অন্যান্য

শিক্ষা ক্যাডারে ৬৯২১ ‘সুপারনিউমেরারি’ পদসৃজনের প্রস্তাব, খুলছে পদোন্নতির জট

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদোন্নতির জটিলতা কাটাতে এবং পেশাগত স্থবিরতা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এই ক্যাডারের ২১তম থেকে ৩৫তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের জন্য মোট ৬ হাজার ৯২১টি ‘সুপারনিউমেরারি’ (সংখ্যাতিরিক্ত) পদসৃজনের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছেন মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ২০ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। জনপ্রশাসন প্রস্তাবনার অধিকতর পর্যালোচনা করে পদসৃজনের চূড়ান্ত ও নীতিগত অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখায় পাঠাবে। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘সুপারনিউমেরারি’ পদসৃজনের আদেশ জারি করবে। 

মহাপরিচালক বলেন, ‘শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে এই প্রথম ‘সুপারনিউমেরারি’ বা ‘সংখ্যাতিরিক্ত’ পদসৃজনে সরকারের ওপর তেমন কোনো বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপবে না, কারণ অধিকাংশ কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কেলের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন।’

গত ২০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো পত্রে ‘পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও পদোন্নতিযোগ্য’ দুই স্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য ‘ব্যাচভিত্তিক’ পদসৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যাধমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানান, সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো— সকল প্রকার বৈষম্য নিরসন করে একটি আধুনিক ও পেশাদার শিক্ষা ক্যাডার গঠন করা।

তিনি বলেন, ‘মাউশির সংশোধিত প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব এখন যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসনে পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো মাউশির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, তিন স্তরের সুপারনিউমেরারি (সংখ্যাতিরিক্ত) পদসৃজন প্রস্তাবের মধ্যে অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ২৯৮টি, সহযোগী অধ্যাপক ২ হাজার ৭৫২টি এবং সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ১ হাজার ৮৭১টি সহ মোট ৬ হাজার ৯২১টি পদসৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রস্তাবনায় ‘ব্যাচভিত্তিক’ পদোন্নতির রূপরেখায় বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারে ২১তম থেকে ২৪তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য অধ্যাপক পদ; ২৪তম থেকে ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য সহযোগী অধ্যাপক পদ এবং ৩২তম থেকে ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে সুপারনিউমেরারি পদসৃজন করা হবে। 

কেন এই সুপারনিউমেরারি পদ?

‘সুপারনিউমেরারি’ বা ‘সংখ্যাতিরিক্ত’ পদ হলো এমন একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যেখানে নিয়মিত পদ খালি না থাকলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিয়ে একই কর্মস্থলে বা অন্য কোথাও পদায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসরে গেলে বা অন্য কোনোভাবে পদটি শূন্য হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পদসৃজনের যৌক্তিকতা :

পদসৃজনের যৌক্তিকতা বিষয়ে মাউশির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিযোগ্য প্রায় ৭ হাজার ৯৯৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা ২ হাজার ৯২৬ জন, সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ে ৩ হাজার ৫৫৩ জন এবং অধ্যাপক পদে ২ হাজার ২৯৮ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শূন্যপদ না থাকায় এই বিশাল সংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিশেষ করে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক হতাশা তৈরি হয়েছে। এই বঞ্চনার ফলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মাউশি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন উচ্চতর ধাপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদসৃষ্টি না হওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অবসরে যেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাসময়ে পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই বঞ্চনা প্রকট।

মাউশির প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে শিক্ষা ক্যাডারে মোট সৃষ্টপদ রয়েছে ১৯ হাজার ৮৬৮টি। এর মধ্যে প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তার সংখ্যা ৯ হাজার ৭৮২জন, সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদসংখ্যা ৪ হাজার ৪৫১ টি, অর্থাৎ প্রভাষক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৫১ জন কর্মকর্তার। বাকি কর্মকর্তাদের প্রথম ধাপে পদোন্নতির সুযোগ নেই। মাউশি বলছে, পরবর্তী পদোন্নতি সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকের পদসংখ্যা যথাক্রমে ২ হাজার ২৬৮ ও ৫২৮টি।

শিক্ষা ক্যাডার কয়েকজন সিনিয়র অধ্যাপক বাসসকে বলেন, ‘এই ক্যাডারের ইতিহাসে এই প্রথম সুপারনিউমেরারি পদসৃজন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল পদের বিপরীতে ‘সংখ্যাতিরিক্ত’ এই পদগুলো সরকার সৃজন করলে কর্মকর্তাদের উচ্চতর পদে আসীন হওয়ার পথ সুগম হবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনবে। 

তারা আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে পদগুলো সৃজিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বাসসকে বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন ধরে উপরের ধাপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদসৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায় পর্যন্ত পদের সংখ্যা খুবই কম। তাই প্রতি নিয়ত বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অবসরে যেতে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে এবং উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সুপারনিউমেরারি পদসৃজন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানাই, এই প্রথম শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৭ হাজার সুপারনিউমেরারি পদসৃজন করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবনাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই পদসৃষ্টির ফলে শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের পদোন্নতির জট কমবে। একই সঙ্গে ‘চেইন অফ কমান্ড’ বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
‘যারা পালিয়ে যায়, তারা আর ফেরে না’: নাহিদ ইসলাম

