মোস্তফা মাহমুদ
স্বত্তাধিকারী, মেসার্স মাইক্রো এক্সপোর্ট হাউজ (জনশক্তি রপ্তানিকারক ও বায়রা'র সাবেক নির্বাহী সদস্য)
এক ব্যক্তি ,এক প্রতিষ্ঠান ও এক সিস্টেমের নিকট বাংলাদেশ সরকার , লক্ষ লক্ষ অভিবাসী কর্মী ও হাজার হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি ২০১৬ সাল থেকে জিম্মি হয়ে আছে।
আমাদের সরকার, অভিবাসী কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে ঐ ব্যক্তির নিকট মাথা নত করতে।
ব্যক্তির নাম দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিন, প্রতিষ্ঠানের নাম বেষ্টিনেট, সিস্টেমের নাম fwcms। এই সিস্টেমের কারণে সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়েছে, এই সিস্টেমের কারণে অনেকেই ব্যবসার জন্য, বেঁচে থাকার জন্য সিন্ডিকেটে ঢুকেছে, এই সিস্টেমের কারনে ৪/৫/৬ লক্ষ টাকা খরচ করে একটা কর্মী মালয়েশিয়া যেতে বাধ্য হয়েছে।
আর সিস্টেমের অনুমোদন দিয়েছে আমাদের সরকার। সরকারে অদক্ষতা, অযোগ্যতা ও সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে অভিবাসী কর্মীরা শোষণের শিকার হয়েছে, অধিকাংশ জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, মুদ্রা পাচার হয়েছে ও মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।
*সাজা হওয়া উচিত সিস্টেম প্রোভাইডারের, বন্ধ করা উচিত ছিলো শ্রমিক নির্যাতনকারী সিস্টেমের ও জেলে যাওয়া উচিত ঐ দুর্নীতিবাজ অযোগ্য মন্ত্রী ও সরকারি আমলাদের।
২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যেই ব্যক্তি ও তার তথাকথিত ডিজিটাল পদ্ধতির কারনে হাজার হাজার কোটি টাকা অভিবাসী কর্মীদেরকে অতিরিক্ত দিতে হয়েছে ও হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে দেশ থেকে চলে গেছে, দেশে বিদেশে আমাদের সরকার ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে সেই ব্যক্তির নতুন পদ্ধতি TURAP দেখার জন্য আমাদের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মালয়েশিয়ায় সফর গিয়েছেন ?
যেই ব্যক্তি নিজে অভিবাসী কর্মী থেকে আজ অভিবাসী কর্মীদের মাফিয়া সম্রাট হয়েছে তারা সিস্টেম দেখার জন্য মাননীয় মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সফর কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?
অন্যান্য সোর্স কান্ট্রি যেখানে আমিনের সিস্টেমকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেই জায়গায় আমরা কেন তার সিস্টেম গ্রহণ করার জন্য মিটিং করছি?
এই দুর্বলতার কারণ কি?
২০১৬ ও ২০২১ সালে কোনো দেশে আমিন সফল হয়নি শুধুমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া। এবার ও তাই হতে যাচ্ছে?
আলামত তো তাই দেখা যাচ্ছে।
কুয়ালালামপুর বিমান বন্দরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে রিসিভ করার জন্য অপেক্ষা করেছে বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে আর মন্ত্রী ও উপদেষ্টা গেলেন মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সে আরো শুনা যাচ্ছে, হাইকমিশনারকে ছাড়াই মানবসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সাথে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মিটিং শুরু করে দিয়েছেন, এক ঘন্টা পরে নাকি হাইকমিশনার মিটিং জয়েন্ট করেন? আরো শুনা যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় থেকে আমাদের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মহোদয়ের আমন্ত্রণ পত্র মন্ত্রনালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আসেনি। মিটিংয়ের এজেন্ডা সম্পর্কে ও কিছু জানা যায়নি।
শুনা যাচ্ছে এই সফর নাকি বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মীদের শোষণকারী দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে?
যদি তাই হয় তাহলে এই ট্রেডে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে। আমিন স্বপন যেখানে সিন্ডিকেট সেইখানে। সারা বিশ্বে যেই ব্যক্তি ও তার সিস্টেম দিকৃত, নিন্দিত ও প্রত্যাখিত সেই জায়গায় আমরা গেছি তার সিস্টেমের মাধ্যমে কর্মী রপ্তানি করার জন্য? আমাদের মাননীয় মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মহোদয় কি দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিন ও তার দেওয়া সিস্টেম সম্পর্কে কিছুই জানেন না?
