নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি সদর দপ্তরের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে শপথ গ্রহণের জন্য সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এদিন সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের গেটে নবনির্বাচিত এমপিদের গাড়ি প্রবেশ করতে শুরু করে।
আজ সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসনে জয়লাভ করেছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। ২০২৫ সালে সারাদেশে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করে ৩ হাজার ৯৩৮টি ভবন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২২টি ভবন ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’। পরিদর্শনে ভবনের জরুরি বহির্গমন পথ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ও ব্যবহার উপযোগী সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, পানির রিজার্ভার, স্প্রিংকলার, ফায়ার ডোর, প্রশিক্ষিত জনবল ও ডেডিকেটেড ফায়ার অফিসারসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। সাম্প্রতিক একাধিক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশের ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দুর্যোগ-সহনশীলতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে কেবল অগ্নিনিরাপত্তাই নয়; ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব, কার্যকর জরুরি বহির্গমন পথ এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা নিশ্চিত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর সাধারণত অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এবং চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে ভবনের সার্বিক দুর্যোগ-সহনশীলতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভবন পরিদর্শনের ক্ষেত্রে মূলত অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং উইং না থাকায় ভবনের কাঠামোগত বিষয়ে কোনো মতামত বা সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণে প্রস্তুতকৃত একটি নির্দিষ্ট চেকলিস্টের ভিত্তিতেই একটি স্থাপনা ‘সন্তোষজনক’, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নাকি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’-তা নির্ধারণ করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণে নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যবহারযোগ্য সিঁড়ি থাকা, সিঁড়িটি ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত ও বাধামুক্ত থাকা এবং জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বের হওয়ার সুব্যবস্থা। সিঁড়িতে মালামাল রেখে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করাকে সরাসরি ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়। পরিদর্শকালে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের উপস্থিতির পাশাপাশি তা কার্যকর আছে কি না এবং তা পরিচালনায় প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করা হয়। এছাড়া বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত হোস পাইপ ও ফায়ার পাম্পের অভাব এবং দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরঞ্জাম অকেজো হয়ে পড়াকে অগ্নিনিরাপত্তায় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিদর্শনের সময় ভবনের আইনগত অনুমোদন ও লাইসেন্সের বিষয়গুলোও কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করা হলে সেটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। রাজউক অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবনে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হলে তাকে রাখা হয় ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায়। এ ধরনের ভবনে অতিরিক্ত তলাগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিঁড়ির সহজলভ্যতা এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না-তা গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণে ভবনে বজ্রপাত প্রতিরোধক (লাইটিং এরেস্টার), ছাদের ওভারহেড পানির ট্যাংক এবং ভূগর্ভস্থ রিজার্ভারের ধারণক্ষমতা দেখা হয়। অগ্নিঝুঁকি মোকাবেলায় পাম্প হাউসে ফায়ার পাম্প, অল্টারনেটিভ ডিজেল পাম্প ও জকি পাম্প থাকা আবশ্যক; শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এই পাম্প হাউস না থাকাও বড় ধরনের ঝুঁকি। পাশাপাশি বহুতল ভবনে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ফায়ার ডোর এবং সিঁড়িপথ বাধামুক্ত রয়েছে কি না-তা যাচাই করা হয়। মূলত বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) মেনে প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও সরঞ্জামগুলোর কার্যকরতার ওপর নির্ভর করেই ভবনের ঝুঁকির স্তর নির্ধারণ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১০ হাজার ৫৩৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৫টি সন্তোষজনক, ৩ হাজার ৩১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬৫২টি ভবনের মধ্যে ৪৪২টি সন্তোষজনক, ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবাসিক ভবনের ৪৭৩টির মধ্যে ২৬১টি সন্তোষজনক, ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। পোশাকশিল্প কারখানার ১ হাজার ৫৩৩টির মধ্যে ৮৫৩টি সন্তোষজনক, ৫৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৮৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পোশাকশিল্প বাদে ৭২০টি কারখানার মধ্যে ৪৩৪টি সন্তোষজনক, ২৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ১ হাজার ৫৩টির মধ্যে ৫৪৫টি সন্তোষজনক, ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৪৮০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৩২৮টি সন্তোষজনক, ১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। রেস্টুরেন্টের ১ হাজার ৭১টির মধ্যে ৫৫৪টি সন্তোষজনক, ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। শপিংমল ও মার্কেটের ১ হাজার ১৭১টির মধ্যে ৭২৩টি সন্তোষজনক, ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৮৪টির মধ্যে ৫৩৫টি সন্তোষজনক, ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। কেমিক্যাল গোডাউনের ৯১টির মধ্যে ১১টি সন্তোষজনক, ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ফিলিং স্টেশনের ১০১টির মধ্যে ৬৯টি সন্তোষজনক, ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া অন্যান্য ২ হাজার ৪০৪টি স্থাপনার মধ্যে ১ হাজার ৮৪০টি সন্তোষজনক, ৫২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অনেক ভবন অনুমোদিত নকশা ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে না মেনে নির্মাণ করা হচ্ছে। আবার নির্মাণের পরও ভবনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, আগুন শনাক্তকরণ সেন্সর, ফায়ার ডোর ও জরুরি বহির্গমনের মতো ব্যবস্থা অনেক ভবনে নেই।’ এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বাসস’কে বলেন, ‘অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আগুন লাগলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে। এ কারণে অবকাঠামোর দিক থেকে যেমন ভবনকে নিরাপদ রাখতে হবে, তেমনি অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকেও ভবনকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। তাই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত মনিটর করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘বিএনবিসি অনুসরণ করে এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে ভবন নির্মাণ করলে, ভবনকে অগ্নিঝুঁকি হতে নিরাপদ রাখা সম্ভব। জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবারই এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।’
দেশে প্রায় ৫৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য মালিকদের আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রায় ২৭১৯টি গাড়ি কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আয়কর রিটার্ন দাখিল বাড়াতে কর ফাঁকি দেওয়া বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তাদের। একই সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন কি না এবং তাঁদের ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে কর ফাঁকি শনাক্তে কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদলকে আরো সক্রিয় করা, উৎস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৭১৯টি গাড়ি সংশ্লিষ্ট মালিকদের আয়কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে এক হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ব্যবহার করছেন এবং বিআরটিএ থেকে গাড়ির নিবন্ধনও নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ গাড়ির মালিকানা থাকলেও তাঁরা আয়কর নথির আওতায় ছিলেন না। এ ছাড়া কর নথিতে দেখানো হয়নি—এমন এক হাজার ৩৩৯টি গাড়ির তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। এসব গাড়ির মধ্যে টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিস বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি। গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও সিসি অনুযায়ী এসব গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করও তুলনামূলক বেশি। ফলে কোনো ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি থাকার পরও আয়কর নথিতে সেটি উল্লেখ না থাকলে তার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। কর কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ব্যক্তির ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে তাঁর মালিকানাধীন বিলাসবহুল গাড়ির মূল্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটি কর ফাঁকির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাড়ি কেনার অর্থের উৎস কী, তা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা হবে। এ কারণে বিআরটিএর তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে এনবিআর। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যাঁরা রিটার্ন দাখিল করছেন না কিংবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের নয়, আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে আরো কয়েকটি ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উৎস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথির তথ্য সমন্বয় করা হলে কর ফাঁকির ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানার তথ্য ব্যবহার করে আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য খুঁজে বের করা সম্ভব। ফলে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে একদিকে রিটার্ন দাখিল বাড়ানো, অন্যদিকে সম্ভাব্য কর ফাঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে এনবিআর।
সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বন্ধ করতেই এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে কি না, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক মজুত এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা রাখার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। গ্যাস সিলিন্ডার কেনার আগে ভোক্তাদের ওজন, সিল, মেয়াদ এবং সিলিন্ডারে দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কেনার সময় মূল্যতালিকার সঙ্গে দাম মিলিয়ে দেখা এবং রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের আহ্বানও জানানো হয়েছে। কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। অধিদপ্তর বলেছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।