অন্যান্য

কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতার ভেতরের মানুষেরা

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ১৩, ২০২৫

জাগরণের অগ্নিবীণা বাজিয়ে যিনি আত্মভোলা, অসচেতন ও অলস জাতিকে তারুণ্যের উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হতে বলেছেন, মুক্ত প্রাণ ধর্মের তারুণ্যকে জয়যুক্ত করার জন্য যিনি অমর যৌবনের আগ্নেয় দুর্দান্তকে দোড়রা মেরে সচেতন করে তুলেছেন তিনি হলেন মহাবিশ্বের এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, মহাবিদ্রোহের রণতুর্যবাদক বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কাজী নজরুল ছিলেন ইসলাম সকল শ্রেণির মানুষের কবি, তিনি সমাজের উঁচুতলার লোকদের সাথে যেমন মিশেছেন ততোধিক গভীরভাবে ও নিবিড়ভাবে মিশেছেন সমাজের খেটে-খাওয়া কুলি-মজুর, শ্রমিক-কৃষান, জেলে-মাঝি, কামার-কুমার, সাঁওতাল-মুন্ডা, গারো-খাসিয়া, রাজমিস্ত্রী, তাঁতি-ধোপা, বাউল, সাপুড়ে-বেদে অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের সাথে। তিনি তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আবেগ-কল্পনা, ভালো লাগা-মন্দ লাগাকে বিষয় করে অসংখ্য কাব্য রচনা করেছেন। পণ্ডিত থেকে পথচারী, শহরবাসী ভদ্রলোক থেকে মাঠের রাখাল সবাই ছিলেন তাঁর আত্মার আত্মীয়। সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থে কবি মূলত মানুষের কথা বলেছেন। মানুষ কবিতায় বিশ্ব শব্দসম্রাট কাজী নজরুল ইসলাম নব শব্দ সৃষ্টির কারিগর হয়ে সমাজের নব বিনির্মাণের নিমিত্তে সাম্যের গান গেয়েছেন।

১৯২৫ খৃষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ৩৭নং হ্যারিসন রোড, কলিকাতা হতে শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়ের সাপ্তাহিক মুখপত্ররূপে ‘লাঙল’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। লাঙল পত্রিকাতেই ‘মানুষ’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি সংকলিত হয়। ‘মানুষ’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত এবং অসাম্প্রায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের জয়গান গেয়েছেন।

‘মানুষ’ কবিতায় কবি বেশ কিছু পৌরাণিক চরিত্র ও মহানবীরদের বীরত্বগাঁথাকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন: দেবতা, চেঙ্গিস, কালাপাহাড়, ঈসা, কৃষ্ণ, বৃদ্ধ, নানক, কবীর, কল্কি, মেহেদী ইসা, চণ্ডাল, হরিশচন্দ্র, শ্মশানের শিব, ব্রজের গোপাল, বলরাম, ভোলানাথ গিরিজায়া, মন্দোদরী ইত্যাদি। 

দেবতা: সাধারণ অর্থে দেবতা হল আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী। দেবতারা স্বর্গের অধিবাসী পরম পূজনীয় ও পবিত্র বলে বিবেচিত। পুরুষ দেবতাকে দেব এবং নারী দেবতাকে দেবী ডাকা হয়। পুরাণে পুরুষ দেবতার মধ্যে ব্রক্ষ্মা, বিষ্ণু ও শিব হচ্ছেন প্রধান। এঁদের একত্রে বলা হয় ত্রিদেব। নারী দেবতার মাঝে আছেন দুর্গা বা পার্বতী, কালী, জগদ্ধাত্রী, অন্নপূর্ণা প্রভৃতি দেবী শক্তি দেবতা রূপে পূজিত হন। কিছু লৌকিক দেবতাও পুরাণে দেখা যায়, যেমন শীতলা, মনসা, ষষ্ঠী প্রভৃতি। তেত্রিশ কোটি দেবতার কথা বলা হলেও মূলত দেবতার সংখ্যা ৩৩। তেত্রিশ কোটি  শব্দটি ভুলবশত প্রয়োগ করা হয়েছে। যর্জুবেদে দেবতার সংখ্যার বর্ণনায় বলা হয়“ত্রয়স্তিমাশতি কোটি” দেবতা। সংস্কৃত ভাষায় কোটি শব্দের দুটি অর্থ, একটি হল ‘প্রকার’ এবং অপরটি হল ‘কোটি’। ভুলবশত কোটি শব্দটির ভুল অর্থ প্রয়োগ করে ৩৩ প্রকার দেবতা পরিবর্তে ৩৩ কোটি দেবতা প্রচার করা হয়। 

