দেশের অন্যতম বৃহৎ বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদোন্নতির জটিলতা কাটাতে এবং পেশাগত স্থবিরতা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এই ক্যাডারের ২১তম থেকে ৩৫তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের জন্য মোট ৬ হাজার ৯২১টি ‘সুপারনিউমেরারি’ (সংখ্যাতিরিক্ত) পদসৃজনের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছেন মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ২০ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। জনপ্রশাসন প্রস্তাবনার অধিকতর পর্যালোচনা করে পদসৃজনের চূড়ান্ত ও নীতিগত অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখায় পাঠাবে। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘সুপারনিউমেরারি’ পদসৃজনের আদেশ জারি করবে।
মহাপরিচালক বলেন, ‘শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে এই প্রথম ‘সুপারনিউমেরারি’ বা ‘সংখ্যাতিরিক্ত’ পদসৃজনে সরকারের ওপর তেমন কোনো বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপবে না, কারণ অধিকাংশ কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কেলের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন।’
গত ২০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো পত্রে ‘পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও পদোন্নতিযোগ্য’ দুই স্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য ‘ব্যাচভিত্তিক’ পদসৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যাধমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানান, সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো— সকল প্রকার বৈষম্য নিরসন করে একটি আধুনিক ও পেশাদার শিক্ষা ক্যাডার গঠন করা।
তিনি বলেন, ‘মাউশির সংশোধিত প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব এখন যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসনে পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন।
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো মাউশির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, তিন স্তরের সুপারনিউমেরারি (সংখ্যাতিরিক্ত) পদসৃজন প্রস্তাবের মধ্যে অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ২৯৮টি, সহযোগী অধ্যাপক ২ হাজার ৭৫২টি এবং সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ১ হাজার ৮৭১টি সহ মোট ৬ হাজার ৯২১টি পদসৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় ‘ব্যাচভিত্তিক’ পদোন্নতির রূপরেখায় বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারে ২১তম থেকে ২৪তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য অধ্যাপক পদ; ২৪তম থেকে ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য সহযোগী অধ্যাপক পদ এবং ৩২তম থেকে ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে সুপারনিউমেরারি পদসৃজন করা হবে।
কেন এই সুপারনিউমেরারি পদ?
‘সুপারনিউমেরারি’ বা ‘সংখ্যাতিরিক্ত’ পদ হলো এমন একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যেখানে নিয়মিত পদ খালি না থাকলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিয়ে একই কর্মস্থলে বা অন্য কোথাও পদায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসরে গেলে বা অন্য কোনোভাবে পদটি শূন্য হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
পদসৃজনের যৌক্তিকতা :
পদসৃজনের যৌক্তিকতা বিষয়ে মাউশির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিযোগ্য প্রায় ৭ হাজার ৯৯৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা ২ হাজার ৯২৬ জন, সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ে ৩ হাজার ৫৫৩ জন এবং অধ্যাপক পদে ২ হাজার ২৯৮ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শূন্যপদ না থাকায় এই বিশাল সংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিশেষ করে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক হতাশা তৈরি হয়েছে। এই বঞ্চনার ফলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মাউশি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন উচ্চতর ধাপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদসৃষ্টি না হওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অবসরে যেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাসময়ে পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই বঞ্চনা প্রকট।
মাউশির প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে শিক্ষা ক্যাডারে মোট সৃষ্টপদ রয়েছে ১৯ হাজার ৮৬৮টি। এর মধ্যে প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তার সংখ্যা ৯ হাজার ৭৮২জন, সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদসংখ্যা ৪ হাজার ৪৫১ টি, অর্থাৎ প্রভাষক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৫১ জন কর্মকর্তার। বাকি কর্মকর্তাদের প্রথম ধাপে পদোন্নতির সুযোগ নেই। মাউশি বলছে, পরবর্তী পদোন্নতি সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকের পদসংখ্যা যথাক্রমে ২ হাজার ২৬৮ ও ৫২৮টি।
শিক্ষা ক্যাডার কয়েকজন সিনিয়র অধ্যাপক বাসসকে বলেন, ‘এই ক্যাডারের ইতিহাসে এই প্রথম সুপারনিউমেরারি পদসৃজন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল পদের বিপরীতে ‘সংখ্যাতিরিক্ত’ এই পদগুলো সরকার সৃজন করলে কর্মকর্তাদের উচ্চতর পদে আসীন হওয়ার পথ সুগম হবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনবে।
তারা আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে পদগুলো সৃজিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বাসসকে বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন ধরে উপরের ধাপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদসৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায় পর্যন্ত পদের সংখ্যা খুবই কম। তাই প্রতি নিয়ত বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অবসরে যেতে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে এবং উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সুপারনিউমেরারি পদসৃজন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানাই, এই প্রথম শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৭ হাজার সুপারনিউমেরারি পদসৃজন করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবনাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই পদসৃষ্টির ফলে শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের পদোন্নতির জট কমবে। একই সঙ্গে ‘চেইন অফ কমান্ড’ বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে বাঁচতে বর্তমানে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস হোক বা বাসা, দীর্ঘ সময় এসির নিচে কাটানো এখন সাধারণ বিষয়। তবে সম্প্রতি একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই দানা বাঁধছে, সারাদিন এসির ঠান্ডায় থাকা কি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়? চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নিই- সরাসরি ঠান্ডা বাতাস কি দায়ী? চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে পরোক্ষভাবে এসির পরিবেশ আমাদের জীবনযাত্রায় এমন কিছু পরিবর্তন আনে, যা কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কেন ঝুঁকি বাড়ে? ১. পানির তৃষ্ণা কম পাওয়া: এসির কৃত্রিম ঠান্ডায় থাকলে আমাদের শরীর সহজে ঘামে না। এর ফলে আমরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করি না এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যাই। দীর্ঘক্ষণ শরীরে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশনই হলো কিডনিতে পাথর জমার প্রধান কারণ। ২. ইউরিন কনসেন্ট্রেশন বা প্রস্রাব ঘন হওয়া: পর্যাপ্ত পানি পান না করায় প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এতে প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানগুলো জমাট বেঁধে পাথর তৈরি করতে শুরু করে। ৩. বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব: দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডায় বসে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায়তারতম্য ঘটতে পারে, যা পরোক্ষভাবে কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রতিকার তৃষ্ণা না পেলেও পানি পান: এসিতে থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করুন। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: এসির তাপমাত্রা খুব বেশি কমিয়ে রাখবেন না। শরীরের সহনীয় তাপমাত্রা অর্থাৎ ২৫-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এসি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। মাঝে মাঝে স্বাভাবিক তাপমাত্রা: একটানা দীর্ঘক্ষণ এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে সাধারণ তাপমাত্রায় আসার চেষ্টা করুন। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে। সুষম খাদ্য তালিকা: লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন এবং আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান। উপসংহার এসির ঠান্ডা সরাসরি শত্রু নয়, বরং এসির পরিবেশে আমাদের অসচেতনতাই কিডনি পাথরের মূল কারণ হতে পারে। তাই গরমে এসির আরাম নিন, কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরের আর্দ্রতা বা হাইড্রেশনের দিকেও সমান নজর দিন। তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হাভার্ড হেলথ ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন
গতকাল সংসদে নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির প্রমাণ চেয়েছেন। ধরে নেওয়া যাক তিনি নিজে কোনো দুর্নীতিতে জড়াননি। তবু তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বহু সদস্য ও ক্ষমতাসীন মহলের লোকজন দুর্নীতি, তদবিরবাণিজ্যে জড়িয়েছেন। এমনকি তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদের কার্যকলাপ নিয়েও গণমাধ্যমে নানা অভিযোগ উঠেছে। আজ (বুধবার) ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা লিখেছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি আরও লিখেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের ঘনিষ্ঠজন নিয়োগ দেওয়া এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অন্য মন্ত্রণালয়ের রদবদলে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠেছে। তিনি নিজেও বলেছিলেন, কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন। এসব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আসছে। নাহিদ ইসলাম তাঁদের নিয়োগদাতা ছিলেন। সুতরাং তিনি কি এসবের দায় অন্যত্র সরিয়ে দিতে পারেন? এ ছাড়া তিনি নিজেই বলেছিলেন, বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি এনসিপিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন! সেই ধনাঢ্য ব্যক্তিরা আসলে কারা? তাঁরা কি নিছক দানবীরতায় এনসিপিকে অনুদান দিচ্ছেন? শেখ বশির উদ্দিনকে উপদেষ্টা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ বশির উদ্দিন এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না যাঁকে গণঅভ্যুত্থানের সরকারে বাণিজ্য উপদেষ্টা করতেই হবে। তাঁকে কেন বাণিজ্য উপদেষ্টা করা হয়েছিল? তাঁর শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে এনসিপি কি নিয়মিত অনুদান পেয়ে থাকে? আর সবচেয়ে বড় বিষয়, তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালেই এনসিপি গঠন করেছেন। এটি বড় ধরনের নৈতিক অপরাধ। নাহিদ যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেই তথ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো সংস্কার হয়েছিল? এ প্রশ্ন রেখে রাশেদ খাঁন বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের ১৬ বছরের দুর্নীতির তথ্য তিনি জানাতে পেরেছিলেন? বরং তিনি দায়িত্ব ত্যাগের সময় যাঁকে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে বসিয়ে গেলেন, তিনি দুটি টেলিভিশন চ্যানেলকে শেখ হাসিনার আমলের আইনে লাইসেন্স দিলেন। এর দায় কি নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন? বিএনপির এই নেতা বলেন, এ ছাড়া নাহিদ বিচার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে গিয়েছিলেন, কিন্তু এসবের কিছুই না করেই আবার পদত্যাগ করলেন। সুতরাং নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন।
ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সংলগ্ন রেললাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা থেকে শাটল ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর ক্যাম্পাস-সংলগ্ন রেললাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরমুখী কোনো শাটল ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। একই কারণে শহর থেকে ক্যাম্পাসমুখী ট্রেনও প্রবেশ করতে পারেনি। বেলা ২টা ও ৩টা ৩৫ মিনিটের নির্ধারিত শাটল ট্রেন স্টেশন ছাড়তে পারেনি। এছাড়া বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের ট্রেনটি ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে ফতেয়াবাদ স্টেশন পর্যন্ত গিয়ে লাইন সমস্যার কারণে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের শাটল ট্রেনটি ৬টা ৪০ মিনিটে ক্যাম্পাস ছেড়ে শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, বৃষ্টিজনিত পাহাড়ি ঢলে একটি লাইন সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শিডিউলে কিছুটা দেরি হলেও আগামীকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি। ষোলশহর স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। রেললাইনে সমস্যার কারণে দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে কোনো ট্রেন ষোলশহর পর্যন্ত আসেনি। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।