যারা পালিয়ে যায় তারা আর ফেরত আসে না। সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারতো। মানবতাবিরোধী মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।   নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, উত্তরা গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান হটস্পট ছিল। প্রতিরোধের প্রধান দুর্গ ছিল এই উত্তরা। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে এই উত্তরা থেকেই প্রতিরোধ শুরু হবে।   রোববার (১৯ জুলাই) উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।   নাহিদ ইসলাম বলেন, দুই বছর আগের এদিন আমাকে গুম করে। বহু মানুষকে সেদিন গুম করে হাসিনার বাহিনী। দুই বছর পরে আমাদের একটাই চাওয়া। স্বৈরাচার এবং দোসরদের বিচার। স্বৈরাচারের বিচার না হলে আবারও স্বৈরাচার তৈরি হবে। যেন স্বৈরাচার তৈরি না হয় এজন্য আমরা বিচার চাই।   বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, যারা পালিয়ে যায় তারা আর ফেরত আসে না। সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারতো। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে এই উত্তরা থেকেই প্রতিরোধ শুরু হবে। আমরা উত্তরাকে কখনো ভুলে যাবো না।   জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এদেশের পরিবর্তনের পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। বিএনপি এখন একত্রিশ দফা ভুলে গেছে। তারা নোট অব ডিসেন্টের জুলাই সনদের কথা বলছে। নোট অব ডিসেন্ট প্রতারণা বাদ দিয়ে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির সংশোধন হতে হবে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-প্রতিবেশী বদলানো যায় না। যে প্রতিবেশী আমার পরিবারের সদস্যদের খুন করে সে প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা যায় না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন

হাসিনার পতন হলেও বহাল তার রেখে যাওয়া শাসনকাঠামো: আখতার হোসেন

বয়স ৬৫ পার হলে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই | ছবি: সংগৃহীত

৬৫ পেরোলেই যেসব ১০ খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ঢাবিতে প্রবেশে জরুরি নির্দেশনা

তানিম রেজা বাপ্পি। ছবি : সংগৃহীত
অবশেষে ধরা পড়ল সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাপ্পি

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তারের পর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।   মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া রিজন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত বাইনের অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত এই বাপ্পি। সুব্রত বাইনকে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই বাপ্পি ও তার সহযোগীরা আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা অপরাধমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

টকশোতে অনেকে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন : রিজভীর

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজপথে এবি পার্টির কফিন মিছিল

ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর পরও সওয়াব পৌঁছায় যে ৬ আমলে

মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তার জন্য জীবিতদের কিছু আমল মৃত্যুর পরও উপকার বয়ে আনতে পারে। ইসলামে এমন কিছু কাজের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, তার অধিকার আদায় করা এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা যায়। তবে এসব আমল অবশ্যই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। নিচে মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে—এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো—   ১. মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং তার ক্ষমা প্রার্থনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন— وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ ‘আর যারা তাদের (পূর্ববর্তী মুমিনদের) পরে এসেছে, তারা বলে— হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন, যারা ইমানের সঙ্গে আমাদের আগে চলে গেছেন।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ১০) রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজা শেষে সাহাবিদের উদ্দেশে বলতেন— اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ؛ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য অবিচল থাকার দোয়া করো। কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (আবু দাউদ ৩২২১)   ২. তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে আল্লাহ চাইলে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— إِنَّ أُمَّ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ تُوُفِّيَتْ... فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ، أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ ‘সাদ ইবন উবাদা (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন— হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সদকা করব? তিনি বললেন— হ্যাঁ।’ (বুখারি ২৭৬২)   ৩. মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটি দ্রুত আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ ‘মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।’ (তিরমিজি ১০৭৮)   ৪. তার ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা মৃত ব্যক্তি যদি শরিয়তসম্মত কোনো ওসিয়ত করে যান, তবে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন— مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ‘(সম্পদ বণ্টন হবে) তার কৃত ওসিয়ত পূরণ এবং ঋণ পরিশোধের পর।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১১) তবে ওসিয়ত অবশ্যই শরিয়তসম্মত হতে হবে এবং ইসলামী বিধানের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।   ৫. তার পক্ষ থেকে হজ করা যদি কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় হজ ফরজ হওয়ার পরও তা আদায় করতে না পারেন এবং শরিয়তের শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে হজ করা বৈধ। এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন— إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا... أَفَأَحُجُّ عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। তার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনে বসে যাত্রা করার সামর্থ্য রাখেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন— হ্যাঁ।’ (বুখারি ১৫১৩, মুসলিম ১৩৩৪)   ৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও তার সৎ বন্ধুদের সম্মান করা মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তার প্রিয় বন্ধুদের সম্মান করা তার প্রতি উত্তম আচরণের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ مِنْ أَبَرِّ الْبِرِّ صِلَةَ الرَّجُلِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ ‘সর্বোত্তম সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হলো— কোনো ব্যক্তি তার পিতার প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’ (মুসলিম ২৫৫২) মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উপকারী আমল হলো আন্তরিক দোয়া, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং তার অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হওয়া। পাশাপাশি তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা, ঋণ পরিশোধ করা, শরিয়তসম্মত ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা, প্রয়োজন হলে তার পক্ষ থেকে হজ করা এবং তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও সুন্নাহসম্মত আমল। এসব কাজের মাধ্যমে আমরা একদিকে মৃত ব্যক্তির প্রতি দায়িত্ব পালন করি, অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমাদের মৃত বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও সকল মুমিন-মুমিনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার এবং তাদের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি

চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান

ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের রায় ২৮ জুলাই

বৃহস্পতিবার খুলছে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র

0 Comments