জাতীয়

সেচ সংকটে বদলেছে বরেন্দ্রের কৃষি, ফল বিক্রি করে ধান কিনছেন চাষিরা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৪, ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা। খরাপ্রবণ এই উপজেলাটি একসময় কৃষিনির্ভর অর্থনীতির চাপে নুইয়ে ছিল। তবে গত এক দশকে এখানকার কৃষিতে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এখন ধান, পাট ও গমের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে টমেটো, পেয়ারা, ড্রাগন, মালটা ও কমলার মতো ফল। 

 

কৃষকরা বলছেন, উঁচু-নিচু এসব জমিতে একসময় খরার কারণে বছরে ধান বা গমের চাষ হতো। এখন সেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ফল ও সবজির চাষ হচ্ছে। এতে কৃষকের আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি এসেছে। তবে যাদের হাতে ফসল ফলন হতো তাদেরই এখন ধান বা গম কিনে খেতে হয়। 

 

তবে কৃষকদের অভিযোগ, ফসল ও ফল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে পচন ঝুঁকিতে পড়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কৃষি অফিসের একটি সূত্র জানায়, প্রতি বছর রাজশাহীতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের বেশি সবজি উৎপাদন হয়। সংরক্ষণের অভাবে এর ৫ থেকে ১০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনতে হয় প্রান্তিক পর্যায়ের চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

 

রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল পড়ে তানোর ও গোদাগাড়ীতে। তানোরের তুলনায় গোদাগাড়ী উপজেলা ফল ও ফসলে বেশি সমৃদ্ধ। এই উপজেলায় চাষাবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৪১ হাজার ১৯৯ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে মোটা দাগে এসব জমিতে ধান, সবজিসহ ২২ ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। এছাড়া আম, পেয়ারা, ড্রাগন, মালটা ও কমলার চাষও হচ্ছে। এর ফলে এই এলাকায় হাজারো বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি অর্থনীতিতেও এসেছে গতি।

 

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চলতি বছরে এই উপজেলায় টমেটোর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৫৬০ টন। ২৫ টাকা কেজিতে বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ২৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া মাল্টা ১৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও এর উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫২ টন। প্রতি কেজি ৯০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ড্রাগন ১৯৫ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ টন। প্রতি কেজি ১৪০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫৮০ টন। ৭০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া সাড়ে ৮ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৩৫ টন। ১২০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

 

গোদাগাড়ীর হুজরাপুরে পেয়ারা ও মাল্টা চাষি হাবিবুর রহমান বলেন- ‘আগে এসব জমিতে বছরে একবার ধানের চাষ হতো। ধান বিক্রি করে যে টাকা হতো তাতে বছর পার করতে কষ্ট হতো। কিন্তু এখন এসব জমিতে ফলের বাগান করা হয়েছে। বাগান বিক্রি করে প্রতি বছর মোট অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। সেই টাকা দিয়ে অনেকেই মৌসুমে অল্প দামে ধান কিনে নেই। সারা বছর সেই ধানের ভাত খাই। বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির গঠন ফলচাষের জন্য অনুকূল। গেল ১০ বছরে টমেটো ও ফলজাত ফসলের আবাদ বেড়েছে কয়েকগুণ। এর ফলে এলাকার অর্থনীতিতে এসেছে গতি।’

 

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে বেশকিছু ড্রাগনের বাগান চোখে পড়বে। একই সঙ্গে রয়েছে পেয়ারা, মাল্টার বাগান। উপজেলার রাজাবাড়ি থেকে হুজরাপুর, কাঁকনহাট অংশে বেশি পেয়ারা, মাল্টর বাগান রয়েছে। রাজাবাড়ি হয়ে আগুলপুর, বিড়ইল, লালাটিয়া, ভাদুপাড়া, সেনাডাঙ্গা, যোগপুর, কুন্দলীয়া এলাকার সড়কের দুই পাশে শত শত বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে উঠেছে ব্যক্তি উদ্যাগে।

 

মাল্টা চাষি আলী নয়ন বলেন, চাষিরা ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসল ফলন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ এসব ফসল ফলাতে চাষিদের খরচ বেশি। কিন্তু লাভ কম। তাই মানুষ বিভিন্ন ফল চাষে আগ্রহী হয়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি ভালো ধানের দাম প্রতি মণ ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এই দাম আবার সবসময় থাকে না। আর ৪০ টাকা কেজি দরে এক মণ পেয়ারার দাম পড়ে ১৬০০ টাকা। এই দাম বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে। এর চেয়ে অনেক সময় দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। পেয়ারা ছাড়া অন্যসব ফল চাষে সার, কিটনাশ, সেচ ছাড়াও সবধানের খরচ কম।  

