আন্তর্জাতিক

লিন্ডি ক্যামেরনের হাত ধরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে নতুন ইতিহাস

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ফরেইন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে’ প্রথম নারী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লিন্ডি ক্যামেরন।

 

তাকে স্থায়ী আন্ডার-সেক্রেটারি এবং কূটনৈতিক সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে লিন্ডি এই দপ্তরের প্রথম নারী স্থায়ী প্রধান হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

 

এই পদে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভারতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

 

আর এখন স্থায়ী আন্ডার-সেক্রেটারি বা প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া লিন্ডি স্থলাভিষিক্ত হলেন ওলি রবিন্স-এর, যাকে পিটার ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারির জেরে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারি জর্জরিত বিভাগটিকে এখন ঠিক পথে আনতে হবে লিন্ডিকে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স এবং ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার বারবারা উডওয়ার্ডের পরিবর্তে লিন্ডি ক্যামেরনকে বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।

 

মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, লিন্ডির কূটনীতি, দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচুর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে তার দারুণ ও কর্মচঞ্চল নেতৃত্বের জন্য সুনামও রয়েছে।

 

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লিন্ডি যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ -এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে তার দুই দশকেরও বেশি দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রুশ হামলায় দুই দিনে কিয়েভের দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতু অচল

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি সেতুতে রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানার পর ধোঁয়া উঠছে। ২ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স   ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন ব্রিজে রুশ হামলার পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর এক দিন আগেই রুশ ড্রোন হামলায় সাউদার্ন ব্রিজ বন্ধ করা হয়েছিল। ফলে দুই দিনের মধ্যে কিয়েভের আটটি ডিনিপ্রো নদী পারাপারের সেতুর দুটি অচল হয়ে পড়েছে।   শনিবার রাজধানীতে ড্রোন হামলার সতর্কতা জারির পর নর্দার্ন ব্রিজে হামলার খবর জানান কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো। তিনি বলেন, জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।   পরে ক্লিৎসকো জানান, হামলায় সেতুর সড়কের কিছু অংশ এবং ট্রলিবাস চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাম তীর থেকে ডান তীরে সেতু দিয়ে যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।   ডিনিপ্রো নদী কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে আলাদা করেছে। শহরের দুই অংশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য মোট আটটি সেতু রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হামলায় এসব সেতুর ওপর চাপ বাড়ছে। শহরটির কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ হামলা কিয়েভের যোগাযোগব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।   এর আগে শুক্রবার দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের কয়েক দফা হামলার পর সাউদার্ন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই সেতুটিতে কয়েকবার হামলা হয়েছে। আরেকটি সেতুতেও যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।   সেতুগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিয়েভে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন সড়কে গাড়ি ও বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে কিছু পথ হেঁটে যেতে হয়েছে।   শুক্রবার মেয়র ক্লিৎসকো সতর্ক করে বলেন, কিয়েভকে এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর যুদ্ধের মূল লড়াই এতদিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল। এ কারণে সামনের সারির এলাকাগুলোর তুলনায় কিয়েভে তুলনামূলক কম ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে।   সূত্র: ইউরোনিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নেপালে বন্যার ৩৭ দিন পর জীবিত মিলল নিখোঁজ মালয়েশিয়ান নাগরিক

সংগৃহীত ছবি

স্পেনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে জনস্রোত

ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশে বাধা

ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণের দামে এবার কী হতে পারে, মিলছে যে পূর্বাভাস

বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমায় বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে পুরো সপ্তাহ মিলিয়ে স্বর্ণের দামের পতন হয়েছে প্রায় তিন দশমিক তিন শতাংশ। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে গোল্ড ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   ডলার ও বন্ডের সুদের চাপ বিদায়ী সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর মাঝে কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে তা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর্থিক বাজারে সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা অন্যান্য আয়ের উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। যদিও শুক্রবার মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্য প্রকাশের পর শুরুতে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।   চাকরির বাজারে ধীরগতি ও ফেডের নীতি মার্কিন শ্রম বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে নন-ফার্ম পেরোল বা নতুন কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার, যা আগস্ট মাসের সংশোধিত ১ লাখ ৩৩ হাজার এবং রয়টার্সের পূর্বাভাসকৃত ৯০ হাজার অর্জনের চেয়ে বেশ কম। শ্রমবাজারের এই ধীরগতি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।   বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি মাসের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। সাম্প্রতিক নরম মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবর মাসে আরও এক দফা সুদ বাড়ানোর বিপক্ষে অন্তত দুজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের অবস্থান এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে বাইবিট-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান সতর্ক করে বলেছেন যে, ফেডের নীতিতে কড়াকড়ির মনোভাব পুরোপুরি কেটে গেছে এমনটা ভেবে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।     দাম কি আরও কমবে? গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উঁচুতে ধরে রাখতে পারে। সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ থাকে।    মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ারের মতে, বাজারের বর্তমান চার্ট বিশ্লেষণ করলে স্বর্ণের দামের দুর্বল অবস্থাই দেখা যায় এবং সুদের হারের চক্র যদি ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অবস্থা স্বর্ণের পাশাপাশি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন ঘটেছে। স্পট রুপার দাম এক দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম এক দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৬৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্বর্ণ, রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম চারটি প্রধান ধাতুই সপ্তাহ শেষে পতনের মুখে শেষ করেছে। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে চীনের নীরব ভূমিকা, পাল্টে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব

ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে ৩ লাখ ডলারে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

১৭০ যাত্রী নিয়ে প্লেনটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন ওমানি পাইলট

ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের ঠেকাতে ইয়েমেনে ১ লাখ সেনা পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। এ অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।   প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন এ অভিযানে স্থলভাগে লড়াই করবে রিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনি বাহিনী। তাদের সহায়তায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালাবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শুরু হতে পারে বলে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছেন।   গত মাসে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়াকে সৌদি আরবের জন্য বড় কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অভিযানের জন্য সৌদি নেতৃত্ব দুটি সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে উপসাগরীয় ও ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রথমটি হলো- বাব আল-মানদেবের আশপাশের এলাকায় সীমিত আকারে অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখল করা। দ্বিতীয়টি হলো- ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ একাধিক এলাকায় সমন্বিতভাবে বড় আকারের আক্রমণ চালানো।   পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানের পরিসর অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে সংঘাতে যুক্ত করা হতে পারে।   বাব আল-মানদেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথ দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় চলতি বছরে বাব আল-মানদেবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব মনে করছে, হুথিরা বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনায় যাওয়া কঠিন। তাই প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন। তবে মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি-না, তা স্পষ্ট নয়। তুরস্ক ও পাকিস্তানও সৌদি আরবকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এদিকে সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে হুথিদের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। দেশটির তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্রদের কাছ থেকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছে রিয়াদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদি জোটের ৯৪ হামলা, দাবি হুতিদের

সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধ-সংঘাতে ইয়েমেনে খাবারের সংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার

সংগৃহীত ছবি

সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি বিক্ষোভ, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে আন্দোলন

0 Comments