কাজী নজরুল ইসলাম ‘মানুষ’ কবিতায় মূলত মানবিক গুণাবলি যথা: ভ্রাতৃত্ব, দয়া, ও সমতার প্রতীক হিসেবে ‘দেবতা’ শব্দটি ব্যবহার করে বোঝাতে চেয়েছেন মানুষের কষ্ট বুঝে, বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করে পৃথিবীর মানুষেরাই গোলকধাম ও দেবত্ব সৃষ্টি করতে পারে যেখানে ন্যায় বিচার ও ভ্রাতৃত্ব সদা বিরাজমান থাকবে।   

কালাপাহাড়: তৎকালীন গৌড় অঞ্চলের অন্তর্গত বর্তমান রাজশাহীর বীরজাওন গ্রামের খ্যাতিমান  ব্রাক্ষ্মণ নঞানচাঁদ রায়ের পুত্র কালাচাঁদ রায়। নিয়মিত পূজা অর্চনা ছাড়াও নঞানচাঁদ রায় পেশাগত জীবনে গৌড় অঞ্চলের বাদশাহ সুলায়মান খান কররানীর ফৌজদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পিতার পরিচয় সুবাদে কালাচাঁদ রায় গৌড়ের সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সুঠামদেহী বলিষ্ঠ পুরুষ, বিদ্যা ও বুদ্ধিতে বিচক্ষণ কালাচাঁদ যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে সবার নজর কেড়ে নেন। প্রাসাদের অভ্যন্তরে অবাধ যাতায়াতের সুবাদে সুলায়মান খান কররানীর কন্যা দুলারি বিবির সাথে তাঁর প্রণয় গড়ে উঠে। দুলারি বিবিকে বিয়ে করে তিনি প্রধান সেনাপতির পদ লাভ করেন। মুসলিম কন্যাকে বিয়ে করায় ব্রাক্ষ্মণরা ধিক্কার দিয়ে তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করে। ব্রাক্ষ্মণদের প্রতি ব্রীতস্পৃহ হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে 'মহম্মদ ফর্ম্মুলি' নামধারণ করেন। মায়ের অনুরোধে প্রায়শ্চিত্য করার জন্য পুরী মন্দিরে গেলে পুরোহিতরা তাকে ফিরিয়ে দেন। হিন্দু ধর্মে প্রত্যাখাত হওয়ার কারণে প্রবল হিন্দু বিদ্বেষী হয়ে তিনি কালাপাহাড় উপাধি লাভ করেন। গরুর চামড়া দিয়ে বিশাল আকৃতির ঢোল বাজিয়ে কালাপাহাড় মন্দিরে প্রবেশ করতেন। উড়িষ্যার বালেশ্বরের গোপীনাথ মন্দির, ভুবনেশ্বরের কাছে কোনার্ক মন্দির, মেদিনীপুর, ময়ূরভঞ্জ, কটক, কামাখ্যা মন্দিরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি পুরীর জগন্নাথ দেবের বলভদ্র ও সুভদ্রার কাঠের প্রতিমা উপড়ে ফেলে হুগলীতে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন। সম্বলেশ্বরী মন্দিরে আক্রমণ চালানোর প্রাক্কালে গোয়ালিনীর ছদ্মবেশে এক সুন্দরী ব্রাক্ষ্মণী কালাপাহাড়ের সাথে মিলিত হন। তার দেয়া বিষ মিশ্রিত দুধ, দই ও ছানা খেয়ে কালাপাহাড়ের মৃত্যু হয়। 

সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘মানুষ’ কবিতায় ধর্মের নামে হওয়া অবিচার ও ভ-ামির বিরুদ্ধে শক্তির প্রতীক হিসেবে কালাপাহাড়কে উপস্থাপন করেছেন। সমাজে অত্যাচার, নিপীড়ন ও বৈষম্য সৃষ্টি হলে সমাজকে কলুষতার কলঙ্ক থেকে মুক্তি প্রদান করে কালাপাহাড়রাই  মানুষের জয়গান গাইবেন।