 

পাইকারি বিক্রিতা আব্দুস সালাম বলেন, গোদাগাড়ী এলাকার পেয়ারা, মাল্টা ও ড্রাগনের স্বাদ ভালো। এই সব ফলগুলোর রাজশাহীর বাজারে ভালোই চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এসব রাজশাহী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবারহ করা হয়। চাষিরা এই ফলগুলো চাষে বেশি আগ্রহী। কারণ তারা বাগান থেকে সরাসরি টাকা পেয়ে যাচ্ছে। এই কারণে তাদের দিন দিন অর্থকরী ফলস হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী কৃষিতে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনি সংকটও রয়েছে। সঙ্কটের দিক থেকে কৃষি পণ্য সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। খাদ্যের অপচয়, কৃষকের অর্থনৈতিক ক্ষতি দেখা দেবে। কারণ পণ্য পচে যাওয়া, দাম কমে যায়, এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে যা খাদ্য সংকট সৃষ্টি করবে। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের আবাদি জমির হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা (যেমন খরা ও অতিবৃষ্টি), সার ও উপকরণের অভাব ও মূল্য বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত সেচ ও পানির সংকট, এবং বাজারজাতকরণ ও ন্যায্য মূল্যের অভাব। যা কৃষকদের লাভ কমিয়ে দিচ্ছে। 

 

অপরদিকে, রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা অনেক, বিশেষত ফল, সবজি (যেমন- আম, লিচু, আলু, পেঁপে) এবং সুগন্ধি ধানের (যেমন কালিজিরা, নাজিরশাইল) উৎপাদনে, যা কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প (অমৎড়-ঢ়ৎড়পবংংরহম) ও রপ্তানির অপার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা জরুরি।

 

গোদাগাড়ী উপজেলায় ধান, পাট ছাড়া ২২ ধরনের সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল ফলে। এছাড়া ফলের দিক থেকে আম, পেয়ারা মাল্টা, কমলা ড্রাগন ও বরই রয়েছে। গেল ১০ বছর আগেই এসব ফলের আধিক্য ছিল না বরেন্দ্র এই অঞ্চলে। বছরজুড়ে কয়েক ধরনের ধান, পাটের চাষ হতো। তবে পানির ব্যবহার কমাতে এসব জমিতে অর্থকরি ফসল হিসেবে ঢুকে গেছে এসব বিভিন্ন ফল।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গেল ৫ বছরের (২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫) হিসেবে জেলার গোদাগাড়ীতে বেশ কিছু ফসলের চাষ কমেছে। কিন্তু বেড়েছে ফলের চাষ। সেই হিসেবে ২০২০-২১ সালে এই উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছিল ২৪ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২৪-২৫ সালে কমে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। আউশ ধানের ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ৯৭৪ হেক্টর থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৫ হেক্টরে। বোরো ধানের ক্ষেত্রে ১৫ হাাজর ৫০ হেক্টর থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৫ হেক্টরে। গমের চাষ ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫ হেক্টরে। তবে ভুট্টার ক্ষেত্রে ৪ হাজার ২০ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টরে। একইভাবে আলু ১ হাজার ৮৫৩ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৪ হেক্টরে। এছাড়া উল্লেখ যোগ্যহারে বেড়েছে মিষ্টি আলুর চাষ। গেল পাঁচ বছরে এই উপজেলায় ৩০ হেক্টর থেকে মিষ্টি আলু চাষের জমি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৫ হেক্টরে।

 

