবর্তন বয়স বাড়লে মূত্রাশয়ের ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি হরমোনের পরিবর্তনের কারণে রাতে শরীর কম পানি ধরে রাখতে পারে। ফলে অল্প প্রস্রাবের চাপেও ঘুম ভেঙে যায়। এই সমস্যা বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ডায়াবেটিস ও মূত্রনালির সমস্যা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করতে বেশি প্রস্রাব তৈরি করে। এ ছাড়া মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রাশয়ের প্রদাহ বা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ তৈরি হয়। পা ফুলে যাওয়া বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা দিনের বেলায় পায়ে জমে থাকা অতিরিক্ত তরল রাতে শোয়ার সময় রক্তে ফিরে আসে। তখন কিডনি সেই তরল প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, ফলে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয়। ঘুমের ব্যাধি বা স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে। এতে কিডনির কাজের ধরন বদলে যায় এবং রাতে বেশি প্রস্রাব হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা শরীরের ফোলা কমানোর ওষুধ (ডায়ুরেটিক) প্রস্রাব বাড়াতে পারে। এসব ওষুধ সন্ধ্যার পর খেলে রাতের সমস্যাটা আরও বাড়ে। কখন সতর্ক হবেন - যদি প্রতি রাতে একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য উঠতে হয় - যদি এর সঙ্গে জ্বালা, ব্যথা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা ক্লান্তি থাকে - যদি ঘুমের অভাবে দিনের বেলা স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয় কী করতে পারেন - সন্ধ্যার পর পানি ও ক্যাফেইন কম পান করুন - ঘুমানোর আগে বাথরুম ব্যবহার করুন - নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করা সব সময় ভয়ংকর কিছু নয়। কিন্তু এটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে শরীর হয়তো আপনাকে আগেই সতর্ক করছে। সময়মতো কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নিলে বড় সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবি, আইনি নোটিশ পাঠানো হলো

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই নোটিশ পাঠানো হয়।   বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া এই আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশ প্রেরণকারী আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া জানান, আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পরবর্তী কোনো তারিখে নতুন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুঞ্জনের মধ্যেই শুক্রবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ৬১টি জেলায় একযোগে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে অংশ নেবেন প্রায় ১১ লাখ চাকরিপ্রার্থী। এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে রংপুর থেকে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাদের দাবি, পরীক্ষার তারিখ এক দফা পেছানো এবং প্রশ্নপত্র জেলাপর্যায়ে পাঠানোর পর প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রার্থীদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তারা জানিয়েছেন।   প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0