ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ (সোমবার) রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারে তার মরদেহবাহী কফিন নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজার পর তার কফিন আজাদি স্কয়ারে নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আজ ইমাম হোসেন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত কয়েক মাইলজুড়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখো মানুষের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক আজাদি স্কয়ারে এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার বার্তা তুলে ধরতে চাইছে তেহরান।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, আজকের শোকানুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা ও জানাজার আয়োজন শেষে বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে চার মাসের বেশি সময় পর তার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানাজা ও শেষশ্রদ্ধা উপলক্ষে রোববার ও সোমবার ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় আছে ইরান। আগামীকাল এই জবাব পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে তেহরান। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানায় ভারতীয় সংবাদসংস্থা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার স্থানীয় সময় জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরো পরোক্ষ আলোচনা করা হয়েছে। আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি বলেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা। তিনি বলেন, সংকটের সমাধান এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে ইরান একটি ‘ন্যায্য ও যৌক্তিক’ পরিকল্পনা দিয়েছে। তবে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আরাগচি বলেন, ইরানের দায়িত্ব ছিল এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্য দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো হয়েছে যে, সংকট সমাধানে ইরানের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বৈঠকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমানোর বিষয়ে কিছু নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের দেওয়া পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আরাগচি বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবের কারণে এই যোগাযোগ এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, ইরান ইস্যুতে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সোমবার আলোচনা করেছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তবে আলোচনায় কী বিষয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প। আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিউইয়র্কে আব্বাস আরাগচির মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। সেখানে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত চলার মধ্যেই এই আলোচনা হচ্ছে। এর কয়েক দিন আগে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফর করে। তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে তুলে দেয়। এর বিনিময়ে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা চেয়েছিল বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত সপ্তাহে আরাগচি সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে। ইরান জানিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে কয়েকটি শর্ত যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানোর মতো পদক্ষেপও ছিল। তবে রবিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তার দাবি, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই ইরান নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদে’ প্রবেশাধিকার চেয়েছিল। ওয়াল্টজ বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রাখবেন। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন আরাগচি। তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইরানের দেওয়া প্রস্তাবটি দেখেননি। আরাগচি আরো বলেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তার মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তার ভাষ্য, নতুন কোনো আগ্রাসন হলে ইরান শক্তভাবে প্রতিরোধ করবে, এমনকি পরিস্থিতি বড় ধরনের যুদ্ধে পরিণত হলেও। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়। তেহরানের মূল লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন ট্রাম্পের বলে মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধে হরমুজ প্রণালি এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরান বলছে, একটি চুক্তির অংশ হিসেবে তারা এই নৌপথ আবার খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অবস্থায় সোমবার নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব এবং দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল না।
ইরানের বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির কয়েকটি বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে এবং বিমান চলাচল খাত গুরুতর সংকটে পড়েছে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান আবুজার শিরউদি দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে জানান, বিমান চলাচল শিল্পের অধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘অবৈধ বিধিনিষেধের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ দাখিল করেছে ইরান। শিরউদি বলেন, “বিমান চলাচল শিল্পের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং আমেরিকার আরোপ করা অবৈধ বিধিনিষেধ মোকাবিলায় ইরান আইসিএওতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে।” আইসিএও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। কানাডার মন্ট্রিয়লে এর সদর দফতর অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পরিচালনা ও কারিগরি মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সমন্বয়ে সংস্থাটি কাজ করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ শুধু আইসিএওতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিরউদি। তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।” ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির বিমান চলাচল খাত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন চাপ চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল শিল্পের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ওয়াশিংটন জানায়, তারা যদি ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা বা অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির বিমান চলাচল খাতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন, বিমান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তেহরানের অভিযোগ, বেসামরিক বিমান চলাচলের মতো একটি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম ও নীতিমালা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে ইরান। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম অংশ হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুই দেশের সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নতুন বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও এবং আইসিজেতে অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ইরান এখন বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তবে এসব অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: আল-জাজিরা
জাপানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি করার একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি প্রথা রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বিয়ের পর স্ত্রীর পরিবারে দত্তক হয়ে পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। বিশ্বের অনেক দেশে দত্তক নেওয়ার বিষয়টি মূলত শিশুদের ঘিরে হলেও জাপানে প্রাপ্তবয়স্কদের দত্তক নেওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মোট দত্তকের বড় অংশই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের এ ধরনের দত্তক প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। তবে এর পেছনে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার ধরে রাখার পরিকল্পনাও কাজ করে। ছেলে না থাকলে জামাইই উত্তরসূরি জাপানের বহু পুরোনো পারিবারিক ব্যবসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই পরিবারের মালিকানায় পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে বা পরিবারের নিজস্ব সন্তানকে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত মনে না হলে অন্য একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হতে পারে। মেয়ের স্বামীকে এভাবে দত্তক নিলে তিনি স্ত্রীর পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠেন। ফলে একজন জামাই পারিবারিকভাবে ছেলের মর্যাদা পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসার নেতৃত্বও নিতে পারেন। ‘মুকোয়োশি’ প্রথার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। বিশেষ করে পুরুষ উত্তরসূরি না থাকলে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সম্পদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। জাপানের বেশ কিছু পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসেও এ ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার নজির রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের সাবেক প্রধান ওসামু সুজুকিও মুকোয়োশি প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই ছিলেন। নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। ব্যবসার বাইরেও রয়েছে ব্যবহার মুকোয়োশি শুধু পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিঃসন্তান দম্পতিরা সম্পত্তি ও পারিবারিক দায়িত্ব ভবিষ্যতে কার হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত করতেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নিতে পারেন। জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে দত্তক প্রক্রিয়াটি নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব লাভ করেন। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বও তার ওপর বর্তাতে পারে। বিদেশিরাও কি মুকোয়োশি হতে পারেন? নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরাও প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া নয়। নাগরিকত্ব ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কমছে জন্মহার, গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান থাকলেও উপযুক্ত পুরুষ উত্তরসূরি নাও থাকতে পারে। আবার সন্তান ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বা সক্ষম নাও হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যবসা চালিয়ে নিতে উপযুক্ত জামাইকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক উত্তরাধিকার বিবেচনায় ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে। তবে আধুনিক জাপানে মুকোয়োশি প্রথা নিয়ে নতুন আলোচনাও রয়েছে। নারীরা এখন ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বেশি সক্রিয় হওয়ায় শুধু পুরুষ উত্তরসূরি খোঁজার ঐতিহ্যগত ধারণার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তারপরও মুকোয়োশি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। জাপানে এটি একই সঙ্গে পরিবার, বিয়ে, ব্যবসা, সম্পদ ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা হিসেবে টিকে আছে।