টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের ভারতে না খেলা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ক্রিকেট দুনিয়া। এ ঘটনায় Board of Control for Cricket in India এবং Bangladesh Cricket Board–এর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে আলোচনা ছিল। বিষয়টি শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দুই দেশের কূটনৈতিক মহলেও তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই সেই উত্তাপ অনেকটাই কমে এসেছে বলে মনে হচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে India national cricket team। সম্ভাব্য এই সফরে তিনটি টি–টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে Bangladesh national cricket team–এর বিপক্ষে।
এর আগে গত বছর আগস্টে নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল Board of Control for Cricket in India। তখনই আলোচনা হয় যে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন সূচিতে সিরিজটি আয়োজন করা হবে। তবে এরই মধ্যে Mustafizur Rahman–কে Indian Premier League–এ খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এতে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমছে। কূটনৈতিক ও ক্রীড়া মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
এ পরিবর্তনের পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকেও একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। Bangladesh Nationalist Party ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আগের মতো নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Aminul Haque নিজেও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। সাবেক এই ফুটবলার দায়িত্ব নেওয়ার পরই জানিয়েছেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চান তিনি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের স্বার্থে ক্রিকেটকে ব্যবহার করছিল। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তাই দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হতে বাধা থাকার কথা নয়।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লিগের শেষ এল ক্লাসিকো হতে পারত বেশ রোমাঞ্চকর। তবে বার্সেলোনার যেন একটু বেশিই তাড়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই যেন লা লিগা জেতার মিশনে আছে কাতালান ক্লাবটি। আগের দিন রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট হারানোর পর আজ পুরো তিন পয়েন্ট পাওয়া বার্সার লিগ জয়টা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। লা লিগায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) গেতাফের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। প্রথামার্ধের শেষ দিকে ফেরমিন লোপেজের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুন করা গোলটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড। এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট দাড়াল ৮৫। পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে গেল হান্সি ফ্লিকের দল। আগামী ৩ মে’তে ওসাসুনা বিপক্ষে জয়ের পর এল ক্লাসিকোতে ড্র করলেই টানা দ্বিতীয়বার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হবে বার্সা। গেহাফের মাঠে জয় পাওয়াটা বার্সার জন্য কখনোই সহজ ছিল না। ২০১৯ সালের পর এই প্রতিপক্ষের ডেরা থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি নূ ক্যাম্পের ক্লাবটি। ২০২৫-২৬ মৌসুমেও গেতাফের রক্ষণ ছিল ইস্পাত কঠিন। এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের পর লিগে সবচেয়ে কম (৩৪) গোল হজম করেছে তারা। আজও প্রথামার্ধে আক্রমণেভাগের দুই কান্ডারি লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়া বিহীন বার্সাকে বেশ ভুগিয়েছে গেতাফে। স্বাগতিকদের টানা প্রেসিংয়ের কারণে বার্সার স্বাভাবিক পাসিং গেম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গেতাফের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছিল ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্লিকের দল। জুলস কুন্দের পাস থেকে পাওয়া বল রুনি বার্দঘি পোস্টের বাইরে মারেন। গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যাওয়ার পথে ছিল দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ডেডলক ভাঙে সফরকারী বার্সা। পেদ্রির চমৎকার এক জাদুকরী পাস থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ফেরমিন লোপেজ। এটিই ছিল পুরো প্রথমার্ধে বার্সার নেওয়া লক্ষ্যে প্রথম শট। দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সেলোনা । ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। ব্যবধান দ্বিগুণ হয় এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। ৭৪ মিনিটে রবার্ট লেভানডফস্কির রক্ষণচেরা পাস থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা র্যাশফোর্ড চমৎকার গোলে জয় নিশ্চিত করেন। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে কাসাদোর সামনে সুযোগ এসেছিল ব্যবধান ৩-০ করার। কিন্তু গোলপোস্টের খুব কাছ থেকেও এই মিডফিল্ডার বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।
