ইরানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এড়াতে এখনো ‘ব্যাপক আলোচনা ও দরকষাকষি’ চলছে।
হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র ১২ ঘণ্টার মতো বাকি আছে। ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে আসবে কি না, তা সময়ের ব্যবধানে পরিষ্কার হবে।
তবে তিনি এখনো একটি শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্টের এই নরম সুরের ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত কঠোর বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা হয়তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমন কিছু ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই বার্তা বিশ্বজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে, যা সরাসরি এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, ইরান যদি তার শর্ত না মানে, তবে দেশটির সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক উদ্বেগকেও তিনি বারবার উড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে হোয়াইট হাউসের এই দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে ভ্যান্সের আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক আলটিমেটাম—ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেট ভবনের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) এ হামলায় অন্তত তিনজন জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। পুলিশ তাদের ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ইসরায়েলি কনস্যুলেটটি একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত। রয়টার্সের এক ভিডিওতে দেখা যায়, যে ভবনে ইসরায়েলি কনস্যুলেট অবস্থিত, সেখানে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন বন্দুকধারীরা। এ সময় পুলিশ তাদের থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা পুলিশের নির্দেশ না মেনে উল্টো গুলি চালালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা সিফতচির বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, ইস্তাম্বুলের ইয়াপি ক্রেডি প্লাজা ব্লকের সামনে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে তিন ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। আলজাজিরা জানায়, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট বা তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার দূতাবাসে বর্তমানে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক দায়িত্বরত নেই। এর অর্থ হলো, এই কূটনৈতিক মিশনগুলোর ভেতরে যারা রয়েছেন তারা মূলত স্থানীয় কর্মী যারা কনস্যুলেট বা দূতাবাসে কাজ করেন। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা ইস্তাম্বুল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের একটি শহর থেকে ভাড়া করা গাড়িতে করে এসেছিল। তাদের মধ্যে একজন একটি মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। হামলাকারীদের মধ্যে দুইজন সম্পর্কে ভাই। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদক মামলার রেকর্ড রয়েছে।’ ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল এই হামলাকে ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ডেইলি সাবাহ পত্রিকার এডিটোরিয়াল কো-অর্ডিনেটর মেহমেত চেলিক বলেন, ‘এই হামলার পেছনে একটি উদ্দেশ্য হতে পারে তুরস্কের মানহানিন করা। কারণ, চলমান যুদ্ধের মধ্যেও তুরস্ককে এই অঞ্চলে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘হামলাকারীদের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হতে পারে তুরস্ককে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনা এবং তৃতীয়, কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির সুনাম নষ্ট করা।’
ইরানের ইস্পাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় টানা দুই দিন ধরে চলা এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অবশেষে মার্কিন নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার অত্যন্ত ঘটা করে এই সাফল্যের ঘোষণা দিলেও দৃশ্যপটের আড়ালে থাকা ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি ওয়াশিংটনকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। একটি মাত্র জীবন বাঁচাতে গিয়ে আমেরিকাকে যেভাবে একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার হারাতে হয়েছে, তাতে এই অভিযানের প্রকৃত সার্থকতা নিয়ে খোদ সামরিক মহলেই প্রশ্ন উঠছে। গত ৩ এপ্রিল ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে পাইলট দ্রুত উদ্ধার পেলেও তার সহযোগী অস্ত্র কর্মকর্তা নিখোঁজ হয়ে যান। তাকে উদ্ধারের জন্য ইরান ভূখণ্ডের প্রায় ২৫ কিলোমিটার ভেতরে একটি পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে অস্থায়ী রানওয়ে বানিয়ে কমান্ডো অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছিল এমসি-১৩০জে কমান্ডো পরিবহন বিমান এবং এমএইচ-৬এম লিটল বার্ড হেলিকপ্টার। সরকারি ভাষ্যমতে উদ্ধার অভিযানটি সফল হলেও এর বিনিময় মূল্য ছিল চড়া। কর্দমাক্ত ভূমিতে পরিবহন বিমানগুলো আটকে যাওয়ায় এবং ইরানি বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনীকে তাদের নিজস্ব দুটি এমসি-১৩০জে বিমান এবং চারটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করে রেখে আসতে হয়েছে। এছাড়াও অভিযান চলাকালীন ইরানের গোলায় একটি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট অ্যাটাক এয়ারক্রাফট এবং দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও পেন্টাগন দাবি করছে যে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্রের এই বিনাশ মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভিযানের প্রকৃতি নিয়ে ইতিমধ্যে নানা বিতর্ক ডালপালা মেলছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, কেবল