ঈসা: যিশু খ্রিষ্ট্রই মূলত ঈসা নবি হিসেবে পরিচিত। যিশু খ্রিষ্ট প্রায় দুই হাজার বছর আগে মাতা মেরির গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন।  যীশুর জন্মের সময় তখনকার ইহুদি রাজা হেরদ রাজ জ্যোতিষীর কাছে জানতে পারেন নবজাত এক শিশু খুব শীঘ্রই এদেশের রাজা হবেন। হেরদ বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে বেথেলহেম ও তার আশেপাশের নবজাতক সকল পুরুষ সন্তানকে হত্যার আদেশ দিলেন। এই খবর শুনে যীশুর পিতা যোসেফ এবং মাতা মেরী শিশুসন্তানকে নিয়ে মিশরে পালিয়ে যান। যিশু খ্রিষ্ট্রের বয়স যখন ৩০ বছর তখন থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতে শুরু করেন। যিশু খ্রিষ্ট্র ধর্ম প্রচার করতেন একান্ত সাধারণ ভাষায়। যিশু খ্রিষ্ট্র ঈশ্বরের বাণী প্রচারের সাথে সাথে মানুষকে ডেকে বলতে লাগলেন‘ মানুষকে ভালোবাসো’। মানুষের সকল অপরাধ ক্ষমা করো। যারা তোমাদের শত্রু তাদেরকেও ভালোবাসো। মানুষকে ভালোবাসলে ঈশ্বর তোমাদের ভালোবাসবেন।’  মহামানব যীশুর উপদেশ শুনে মানুষ দলে দলে তার দিকে ধাবিত হলে ধীরে ধীরে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তার মুখের অমৃতবাণী শোনার জন্য মানুষ আকুল হয়ে থাকতো। জনপ্রিয়তা ঠেকাতে বিচারের নামে প্রহসন করে যিশুকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে ভালোবাসা আর ক্ষমার মহান দূত যিশু খ্রিষ্ট্র ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন “হে পিতা, তুমি এদের ক্ষমা করো। ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার চল্লিশ দিন পর যিশু ক্যালভেরি পর্বতে সমবেত শিষ্যদের দর্শন দেন। যিশু তাঁদের বললেন সমস্ত মানুষের কাছে আমার উপদেশ পৌঁছে দাও,দীক্ষিত করো। যারা আমাকে বিশ্বাস করবে তারা অনন্ত শান্তির অধিকারী হবে। অনন্ত কাল আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব। এরপরই যিশু অন্তর্ধান করেন । ঈশ্বরপুত্র ফিরে যান তাঁর পিতার কোলে। যিশুর অনুসারীরা খ্রিষ্টান হিসাবে পরিচিত।

কৃষ্ণ: কংসের কারাগারে ভাদ্র মাসের মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। বসুদেব সূতিকাগারে যশোদার শয্যায় নিজপুত্রকে রেখে যশোদার কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে কংসের কারাগারে ফিরে আসেন। কালীয় নামে একটি বিরাট সাপ তাঁর বিষ দ্বারা জলাশয়কে বিষাক্ত করে দিয়েছিল। এই জল পান করে রাখাল ও গরুর মৃত্যু হতো প্রায়শই। বালক কৃষ্ণ জলাশয়ের কাছে গেলে কালীয় নাগ তাকে আক্রমণ করে। কৃষ্ণ কালীয় নাগের মাথার ওপর উঠে নৃত্য করতে শুরু করেন। কালীয় নাগ পরাজয় বরণ করে স্থান ত্যাগ করে। কৈশোরে মথুরায় প্রত্যাবর্তন করে কৃষ্ণ তাঁর মামা কংসকে হত্যা করেন। কংসের পিতা উগ্রসেনকে পুনরায় যাদবকুলের রাজা হিসেবে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেন। পরে তিনি যাদবদের নিয়ে দ্বারকা নগরীতে বর্তমান গুজরাটে চলে যান। দ্বারকা নগরীকে তিনি স্বর্ণ নগরীতে রূপান্তরিত করেন। অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজনকে দেখতে পেয়ে অস্ত্র ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলে কৃষ্ণ অর্জুনকে তার স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করেন। তাঁর সমগ্র উপদেশাবলি ভগবদগীতা নামে খ্যাত হয়েছে। 

বৌদ্ধ: বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ নেপালের লুম্বিনী নগরে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালেই তার মাতা মারা যায়। সিদ্ধার্থের পিতা মহারাজ শাক্যবর্ধন তার জীবন বিলাসিতায় ভাসিয়ে দেন। অশোক- তমাল, নীপ-নিকুঞ্জ আর মহুয়া ঘেরা রাজপ্রাসাদে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে আর বিলাসিতায় তার বাল্যকাল অতিবাহিত হয়। সুন্দরী রাজকুমারীর সাথে বিয়ের পর স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে আরাম আয়েশেই তার জীবন চলে যাচ্ছিলো। রোগ-শোক, দুঃখ বলে পৃথিবীতে কোন ব্যাপার আছে তার ধারণাতেই ছিল না। জ্ঞান ছিল না মানুষের জন্ম,মৃত্যু আর বাধর্ক্য সম্পর্কে। কিন্তু একটি ঘটনা তার জীবনকে পাল্টে দেয়। জীবনের উনত্রিশতম বছর বয়সে সিদ্ধার্থ প্রথমবারের মতো তার বন্ধুর হাত ধরে একদিন প্রাসাদের বাইরে বের হন। তিনি রাস্তার ধারে জীবনে প্রথম বারের মতো এক বৃদ্ধ লোক দেখেন। বাধর্ক্যরে ভাড়ে বিপর্যস্ত  মানুষের এই রূপ তাকে অবাক করে দেয়। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখেন বাজারের পাশে এক মরদেহ পড়ে রয়েছে। মৃতের আত্মীয় স্বজনেরা তার পাশে বসে আহাজারি করছেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েন। তার ভেতরে নতুন মানুষের জন্ম হয়। তিনি মানুষের জীবন, জীবনের পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে থাকেন। বৈশাখের এক পূর্ণিমার রাতে স্ত্রী,পুত্র,বাবা,মা,রাজপ্রাসাদ ও রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা  ত্যাগ করে বেছে নেন সন্ন্যাসের শান্ত স্নিগ্ধ করকমল। আহার-নিদ্রা,কামনা-বাসনা ত্যাগ করে একটানা ছাব্বিশ বছর গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে অবশেষে তিনি সত্যের সন্ধান পান। বোধিবৃক্ষের তলে তপস্যা করে অসীম জ্ঞানের অধিকারী হয়ে মনুষ্য লয়ে ফিরে এসে মানুষের মাঝে প্রেম,সত্য আর ভালোবাসার অহিংস নীতি প্রচার করেন। 