খেলোয়াড়ী জীবনে কিছুটা সময় আমিনুল হক কাটিয়েছেন মোহামেডান ও আবাহনীতে। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সাবেক এই ফুটবলার গেলেন আবাহনীর আঙিনায়। সেখানে মোহামেডান-আবাহনীর ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথের স্মৃতিচারণ করলেন তিনি। দিলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার বার্তাও। আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে শনিবার যান আমিনুল। ক্লাব কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সাবেক গোলকিপারকে। আমিনুলের হাতে আবাহনীর জার্সিও তুলে দেন তারা। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবাহনীর সময়টা ভালো যাচ্ছে না একেবারেই। দল গড়তেও তাদের হিমশিম খাওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। কর্মকর্তাদের অনেকের পা পড়ছে না ক্লাবের আঙিনায়। ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে আলাপচারিতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন আমিনুল। আবাহনীর কর্মকর্তারা নতুনভাবে ক্লাবটিকে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য সকল ইভেন্টে তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবে, এই আশাবাদও ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রা টিকে থাকবে, আর এ কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা প্রদান করা হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিশেষ করে ক্রীড়া কার্ড দেওয়ার কথাও তুলে ধরে আমিনুল। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাদের মাঠের উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে, যা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।
বাংলাদেশ নারী দল সিরিজের শুরুটা করেছিল ৩ উইকেটের জয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজে সমতা ফেরায় শ্রীলঙ্কার নারী দল ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়ে। তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কাকে ২১৪ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। লঙ্কানদের কাছে পাত্তাই পেল না স্বাগতিক শিবির। শ্রীলঙ্কার কাছে আজ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে নিগার সুলতানার দল। এর ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয় পেল শ্রীলঙ্কা। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে পরিণত হয় অলিখিত ফাইনালে। যেখানে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি লাল সবুজরা। সোবানা মোস্তারি ছাড়া ব্যাট হাতে খুব একটা দ্যুতি ছড়াতে পারেননি আর কেউই। পাঁচ নম্বরে নেমে এ ব্যাটার ৮০ বলে ৮ চারের মারে ৭৪ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস উপহার দেন। অন্যদিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৪০ রানের ইনিংস খেললেও সেটি খুব একটা কার্যকর ছিল না। তার ইনিংসটি ছিল বেশ মন্থর। ৯০ বল খেলে মাত্র ১টি চার হাঁকান তিনি। এছাড়া শারমিন আক্তার ৩৬ বলে ২৫ আর রিতু মনি ১৬ বলে ২০ রান করেন। তাতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তুলতে সক্ষম হয় টিম টাইগ্রেস। লঙ্কানদের পক্ষে ৪৮ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন কাভিশা দিলহারি। ৪০ রান খরচায় ২ উইকেট নেন নিমাশা মিপাগে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তুলনামুলক সহজ লক্ষ্য পেয়ে শুরু থেকেই ছন্দ ধরে রাখে লঙ্কানরা। ১৫ বলে ১০ রান করে ওপেনার চামারি আথাপাত্থু আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে জয়ের ভিত গড়ে দেন হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলহানি। দুজনের ১০৮ রানের জুটিতে ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে পড়ে লাল সবুজরা। ৭৯ বলে ৭ চারের মারে ৫৬ রান করে দুলহানি আউট হলেও ক্রিজ আঁকড়ে রাখেন হাসিনি। দল যখন জয় থেকে মাত্র ৯ রান দূরে তখন তিনি সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নিয়ে মোস্তারির শিকার হন। আউট হওয়ার আগে ১৩১ বলে ১৩ চারের মারে ৯৫ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন হাসিনি। তার আরেক সঙ্গী হার্শিতা সামাবিক্রমা ৫১ বলে ৮ চারের মারে ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের হয়ে ৪৯ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন মারুফা। ২ ওভার বল করে ১২ রান খরচায় ১ উইকেট নেন মোস্তারি।