আর কিছুদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে FIFA World Cup। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো এই আসরে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন Cristiano Ronaldo। তবে বিশ্বকাপের আগেই তার ইনজুরির খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ভক্তরা। ধারণার চেয়েও গুরুতর হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন Al‑Nassr FC–এর কোচ Jorge Jesus।
গত সপ্তাহে Saudi Pro League–এ Al‑Fayha FC–এর বিপক্ষে ৩–১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় রোনালদোকে। এরপর চিকিৎসার জন্য তিনি গেছেন Madrid–এ।
৪১ বছর বয়সী এই তারকার মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানায়নি আল-নাসর। শনিবার NEOM SC–এর বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন,
“আগের ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো পেশির চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে ইনজুরিটি বেশি গুরুতর। তাই তাকে বিশ্রামের পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে হবে। অন্য খেলোয়াড়দের মতোই সে চিকিৎসার জন্য স্পেনে যাবে।”
ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেবেন রোনালদো। আশা করা হচ্ছে, মাসের শেষ দিকে Portugal national football team–এর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আগামী ২৮ মার্চ Estadio Azteca–য় পর্তুগাল মুখোমুখি হবে Mexico national football team–এর। এরপর ৩১ মার্চ Atlanta–য় তারা খেলবে United States men's national soccer team–এর বিপক্ষে।
এদিকে সৌদি প্রো লিগে শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় বর্তমানে তৃতীয় স্থানে আছেন রোনালদো। ২১ গোল করেছেন তিনি। ২৪ গোল করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন Ivan Toney, যিনি খেলেন Al‑Ahli Saudi FC–এর হয়ে। পয়েন্ট টেবিলেও আল-নাসরকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে আল-আহলি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এন্দ্রিক মাঠে নামার পর যেন বদলে গেল ব্রাজিল। আক্রমণ হয়ে উঠল আরও ধারাল। ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরানোর দ্রুতই প্রতিক্রিয়া দেখাল ব্রাজিল। চার মিনিটের মধ্যে দুইবার জালে বল পাঠিয়ে ফিরল জয়ে। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন দানিলো। ক্রোয়েশিয়ার লভরো মায়ের সমতা ফেরানোর পর সফল স্পট কিকে দেশের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ইগো চিয়াগো। যোগ করা সময়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ম্যাচের শুরুতে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি। প্রথম ১১ মিনিটে হয় ১১টি ফাউল। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে ফাউলের সংখ্যা। গতিময় ফুটবলে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৯তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগ পান দানিলো। ভিনিসিউস জুনিয়রের কাটব্যাকে তার গতিময় শট চমৎকার রিফ্লেক্সে কোনোমতে ফেরান ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ। ৩৬তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন জোয়াও পেদ্রো। তবে এবারও দুর্দান্ত সেভে ব্রাজিলকে হতাশ করেন লিভাকোভিচ। পাঁচ মিনিট পর ঝাঁপিয়ে তিনি ব্যর্থ করে দেন জোয়াও পেদ্রোর গতিময় শট। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে লুকা মদ্রিচের ফ্রি কিকে সুযোগ এসে যায় লুক ভুসকোভিচের সামনে। তার হেড দারুণ রিফ্লেক্সে ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠান ব্রাজিল গোলরক্ষক বেন্তো। গতিময় পাল্টা আক্রমণে পরের মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পায়ের কারিকুরি ও গতিতে ক্রোয়েশিয়ার তিনজনকে এড়িয়ে চমৎকার কাট ব্যাকে ভিনিসিউস খুঁজে নেন দানিলোকে। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বাকিটা অনায়াসে সারেন দানিলো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ব্রাজিলকে বেশ চেপে ধরে ক্রোয়েশিয়া। ৫৭তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে আন্দ্রেই ক্রামারিচের গতিময় শট ঠেকান বেন্তো। ৭৪তম মিনিটে ভুসকোভিচের শট যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। ১০ মিনিট পর ম্যাচে সমতা ফেরান মায়ের। তনি ফ্রুকের উঁচু করে বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে পারেননি ব্রাজিলের কেউ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাল খুঁজে নেন মায়ের। ক্রোয়াটদের উচ্ছ্বাস অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। ৮৮তম মিনিটে সফল স্পট কিকে দলকে ফের এগিয়ে নেন চিয়াগো। ডি বক্সে এন্দ্রিককে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে ক্রোয়েশিয়া। প্রতি আক্রমণে এন্দ্রিকের কাছ থেকে বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড মার্তিনেল্লি। ফ্রান্সের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হারের পর এই জয়ে স্বস্তি নিয়েই আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করল ব্রাজিল।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিসিএল) বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন লাহোর কালান্দার্সের অভিজ্ঞ ওপেনার ফখর জামান। করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। গত ২৯ মার্চ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের করাচির ইনিংসের শেষ ওভারের আগে আম্পায়াররা বলের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি লক্ষ্য করেন, যা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ফখর জামান, শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং হারিস রউফ নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় ফখর ও রউফ বলটি নাড়াচাড়া করছেন। এরপর আম্পায়াররা বলটি পরীক্ষা করে সেটির কন্ডিশনে অসঙ্গতি খুঁজে পান। পিসিবির আচরণবিধির ২.১৪ ধারা (লেভেল-৩ অপরাধ) ভঙ্গের দায়ে ফখর জামানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই লাহোর কালান্দার্সকে ৫ রান জরিমানা করা হয় এবং আম্পায়াররা তাৎক্ষণিক বল পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নেওয়াজের উপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টের জন্য জাতীয় দলের পেসার নাসিম শাহকে ২ কোটি পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় আর্থিক জরিমানা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সারাবিশ্বের মত জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তানও। এজন্য পিএসএলের ম্যাচগুলোতে দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন মরিয়ম। এসময় উদ্বোধনী ম্যাচের দুই দল লাহোর কালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেনের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন ও কথা বলেন মরিয়ম। আর সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন নাসিম। পোস্টের ক্যাপশনে নাসিম লিখেন, ‘কেন লর্ডসের রানির মতো সম্মান করা হচ্ছে তাকে?’ পরবর্তীতে ঐ পোস্ট ডিলিট করে দেন নাসিম। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে দাবি করে নাসিম বলেন, ‘তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং সেটি পুনরুদ্ধার করেছেন।’ তবে পোস্ট ডিলিট করলেও রক্ষা পাননি নাসিম। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পিসিবি। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চান তিনি। তারপরও বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার কবলে পড়েছেন নাসিম। এক বিবৃতিতে পিসিবি জানিয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় চুক্তির বেশ কিছু ধারা ভঙ্গ করেছেন নাসিম। তার বক্তব্য ও ঘটনা পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পায় পিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি। এজন্য নাসিমকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।’ পিএসএলের এগারতম আসরে নবাগত দল রাওয়াপিন্ডি পিন্ডিজের হয়ে খেলছেন নাসিম। পিএসএলের নিলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৬৫ লাখ রুপিতে নাসিমকে দলে নেয় রাওয়ালপিন্ডি। এখন পর্যন্ত মাত্র এক ম্যাচ খেলেছে রাওয়ালপিন্ডি। পেশোয়ার জালমির কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে তারা। বল হাতে ৪ ওভারে ৫১ রানে উইকেটশূন্য থাকেন নাসিম।