অন্যান্য

ছবি: সংগৃহীত
ভোটার এলাকা বদলালেন আসিফ মাহমুদ

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সম্প্রতি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।    তিনি জানান, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করেন  তিনি। আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাফতরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে নির্বাচন কমিশন তার আবেদন অনুমোদন করেছে। এর ফলে আসিফ মাহমুদের ভোটার নিবন্ধন এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কালো আইন’ গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে: মীর আহমাদ বিন কাসেম

জাতীয় সংসদে দুটি ‘কালো আইন’ পাসের প্রতিবাদে মুখ ও কানে কালো কাপড় বেঁধে ওয়াকআউট করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তার অভিযোগ, এসব আইন গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করবে।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তিনি।   স্ট্যাটাসে মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, জাতীয় সংসদে দুটি কালো আইন পাস হলো। আমরা প্রতিবাদ করেছি। মুখে ও কানে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কারণ এই আইন সেই রাষ্ট্রের প্রতীক— যে রাষ্ট্র গুমের শিকার মানুষের মুখ বন্ধ করে দেয়, আর তার স্বজনদের আর্তনাদ শুনেও শোনে না।   তিনি আরও লেখেন, আমি আয়নাঘরে আট বছর কাটিয়েছি। আমি জানি অন্ধকারে কেমন লাগে। জানি, বাইরে মা কেমন করে অপেক্ষা করেন। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে আমার বারবার মনে হচ্ছিল— এই আইন থাকলে আমাকে কেউ খুঁজে পেত না। আগামীকাল যদি আরেকজন হারিয়ে যায়, এই আইন তাকেও খুঁজে পাবে না।   যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীই তদন্ত করবে— এ কেমন বিচার? গুমের মামলা যাবে সেই পুলিশের হাতে, যে প্রতিষ্ঠান নিজেই জবাবদিহির কাঠগড়ায়। এ আইন গুম বন্ধ করবে না, গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে। জাতিসংঘের সনদে আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, এই আইন সেই ওয়াদারও বরখেলাপ বলেও লেখেন তিনি।   মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যে সংসদ, সেই সংসদে ফ্যাসিবাদের আইনই যদি ফিরে আসে— তাহলে এত ত্যাগ কীসের জন্য ছিল? আমাদের দাবি স্পষ্ট, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ফিরিয়ে আনুন— যেখানে কমিশনের নিজস্ব স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা ছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। মুখে কালো কাপড় বাঁধা যায়, কিন্তু সত্যকে চিরকাল বেঁধে রাখা যায় না। গুমের বিরুদ্ধে, দায়মুক্তির বিরুদ্ধে— এই লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।   বিরোধীদলীয় নেতা নৈতিকতার প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলামকে কোনো সংসদীয় কমিটিতে না রাখার আহ্বান জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানান তিনি।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এ বিতর্ক হয়।   স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোটা থেকে যেহেতু উনাকে (গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটির সদস্য পদে সুপারিশ) দেওয়া হয়নি সেক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নাই।’   তবে নৈতিকতার দিক থেকে যেহেতু তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে, তাই দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদের কোনো কমিটিতে তাকে না রাখাই উত্তম বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা।   এর জবাবে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এখানে কনফিউশনের কোনো সুযোগ নেই। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদের কোনো না কোনো কমিটিতে রাখতে হয়। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোতে যেহেতু বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে নামগুলো দেওয়া হয়েছে ওখানে তার (গাজী নজরুল) নাম ছিল না সেখানে রাখা হয়নি। সংসদীয় যে কমিটিগুলো আছে সেখানে দুটিতে তাদের আপত্তি ছিল রাখা হয়নি। এখন কোনো না কোনো কমিটিতে রাখতে গিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে রাখতে হয়েছে।’   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই বলেছেন- গাজী নজরুল ইসলাম তাদের পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে ওই কমিটিতে যাননি। ফলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।   এরপর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার সদস্য পদ শূন্য করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু শুধু দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয় না।   মন্ত্রী বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ সেখানে আসে না, যদি নিজে পদত্যাগ না করেন। এখন বিষয় হচ্ছে, বুদ্ধি বাড়িয়ে দিব কিনা?’   বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান তার আসনটা শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেয় নাই এবং ভোটদানে বিরত ছিল; সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ কিন্তু আসে। এখন সেটা কগনিজেন্সে (আমলে) নিয়ে যদি আপনারা মাননীয় স্পিকারকে মনোযোগ আকর্ষণ করেন, চিঠি দেন বা নির্বাচন কমিশন দেন, আমরা সেই হিসেবে বিধি মোতাবেক সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারি। এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সা দিলাম।’   এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান রসিকতার সুরে বলেন, ‘গ্রামে একটা কথা চালু আছে আর কি যে, কোনো দুর্বল মানুষের উপরে প্রতিশোধ নিতে হলে তারে মেম্বার ইলেকশনে দাঁড় করায়ে দেওয়া। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে এরকম আমাদের কিছু টিপস দেন, আমরা এনজয় করি। এইজন্য সেদিন বলছিলাম যে, উনি থাকলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়- আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ, কিছু একটা হয়। আমরা এখন তাকে ফ্লোর ক্রসিংয়ের কথা বলব কেন? আমরা তো তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আমরা তো এখন এটা বলতে পারি না যে, তিনি আমাদের দলের সদস্য হয়ে ফ্লোর ক্রসিং করেছেন। আমাদের সিদ্ধান্ত ভায়োলেট করেছেন। এটুকু বলার কোনো সুযোগ নাই।’   বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তবে আমরা আগেই অনাপত্তি বলেছিলাম, যেহেতু আমাদের কোটায় আসে নাই। কিন্তু মহান জাতীয় সংসদের মতো প্রেস্টিজিয়াস হাউজে, যাকে আমরা নৈতিক কারণে বহিষ্কার করে চিঠিও দিয়েছি- কোনো কমিটিতে না রাখাটা উত্তম ছিল, সেটা নৈতিকতার দিক থেকে বললাম। এখন এটা রিথিংক করার সুযোগ আছে। কারণ, বিভিন্ন সময় পুনর্মূল্যায়ন হয়, অদল-বদল হয়, ড্রপ হয়, আবার অ্যাড হয়। আমি মনে করি নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা একটা এক্সাম্পল হবে যদি উনাকে কোথাও রাখা না হয়।’   বিরোধীদলীয় নেতার এমন বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর দ্বারা আমাদের হয়তো বুঝে নিতে হবে, গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদটা বহাল থাকল; কিন্তু কমিটিতে রাখা যাবে না। আমি এর বেশি কিছু বুঝি নাই। কারণ, বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে ইচ্ছা করলে এই কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া যায়। এখন পুনর্গঠন আবার করা যাবে, এখনো এপ্রুভ হয় নাই। বাদ দেওয়া গেলে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন হবে।’   মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলতে চাচ্ছি না। বাদ দেওয়া হলো। কিন্তু আমরা বুঝে গেলাম তার সদস্য পদ শূন্য করার পক্ষে তিনি নন। মানে এটাই বুঝে গেলাম। কারণ দল থেকে বহিষ্কার করলে সংবিধান অনুযায়ী সদস্য পদ যায় না। সংসদ সদস্য যদি দলের বিপক্ষে ভোট দেন, ভোটদানে বিরত থাকেন- ৭০ বিধি অনুসারে তার আসন শূন্য হবে অথবা তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন। যেহেতু মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছেন, তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে তার দলীয় সদস্য পদ বহিষ্কার করার পরে তার সদস্য যায় না; এটা অস্বীকার করা যাবে না আইনের ভাষা হিসেবে। সুতরাং বৈধ এটাই যে, তার সদস্যপদটা বহাল থাকল। যদি বিরোধী দল ওই রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের সময় তার অনুপস্থিতি কাউন্ট করে ৭০ আর্টিকেল অনুসারে চিঠি না দেন; তাহলে তার সদস্যপদটা বহাল থাকে। এটা আমরা তাইলে বুঝে নিলাম। মানে সদস্যপদ বহাল থাকল কিন্তু কমিটিতে রাখা যাবে না।’   তবে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বিরোধীদলীয় নেতা চান যে তার দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোটদানে বিরত ছিল; সেই প্রেক্ষিতে তিনি ৭০ অনুচ্ছেদে তার সংসদের আসন শূন্য করার জন্য চিঠি দিতে পারেন। আর যদি তিনি না চান অন্য কোনো বিধি নাই তার সদস্য পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে। এখন যদি সংসদের এই কমিটি থেকে নাম বাদ দিতে হয় আমরা বিরোধীদলীয় নেতার সম্মানার্থে আমরা বাদ দিয়ে দেব। আর তার সম্পর্কে চর্চা করবো না।’   পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নৈতিকতার প্রশ্নে করা আবেদনকে সমর্থন করেছেন এবং এজন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ বলছে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে, ভোটদানে বিরত থাকলে কথা নাই আমার জানামতে। এটা প্রযোজ্য হবে না এ ব্যাখ্যা।’   উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা তৈরি হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে তড়িঘড়ির অভিযোগ মামুনুল হকের

জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধানসংবলিত ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংসদে তড়িঘড়ি করে এ আইন পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ দাবি জানান।   মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদে সদ্য পাস হওয়া আইনটির কয়েকটি ধারা ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই নতুন বিধানটি শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’   মামুনুল হক বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও সে জন্য এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যা শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও হেবার নীতিকে পাশ কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। তার মতে, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন দুটি পৃথক বিষয়। নতুন আইন যেন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’   তিনি দাবি করেন, ‘ইসলামে হেবার ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি সম্পত্তির বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু নতুন আইনে সরকার বলছে সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না। প্রশ্ন হলো-বাস্তবে এই আইন কি হেবার শরয়ী কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে না? বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তাহলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা এবং হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে গুরুতর শরয়ী প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।’   খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ‘হেবার নামে নির্দিষ্ট কোনো উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।   তিনি অভিযোগ করেন, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি থাকলেও বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারের কথাও বলা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন?’   মামুনুল হক আইনটির ১২২-এ ও ১২২-বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা করতে গিয়ে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানকে দুর্বল করা উচিত হবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাধাহীন লংমার্চ, রাজনীতিতে সহনশীলতার ইঙ্গিত

জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের মধ্যেই বিশাল গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। তবে জ্বালানি সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে করা এ কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, দেশে যখন জ্বালানি সংকট তীব্র তখন শত শত গাড়ির বহর নিয়ে দীর্ঘ পথের এই লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া কতটা যৌক্তিক?   লংমার্চ কর্মসূচি থেকে নানান উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কর্মসূচি ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। তারপরও সরকার লংমার্চে কোনো প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করেনি। বরং অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এটিকে ‘সহনশীল রাজনীতির বার্তা’ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   তারা বলছেন, অতীতে এমনটি দেখা যায়নি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর সরকারের কোনো রকম বাধা ছাড়া বিরোধীদল এত বড় একটি কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের চিত্র ছিল পুরো উল্টো। তখন বিরোধী দল ও মতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও দমন-পীড়ন চালানো হতো। যা রাজনীতির জন্য ছিল খুবই নেতিবাচক ধারা।   কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সুস্থ রাজনীতির চর্চা শুরু করে। অতীতের পথে হাঁটছে না বর্তমান সরকারের প্রশাসন। বিশ্লেষকরা এ বিষয়টিকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির লংমার্চ, রোডমার্চ, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়ন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। কর্মসূচির আগে থেকেই চলেছে গণগ্রেফতার। অনেক ক্ষেত্রে কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ করে ১১-দলীয় ঐক্য। এ লংমার্চে সরকার কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, চেষ্টাও করেনি। এজন্য সরকারকে সাধুবাদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, এটি তো একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমার মনে হয় এ সরকারের নীতিটাই এমন যে, ভিন্ন মত দমন করা হবে না। এখানে ভিন্ন মত প্রচার ও প্রকাশের অবাধ সুযোগ রয়েছে।   তিনি বলেন, তারা (১১-দলীয় ঐক্য) লংমার্চ করেছে, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকার কোনো বাধা দেয়নি, বাধা দেওয়ার কোনোরকম চেষ্টাও করেনি। আমি এটিকে খুব ভালো লক্ষণ মনে করি। গণতন্ত্রে এটিই হওয়া উচিত। এজন্য আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাই। বিরোধীদলকে বলবো, আপনারা প্রতিবাদ করেন; তবে তা সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে করেন।   লংমার্চের আগে জোটের নেতারা ধারণা করেছিলেন হয়তো অতীতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সরকার হয়তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সেজন্য তারা কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারও তাদের যাত্রাপথে কোনো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি। তারা পথসভা করেছে, সরকারের সমালোচনা করেছে এবং নির্ধারিত সমাপনী কর্মসূচিও পালন করেছে।   জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, জামায়াত আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। তারা ছয় মাসের একটি সরকারকে পতন ঘটানোর দাবি তুলছে। এটি তো দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।   তিনি বলেন, তবে বিএনপি সরকার লংমার্চ করার জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ও কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে উদারতার প্রমাণ দিয়েছে। যেটি আমরা বিগত সরকারের সময় দেখিনি।   অতীত কী বলে? ১৯৯৮ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে বিএনপির লংমার্চ কাঁচপুরে আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, ২০২৩ সালের ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের কালো পতাকা মিছিলেও বাধার মুখে পড়তে হয় বিএনপিকে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় হামলাও।   ২০১০ সালে বিএনপি চট্টগ্রামে লংমার্চ করে। ওই লংমার্চে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বড় রকমের বাধা দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করা হয়। ২০১২ সালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে করা লংমার্চে গাড়ি বহরে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। কয়েক জেলার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালে তিস্তা লংমার্চেও সরকার বাধা দেয়। ২০২৪ সালে সিপিবি-বাসদের লংমার্চেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকার।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনা নিতে পারতো না। