জাতীয়

সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে ৪ বিচারকের পদোন্নতি ও ৩৪ জনের বদলি

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের চার সদস্যকে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের আরো ৩৪ বিচারককে বিভিন্ন কর্মস্থলে বদলি করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


 
রবিবার (৫ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

 

আইন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের চার সদস্যকে সিনিয়র সিভিল জজ পদ হতে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে জ্যেষ্ঠতাসহ পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকদের তাদের নামের পাশে বর্ণিত নতুন পদ ও কর্মস্থলে নিয়োগ করা হলো।
 

আরেক প্রজ্ঞাপনে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৩৪ সদস্যকে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে বদলিকৃত ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকদের কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে কর্মরত বিচারকগণকে তাদের দপ্তর প্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করতে হবে এবং এরপর তারা বদলিকৃত নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। 

 

তবে যে সকল বিচারক বর্তমানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে রয়েছেন, তারা তাদের প্রশিক্ষণ অথবা ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই কর্মস্থলে যোগদানের তারিখে বর্তমান পদের দায়িত্বভার হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আলুর বাজারে ধস, কেজিতে ১৪–১৬ টাকা লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন এবার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক চাষি। বর্তমানে রংপুরে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১৪ টাকায়। অথচ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।   রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। উৎপাদিত আলুর মধ্যে ৬১ কেজি ধারণক্ষমতার ৫ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে রেখেছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪২ বস্তা আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরেও বিক্রি করেন।   আতাউর রহমানের হিসাব অনুযায়ী, হিমাগার থেকে আলু তোলাসহ খরচ হয়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ৭ টাকা। বর্তমানে বাজারে দাম কমে ১১ থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় অবশিষ্ট আলু বিক্রি করে কতটা খরচ উঠবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।   আতাউর রহমান বলেন, লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ কতটা তুলতে পারবেন, সেটিই এখন বড় চিন্তা। গত বছর ৬৯ বিঘা জমিতে আলু চাষে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা খরচ করেও সেই অর্থ তুলতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কায় পড়েছেন তিনি।   শুধু আতাউর রহমান নন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী একই সংকটে রয়েছেন। কম দামে আলু বিক্রি করলে লোকসান বাড়বে—এমন আশঙ্কায় অনেকে আপাতত আলু তোলা বন্ধ রেখেছেন।   উৎপাদন বেশি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সংকট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে ১২৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯২ টন আলু, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সংরক্ষিত আলুর বড় একটি অংশ এখনো হিমাগারে মজুত রয়েছে। এদিকে নতুন মৌসুমের আলু চাষও শুরু হয়েছে। ফলে পুরোনো আলুর মজুত, সীমিত সংরক্ষণ সুবিধা এবং বাজারে কম দাম—এই তিন সংকটে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে আলু উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন। সরকারি-বেসরকারি হিমাগার ও অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টন আলু। অন্যদিকে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের হিমাগারগুলোতে ৩৩ লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ১৫ লাখ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। গত বছর কম দামের কারণে কৃষকরা প্রায় দুই লাখ টন আলু হিমাগার থেকে তোলেননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য অনেক কম রংপুর মহানগরীর রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বর্তমানে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলুর দাম ১১ থেকে ১৪ টাকা হওয়ায় তিনি আপাতত আলু বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভুপাল ও আতাউরের মতো অন্তত ১৫ জন কৃষক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হিমাগার ভাড়া, পরিবহন, বস্তা ও শ্রমিকের খরচ যোগ হওয়ায় আলু বিক্রি করে প্রত্যাশিত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। তারাগঞ্জ উপজেলার বামনদীঘি গ্রামের কৃষক নাহিদুজ্জামান জানান, বৃষ্টির পানিতে আলু পচে যাওয়ায় এবার উৎপাদন কমেছে এবং খরচ বেড়েছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২০ টাকা। অথচ বাধ্য হয়ে ১০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে হয়েছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আমজাদ হোসেনও আগের মৌসুমের আলু হিমাগারে রেখেই নতুন করে আলু চাষ শুরু করেছেন। লোকসান কমানোর আশায় তিনি নতুন ফসলের ওপর নির্ভর করছেন।   হিমাগারে পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ আলু রংপুরের বিভিন্ন হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার আলু উত্তোলনের গতি আগের বছরের তুলনায় ধীর। অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী লোকসানের আশঙ্কায় আলু তুলছেন না। তারাগঞ্জ উপজেলার এনএন হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁদের হিমাগারে সংরক্ষিত ২ লাখ ৫০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে মাত্র ৬৩ হাজার বস্তা উত্তোলন করা হয়েছে। সাধারণত এ সময়ে আরও বেশি আলু হিমাগার থেকে বের হয়ে যায়। তিনি বলেন, আগামী ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে বাজারে নতুন আলু আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান গতিতে আলু উত্তোলন চলতে থাকলে নতুন ফসল আসার আগেই হিমাগারে থাকা সব আলু সরানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জের অপু মুন্সি হিমাগারের ব্যবস্থাপক রবিউল জানান, গত বছর অনেক কৃষককে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তাঁরা আলু তোলেননি। পরে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান।   হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ প্রায় ১৬ টাকা। মুন্সীগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় তা প্রায় ১৯ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া, বস্তা, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যুক্ত হলে বাজারজাত পর্যন্ত মোট ব্যয় আরও বেড়ে যায়। রংপুর আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হিমাগার ভাড়া বেশি হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করেও লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না। ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন করা হলেও এখনো প্রত্যাশিত সমাধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, প্রতি কেজি আলুর হিমাগার ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হোক।   বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের পরামর্শ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আলু চাষে লোকসানের অন্যতম কারণ হলো চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন। কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করার পাশাপাশি কিছু জমিতে ভুট্টা, ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, একাধিক ফসল চাষ করলে একটি ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসল থেকে তা কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।   সরকারি সহায়তার দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। বিপরীতে সাম্প্রতিক মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কমে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে কৃষক ও হিমাগার মালিক—উভয় পক্ষই আর্থিক চাপে পড়ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া এবং প্রয়োজনে সরকারিভাবে আলু কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, আলুচাষিদের লোকসান কমাতে সরকার দুটি উদ্যোগ নিতে পারে। প্রথমত, হিমাগার ভাড়ার ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া। দ্বিতীয়ত, কৃষকদের মূল্য সহায়তা দিয়ে উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আলু বিক্রির চাপ থেকে তাঁদের রক্ষা করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের লোকসান কমানো, সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি, সহিংসতা কমেছে: যুক্তরাজ্যের সিপিআইটি

