উপ-আঞ্চলিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি রাজশাহীর আয়োজনে বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৫৪তম শীতকালীন ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল, হকি, ব্যাডমিন্টন, টেবিলটেনিস, সাইক্লিং ও অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নগরীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে মশাল প্রজ্বলন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতায় বিভাগের আটটি জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত সহস্রাধিক শিক্ষার্থীরা তাদের ক্রীড়া প্রতিভা ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুস্থ শরীর ও মন গঠনের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল, হকি, ব্যাডমিন্টন ও টেবিলটেনিসের মতো দলীয় ও ব্যক্তিগত খেলাগুলো দলগত সহযোগিতা ও কৌশলগত চিন্তাশক্তি বাড়ায়। অন্যদিকে সাইক্লিং ও অ্যাথলেটিক্স শিক্ষার্থীদের সহনশীলতা, গতি এবং লক্ষ্যনিষ্ঠতা উন্নত করে, যা ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই—এটাই প্রতিযোগিতার সৌন্দর্য। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়ানো। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক মোহা. আবদুর রশিদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়াচর্চাকে আরও গতিশীল করে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ সৃষ্টি করে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় ক্রিকেট, ভলিবল, বাস্কেটবল ও হকিতে দলীয় ইভেন্টের পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন ও টেবিলটেনিসে একক ও দ্বৈত ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। সাইক্লিং ও অ্যাথলেটিক্সে বিভিন্ন দূরত্ব ও ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা চলবে এবং শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা মনে করছেন, রাজশাহীতে শুরু হওয়া ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গঠনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইতালিতে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো লাখ লাখ টাকা। কিন্তু তাদের নিয়ে যাওয়া হতো শ্রীলঙ্কা, মিশর বা অন্য কোনো দেশে। সেখানে আটকে রেখে করা হতো অকথ্য নির্যাতন, বাধ্য করা হতো দেহব্যবসায়। অবশেষে আন্তর্জাতিক এই মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে আরজু গ্রেফতার করা হয়। এসআরবি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত ১৬ জুলাই। মিশর থেকে কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে তাকে মিশরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি জানায়, ফাতেমা ও তার পরিবারের মোট পাঁচজন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আরজু। প্রথমে বলা হয় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরত আসেন পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য। কিন্তু আটকা পড়েন ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী। আঞ্জুমান আরা শ্রীলঙ্কাতেই পালিয়ে কোনোমতে আত্মগোপনে থাকেন, আর ফাতেমাকে ইতালির মিশরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিশরে নিয়ে যাওয়ার পর ফাতেমার ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। সেখানে তাকে বাধ্য করা হয় দেহব্যবসায়ে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়াসহ চালানো হয় ভয়াবহ শারীরিক অত্যাচার। ১২ বছরে ২ হাজার মানুষকে পাচার এসআরবি জানায়, গ্রেফতার আরজু গত ১২ বছর ধরে এই পাচারকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি সরল-সহজ মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছে। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের ভুয়া নাম ব্যবহার করত, যদিও তার নিজস্ব কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আরজুর ব্যবহৃত মোবাইলে পাওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে মিশরে অবস্থান করা আরজু ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং অতি সম্প্রতি পুনরায় মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এনএসআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা তিন ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আরজুকে গ্রেফতার দেখিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি। এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা আঞ্জুমান আরা এবং মিসরে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি। আজ বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী টার্মিনালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, লঞ্চের চলাচল, ভাড়া আদায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। নৌযান পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও নির্দেশ দেন, সদরঘাটসহ সকল যাত্রীবাহী নৌযানে নির্ধারিত ভাড়ার ডিজিটাল তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই প্রকৃত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা হয়রানির শিকার না হন। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। কোনো যাত্রী যেন হয়রানি, ভোগান্তি বা অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনার শিকার না হন-এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নৌযান শ্রমিকদের দায়িত্বশীল ও সৌজন্যমূলক আচরণ করারও নির্দেশ দেন তিনি। সদরঘাট টার্মিনালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং টার্মিনালের পরিবেশ আরও উন্নত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সদরঘাটের বিদ্যমান অবকাঠামো পর্যালোচনা করে কীভাবে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করা যায় এবং আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন। যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী এ সময় লঞ্চের যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে টার্মিনাল ও নৌযানসমূহ পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পান বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার, যার সঙ্গে আমাদের সংস্কৃিত ও গ্রামীণ অর্থনীতি গভীরভাবে মিশে আছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে রাজশাহী, বরিশাল (টরকি), চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শত শত বছর ধরে পানের চাষ হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের মাটি পানের চাষ উপযোগী হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পান উৎপাদন হওয়ায় পাকুন্দিয়া পৌরসদরের পাটমহালের পানবাজার সারা বছরই থাকে সরগরম। ফজরের আজানের আগেই সরগরম হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসদরের পাটমহালের পানবাজার। ভ্যান, অটোরিকশা ও পিকআপে করে পানভর্তি ঝুড়ি নিয়ে আসেন কৃষকরা। কারও মাথায় পানের বিড়া, কারও হাতে বস্তা। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পান বাছাই, ভিরা গোনা ও দরদাম। পাইকাররা একেকটি ভিরা হাতে নিয়ে পানের আকার, রং ও মান যাচাই করেন। দরদাম মিলে গেলেই মুহুর্তে মধ্যে হাতবদল হয় পান। বড়জোর দুই ঘণ্টার এ বেচাকেনায় প্রতিটি হাটে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। শীত মৌসুমে চাহিদা ও দাম বাড়লে কোনো কোনো হাটে লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে জানান ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা। প্রতি শনি ও বুধবার বসা পাটমহালের এ পানবাজার এখন শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ হাটকে ঘিরে কৃষক, পাইকার, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চরফরাদী, এগারসিন্দুর, হোসেন্দী, নারান্দী ও সুখিয়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বরাটিয়া, হিজলীয়া, লক্ষীয়া ও সৈয়দগাঁও এলাকায় পান চাষ হয়। উপজেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছেন প্রায় ৮৬০ জন কৃষক। তাদের মধ্যে ২৪৫ জন নারী। কৃষি বিভাগের হিসাবে, উপজেলায় বছরে উৎপাদিত পানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সারাবছরই এসব এলাকায় লাল ডিঙ্গি ও গয়েসুর জাতের পান উৎপাদন হয়। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এখানকার পানের মান ভালো বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত নূর-ই-আলম বাসস’কে বলেন, পান একটি লাভজনক কৃষিপণ্য। সারা বছরই কৃষকেরা পান বিক্রি করে আয় করেন। প্রতি বিঘায় বছরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মণ পান উৎপাদন হতে পারে। উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকরা ভালো লাভ করে থাকেন। তিনি বলেন, উপজেলায় পান সংরক্ষণের জন্য কোনো সংরক্ষণাগার নেই। তবে রোগবালাই দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পানচাষিদের চাহিদা অনুযায়ী বিসিআইসির টিএসপি ও ডিএপি সার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ রাখা হয়। সপ্তাহে দুই দিন জমে বড় বাজার পাটমহালের পানহাটে প্রতি হাটে প্রায় ৪শ’ কৃষক পান নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক পাইকারও এ বাজারে আসেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। হাটের ইজারাদার কফিল উদ্দিন বলেন, প্রতি হাটে সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। পানের মৌসুমে চাহিদা ও দাম বাড়লে কোনো কোনো হাটে লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে কৃষক ও পাইকাররা আসায় হাটের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। পাটমহালের হাটে আসা পান শুধু পাকুন্দিয়াতেই বিক্রি হয় না। হাট শেষ হওয়ার আগেই এসব পান কটিয়াদী, ভৈরব, নিকলী, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যায়। গাজীপুর থেকে পান কিনতে আসা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে তিনি এ হাট থেকে পান কিনছেন। এখানকার পানের মান ভালো হওয়ায় গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রির জন্য পান নিয়ে যান। পান ব্যবসায়ী স্বাধীন জানান, তিনি পাকুন্দিয়া থেকে কয়েক লাখ টাকার পান কিনে কটিয়াদী, ভৈরব, নরসিংদী ও নিকলীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠান। স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন বলেন, তিনিও প্রতি হাটে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পান কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, হাটে কৃষকের কাছ থেকে ২০ বিড়া পান প্রায় ৪ হাজার টাকায় কেনা হয়। পরিবহন, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে পাইকারি পর্যায়ে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পরবর্তী আড়ত বা বাজারে দাম হয় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা। খুচরা পর্যায়ে একই পরিমাণ পান বিক্রি হয় প্রায় ৬ হাজার টাকায়। ফলে বরজ থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কুড়ি পানে দামের পার্থক্য প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। পানের মান, চাহিদা, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে দাম পরিবর্তিত হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ভালো মানের লাল ডিঙ্গি পান প্রতি কুড়ি প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং গয়েসুর জাতের পান আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বাজারদর ভালো থাকলে পানচাষ থেকে আয় বাড়ে। তবে সরবরাহ বেড়ে গেলে বা দাম কমে গেলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। পাকুন্দিয়ার দরদরা, বরাটিয়া, হিজলীয়া, লক্ষীয়া, নামালক্ষীয়া, সৈয়দগাঁও, হোসেন্দী চরপাড়া, মির্জাপুর ও বাহাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পান চাষ হয়ে আসছে। অনেক পরিবারে পানচাষ এখন বংশপরম্পরার পেশায় পরিণত হয়েছে। তবে কৃষকরা জানান, বাঁশ, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। রোগবালাই এবং পানের দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সবসময় সে অনুযায়ী পান বিক্রির দাম পাওয়া যায় না। পান নিয়ে হাটে আসা কৃষকদের বড় সমস্যা পর্যাপ্ত জায়গা ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। কৃষক হাদিকুল ইসলাম বলেন, পান উৎপাদন করে ভালো আয় হলেও বাজারে পান নিয়ে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বসার ও পান রাখার জায়গা পর্যাপ্ত নেই। বৃষ্টি হলে পান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, স্থায়ী শেড, ভালো রাস্তা, পানি ও নিরাপদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে ভোগান্তি কমবে। বিক্রি না হওয়া পান রাখার ব্যবস্থা থাকলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। বাজারে ছাউনি, পান রাখার জায়গা, আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বাসস’কে বলেন, পাকুন্দিয়া পৌরসভা বাজার ও শ্রীরামদী কোল্ড স্টোর বাজার একসঙ্গে ইজারা দেওয়া হয়। পাটমহল বা পানমহলের জন্য আলাদা কোনো ইজারা ব্যবস্থা নেই। ফলে এ পানবাজার থেকে আলাদাভাবে কত রাজস্ব আদায় হয়, তার হিসাব নেই। তিনি বলেন, পাটমহলের রাস্তার উন্নয়নে আইইউজিআইপি (ওটএওচ) প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার হয়েছে। ইতোমধ্যে এমপি রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেছেন। ঠিকাদার শিগগিরই কাজ শুরু করবেন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা, উন্নত বাজারব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পাকুন্দিয়ার পানচাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, পানের অপচয় কমানো এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।