নানক: শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক অবিভক্ত ভারতে (বর্তমান পাকিস্তানে) জন্মগ্রহণ করেন। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার পাঠ নিয়ে তিনি সমগ্র ভারতে শান্তির বানী প্রচার করেন। মানুষকে ভালোবাসা, সবার মধ্যে একতা এবং নিঃস্বার্থ সেবার ব্রত দিয়ে মানুষের জয় করেন তিনি।  

কবীর: কবীর অবিভক্ত ভারতের প্রয়াগ অর্থাৎ বর্তমান এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের কুসংস্কারাছন্ন সমাজের জাতপ্রথা ও বর্ণপ্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে সাম্যের বাণী প্রচার করে মানুষের মঙ্গলের জন্য জয়গান রচনা করেন। তিনি হিন্দু দর্শন, সুফি দর্শন ও বাউল দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাধারণ মানুষকে ধর্মের অভয়বাণীর জ্ঞান প্রদান করেন। 

কল্কি: কলি যুগের অন্তিমলগ্নে ভগবান বিষ্ণু কল্কি অবতাররূপে একজন বিষ্ণুভক্তের ঔরসে ধরাধামে অবতীর্ণ হবেন। তিনি বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের নিকট থেকে অস্ত্রশিক্ষা লাভ করে সমস্ত অনাচার ও অধর্মের  বিনাশ সাধন করবেন। বিষ্ণুর ত্রেতা যুগের অবতার ভগবান রামচন্দ্রের মতো কল্কিরও তিনজন ভ্রাতা থাকবে যারা বিষ্ণু ভক্ত ও দৈবশক্তিধারী হবেন। ভগবান কল্কি তাঁর দুই স্ত্রী পদ্মা ও রমা এবং চার সন্তান জয়, বিজয়, মেঘওয়াল ও বালা হকসহ শিবের আরাধনা করে শৈবশক্তি অর্জন করবেন। ভগবান কল্কি দেবদত্ত নামক সাদা রঙের ঘোড়ায় আরোহণ পাপীদের বিনাশ করবেন। সমস্ত অসত্য, অসাম্য, বৈষম্য নিপীড়নসহ সব কিছু ধ্বংস সাধন করে পুনরায় সত্যযুগের সূচনা করবেন।

মেহেদী: ধরিত্রীতে অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে মানুষের পরিত্রাতা হিসেবে মেহেদী আবির্ভূত হবেন। তিনি মন্দ ও অন্যায় থেকে বিশ্বকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য কেয়ামতের কিছু দিন আগে উপস্থিত হবেন। 

চণ্ডাল: হিন্দু ধর্মের চার বর্ণের মধ্যে চণ্ডাল সর্বাপেক্ষা নিম্নস্থানীয়। চণ্ডালরা মূলত মৃতদেহ সৎকারের কাজ করে থাকেন। চণ্ডালকে অস্পৃশ্য বলে বিবেচনা করা হয়।