গেল পাঁচ বছরে ৩৬ হেক্টর থেকে ৩৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে আখের চাষ। ৮১০ হেক্টর থেকে বেড়েছে পাটের চাষ দাঁড়িয়েছ ৮৭৫ হেক্টরে। সবজির চাষ ৬ হাজার ৬৮৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৮৩ হেক্টরে, সরিষা ৭ হাজার ২১০ হেক্টর থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ৬৩০ হেক্টরে, তিল ১২০ হেক্টর থেকে বেড়েছে হয়েছে ৭২৫ হেক্টর, মসুর ১২০ থেকে বেড়েছে ৫ হাজার ১৮৫ হেক্টর। তবে কমেছে ছোলা চাষ। ১ হাজার ৩২৫ হেক্টর থেকে হয়েছে ৫৪৮ হেক্টর, মুগ ডাল ১২৫ হেক্টর থেকে হয়েছে ৬ হেক্টর, মাসকালাই ১ হাজার ১২০ হেক্টর থেকে কমে হয়েছে ৮১০ হেক্টর, খেসারী ১৭৫ হেক্টর থেমে কমে হয়েছে ১৪৫ হেক্টর। এছাড়া মসলার মধ্যে ১ হাজার ৪৪৫ হেক্টর থেকে কমে ১ হাজার ২৬৭ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ১৬০ হেক্টর থেকে কমে রসুন চলতি বছরে চাষ হয়েছে  ১৫০ হেক্টর, ৪৪৫ হেক্টর থেকে কমে মরিচ চাষ হয়েছে ৩৬৫ হেক্টরে। 

 

তবে ধান, পাট, আখের থেকে ভিন্ন চিত্র ফলে। গেল পাঁচ বছর এই উপজেলায় বেড়েছে ফলের চাষ। চাষিদের দাবি- ফল সরাসরি বিক্রি করা হয়। সুদ্বাদু হওয়ার কারণে চাহিদাও ভালো এই অঞ্চলের ফলের। তাই দিন দিন পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন তাদের কাছে অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। এই উপজেলায় গেল পাঁচ (২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫) বছরের চিত্র বলছে- ২০২০-২১ সালে পেয়ারার চাষ হয়েছিল ৬৯০ হেক্টর জমিতে। পাঁচ বছরে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২৫ হেক্টর। ২ হাজার ২৭৫ হেক্টর থেকে পাঁচ বছরের বেড়ে ১৬৫ হেক্টর জমিতে মল্টার চাষ হয়েছে। এক হেক্টর থেকে বেড়ে কমলার চাষ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৮ ক্টেররে। এছাড়া ২০ হেক্টর থেকে গেল পাঁচ বছরে ড্রাগনের চাষ বেড়েছে ১৯৫ হেক্টর।

 

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়াম আহমেদ বলেন- ‘গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র এলাকায় টমেটো, ড্রাগন ফল, মাল্টা, কমলা ও পেয়ারা বাম্পার ফলন হওয়া এ অঞ্চলের কৃষির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। খরা-প্রবণ ও উঁচু জমিতেও এসব ফসল চাষ করে কৃষকরা ভালো লাভের মুখ দেখছেন। বরেন্দ্র এলাকার মাটি ও জলবায়ু এসব উচ্চমূল্যের ফল ও সবজি উৎপাদনের জন্য উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। এ সব ফসল পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ফসল বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি এখন আরও টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে।’

 

চলতি বছরে এই উপজেলায় টমেটোর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৫৬০ টন। যার মধ্যে ২২ হাজার টন টমেটো কেনে প্রাণ গ্রুপ। তারা টমেটো দিয়ে সস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে।

 

রতন আলী নামের আরেক চাষি বলেন- ‘এখন টমেটো, পেয়ারা চাষে ভালো লাভ। টমেটো আগাম চাষ করতে পারলে মৌসুমে ভালো দাম পাওয়া যায়। আর পেয়ারা তো সারা বছর বিক্রি করা যায় কমবেশি। ধান, গম ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের এসব ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তরুণরা। অনেকে বাগান তৈরি করেছেন ড্রাগন, মালটা ও কমলার। বিক্রি ভালোই হচ্ছে তাদের।’

 

টমেটো ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘টেমেটো বাজারজাত করণের লক্ষ্যে প্রতিদিন তার সঙ্গে কাজ করেন ৩০ থেকে ৩৫ জন পুরুষ। তাদের প্রতিদিন মুজুরী হিসেবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিতে হয়। তারা বিভিন্ন জমিতে তোলা টমেটোগুলো গাড়িতে করে একটা নিদীষ্ট জায়গায় রাখবে। নষ্টগুলো বাদ দিয়ে ঝুঁড়িয়ে রেখে ওজন করবেন। এসব টমেটোগুলো প্রাণ ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে বিক্রি করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে পাঠানো হয়।’

 