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী দল যেসব লংমার্চ ও রোডমার্চ করেছে সেগুলোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করতো। যার মধ্যে রয়েছে, গণগ্রেফতার, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, রেল-নৌ-সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া।   এমনকি তখন কর্মসূচি ঘিরে নির্ধারিত তারিখের আগে-পরে অঘোষিত সরকারি হরতাল চলতো। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করা হতো। গোয়েন্দা নজরদারির নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। এছাড়া সমাবেশস্থল বারবার পরিবর্তন করানো হতো। সমাবেশের জন্য সরকারের অনুমিত মিলতো না। অনুমতি মিললেও স্থান পরিবর্তনের নামে চলতো নানান টালবাহানা।   সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে ১১ দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে কোনো বাধার মুখে পড়েনি। ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া লংমার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন জোটের নেতারা। সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য, দাবি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও তা প্রশাসনিক বা দলীয় শক্তি দিয়ে ঠেকানো হয়নি।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লংমার্চ অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—রাজনৈতিক বিরোধিতার জবাব বাধা বা হামলা দিয়েই দিতে হবে, এমন নয়। সরকার বিরোধী দলের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ দিতে পারে। এ চর্চা অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও সহনশীল সংস্কৃতি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি জনসম্মুখে আনার দাবি, সরকারকে নোটিশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে করা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও নথি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে চুক্তির শর্ত, মূল্য, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য জনসাধারণের জানার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার পায়েল এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, অর্থ সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবরে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি করা হয়েছে। নোটিশে এই বিশাল অঙ্কের জনসাধারণের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, আর্থিক যৌক্তিকতা এবং জনস্বার্থ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি (বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মুদ্রাস্ফীতি) এবং বিকল্প প্রস্তাবের (যেমন– এয়ারবাসের অফার) অস্তিত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নোটিশে বলা হয়, বোয়িং বিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে কিনা বা নতুন কোনো ক্রয়/লিজের পরিকল্পনা আছে কিনা, তা প্রকাশ করতে হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ এবং স্বাধীন যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি, ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড পাবলিক-ইন্টারেস্ট অ্যাসেসমেন্ট) সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬ অনুসরণ করে স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব চাওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনসাধারণের অর্থ সুরক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ বিএনপির নসিহত আমাদের লাগবে না: সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপির আমাদের শেখাতে হবে না যে আমরা কীভাবে কর্মসূচি করব। বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার দুপুরে পিরোজপুরে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। শহরের রাজারহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সারজিস আলম বলেন, ‘তারা বলছে এটা লং মার্চ না, রোড মার্চ। আবার কেউ কেউ বলছে লং ড্রাইভ। আমাদের এটা যদি লং ড্রাইভ হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া যেটা করেছিলেন, সেটাও লং ড্রাইভ। আর বেগম খালেদা জিয়ারটা যদি লং মার্চ হয়, তাহলে আমাদেরটাও লং মার্চ।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শিখাতে হবে না, বিরোধী দল কী কর্মসূচি করবে। আপনারা বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ ছিলেন। আপনারা যখন মার্চ টু ডেমোক্রেসির ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন শুধুমাত্র একটি বালুর ট্রাক দিয়ে আপনাদের পুরো লং মার্চকে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। আপনারা বালুর ট্রাকও সরাতে পারেননি। তাহলে আপনারা বিরোধী দল হিসেবে সেই লং মার্চ দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।’ সারজিস আলম আরও বলেন, ‘সেই ব্যর্থ বিরোধী দলের নসিহত নিয়ে আমাদের বিরোধী দলের কার্যক্রম ঠিক করে দিতে হবে না। আমরা জাতীয় পার্টির মতো পোষা বিরোধী দল হব না, বিএনপি যেন সেই স্বপ্ন না দেখে। আমরা আমাদের কর্মসূচি নিজেরাই ঠিক করব।’ তিনি বলেন, ‘যদি বিএনপি মনে করে তারা তাদের জায়গা থেকে আমাদের প্রতিরোধ করবে, তাহলে আমরা মনে করি এটার ফলাফল কখনো ভালো হবে না।’ বাক্‌স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির একজন নেতা যখন প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছিলেন, তখন দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য এমন ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন, যা দলটির কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। ভাষা ঠিক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সারজিস আলমের অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তাকে জেলে নিয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়েছে। সর্বশেষ তাকে জামিনও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘তাহলে তারেক রহমান যে বাক্‌স্বাধীনতার কথা বলেন, এগুলো মিথ্যা আর প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। তাহলে কি আমরা মনে করব, জনাব তারেক রহমানের মুখের কথা এক, আর মনের ভেতরের কথা আরেক?’ সারজিস আলম আরও বলেন, ‘তিনি উপরে উপরে বলবেন সমালোচনা করুন, আমরা স্বাধীনতা দিচ্ছি। ভেতরে ভেতরে কেউ একটা কথা বললে, সমালোচনা করলে আপনি আপনার জায়গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করাবেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে জেল খাটাবেন, মিথ্যা মামলা দেবেন-এটা তো হতে পারে না।’ সিফাত নামের ওই তরুণের দেওয়া গালিকে এনসিপি সমর্থন করে না উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘সিফাত নামের ছেলেটা যে গালি দিয়েছে, সেই গালিকে আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে মামলাটা দেওয়া হয়েছে, এটা তো মিথ্যা মামলা, সন্ত্রাসবিরোধী মামলা, এক বছর আগের মামলা।’ এনসিপির পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে এবং জেলা সদস্যসচিব মাঈনুল আহসান মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার প্রমুখ।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র, গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: রিজভী