হরিশচন্দ্র: সত্যবাদী, ন্যায়-পরায়ণ ও নীতিনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি রাজা হরিশচন্দ্র ছিলেন মহা দানবীর। একদা এক শরণাগতকে রক্ষার্থে রাজা হরিশচন্দ্র ধ্যানমগ্ন দুর্বাসা মুনির ধ্যানভঙ্গের কারণ হন। ক্রুদ্ধ দুর্বাসা অভিশাপ প্রদান করতে চাইলে রাজা হরিশচন্দ্র ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঋষি দুর্বাসা সম্পূর্ণ রাজত্ব গ্রহণ করার বিনিময়ে অভিশাপ প্রদান করা থেকে নিবৃত হন। রাজত্ব গ্রহণের পর দক্ষিণা চাইলে রাজা হরিশচন্দ্র আপন পুত্র ও স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন। এতেও মুনির চাহিদা না মিটলে রাজা হরিশচন্দ্র নিজেকে মুনির হাতে তুলে দেন। দুর্বাসা এক লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে হরিশচন্দ্রকে চন্ডালের কাছে বিক্রি করে দেন। চন্ডালের চাকর হয়ে মৃতদেহ সৎকারের কাজে নিয়োজিত হন রাজা হরিশচন্দ্র। রাজা হরিশচন্দ্রের প্রিয়তম পত্নী তারামতী দাসীর কাজে নিয়োজিত হন আর পুত্র রোহিতাশ্ব  কাঠ সংগ্রহ করার কাজ করেন। একদিন কাঠ সংগ্রহকালে রোহিতাশ্ব সর্পাঘাতে মৃত্যুবরণ করে। তারামতী পুত্রকে শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে গেলে চন্ডালরূপী রাজা হরিশচন্দ্র পুত্রকে চিনতে পেরে অশ্রুসজল নয়নে মুখাগ্নি করতে উদ্যত হলে ঋষি দুর্বাসা আবির্ভূত হয়ে রোহিতাশ্বের প্রাণ ফিরিয়ে দেন।   

নজরুল মানুষ কবিতায় চণ্ডাল ও হরিশ্চন্দ্র শব্দ দুটো দ্বারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, সামাজিক শ্রেণি, বর্ণ বা পদবি নয় বরং মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তাদের আদর্শ, মনোভাব ও মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে। কবি ‘উঁচু’ ও ‘নিচু’ জাতির বিভাজন ভেঙে মানুষের জন্য সমতার সাম্রাজ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে মানুষকে সবার ঊর্ধ্বে তুলে আনার প্রয়াস ব্যক্ত করেছেন।


শ্মশানের শিব:  কাজী নজরুল ইসলাম তার মানুষ কবিতায় শ্মশানের শিবের উপমা দ্বারা ধ্বংসের মাধ্যমে নব সৃষ্টির জয়গান রচনা করেছেন। হিন্দু পৌরাণিক থেকে তিনি শিবকে তুলে এনেছেন বিদ্রোহের ধ্বংসাত্মক এবং নব সৃষ্টির রূপ দেখানোর জন্য। মহাদেব বিভিন্নরূপে সমগ্র সৃষ্টি জুড়ে আছেন। মহাদেবের ইঙ্গিতেই প্রলয়লীলা ঘটে থাকে। পুরুষবেশী মহাদেবের নৃত্যকে তা-ব নৃত্য বলা হয়। এই নাচ ধ্বংসের পরিচয় বহন করে। কবি মূলত শিবের উপমা দ্বারা আমাদের অজ্ঞতা-মূর্খতা, হানাহানি-সংঘাতকে ধ্বংস করে মনের ভেতর নবসৃষ্টির প্রদীপ প্রজ্বলন করতে চেয়েছেন।  

ব্রজের গোপাল: ব্রজের গোপাল বলতে শ্রীকৃষ্ণকে বোঝানো হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ ব্রজের গোপালরূপে ব্রজযোগিনীদের সাথে লীলা করেছেন। পুরাণে শ্রীকৃষ্ণের নিত্য অষ্টপ্রহরের আটটি লীলার কথা বলা আছে যার মধ্যে একটি দিব্যলীলাস্থল হলো ব্রজধাম। কিশোর  কৃষ্ণ আর রাধারানীর যে মাধুর্যপূর্ণ প্রেমের পরিপূর্ণ প্রকাশ বৃন্দাবনে স্থাপিত হয়েছিল তারই লীলা ব্রজধামে সংগঠিত হয়। কবি এক ও অভিন্ন সত্তার এক পরমপুরষের আখ্যানমালা দিয়ে বিদ্রোহীর প্রেমযাত্রার পথ রচনা করতেই ব্রজলীলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

নজরুল ‘ব্রজের গোপাল’ শব্দটির উপমা দ্বারা বুঝিয়েছেন সমাজে তুচ্ছ, অবহেলিত সাধারণ মানুষ অর্থাৎ রাখাল, চাষা এদের নীচু চোখে দেখা হলেও এদের ভেতরেও ঈশ্বরতুল্য মানবসত্তা লুকিয়ে রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ ব্রজের গোপাল অর্থাৎ গরুর রাখাল হয়েও মহান পুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ধরাধামকে পাপ পঙ্কিলের কলুষ হতে মুক্ত করেন। 