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, রাজশাহী, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় এবং ঠাঁকুরগাও জেলায় প্রাণ এর চুক্তিভিত্তিক কৃষকেরা টমেটো উৎপাদন করে থাকে। তবে বেশিরভাগ টমেটো রাজশাহী অঞ্চল থেকে নেওয়া হয়। গত মৌসুমে প্রাণ কৃষকদের কাছ থেকে ২২ হাজার টন টমেটো সংগ্রহ করেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এবং নাটোরের একডালায় প্রাণ এগ্রো লিমিটেড কারখানাতে আম  ও টমেটো সংগ্রহ ও পাল্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রাণ গ্রুপ।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এই এলাকায় পানির সঙ্কট। চাষিরা চাই অল্প পানি ব্যবহার করে ফসল ফলাতে। আমরাও তাদের সেই বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। ধান চাষে পানির সেচ লাগে। কিন্তু সেই হিসেবে পেয়ারা, ড্রাগন বা মাল্টা চাষে সেই রকম পানির প্রয়োজন পরে না। আর চাষিরা যে ফসল চাষে লাভবান হবে তারা সেই দিকেই ঝুঁকবে। এটাই স্বাভাবিক।

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জুলফিকার আলী বলেন, চাষিরা ধান চাষ করছে না, এর মূল কারণ লাভ কমে গেছে। আমের উৎপাদন খরচের সঙ্গে দাম তেমন পাচ্ছে না চাষিরা। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ফলের চাষ করছে। বরেন্দ্র এলাকায় পানের সঙ্কট। সেখানে ধান বা অন্য ফসল চাষের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার বেশি। কিন্তু পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগনের চাষে পানি কম লাগে। এরসব ফলের মার্কেটও ভালো। চাষিরা সুবিধা মতো সময়ে বাগান থেকে সরাসরি বিক্রি করতে পারেন। পচন বা নষ্টের ঝুঁকি কম থাকে।

 

রাজশাহী অঞ্চলে সবজি বা পচনশীল ফসল সংক্ষেণের ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সবজি বা পচনশীল ফসল সংক্ষেণের ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিবছর অনেক সবজি নষ্ট হয়। কোনো সরকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হয় না। রাজশাহীতে কৃষি ব্যাংক আছে তারাও সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থার দিকে আগায় না। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনায় সিইসি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।       মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।     সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।       এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।       নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একাধিক প্রার্থী হলে ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।     রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এরই মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া সিম ও এমএফএস হিসাব বন্ধে আসছে কঠোর পদক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত

১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মূল কর্মসূচি শুরু১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মূল কর্মসূচি শুরু

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণে নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পারস্পরিক কল্যাণ ও অভিন্ন স্বার্থে এ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আসিয়ান ঢাকা কমিটি (এডিসি) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   মন্ত্রী বলেন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও আসিয়ানের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক এ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সংযোগ ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আসিয়ানের ১১টি সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ-আসিয়ান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।   তিনি জানান, বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার (এসডিপি) হওয়ার জন্য আবেদন করেছে এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের “বাংলাদেশ-আসিয়ান কো-অপারেশন প্রজেক্ট অন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার” বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।   এ ছাড়া পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং সংস্কৃতিসহ আরও কয়েকটি সহযোগিতা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জনগণের আয় না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে : জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

ছবি আঁকা নিয়ে ঢাবির হলে শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ফেনী-বিলোনিয়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বিএনপিতে নতুন আলোচনা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন জোরালো আলোচনা ঘিরে দলটির ভেতরে সম্ভাব্য সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব পদ, স্থায়ী কমিটির একটি আসন, মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং তার সংসদীয় আসন শূন্য হতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।   বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে আপাতত পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নয়, একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি দলীয় পদ ছাড়বেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, ফলে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও একটি নতুন শূন্য পদ তৈরি হবে।   দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদের আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।   বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কাউকে মহাসচিব পদে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য হবে।”   অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়েই কাজ করছি। দল আমাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও দলের নীতিনির্ধারকেরা।” তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।   দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে।   বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রুহুল কবির রিজভীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে তার সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। তবে দলের চেয়ারম্যান গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন।”   এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী হিসেবে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।   আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া। সে ক্ষেত্রে উপ-নির্বাচনে বিএনপি কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন, নাকি দলীয়ভাবে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সে কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলোতে তাৎক্ষণিক নিয়োগ না দিয়ে কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।   তবে পুরো বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটাই প্রশ্ন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সত্যিই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না। সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পরই বিএনপির সাংগঠনিক ও সরকারি পর্যায়ের সম্ভাব্য পরিবর্তনের চিত্র পরিষ্কার হবে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে এমপির সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় এস্তোনিয়া

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা থেকে ব্যাংকে নেওয়ার পথে ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

0 Comments