সংসদ বাদ দিয়ে মাত্র ছয় মাসের মাথায় রাজপথে ‘লংমার্চ’-এর নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দল রাজপথে লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে সেগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে। যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। জনগণের সামনে যেসব শব্দ উচ্চারণ করা যায় না, তা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে বিরোধী দল তাকে দমন-পীড়ন বলে দাবি করে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।     জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল শুধু সমালোচনাই করে যাচ্ছে, অথচ সঙ্কট নিরসনে তাদের গঠনমূলক কোনো প্রস্তাবনা নেই। তারা সংসদে এই বিষয়ে কোনো পরামর্শ না দিয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলোকে তারা জনগণের সামনে তুলে না ধরে আড়াল করার চক্রান্ত করছে।     তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলন করে বেড়ালেও সাধারণ জনগণ তাদের এই ভূমিকা ভালোভাবে দেখছে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে নিজেদের দাবি বা প্রস্তাব না তুলে তারা রাজপথ বেছে নিয়েছে, যা মূলত সরকারের সার্বিক উন্নয়ন ঢাকা দেওয়ারই অপচেষ্টা।     সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যবহৃত সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে।   বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।   রোববার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে অলি আহমদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদ ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদই রাষ্ট্রপতি পদে জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই প্রবীণ রাজনীতিক এর আগে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জোটের নেতাদের বৈঠকের পর তার প্রার্থিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। জোটের পক্ষ থেকে তাকে একক প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ঘোষণা করায় নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা তৈরি হয়। একই সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। ফলে সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং প্রার্থীর প্রতি দলীয় সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নাম ঘোষণার ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। ফলে ২০ আগস্টের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার মেয়ে শামারুহ মির্জা। ফাইল ছবি
বাবাকে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া বার্তা দিলেন ফখরুলকন্যা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফর ও নাগরিক সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা।    বাবার এই সফর ঘিরে নিজের উচ্ছ্বাস ও অনুভূতির কথা প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় পদের চেয়েও তার কাছে বাবার পরিচয়ই সবার ওপরে।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ড. শামারুহ মির্জা লেখেন, আজ আব্বু ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নাগরিক সংবর্ধনায়। খুব মিস করছি আমি। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা অন্তহীন।   নিজের পরিবারের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিও শেয়ার করেন তিনি। তিনি লেখেন, কদিন আগে এক রিপোর্টার আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘হাউ ডু ইউ ফিল, অ্যাজ এ প্রেসিডেন্টস ডটার?’ আমি বললাম, ‘প্রেসিডেন্ট অর নট, হি ইজ অলওয়েজ মাই আব্বু, মাই হিরো!’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা নেটিজেনদের নজর কাড়ে এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাবা ও মেয়ের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জনগণ এই সরকারকে আর ছাড় দেবে না: গোলাম পরওয়ার