একজন পাইলটকে উদ্ধারের জন্য এত বড় ঝুঁকি নেওয়া অস্বাভাবিক। গুঞ্জন উঠেছে যে, মার্কিন বাহিনীর আসল লক্ষ্য ছিল কাছাকাছি থাকা ইরানের একটি পরমাণু স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম জব্দ করা অথবা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বন্দি করা। যদি সেটিই হয়ে থাকে, তবে ইস্পাহানের এই অভিযানকে ১৯৮০ সালের ব্যর্থ 'অপারেশন ঈগল ক্ল'-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে জিম্মি উদ্ধারে গিয়ে মরুভূমিতে সরঞ্জাম ফেলে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ১৯৯৩ সালের সোমালিয়ার মোগাদিশু যুদ্ধের স্মৃতিকেও ফিরিয়ে আনছে। সে সময় মার্কিন বাহিনী তাদের লক্ষ্য অর্জন করলেও বিনিময়ে ১৮ জন সৈন্য এবং একাধিক ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার হারিয়েছিল। মোগাদিশুর সেই রক্তক্ষয়ী লড়াই যেমন আমেরিকার সোমালিয়া নীতি বদলে দিয়েছিল, ইস্পাহানের এই 'ব্যয়বহুল সাফল্য' একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ পাল্টে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সীমিত লক্ষ্য অর্জনে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইরান এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশের ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আকাশপথে আধিপত্য বজায় রাখা এখন আর ওয়াশিংটনের জন্য সহজ কোনো কাজ নয়। যদি প্রতিটি ছোটখাটো অভিযানের জন্য মার্কিন বাহিনীকে ডজনখানেক বিমান ও ড্রোন হারাতে হয়, তবে ইসরায়েল বা আমেরিকার পক্ষে ইরানের গভীরে কোনো স্থায়ী সামরিক অভিযান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইস্পাহানের পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে থাকা মার্কিন বিমানের পোড়া অবশিষ্টাংশগুলো ইরানের সামরিক শক্তিমত্তার এক নীরব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক কঠিন দ্বিমুখী সংকটে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে তার সামনে বিকল্প রয়েছে ইরানকে 'পাথর যুগে' পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা, যার পরিণতি হতে পারে অকল্পনীয়। অন্যদিকে, তিনি বিল ক্লিনটনের মতো পিছু হটার পথ বেছে নিতে পারেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাবকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে এবং ইরানকে ওই অঞ্চলের একচ্ছত্র শক্তিতে পরিণত করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পথই আমেরিকার জন্য মসৃণ বলে মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ইস্পাহান অভিযানের এই কাহিনী আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে কেবল একটি উদ্ধার অভিযান হিসেবে নয় বরং একটি কৌশলগত পরাজয় হিসেবেও চিহ্নিত হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে পাইলটকে ফিরে পাওয়া গেলেও ওয়াশিংটনকে যে বিশাল কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক মাশুল দিতে হয়েছে, তা তাদের ইরান নীতির সীমাবদ্ধতাকেই প্রকট করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস এই ধাক্কা সামলে নতুন কোনো রণকৌশল সাজায় নাকি পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ওই অঞ্চল থেকে তাদের গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। সূত্র: আরটি
রাতে ইরানের হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয়র শিল্প নগরী জুবাইলে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের অনুরূপ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। রিয়াদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী মঙ্গলবার এএফপি’কে জানান, ‘জুবাইলে সাবিক প্লান্টে হামলায় আগুন লেগেছে। বিস্ফোরণের শব্দ ছিল খুবই তীব্র।’ এখানে সাবিক বলতে সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে বোঝানো হয়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় জুবাইল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্প নগরী। এখানে ইস্পাত, পেট্রোল, পেট্রোকেমিক্যাল, লুব্রিকেটিং তেল ও রাসায়নিক সার উৎপাদন করা হয়। পরে একই সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শ্রমিকদের আবাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাবিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সোমবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, তার দেশ ইরানের আসালুয়েহতে বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ‘শক্তিশালী হামলা’ চালিয়েছে। ইরানের গণমাধ্যম ওই স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে। জুবাইল শিল্পাঞ্চলে হামলার সময় সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বহর প্রতিহত করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যুৎ স্থাপনার আশপাশে পড়ে। এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে। মঙ্গলবার ভোরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার পর সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযোগকারী প্রধান সেতুটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে দেয় কর্তৃপক্ষ। কিং ফাহদ কজওয়ের সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে জানায়, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিং ফাহাদ সেতুতে যান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।’ এই কজওয়েটি ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুসমূহের একটি নেটওয়ার্ক, যা সৌদি আরব ও বাহরাইনকে যুক্ত করেছে। কয়েক ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সেতুটি আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক আক্রমণ শুরু করে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে সৌদির জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।