আন্তর্জাতিক

লন্ডনের তিন এলাকায় শিশু দারিদ্র্য চরমে, অনেক পরিবারে নেই ন্যূনতম সুবিধা

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনের অভিজাত আকাশচুম্বী অট্টালিকার ছায়াতলে থাকা বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শিশু দারিদ্র্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও নিউহ্যাম—এই তিন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলো উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে চরম বিপর্যস্ত।

 

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু দারিদ্র্যের হার ৫০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ। এরপরেই রয়েছে হ্যাকনি (৫০ দশমিক ১ শতাংশ) এবং নিউহ্যাম (৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ)।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব এলাকায় দারিদ্র্য এতটাই প্রকট যে অনেক পরিবারের ঘরে সচল ফ্রিজ পর্যন্ত নেই। শীতকালে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্রিজ মেরামতের সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবারকে ব্যালকনিতে খাবার সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।

 

হ্যাকনি ফুডব্যাংকের এক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, মহামারির পর থেকে তাদের সেবার চাহিদা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, উচ্চ ভাড়া ও অপর্যাপ্ত সরকারি ভাতার কারণে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছে না। অনেক সময় বাবা-মা নিজেরা না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।

 

নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটসের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী বর্তমানে এই সংকটের প্রধান ভুক্তভোগী। টাওয়ার হ্যামলেটসের জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিউহ্যামের ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশি।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আয় অনুযায়ী অতিরিক্ত ঘরভাড়া ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে তারা এক ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন।

 

হ্যাকনির মেয়র ক্যারোলিন উডলি জানিয়েছেন, কাউন্সিল দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় কাজ করছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রতিনিধি ও দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, এই সংকট নিরসনে আরও বড় পরিসরে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
লন্ডনের তিন এলাকায় শিশু দারিদ্র্য চরমে, অনেক পরিবারে নেই ন্যূনতম সুবিধা

লন্ডনের অভিজাত আকাশচুম্বী অট্টালিকার ছায়াতলে থাকা বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শিশু দারিদ্র্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও নিউহ্যাম—এই তিন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলো উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে চরম বিপর্যস্ত।   সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু দারিদ্র্যের হার ৫০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ। এরপরেই রয়েছে হ্যাকনি (৫০ দশমিক ১ শতাংশ) এবং নিউহ্যাম (৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ)।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব এলাকায় দারিদ্র্য এতটাই প্রকট যে অনেক পরিবারের ঘরে সচল ফ্রিজ পর্যন্ত নেই। শীতকালে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্রিজ মেরামতের সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবারকে ব্যালকনিতে খাবার সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।   হ্যাকনি ফুডব্যাংকের এক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, মহামারির পর থেকে তাদের সেবার চাহিদা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, উচ্চ ভাড়া ও অপর্যাপ্ত সরকারি ভাতার কারণে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছে না। অনেক সময় বাবা-মা নিজেরা না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।   নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটসের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী বর্তমানে এই সংকটের প্রধান ভুক্তভোগী। টাওয়ার হ্যামলেটসের জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিউহ্যামের ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশি।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আয় অনুযায়ী অতিরিক্ত ঘরভাড়া ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে তারা এক ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন।   হ্যাকনির মেয়র ক্যারোলিন উডলি জানিয়েছেন, কাউন্সিল দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় কাজ করছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রতিনিধি ও দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, এই সংকট নিরসনে আরও বড় পরিসরে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আজ জাতিসংঘে ভোটাভুটি

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষের দিকে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় এশিয়ার দেশগুলো

ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে এক রাতে তছনছ করে দেওয়া হতে পারে :ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখার আশা হারাচ্ছে ইউরোপের মিত্ররা