বর্তমান বিএনপি সরকারকে দেশের জনগণ আর ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।   তিনি বলেছেন, পথে পথে জনগণের যে সমর্থন আমরা পেয়েছি, তাতে স্পষ্ট যে, জনগণ বর্তমান সরকারকে আর ছাড় দেবে না।   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের এক নেতা বলেছেন, তাদের (বিএনপিকে) নাকি ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু পথে পথে জনগণ যে সমর্থন দিয়েছে এবং জনগণও এই সরকারকে ছাড় দেবে না।   জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা যে জুলাই সনদ অর্জন করেছি, নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য আমাদের সংগ্রাম থামবে না।   তিনি বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত এই লংমার্চ শেষ হবে না। নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুই-তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ ‘গাড়িগুলো কি পানিতে চলে’ : শামা ওবায়েদ

বিরোধী দলের লংমার্চ আয়োজনে বিরাট গাড়িবহরের দিকে প্রশ্ন রেখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ বলেছেন, একদিকে বলছেন তেল নাই, গ্যাস নাই। অন্যদিকে দুই থেকে তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছেন; গাড়িগুলো কি পানিতে চলে নাকি তেলে চলে?   ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, আপনারাও সরকারের অংশ। সুতরাং, সেই খরচের হিসাবটাও জনগণ জানতে চায়।   বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে শামা ওবায়েদ তাদের সংসদে এসে আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। বিরোধী দলকে লংমার্চ না করে সংসদে এসে দাবি-দাওয়া উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে যখন আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি, সে সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দল নাকি লংমার্চ করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে বিএনপি সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়ন হবে।   শামা ওবায়েদ বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন তেল নাই, গ্যাস নাই- এটা নাকি সরকারের দোষ। অন্যদিকে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছেন। আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে জনগণের জন্য কাজ করবে। আপনারা প্রতিনিয়ত সংসদে আসছেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া সংসদে তুলে ধরেন, তখন তর্কবিতর্ক বা আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা করতে পারব। লংমার্চ করে তেল নষ্ট না করে পার্লামেন্টে এসে কথা বলেন।   ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ফেরত এসেছে, কিন্তু ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কৃষকদের খেপানোর চেষ্টা হচ্ছে যে সারের সমস্যা আছে। সারের কোনো সমস্যা বাংলাদেশে নেই।   বিগত সরকারের সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর শেখ হাসিনার সরকার সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে জ্বালানি খাতে; তারা বিদ্যুৎ স্থাপনা নির্মাণ করলেও উৎপাদনের ব্যবস্থা করে নাই। আমাদের দেশের যে পরিমাণ গ্যাস মজুত আছে সেই গ্যাস উত্তোলনেরও চেষ্টা করে নাই। গত দেড় বছরে ইউনূস সরকারও সেই খাতের উন্নতি করে নাই। সুতরাং ১৭ বছরের আর্থিক খাতের অনিয়ম ৬ মাসে দূর করা যাবে না।   বর্তমানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে দাবি করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের প্রকৃত অপরাধীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়েছে এবং দেশের মাটিতে ফেরত এসে সাজা ভোগ করতেই হবে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। আমরা চাই, যারা দোষী তাদের বিচার হোক। আমরা চাই না যারা অন্যায় করে নাই, যারা কোনো খুন করে নাই, অবিচার করে নাই— তাদের অন্যায়ভাবে বিচার হোক।   এর আগে, শামা ওবায়েদ নগরকান্দা মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে ভূমি অফিস-সংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি : জামায়াতে ইসলামীর আমির

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।   শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ শেষে সমাপনী সমাবেশে তিনি বলেন, “জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, ডাক তখনই আসবে।”   বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এতগুলো মানুষ মারা গেল। তাদের দলেরও প্রচুর লোক মারা গেছে। গুম হয়েছে। আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত আর জীবনের প্রতি কি আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই?   “আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন যে, আমাদের সরকার শিশু সরকার। জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয় নাই। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আপনারা ভোট নিয়েছেন। কথা দিয়েছেন। এখন সবকিছু লঙ্ঘন করছেন।”   জামায়াতের আমির বলেন, “আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন। আর বিরোধী দল বসে বসে আঙ্গুল চুষবে এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙ্গুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে। আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরাতো চাই নাই। আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভিতরেই তার ফয়সালা হবে।   “আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন। প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সাথে প্রতারণা করবে না।”   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এদিন ‘লং মার্চ’ করছে ১১ দলীয় ঐক্য।   শনিবার সকালে ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এ লং মার্চ রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য, ‘দলের ভেতরে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তা