জনক রাজা: রাজা জনক ছিলেন মিথিলার রাজা। তিনি ছিলেন সীতার পিতা। রাবণ ঋষিদের হত্যা করে তাঁদের রক্ত একটি বৃহৎ কলসে সঞ্চয় করে রাখতেন। ঋষি রক্ত হলো সব বিষের চেয়েও বিষাক্ত। ঋষিদের হত্যা করায় রাবণের স্ত্রী মন্দোদরী ক্রুদ্ধ হয়ে বিষাক্ত রক্ত পান করে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। রক্তের সাথে দুগ্ধ মিশ্রিত ছিল বিধায় মন্দোদরী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। মন্দোদরী তাঁর ভ্রুণাংশটি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। বহুবছর পর রাজা জনক হাল চাষ করতে গেলে তার লাঙ্গলের হল দ্বারা মাটির নীচ থেকে এই কন্যাকে আবিষ্কার করেন এবং কন্যার নাম রাখেন সীতা। জনকের পণ ছিল যে ব্যক্তি হরধনু ভঙ্গ করতে পারবে তাকেই কন্যাদান করবেন । রাম এই শর্ত পূরণ করে সীতাকে পত্নী হিসেবে লাভ করেন।

বলরাম: বলরাম বিষ্ণুর একজন অবতার। দ্বাপর যুগে লক্ষ্মণ কৃষ্ণের বড় ভাই হিসেবে জন্মগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে। তাই দেবকীর সপ্তম গর্ভে বলরামরূপে আশ্রয় নেন তিনি। বলরাম ছিল শান্ত প্রকৃতির। কিন্তু তাঁর রাগ ছিল ভয়াবহ। বাল্যকালে একদিন বলরাম স্নান করতে যমুনায় যান। বলরাম যমুনা নদীকে তাঁর সাথে খেলা করতে বলেন । যমুনা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রত্যাখাত বলরাম ক্রুদ্ধ হয়ে যমুনা নদীকে তাঁর লাঙল দ্বারা আঘাত করেন। যমুনা নদী খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়। নদীকে তীরে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করেন। অবশেষে যমুনা তাঁর স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়ে বলরামের কাছে ক্ষমা চান। বলরাম অস্ত্রবিদ্যায় ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পেরে বলরাম তীর্থ ভ্রমণে বের হন। তীর্থ ভ্রমণ শেষে কুরুক্ষেত্রে আসেন। ভীম অন্যায়ভাবে দুর্যোধনের কোমরের নিচে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। গদাযুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘনের অপরাধে ক্রুদ্ধ হয়ে ভীমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। যদু বংশ ধ্বংসের পর প্রিয় ভ্রাতা কৃষ্ণ দেহত্যাগ করেন। প্রিয় ভ্রাতার শোকে বলরাম দ্বারকার এক বটবৃক্ষের নিচে যোগ সাধনায় বসেন। এ সময় তাঁর মুখ থেকে রক্তবর্ণ ও সহস্রমুখ এক সাপ নির্গত হয়ে সমুদ্রে চলে যায়। এরপর তিনি দেহত্যাগ করেন। কবি নজরুল তাঁর ‘মানুষ’ কবিতায় বলরামকে সমাজে বিপ্লব আনার জন্য এবং সৃষ্টিকে পরিবর্তনের হেতু হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

কাজী নজরুল ইসলামের “মানুষ” কবিতায় ‘জনক রাজা’ ও ‘বলরাম’ শব্দ দুটি মূলত পৌরাণিক রেফারেন্স হলেও নজরুল এগুলো ব্যবহার করেছেন মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে। ‘জনক রাজা’ ও ‘বলরাম’ হলেন শক্তির প্রতীক যারা কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। নজরুল বোঝাতে চেয়েছেন যাদের আমরা সাধারণ কৃষক বলে অবজ্ঞা করি তাদের মধ্যেই বলরাম ও রাজা জনকেরা দেবত্ব শক্তি ধারণ করে বিরাজমান আছেন। তাদের অবজ্ঞা করা মানে বলরাম ও রাজা জনকের শক্তিকে অস্বীকার করা। তাই মানবসাধক নজরুল সকল মানুষের ভেতরে সৃষ্টির অস্তিত্ব স্বীকার করে সবাইকে সমতার জয়গান গাইতে বলেছেন।

ভোলানাথ: হিন্দু পৌরাণিকে ভোলানাথ বলতে শিবকে বুঝানো হয়েছে। ভোলানাথ হলেন একজন পরম সত্তা মহাপরুষ। তিনি মহাজগতের পরাচৈতন্যের প্রতিভূ। মর্ত্যে ভোলানাথ শিবলিঙ্গ হিসেবে পুজিত হন। ভোলানাথ জীব জগতের সকলের কল্যাণ দান করে থাকেন। তিনি কল্যাণ কর্তা আদিপুরুষ। তাঁর মাথায় অর্ধচন্দ্র, কণ্ঠে সর্পাহার এবং জটায় দেবী গঙ্গার অবস্থান। মাথার অর্ধচন্দ্র জটার মধ্যে লুকানো অবস্থায় রয়েছে। এই অর্ধচন্দ্র হল জ্ঞানের প্রতীক। গলায় অবস্থিত সাপের কুণ্ডল হল কুলকুন্ডলিনীর প্রতীক, জটায় অবস্থিত দেবী গঙ্গা বিশুদ্ধতার প্রতীক, যা বিশুদ্ধ জ্ঞানকে সংযোগ করে। শঙ্করের ত্রিশূল ত্রিগুণ, ত্রিকাল, সৃষ্টি-স্থিতি এবং লয়ের প্রতীক। মহাদেবই সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি এই চার যুগের সৃষ্টি করেন। তিন যুগের অবতার লীলা শেষ করে মহাদেব কলি যুগে অবতীর্ণ হবেন। কলিযুগে ভোলানাথ শঙ্কর নামে মানবরূপ ধারণ করে সৃষ্টি-কে সংহার করবেন এবং নব সৃষ্টির আগমন বার্তা প্রকাশ করবেন।  

