আন্তর্জাতিক

মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুমকির পাল্টা জবাব দিল পাকিস্তান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর ‘পাকিস্তান ভূগোলে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে’— এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়াকে আরেকটি ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

রোববার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশটিকে লক্ষ্য করে যেকোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

 

এর আগে শনিবার নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালানো বন্ধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বিশ্বের মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে— সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।

 

ওই বক্তব্যের পরদিনই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। আইএসপিআর বলেছে, উগ্র জাতীয়তাবাদী ও যুদ্ধংদেহী মানসিকতা অতীতেও দক্ষিণ এশিয়াকে একাধিকবার যুদ্ধ ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আট দশক পরও ভারতীয় নেতৃত্ব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি বলেও মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।

 

পাকিস্তান আরও বলেছে, কোনও পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও বিপজ্জনক মানসিকতার পরিচয়। এমন কোনও পদক্ষেপের পাল্টা জবাবও হবে সমানভাবে কঠোর এবং এর পরিণতি গোটা অঞ্চলের জন্যই ভয়াবহ হতে পারে।

 

একই সঙ্গে ভারতকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, আন্তঃসীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং বৈশ্বিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছে পাকিস্তান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুই সেনা নিহতের ঘটনায় পশ্চিম তীরে বড় অভিযানের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অভিযানের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি এবং অস্ত্র ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   শনিবারের হামলার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলে নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তার এই বক্তব্য পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হেবরনের কাছে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হামলাকারীরাও নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীরা হেবরনের যে এলাকা থেকে এসেছিল, সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র জব্দ করা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করার কথাও জানান তিনি।   এ সময় ২০০২ সালে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টানেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ওই অভিযানের সময় বহু ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। সে সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কিছু উচ্ছেদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে অভিহিত করেছিল। তবে ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর হেবরনে হামলার ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভেঙে ফেলা বাড়িগুলোর সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত পশ্চিম তীর আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সামরিক প্রধান গ্যাডি আইজেনকোট—কেউই পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার মতো অবস্থানে নেই। নেতানিয়াহুর সরকারের সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও অধিকাংশ দেশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক, ইউরোপীয় কূটনীতিক এবং ফ্রান্সের একজন মেয়রও রয়েছেন।   অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতির কাছে ঝরনার পাশে গুলিতে এক ইসরায়েলি ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই সেনা নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর নতুন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারিতে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক বাসিন্দাদের উচ্ছেদ ও বাড়িঘর ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৪, ২০২৬
চীনের জনগণ (ছবি: সংগৃহীত)

জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা চীনের, পরিবারগুলোকে দেবে বাড়তি সুবিধা

প্রতীকী ছবি।

নাগরিকদের ঘরে তিন দিনের খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত

অরুণাচল সীমান্তে এখনও মুখোমুখি ভারত-চীন, স্বীকার করল আইটিবিপি

ছবি: সংগৃহীত
৭৫ বছরে একবারও কর্মী ছাঁটাই করেনি যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের একটি প্রতিষ্ঠান ৭৫ বছর ধরে কোনো কর্মী ছাঁটাই না করার রেকর্ড গড়েছে। এ সাফল্যের পেছনে শুধু কর্মীবান্ধব সংস্কৃতি নয়, রয়েছে ব্যয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনাও।   ১৯৫১ সালে একজন মিষ্টি বিক্রেতা এড গান্ড ‘দ্য গান্ড’ নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে সেখানে কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হয়নি। বর্তমানে কম্পোজিট উপকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন ১ হাজার ৩০০ কর্মী। বিক্রি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের কাছাকাছি এবং গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে গান্ডকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা অন্য পারিবারিক ব্যবসার মালিকদের কাছে ব্যবস্থাপনার এক উন্মুক্ত পাঠ্যবই হয়ে উঠেছে।   দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্মী ১ হাজার ৩০০ জন, বিক্রি প্রায় ৪০ কোটি ডলার। গত এক দশকে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ। একই সময়ে মুনাফার হার দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টিভ গান্ড।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) ও রকওয়েল অটোমেশন প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বায়ুকল থেকে শুরু করে শহরতলির সড়কের পাশে থাকা সবুজ রঙের ট্রান্সফরমার বাক্স পর্যন্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গান্ডের তৈরি ইনসুলেশন ও কম্পোজিট যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়।   দ্য ওয়াল স্ট্রিট উল্লেখ করে, কারখানায় নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা গড়ে বছরে ৫৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ডলার বেতন পান। এর সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ও মুনাফার অংশ যুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পেশাগত ধাপের বেতনসীমা অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশ করা হয়।   প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে বছরে ১০ শতাংশেরও কম চাকরি ছাড়েন। তাদের অধিকাংশই চাকরির প্রথম বছরে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ১২ ধাপের একটি পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনব্যবস্থা। তত্ত্বাবধায়কেরা কারখানার বিভিন্ন অংশে ঘুরে কর্মীদের কাছে জানতে চান, কোন কাজ ভালো হচ্ছে এবং কোথায় সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো লাল কার্ডে তুলে ধরা হয়। সমাধানের কাজ শুরু হলে কার্ডের রং লাল থেকে হলুদ করা হয়।   ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে স্টিভ গান্ড ও তার ভাই রিচ পূর্ণকালীনভাবে পারিবারিক এই ব্যবসায় যুক্ত হন। তখন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ডলার এবং কর্মী ছিলেন ২০ জন। তাদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ছিলেন ৯ জন। সে সময় কর্মীপ্রতি আয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।   কর্মী ছাঁটাই না করার নীতিটি তাদের বাবা পলের কাছ থেকে এসেছে। তাদের মতে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে সেটি নেতৃত্বের ব্যর্থতা।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্য গান্ডের পরিকল্পনা হলো কর্মী ছাঁটাই না করার নীতি অক্ষুণ্ন রেখে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কারখানাগুলোতেও কর্মীদের মালিকানা নিশ্চিত করা।   তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরের হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে ইসরায়েলি বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহত ১,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরের সাবমেরিন ক্যাবলে আঘাত হানবে ইরান

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল বিস্তীর্ণ অঞ্চল

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রাথমিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ তথ্যে এ ঘটনা জানানো হয়। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা কিংবা সুনামির আশঙ্কা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভানুয়াতুর সোলা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।   অন্য একটি প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল পোর্ট-ওলরি শহর থেকে প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হিসাবেও ভূমিকম্পটির গভীরতা ১০ কিলোমিটার। দুটি হিসাবই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একই অঞ্চলে অগভীর ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এগুলো একই ভূমিকম্পের প্রাথমিক হিসাব, নাকি দুটি পৃথক ভূমিকম্পের ঘটনা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ভূমিকম্পের পর ভানুয়াতুতে কোনো প্রাণহানি হয়েছে কি না, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না কিংবা যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   একইভাবে, সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।   উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের ভানুয়াতু কর্তৃপক্ষ এবং স্বীকৃত সুনামি সতর্কতা সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অক্টোবরই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে কেন স্থবির পুরো পশ্চিম তীর?

0 Comments