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসার পর দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য রেখেছেন; দিয়েছেন দলের ‘ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তা।   শনিবার এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বারবার তার গলা ধরে আসছিল।   সাড়ে পাঁচ মাসের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, এ সময়ে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার খোঁজখবর রেখেছেন।   “একজন কর্মী দলের কাছ থেকে কী আশা করে, নেতারা খোঁজখবর রাখবেন, নেতারা ভালোবাসবেন, বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়াবেন। অথবা সমবেদনা জানাবেন। সেটাই পেয়েছি।”   তিনি বলেন, “আজকে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে। অনেক ষড়যন্ত্র হবে মাননীয় নেতা আপনার বিরুদ্ধে, আপনাদের বিরুদ্ধে।   “আপনি দরকার হয় সাবধান থাকবেন এবং আপনি অনেক উদার আমি জানি, নিসন্দেহে। তবে সবসময় এমন হওয়া যাবে না। এটুকু আপনাকে আমি বলতে চাই।   ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “বহু কর্মী আছেন, নেতা আছেন, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, বাইরে আসে কিন্তু ভালো কথা বলেন না।”   জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী সেসব কথা বলবেন তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, “বিষয়গুলা সম্বন্ধে আপনার একটু সাবধান হওয়া উচিত। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, উনি, বলতে পারি আমরা যে, স্বাভাবিক। না, খালেদা জিয়ার মৃত্যু অন্তত আমার কাছে স্বাভাবিক নয়।”   সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বহুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ওনার মৃত্যু, নিসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, তা আমাদের কাম্য ছিল না।”   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনেক ভালো ভালো কাজ, খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে নষ্টা হয়ে যাচ্ছে তুলে ধরে সে দিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।   জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতির দীক্ষা পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার কাছে লালিত হওয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, “আপনার সঙ্গে রাজনীতি করেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। এখানে আর কোনো কিছু সুযোগ নাই।… এখানে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করবে না।”   ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেগুলো আমি জানব, দলের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো আপনাকে জানাবো ইনশাআল্লাহ।”   বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়।   আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেন।   ‘কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনামি হচ্ছে’   মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন…কিছু মনে করবেন না আমি খোলাখুলি বলি… কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালে জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতে লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনাম আমাদের মাধ্যমে হয়নি।”   দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা, খালেদা জিয়ার কারাভোগ, নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা জেল খেটেছি… দলটা এখনো ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দুই-একজন লোকের জন্য দলটা বদনাম হতে পারে না, এটা একটু আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমি মনে করি আমি কি বলেছি এটা আমার নেতা বুঝেছেন এবং আপনারা ভালো করে বুঝেছেন।”   এ সময় তিনি বিএনপি ও দেশকে বাঁচানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।   দলের ভারপ্রাপ্ত মহসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।   আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান,এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে গেলেন রিজভী

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান‌ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে যান তিনি।   রুহুল কবির রিজভী এ সময় প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।‌ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা ও কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সহসম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন।   এ সময় রুহুল কবির রিজভী কিছুটা সময় প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীর পাশে বসে চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের কাছে থেকে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।   এর আগে এদিন সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে নিজের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে বহনকারী গাড়ি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম আহত হন।   পরে দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রীকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর ডান ও বাম পায়ে এবং বুকে আঘাত লেগেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন সবাইকে নিয়ে আসেন: গয়েশ্বর

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, ‘আপনি আসেন, আপনি কেন দেশের বাইরে থাকবেন? আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন, সব চোর নিয়ে একবারে ঢাকায় আসেন। বাংলাদেশে আসেন। জনগণ আপনাদের দেখতে চায়।’   রাজশাহীতে এক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ কথা বলেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কেউ কেউ অপেক্ষা করছে, আবার আসিব ফিরে। আমার আপা ঘন ঘন আওয়াজ দেন, তিনি আসবেন। সাহস থাকলে আসিয়া পড়েন, আসিয়া পড়েন।’   বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের তৃণমূলের মানুষের কথা শুনতে হবে। সাধারণ মানুষ কী চান, তাঁদের কী অভাব এবং কীভাবে সেই অভাব দূর করা যায়, এসব জানা জরুরি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে থাকলে ভুল করার আশঙ্কা বেশি।   জিয়া মঞ্চের উত্থানের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক সক্রিয় নেতা-কর্মী পদবঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের একটি অংশ জিয়া মঞ্চে এসে সংগঠিত হয়েছেন। জিয়া মঞ্চ রাজপথের নেতা-কর্মীদের জায়গা করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র চলমান। এটা আপনাদের বুঝতে বাকি নেই। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই সরকার গঠনটা অনেক সুখের নয়, অনেক দায়িত্বশীলতার ব্যাপার।’   প্রশাসন নিয়ে বিএনপির এই নেতার মন্তব্য, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী ভূত পেয়েছে। আবার যারা গুপ্তচরের মধ্যে আছে, তাদেরও পেয়েছে। এই প্রশাসন পেশাদার হয়নি। পেশাদারত্বের অভাবের কারণে এই প্রশাসন দিয়ে ভালো কাজ করা খুব কঠিন। তিনি বলেন, শুধু আগের সরকারের ব্যর্থতার কথা বলে জনগণকে বেশি দিন অপেক্ষায় রাখা যাবে না। অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসনে পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা বর্তমান সরকারের বড় দায়িত্ব।   বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তাঁর ভাষ্য, ৩১ দফা কর্মসূচি এখন শুধু তারেক রহমান বা বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণ ৩১ দফার ওপর আস্থা রেখে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চান।   দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঢাকা–৩ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি, ঋণের বোঝা ও নানা সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সময় প্রয়োজন। জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে।   দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘১৭ বছর যদি কষ্ট করে থাকি, আরও তিনটা বছর কষ্ট করি। আমার যে অর্থ প্রয়োজন হবে পাঁচ বছরে, সেই অর্থ যেন পাঁচ দিনে উপার্জন করার চেষ্টা না করি। অর্থাৎ বাঁকা পথে অর্থ রোজগারের ভাবনা মাথা থেকে পরিহার করতে হবে।’   বক্তব্যে দুর্নীতি বন্ধ ও রাষ্ট্রীয় খাতে অপচয় রোধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাগিদ দেন গয়েশ্বর। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার পাশাপাশি রাজনীতিকেও কলঙ্কিত করেছে।   বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, ‘শুধু হাসিনার ব্যর্থতার কথা বলে জনগণ বেশি দিন অপেক্ষা করবে না। জনগণ রুষ্ট হবে, তারা অভিমান করবে আমাদের ওপর। আর তাদের আবার উত্তেজিত করার জন্য পার্লামেন্টে যারা উল্টো দিকে বসে (বিরোধী দল) ইতিমধ্যে প্রস্তুত আছে।’   গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১১–দলীয় ঐক্য।   এ বিষয়ে বক্তব্যে গয়েশ্বর বলেন, ‘সে কারণে ওরা আগামীকাল লংমার্চ করবে। কিসের? আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, ওরা যে বেহেশতে যাওয়ার জন্য টিকিট বিক্রি করছে মানুষের সামনে, এখন বেহেশতটা কোথায়—সেই ঠিকানা খোঁজার জন্য বোধ হয় লংমার্চ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব, আল্লাহ তাদের ইচ্ছা যেন কবুল করেন। তারা যেন যায়।’   বক্তব্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গেও কথা বলেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য বের করে আনা প্রয়োজন।   সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত, উদ্বোধক ছিলেন জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ্ ইকবাল।   এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. মামুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। এতে বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ডা. তাসনিম জারা। ফাইল ছবি
ক্ষমতাসীনদের গালি দেওয়া নিয়ে তাসনিম জারার প্রশ্ন

বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গালিগালাজ করে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহ। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গাজীপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।   এ প্রসঙ্গে শুক্রবার বিকালে (৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো-   ‘সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না। এটা নিয়ে তর্ক করার কিছু নাই। কিন্তু প্রশ্নটা ভদ্রতার নয়। কারণ সিফাতকে অভদ্রতার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?   দেখলাম যারা এই গ্রেফতারের বিপক্ষে লিখছেন; তাদের কমেন্টবক্সে গালির বন্যা। সঙ্গে বলছেন যে ছেলেটা গালি দিয়েছে, তাই ধরা ঠিক হয়েছে। আয়রনি হলো, তারা নিজেরাই গালি দিয়ে সেটা বলছেন। এবং তাদের কোনো ভয় নাই। কারণ তারা জানেন গালিটা তারা কাকে দিচ্ছেন, আর কাকে দিচ্ছেন না। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ, ক্ষমতায় না থাকা কাউকে দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য।   আপনারা একটা তালিকা করে দিন। কী কী লিখলে, কী কী আঁকলে, বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী কী বললে রাত সাড়ে আটটায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন। আমরা মেনে চলব। আর যদি তালিকা দিতে অস্বস্তি হয়, ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার আলাদিনের আচরণের মতো মনে হয়, তাহলে নিজেদের সংযত করুন।   সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। মামলা প্রত্যাহার করুন। আর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যে ধারাগুলো কথা বলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়, সেগুলো সংশোধন করুন।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের বেতন-ভাতা কত?

টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী হয়েছেন ৫১ বছর বয়সি প্রকৌশলী জন টার্নাস।   নতুন এ দায়িত্বের জন্য তিনি মূল বেতনের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ার পাবেন, যার বড় অংশই নির্ভর করবে কোম্পানিতে অর্জিত তার পারফরম্যান্সের ওপর।   এদিকে, অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে পাওয়া ভাতা ও শেয়ার মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের পারিশ্রমিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন কোম্পানির নতুন পদে বসা টিম কুক।   পদত্যাগ পরবর্তী টিম কুকের এ পারিশ্রমিক প্যাকেজ কোম্পানিটির নতুন প্রধান নির্বাহী টার্নাসের নির্ধারিত ভাতার প্রায় কাছাকাছি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।   মঙ্গলবার জন টার্নাসের কাছে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন টিম কুক। নতুন চুক্তিতে তিনি ২০ লাখ ডলার মূল বেতন ও ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার পাবেন।   এ শেয়ারের অর্ধেক টিম কুকের কর্মক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে, আর বাকি অর্ধেক চার বছর ধরে পরিশোধ হবে।   অন্যদিকে, নতুন সিইও টার্নাস পাবেন ৩০ লাখ ডলার মূল বেতন ও ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার, যা তার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে।   প্রধান নির্বাহী হিসেবে ২০২৫ সালে টিম কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি।   বর্তমানে অ্যাপলের ৩০ লাখেরও বেশি শেয়ারের মালিক টিম কুককে ‘মাল্টি-বিলিয়নেয়ার’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফোর্বস। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।   তার পূর্বসূরী ও অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বছরে প্রতীকী ১ ডলার বেতন নিতেন। তবে প্রয়াণকালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও বিক্রির সূত্রে পাওয়া ডিজনি’র শেয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল।   অপারেশনস বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাফল্য দেখিয়ে ২০১১ সালে জবসের স্থলাভিষিক্ত হন কুক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ২২০০ শতাংশ বেড়েছে।   ফলে টিম কুক যখন সিইও হন তখনকার ৩৫ হাজার কোটি ডলারের অ্যাপল আজ প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।   অ্যাপলের জটিল ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৫১ বছর বয়সি প্রকৌশলী ও অ্যাপলের দীর্ঘদিনের কর্মী জন টার্নাস।   এর আগে, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন পণ্য নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।   দায়িত্বের অংশ হিসেবে তাকে আইফোনসহ অ্যাপলের পুরো পণ্য সারির প্রকৌশল দলের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে, যা কোম্পানিটির আয়ের প্রধান উৎস।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন কেবল নতুন পণ্যের প্রত্যাশাই করছেন না, বরং অ্যাপল হার্ডওয়্যারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যোগ করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন।   ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে আসবেন টার্নাস। এ অনুষ্ঠানে ফোল্ডএবল আইফোন উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।   এ ছাড়া অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের নতুন সংস্করণ আসার পূর্বাভাস থাকলেও গেল সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে ক্যামেরা সংবলিত এয়ারপডস দ্রুত বাজারে আসছে না।   অ্যাপলের নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে টিম কুকের কাজের পরিধিতে থাকছে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মেলবন্ধন রক্ষা। এর মধ্যে অন্যতম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা ও অ্যাপলের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ দেখভাল করা।   সোমবার কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বিদায়ী স্মারকে অ্যাপলের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ওপরই গুরুত্বারোপ করেছেন টিম কুক।   তিনি লিখেছেন, “আপনাদের নেতৃত্ব দেওয়া ও প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকার বিষয়টিকে আমি মিস করব।   “তবে জনের মতো একজন দারুণ, মেধাবী ও দক্ষ মানুষের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে পেরে আমি আশ্বস্ত। বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি পণ্য তৈরির বিষয়টি জনের চেয়ে কম মানুষই ভালো বোঝেন।”