গিরিজায়া: গিরিজায়া বলতে কবি দেবী দুর্গাকে বুঝিয়েছেন। দুর্গা শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় তৈত্তেরীয় আরণ্যকে। দিতির পুত্র দুর্গাসুরকে বধ করায় তার নাম হয় দুর্গা। দেবী দুর্গা হিমালয়ে বাস করেন। দুর্গাকেই গিরিজায়া নামে অভিহিত করা হয়। তিনি মায়ের মতো আগলে রেখে সমস্ত বাধাবিঘ্ন, রোগ-শোক, পাপ-ভয়, শত্রু ও বিপদ থেকে মানুষকে রক্ষা করে থাকেন বলে তাঁকে বিশ্ব মা বলে অভিহিত করা হয়েছে। 

কাজী নজরুল ইসলাম ‘মানুষ’ কবিতায় ভোলানাথ ও গিরিজায়ার পৌরাণিক উপমা দ্বারা মূলত মানুষের ভেতরে এই দেবত্ব শক্তির অনুসন্ধান করেছেন। সমাজ যে-সব ভিখারি বা দীন-দরিদ্র মানুষকে অবজ্ঞা করে, অপমান করে তাদের মধ্যেই ঈশ্বরের রূপে ভোলানাথ ও গিরিজায়া বিরাজ করেন। মানুষই সর্বোচ্চ ধর্ম আর মানবতাই প্রকৃত পূজা। ঈশ্বর মন্দিরে নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেই বিরাজ করেন। তাই দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষদের অপমান করা মানে ঈশ্বরকেই অপমান করা।

মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বসবাস তাই সব মানুষের প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখানোই প্রকৃত ধর্ম।

মন্দোদরী: স্বর্গের সুন্দরী অপ্সরা হেমা এবং ময়দানবের কন্যা মন্দোদরী ছিলেন মহাপরাক্রমশালী রাবনের স্ত্রী। মন্দোদরী ছিলেন মধুরা নামের এক অপ্সরা। কিশোরী বয়সে একদা মধুরা কৈলাসে শিবের পুজো করতে গেলে শিব সৌন্দর্যে বিমোহিত হন। পার্বতীর অনুপস্থিতিতে মহাদেবের কাছে নিজেকে নিবেদন করে দেন। পার্বতী মধুরার বুকের উপর মহেশ্বরের ভস্মের চিহ্ন দেখতে পেয়ে মধুরাকে কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকার অভিশাপ দেন। পার্বতীর অভিশাপে কুয়োয় বন্দী হয়ে ব্যাঙ হিসেবে বারো বছর কাটিয়ে দেন। মহাপরাক্রমশালী রাবন তাকে কুয়ো থেকে মুক্তি দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। মন্দোদরী রাবণকে সীতা হরণের জন্য তিরস্কার করেন। তিনি সীতাকে শ্রীরামের কাছে ফিরিয়ে দেবার জন্য বারবার রাবণকে অনুরোধ করলেও রাবণ তা প্রত্যাখান করেন। রাবণ অমরত্বের বরদান প্রাপ্ত ছিল। সাধারণ কোনো অস্ত্রে বধ করা তাকে সম্ভব ছিল না। তাঁর মরণাস্ত্রের বিশেষ তীর মন্দোদরীর কাছে সুরক্ষিত ছিল। বিভীষণের নিকট থেকে এই তথ্য পেয়ে হনুমান কৌশলে তাঁর কাছ থেকে সেই বিশেষ তীরটি চুরি করে আনেন। রামকর্তৃক রাবণবধ করা হয়। রাবণের মৃত্যুর পর বিভীষণের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। 

কাজী নজরুল ইসলাম ‘মানুষ’ কবিতায় মন্দোদরীর উপমা দ্বারা মূলত শোষণকারী, অত্যাচারী ও সাম্রাজ্যবাদী প্রভূদের নিপীড়নের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। যারা অন্যায়ভাবে জনমানুষকে শোষণ করে তাদের ধ্বংসের বীজ তাদের ভোগের মধ্যেই লুকায়িত থাকে। এই বীজ একদিন মহীরূহ আকার ধারণ করে নিজের উপড়েই আছড়ে পড়ে। কবি মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিচার-ভিত্তিক সমাজ একদিন নিশ্চিহ্ন হবেই।

কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতাটি বিশ্বসাহিত্যের একটি অনন্য ম্যাগনাকার্টা। ‘মানুষ’ কবিতায় পৌরাণিক উপমার সাহায্যে কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের আত্মমর্যাদা, চেতনা ও মানবিক গৌরবকে  দেবত্বের চেয়েও উচ্চে স্থান দিয়েছেন। পৌরাণিক চরিত্রগুলোর দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন মানুষই সেই অনন্য সত্তা, যার মধ্যে আছে সৃষ্টির শক্তি, প্রেম, করুণা ও প্রতিবাদের সাহস। ‘মানুষ’ কবিতা যুগ যুগ ধরে চলে আসা সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামি, বর্ণবৈষম্য,অনাচার এবং শ্রেণিবিভক্ত সমাজের বিরুদ্ধে একটি মহাবিদ্রোহের ঘোষণা। শুধু এই একটি কবিতা দিয়েই একটি মহাকাব্য রচনা করা যেতে পারে। মানুষের প্রকৃত ধর্ম হলো মানবতা আর মানবিক চেতনা। এই মানবিক চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে সমস্ত রকম বিভেদ ও অসহিষ্ণুতাকে এড়িয়ে মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো ভালোবাসা, সহানুভূতি ও ন্যায়ের পথে চলা। ঐতিহাসিক

রেফারেন্স:
১.    ছেলেদের মহাভারত : উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরি
২.    বৃহৎ শ্রীমদ্ভাগবত : শ্রী বেণীমাধব শীল
৩.    বৃহদারণ্যকোপনিষদ: মহামহোপাধ্যায় দুর্গাচরণ
৪.    পুরাণসংগ্রহ : বিষ্ণু পুরাণ ; অশোক চট্টোপাধ্যায়
৫.    ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ : ড. গৌরিনাথ শাস্ত্রী
৬.    হিন্দুধর্ম : ক্ষিতিমোহন সেন
৭.    অষ্টাদশ পুরাণ কাহিনি : পৃথ্বিরাজ সেন
৮.    উপনিষদ অখ- সংস্করণ : অতুল চন্দ্র সেন
৯.    বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন : উপল তালুকদার
১০.    শ্রী শ্রী চণ্ডী: নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় 

 

লেখক : দেবব্রত নীল

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অশোভনীয় : আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাকে ‘অশোভন’ আখ্যায়িত করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ কামনীয় নয়।   সোমবার (২৫ মে) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।   আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিকে এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবে দেখছে। তবে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটি কেউ প্রত্যাশা করে না এবং সেটি মোটেও সমীচীন নয়।   তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ঈদের ছুটির মধ্যেও সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি নিপীড়নের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার উদ্যোগী। আপনারা দেখবেন, আগামী ১ জুন থেকে রামিসা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর আদালত খোলার প্রথম দিনই বিচার শুরু হবে।   তিনি আরও বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে, সেটিও হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে।   চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।   এরপর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন মিশনারী মাঠ প্রাঙ্গণে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সেখানে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।   বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান প্রমুখ। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভ ফুল দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।   অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিদ্রোহী আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।  

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগে সায় নেই, অপেক্ষাতেই দল

বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

অংকের শিক্ষক বাবাকে ‘ফাঁকি দিয়ে’ যেভাবে রাজনীতিতে সোহেল

সংগৃহীত ছবি

শরিকানা কোরবানিতে যে ৯ বিধান জানা জরুরি

সংগৃহীত ছবি
মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, আজ থেকে শুরু হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ। সেই লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পরই হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন।   শরীয়তের বিধান অনুসারে, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কুরবানি দেবেন ও মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোটো করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন। এদিকে হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ গত বছরের তুলনায় হতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ঈদে বাড়ি ফেরার পথে করণীয় আমল ও দোয়া

এআই ক্যামেরা। ছবি : সংগৃহীত

এআই ক্যামেরার ভয় দেখিয়ে মামলার নামে প্রতারণা

ছবি: সংগৃহীত

মনোনয়ন না পেলেও হতাশ নন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল

সংগৃহীত ছবি
ফরেনসিকে ধর্ষণের প্রমাণ, রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট প্রস্তুত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা যায়। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিকৃত করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এদিকে শনিবার (২৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রামিসাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। পরে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, নিহত রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।

মারিয়া রহমান মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফাইল অনুমোদন বিতর্কে প্রতিমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

শিক্ষা ভবন। ছবি : সংগৃহীত

৪৭১ শিক্ষক এমপিও বাতিলের ঝুঁকিতে

ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির তাৎপর্য ও শিক্ষা

0 Comments