সুয়েজ সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ কিংবা ইরাকে হামলা ইউরোপের বাইরের যুদ্ধগুলো প্রায়ই নেটোর ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে।   ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান যুদ্ধ আরেকবার ভাঙনের মুখে ফেলে দিয়েছে এই জোটকে। ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের বৈরী মনোভাব ক্রমে বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি চালু করার চেষ্টায় পাশে না থাকায় তিনি অনেক দেশের প্রতি ক্ষুব্ধ। এরচেয়েও বড় ক্ষোভ হলো, কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে আরো কঠিন করে তুলেছে। গত ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, “ভীরু, আমরা এটা মনে রাখব!” সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি ‘নিঃসন্দেহে’ জোট ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যদিও এর ১২ দিন পর ১ এপ্রিল ইরান যুদ্ধ নিয়ে টেলিভিশন ভাষণে তিনি সেই হুমকি পুনরাবৃত্তি করেননি। প্রেসিডেন্টের হুমকির প্রতিধ্বনি এসেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মুখ থেকে। নেটোকে ‘একমুখী’ আখ্যা দিয়ে রুবিও বলে বসেন, “দুঃখজনক, তবে এটা সত্য যে, সংঘাত শেষে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নে আমাদের যেতেই হবে।” দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুবিওর আগের অবস্থান থেকে সরে আসার এ ঘোষণা ইউরোপের রাজধানীগুলোতে বিদায়ের আবহ তৈরি করেছে। সেনেটর থাকাকালে ২০২৩ সালে রুবিও একটি দ্বিদলীয় আইন করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, নেটো থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত যেন ঠেকিয়ে দেওয়া যায়। আইনে বলা হয়, দুই-তৃতীয়াংশ সেনেটরের পরামর্শ ও সম্মতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট নেটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থগিত, সমাপ্ত, প্রত্যাহার কিংবা নিন্দা জানাতে পারবেন না। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে রুবিও সেই অবস্থান থেকে সরে আসছেন। নেটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূত ইভো ডালডার বলেন, “এটাই নেটোর সবচেয়ে খারাপ সময়। “ট্রাম্পকে রেখে দেওয়ার চেষ্টার চেয়ে ইউরোপের মিত্রদের এখন বেশি মনোযোগ দিতে হবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার দিকে।” তার মতে, যুদ্ধকে সহায়তা না করার ইউরোপীয় সিদ্ধান্ত নেটোপন্থি আমেরিকানদের অবস্থানকে খাটো করে দিয়েছে। স্পেনের বামপন্থি প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সবচেয়ে বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যয়ে জিডিপির আগের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা তিনি টেনেটুনে পূরণ করেছেন। কিন্তু নতুন সাড়ে ৩ শতাংশ এবং এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত অবকাঠামোতে আরো দেড় শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানে হামলার ক্ষেত্রে স্পেন তার ঘাঁটি ও আকাশসীমা মার্কিন বাহিনীর জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্রান্স তুলনামূলকভাবে সংযত আচরণ করছে। তাদের যুদ্ধবিমান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ড্রোন ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে সাইপ্রাসকে রক্ষায় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে। তবে ফ্রান্সের ভূমিকায় খুশি নন ট্রাম্প। তিনি চাইছেন, কিছু মার্কিন সামরিক বিমানকে যেন তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। ব্রিটেন শুরুতে মার্কিন বাহিনীকে তার ঘাঁটি ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু এখন অনুমতি দিচ্ছে। তবে সেটা কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের পাল্টা হামলা থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার একাধিকবার বলেছেন, এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, স্যার কিয়ার ‘উইনস্টন চার্চিল নন’। প্রতিরক্ষা ব্যয়ে পিছিয়ে থাকা আরেক দেশ ইতালি সিসিলির একটি ঘাঁটি কিছু মার্কিন বিমানের ব্যবহারে বাধা দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সঠিক গোয়েন্দা তথ্য উপেক্ষা: ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

আইআরজিসির গোপন ইউনিটের নেতাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ছবি : সংগৃহীত

কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান, প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? : মমতা