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ধারণা ভেঙে গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি এই দেশের সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের তাদের ‘ভোট ব্যাংক’ মনে করত, সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভেঙে দিয়েছেন।   শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে।    তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না; এ কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের কর্তাদের স্বাধীনতা ও উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।’   তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে কোনো মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক- তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন।কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব।’   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকবে। এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। এজন্যই আমরা বলি, আমাদের নেতা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি, তারপরে আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়।সবার আগে বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।’   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউই যেন নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন। সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এই দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে আমরা আজকে থেকে কী বলব? ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব। সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখব। কেউ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। এটা হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মির্জা আব্বাসের স্ট্রোকের জন্য পাটোয়ারীকে দায়ী করলেন রাশেদ খাঁন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) কোনো স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয়, বরং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত ব্যক্তি আক্রমণের শিকার হয়েই তিনি এ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, উন্নত চিকিৎসার পরও মির্জা আব্বাস এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কথা বলতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, যা পুরো সংসদকে স্তব্ধ করে দেয়। মির্জা আব্বাস বর্তমানে নিজে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না, দেখে পড়ার সময়ও কথা অস্পষ্ট শোনাচ্ছে এবং তার একটি হাত নাড়াতেও তীব্র কষ্ট হচ্ছে। মির্জা আব্বাসের এই শারীরিক সংকটের নেপথ্যে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর আচরণকে দায়ী করে রাশেদ খাঁন লেখেন, নির্বাচনের আগে থেকেই বয়সে অনেক ছোট নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ্য করতে হয়েছে মির্জা আব্বাসকে। নির্বাচনের পরও তিনি সেই মানসিক নিপীড়ন থেকে রেহাই পাননি। এমনকি তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার প্রতিকৃতি বানিয়ে বক্সিং বা আঘাত করার মতো কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। সাধারণ অসুস্থতার জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক নিপীড়নকে স্ট্রোকের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকাকে সুসংগঠিত করা এবং বিগত ১৬ বছর বহুবার কারাবরণকারী এই প্রবীণ নেতাকে ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতালে তার ওপর হেনস্তা চালানো হয়েছিল। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ এসব অবিচার ও মিথ্যা অপবাদ মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, দীর্ঘদিনের তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে শেষ পর্যন্ত মির্জা আব্বাস স্ট্রোকের কবলে পড়েন এবং আজকের এই করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে তার এই অসুস্থতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর পরিকল্পিত মানসিক অত্যাচারেরই প্রত্যক্ষ পরিণতি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
সাড়ে ৪ হাজার কোটির প্রকল্প ১৬ হাজার কোটি, আলোচনায় আসিফ মাহমুদ

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় প্রথম সংশোধনে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। পরে দ্বিতীয় দফায় তা লাফ দিয়ে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। অথচ ব্যয় বাড়ানোর সময় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ছিল ১০ শতাংশেরও কম। প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের সময় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়টিও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।   ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি থেকে ১৬ হাজার ১৪ কোটি ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। পরবর্তীকালে প্রথম সংশোধনে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় দফায় ব্যয় আরও বাড়িয়ে দাঁড় করানো হয় ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় এখন অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। সাধারণত প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেলেও সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় বাড়ার সময় কাজের অগ্রগতি ছিল খুবই কম। প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল ১০ শতাংশেরও নিচে। একই ধরনের আরেক প্রকল্পে ব্যয় কম সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি আরও প্রশ্নের মুখে পড়ে একই ধরনের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে। প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের গন্ধর্বপুর প্রকল্পে সায়েদাবাদ প্রকল্পের তুলনায় বেশি পানি শোধন ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি এ প্রকল্পে পাইপলাইনও দীর্ঘতর। অথচ এর ব্যয় সায়েদাবাদ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এ কারণে সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয় কীভাবে এতটা বাড়ল, প্রকল্পের অগ্রগতি কম থাকা অবস্থায় কেন ব্যয় বাড়ানো হলো এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না- এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্যয় বৃদ্ধির সময় দায়িত্বে ছিলেন আসিফ সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অভিযোগ রয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করার কথা রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আসতে পারে প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ দুদকে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোই যাচাইয়ের পরে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ফলে এখন দুদকের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প কীভাবে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছাল, কাজের অগ্রগতি ১০ শতাংশের নিচে থাকা অবস্থায় ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা কী ছিল এবং এই ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সম্পর্ক ছিল কি না।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