সিন্ডিকেট করা হয়েছে শুধুমাত্র বাংলাদেশী কর্মীদেরকে শোষণ করার জন্য। অনেকেই বলবে এই সিস্টেম তো মালয়েশিয়ান সরকার দিয়েছে। ঠিক তা নয় , বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে দিয়ে সিস্টেমটা আমাদেরকে খাওয়ানো হয়েছে। অন্যান্য ১৩টি দেশ থেকে যেই কর্মী আসে তাদেরকে সিন্ডিকেট ফি দিতে হয়নি এবং ঐ সকল দেশে কোন সিন্ডিকেট নেই। আমাদের দেশে সিন্ডিকেট হয়েছে তাই আমরা কর্মী প্রতি ১৫২০০০ টাকা অতিরিক্ত ফি দিয়েছি।
আমরা কেন দিবো? আমাদের অপরাধ কি?
আমরা মালয়েশিয়ান সরকারের কি ক্ষতি করেছি?
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ভাতৃপ্রতিম দুটি মুসলিম দেশ। আমরা একে অন্যের উন্নয়নের সহযোগী। উভয় দেশের সাথে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বানিজ্য।
আমাদের সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, মন্ত্রী ও আমলাদের দুর্নীতির জন্য বাংলাদেশ সিন্ডিকেট হয়েছে। আত্মমর্যাদাশীল ও পারস্পরিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে বিদেশে সাথে চুক্তি না করে কিছু ব্যাক্তি স্বার্থ চুক্তি করার কারণে আমরা প্রতারিত হয়েছি। জনশক্তি কোন সাধারণ পণ্য নয়। জনশক্তি হলো উৎপাদনের প্রধান হাতিয়ার।
জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে উভয় দেশ লাভবান হয়। তাই কোন দেশ অন্যদেশের উপর অন্যায়ভাবে কোন শর্ত চাপিয়ে দিতে পারেনা।
উভয় দেশ উভয় দেশের আইন প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
বাংলাদেশ যেমন মালয়শিয়ায় ছাড়া আরো অনেক দেশে কর্মী রপ্তানি করে তেমনি মালয়েশিয়ায় ও বাংলাদেশ ছাড়া আরো ১৩টি দেশ থেকে কর্মী রিক্রুট করে থাকে।
অন্যান্য দেশের সকল রিক্রুটিং এজেন্সি কোন রকম বাধা ছাড়া মালয়েশিয়াতে কর্মী রপ্তানি করতে পারে, আমাদের জন্য কেন সীমিত লাইসেন্স? দেড় লক্ষ টাকা সিন্ডিকেট ফি কেন?
মালয়েশিয়ান সরকারের এই দৈত ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে আমাদের অভিবাসী কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শোষিত হচ্ছে, মুদ্রা পাচার হচ্ছে, মানবপাচারের মত অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে, দেশ বিদেশে মালয়েশিয়ান সরকার ও বাংলাদেশ সরকার সমালোচিত হয়েছেন।
দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিনের রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম দুই দেশের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি করছে।
আমাদের থেকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল দেশ নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকান সরকার আমিন প্রস্তাবকে নাকোচ করে দিয়েছে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া তো কোন পাত্তাই দেয় নাই। তাহলে আমরা কেন আমাদের অভিবাসী কর্মীদেরকে বিনা বাধায় স্বইচ্ছায় আমিনের কোরবানির পশু হতে দিবো?
আমরা কি এতই নিকৃষ্ট?
আত্মমর্যদাহীন জাতি ?
বাংলাদেশের প্রতিটি রিক্রুট এজেন্সি সিন্ডিকেট চায় না, তারা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে চায়। আমাদের সরকার আমিনের সিস্টেমের মাধ্যমে কর্মী রপ্তানি করতে রাজি হয়ে চুক্তি করার কারণে তারা সিন্ডিকেটে ঢুকেছে। সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত থাকলে কেউই সিন্ডিকেটে ঢুকতো না।
মালয়েশিয়ান সরকার তার নিজস্ব প্রয়োজনে বাজার উন্মুক্ত করে। সেই বাজারকে আমিন ম্যানিপুলেশন, অবৈধ লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুই দুইবার হাইজ্যাক করেছে। এইবার ও নতুন পদ্ধতি ও নতুন নাম দিয়ে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে।
আমাদের সরকারকে আমিন থেকে সাবধান থাকতে হবে। কোন অবস্থাতেই মালয়শিয়ার জন্য বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী রিক্রুট করার দায়িত্ব তারা কোন কোম্পানিকে দেওয়া যাবেনা।
এখন সে ব্যবহার করছে URL solution SDN BHD নামক একটি কোম্পানি, TURAP নামক একটি সফটওয়্যার ও Global employment facilitation center নামক একটি one stop service center.
আমরা কেন এই বিদেশি কোম্পানিকে সরাসরি অভিবাসী কর্মী রিক্রুট করার অনুমতি দেবো?
আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে আমাদের নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেম। যার মাধ্যমে আমরা কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া আমাদের নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি কর্মী নিবন্ধন, বাছাই করণ , ট্রেনিং করতে পারবো ।
অ্যানিম না, অ্যামিন সিস্টেম না, সিন্ডিকেশনও না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।