অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে এখন তীব্র আর্থিক সংকটের বাস্তবতা। রাজস্ব আদায় হ্রাস, পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপ এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির ফলে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এমন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারের পরিকল্পিত চলতি ব্যয় মেটাতেও এখন ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির সূচকগুলো নেমে গেছে, আর্থিক প্রবাহ সংকুচিত হচ্ছে, আর উৎপাদন ও কর্মসংস্থান থমকে আছে।
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের বোঝা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকার ইতিমধ্যে কৃচ্ছসাধনের নীতি নিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন ব্যয় কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে। এরপরও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে। বিপরীতে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে—যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আর বেসরকারি খাতে তা কমেছে দশমিক ০৩ শতাংশ। টানা দুই মাস ধরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেতিবাচক রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, রপ্তানিতে স্থবিরতা এবং শিল্পখাতের দুরবস্থার কারণে এ প্রবণতা অব্যাহত আছে।
দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে রয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ কোটি এবং সরকারি খাতে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা। সরকারি খাতে ঋণ বাড়লেও এর বেশিরভাগই ব্যয় হচ্ছে চলতি খরচ মেটাতে, উন্নয়ন বা উৎপাদন বাড়াতে নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশঙ্কা করছে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আকস্মিক ব্যয় সংকট দেখা দিলে সরকারের ঋণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিবেদনে সরকারি ঋণ বৃদ্ধির তিনটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে—রাজস্ব আদায়ের ব্যর্থতা, বিগত সরকারের বিশাল ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং সুদ ও দণ্ডসুদ বাড়ার চাপ। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নেওয়া বিপুল ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বর্তমান সরকারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ডলার সংকট। ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখায় অতিরিক্ত সুদও গুনতে হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। ব্যাংক খাত থেকে আগের নেওয়া ঋণের মধ্যে ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে নন-ব্যাংকিং উৎস থেকে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের সুদহার ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত, যা ব্যাংক ঋণের তুলনায় অনেক বেশি।
মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত তিন বছর ধরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হচ্ছে, যা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করছে।
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার আন্দোলন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং কর ফাঁকির কারণে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। জুলাই-আগস্টে আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট বাড়ছে। আগস্টের শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদি আমানত বাড়লেও চলতি আমানত কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ব্যবসায়িক লেনদেন ও নগদ প্রবাহ কমে গেছে, যা অর্থনীতির মন্থরতারই প্রতিফলন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের ব্যয় ও ঋণ কাঠামো এখন এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নতুন কোনো দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। রাজস্ব প্রবাহ না বাড়লে এবং বেসরকারি খাতের কার্যক্রম না ঘুরে দাঁড়ালে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বর্তমান সরকারের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঋণনির্ভর ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো, বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। অন্যথায়, এই আর্থিক সংকট অচিরেই অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মানবজীবনে চোখ আল্লাহ-তাআলার এক মহান নিয়ামত। এই চোখ দিয়েই মানুষ পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখে, জ্ঞান অর্জন করে এবং সত্য-মিথ্যা উপলব্ধি করে। তবে চোখ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তবে তা বহু পাপের পথ খুলে দিতে পারে। তাই ইসলাম দৃষ্টির হেফাজতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্টের কারণে চোখের পাপ থেকে বাঁচা আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই একজন মুমিনের জন্য দৃষ্টি ও অন্তর সংযত রাখা অত্যন্ত জরুরি। ১. দৃষ্টি নত রাখা চোখের পাপ থেকে বাঁচার প্রথম ও প্রধান উপায় হলো দৃষ্টি নত রাখা। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ-তাআলা বলেন, (হে নবী,) আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে।…এবং আর মুমিন নারীদেরও বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে।” (সুরা নুর, আয়াত: ৩০-৩১) তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই দৃষ্টি যদি বারবার ফিরে যায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তখন তা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, “প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার আর তাকাবে না। কারণ প্রথমটি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু দ্বিতীয়টি নয়।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৯) ২. নির্জনে আল্লাহর ভয় মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় নির্জনে। যখন কেউ একা থাকে, মোবাইল ব্যবহার করে কিংবা গোপনে কোনো হারাম কাজের সুযোগ পায়, তখনই তার ইমান ও তাকওয়ার বাস্তব পরীক্ষা হয়। যে ব্যক্তি এই মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখতে পারে, সেই-ই প্রকৃত মুত্তাকি। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৯ আল্লাহ-তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু।” (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩) ৩. পাপের পরিবেশ এড়িয়ে চলা যে পরিবেশে অশালীনতা ও লজ্জাহীনতা বেশি, সেখানে চোখকে সংযত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম তাই শুধু গুনাহ নয়; পাপের পরিবেশ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না।”(সুরা ইসরা, আয়াত: ৩২) বর্তমানে অনেক পাপের সূচনা হয় স্ক্রিনের মাধ্যমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেসব পেজ, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট অন্তরকে পাপের দিকে টানে, সেগুলো থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। ৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক কোরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক মহিমান্বিত গ্রন্থ, যা মানবজাতিকে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তাই শুধু কোরআন পাঠ নয়; বরং এর অর্থ বোঝা, অন্তরে ধারণ করা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ-তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই এই কোরআন সেই পথ দেখায়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক।” (সুরা ইসরা, আয়াত: ৯) যখন একজন মানুষ কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলে, তখন তার অন্তর পরিশুদ্ধ হতে শুরু করে। ফলে তার চিন্তা, দৃষ্টি ও চরিত্র ধীরে ধীরে সুন্দর, সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং সে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে দ্রুত অগ্রসর হয়। ৫. রোজার রাখা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চোখের নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে ইসলাম রোজা ও নফল ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে কারণ রোজা প্রবৃত্তিকে দমন করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬) রোজা মানুষের ভেতরে আত্মনিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করে এবং গুনাহের প্রবণতা কমায়। পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, জিকির, দোয়া ও নফল নামাজ অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে।
কুরবানির ঈদে গরুর মাংসের নানা পদ খেতে সবাই কমবেশি পছন্দ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সুস্বাদু খাবার উপভোগ করলেই হবে না—খাওয়ার পর কী খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ কিছু খাবারের সংমিশ্রণ হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই দুধ বা দুধজাত খাবার খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়। ঈদের খাবারের শেষে পায়েস, ফিরনি, পুডিং বা মিষ্টিজাতীয় ডেজার্ট খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, মাংস ও দুগ্ধজাত খাবার—দুটিই প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং তুলনামূলক ভারী খাবার। ফলে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে হজমে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে কারও কারও ক্ষেত্রে গ্যাস, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের হজমশক্তি দুর্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তারা বেশি অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ভারী মাংস খাওয়ার পর অন্তত কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে দুধ বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া ভালো। খাওয়ার পর অল্প হাঁটাহাঁটি করলেও হজমে সহায়তা করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে পরিমিতভাবে খাওয়ার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যাতে ঈদের আনন্দের সঙ্গে সুস্থতাও বজায় থাকে।
বগুড়ার কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক ও এক ট্রাক হেলপার নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) ভোররাত ও সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন ট্রাকচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাহালু উপজেলার ভ্যাপড়া এলাকায় নিউ হোপ ফিড মিলের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মো. রবিউল আউয়াল ওরফে জিয়া (৪২) নিহত হন। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তরতবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ফিড মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। অপরদিকে, বুধবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম উপজেলার ফোকপাল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে আরেকটি চলন্ত ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের হেলপার মো. ইনজামাম (২০) নিহত হন এবং চালক মো. শামীম শেখ (৩৫) গুরুতর আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইনজামামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।