ছবি: সংগৃহীত
বাউফলে ১৪ বছরের কিশোর নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ইমামুল (১৪) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মো. বাবলু বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।   জিডি সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ইমামুলের বাবার নাম মো. বাবলু এবং মায়ের নাম রেখা বেগম। তাদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল গ্রামে।   জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে থেকে অজ্ঞাত স্থানে চলে যাওয়ার পর ইমামুলের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এখনো তার খোঁজে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরিবার।   এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। জিডি নম্বর ১০১৯।   কেউ ইমামুলের সন্ধান পেয়ে থাকলে তার পরিবারের সঙ্গে ০১৭১৪১৪০৭০২ অথবা ০১৭৫৮৫০৪৬০৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে বৃদ্ধের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার, নাতির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ইসির এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ ইসির

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিবির অভিযান, বিদেশিসহ আটক ৮৪

ছবি: সংগৃহীত
সোনারগাঁয়ে পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, ১৪৩ বছর ধরে অটুট ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘ ১৪৩ বছর ধরে পাশাপাশি অবস্থান করছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। একই আঙিনায় দুই ধর্মের উপাসনালয় ঘিরে গড়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ ও শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম স্থানীয় মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।   স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৮৩ সাল থেকে এ এলাকায় দুই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহাবস্থানের ঐতিহ্য চলে আসছে। মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। অন্যদিকে পাশের মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।   ধর্মীয় রীতিনীতি ও বিশ্বাসে পার্থক্য থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এত বছরের সহাবস্থানে ধর্মীয় কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো বিরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।   এলাকার ব্যবসায়ী মামুন জানান, আজানের সময় মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন এবং নির্ধারিত সময়ে মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনেও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকে।   স্থানীয় মুসল্লি রিপন বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালনে কখনো কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজয় দাশ হরি জানান, পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতার কারণে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারছেন। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক এলাকার সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।   ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মাহফুজ রহমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালন করছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি টিকে রয়েছে।   সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতও দীর্ঘদিনের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আগামী দিনেও অক্ষুণ্ন থাকবে।   স্থানীয়দের মতে, ইউসুফগঞ্জের মসজিদ ও মন্দিরের এই সহাবস্থান কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ নয়, বরং সামাজিক ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতিফলন। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—সোনারগাঁয়ের এই ঐতিহ্য তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলজেরিয়া সফরে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান

রাজনীতিবিদদের রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

0 Comments