ছবি : সংগৃহীত
৭০-এর দশকেও তেল সংকট দেখেছিল বিশ্ব

বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এ প্রণালি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ব হয়তো ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।   নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকে দেখা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার চেয়ে ‘যথেষ্ট বেশি’ হতে পারে।     একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোলও। তার মতে, বিশ্ব এখন ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা’ হুমকির মুখে রয়েছে।    তিনি আরও বলেন, ‘এটি ১৯৭০-এর দশকের তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির ধাক্কার চেয়েও অনেক বড়। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর আমরা যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের ধাক্কা অনুভব করেছি, এটি তার চেয়েও বড়।’   হরমুজ প্রণালি সাময়িক বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও, অনেকে বিশ্লেষকই মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল।   ১৯৭০ এর তেল সংকটে কী ঘটেছিল? ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আরব দেশগুলো। একই সঙ্গে তারা তেল উৎপাদনও কমিয়ে দেয়।   এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে শুরু হয় জ্বালানি সংকট। বহু দেশে তেল রেশনিং চালু হয়, অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে, বাড়তে থাকে মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব।   যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে মন্দা দেখা দেয়। সামাজিক অস্থিরতা, ধর্মঘট ও দারিদ্র্যও বেড়ে যায়। এমনকি যুক্তরাজ্যে তৎকালীন সরকারের পতনেও এই সংকট ভূমিকা রেখেছিল।   জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টল এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং অর্থনীতিবিদ ড. ক্যারল নাখলে বলেছেন, ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট আজকের পরিস্থিতি থেকে ‘মৌলিকভাবে ভিন্ন’ ছিল। কারণ, সে সময়কার প্রথম তেলের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা ছিল ‘একটি সুপরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল’।   কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের গবেষক ড. টিয়ার্নান হেনি বলেন, তেলের চড়া দাম সব ক্ষেত্রেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছিল।   তিনি আরও বলেছেন, ‘এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতে, যা অনেক দেশের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ব্যাপক ধর্মঘট, বিক্ষোভে এবং দেশে দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, অনেক পরিবারই তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল।’   বর্তমান পরিস্থিতি কী বলছে? সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও জ্বালানি সরবরাহ হয়। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো আগের মজুদ কিছু তেল থেকে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ দ্রুত কমে আসবে। এমনকি প্রণালি দ্রুত খুলে গেলেও বাজারে এর প্রভাব কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।    ভেসপুচি মেরিটাইম নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মি. জেনসেন বিবিসির ‘টুডে’ প্রোগ্রামকে বলেছেন যে, এক মাস আগে উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা তেলের বড় একটি অংশ এখনও বিশ্বের বিভিন্ন শোধনাগারে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু এ প্রবাহ শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে।   তিনি বলেন, ‘আমরা তেলের যে ঘাটতি দেখছি তা কেবল আরও ঘনীভূত হবে, এমনকি যদি অলৌকিকভাবে আগামীকাল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় তবুও একই অবস্থা থাকবে।’   ‘আমরা জ্বালানি খরচের বিশাল চাপের মুখে পড়ব, যা কেবল এ সংকট চলাকালীন নয়, বরং এটি শেষ হওয়ার পরও ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’   চলমান সংকটের ভবিষ্যৎ ও উন্নয়নশীল দেশের শঙ্কা: এ সংকটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করছেন, বর্তমান বাজার আগের চেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় এবং অনেক দেশ এখন তেলের বিকল্প ও মজুদ গড়ে তুলেছে। তাই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব।   তবে অন্যদের মতে, বড় ঝুঁকি রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। কারণ এসব দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কম, ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় দুর্বল।   আরব এনার্জি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মি. নাখলে বলেন, যদিও আমরা তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখছি, এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে সম্ভবত অন্যতম বৃহত্তম। তবুও, বাজার ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পড়বে প্রায় সব খাতে। খাদ্য, পরিবহন ও শিল্পসহ সকল খাত ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত সংঘাতের অবসান করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।     পণ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাটিক্সিস সিআইবির পরিচালক জোয়েল হ্যানকক মনে করেন, চলমান এ সংকট কেবল তখনই শেষ হবে, যখন যুদ্ধের তীব্রতা কমবে।   তিনি আরও বলেন, তবে এখনকার প্রধান ঝুঁকি হলো, যদি এ সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সামনের দিনের পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়বে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২

ছবি: সংগৃহীত

এবার পুরো ইরান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

0 Comments