লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর পদে তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের অব্যবহৃত অবসর-উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে তাকে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পদে গ্রেড-১ মর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এখানে এসে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি আজ জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। ছবি: পিএমও ছবি: পিএমও এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান সহ টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, তারেক রহমান জাপানে পৌঁছানোর দিনই জাপানি নেত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন থাকবে। চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়া, উভয় পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য রাখবেন এবং জাপানের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ছবি: পিএমও ছবি: পিএমও তাঁর সফর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, 'জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক। পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “আমরা আশা করছি, এই সফরের সময় বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।” প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। আরও রয়েছেন, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারি শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও আছেন সফরসঙ্গী হিসেবে। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জাপানি সহায়তায় ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেছিলেন, আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটিতে সফর করেছিলেন।
বঙ্গোপসাগরে মজুত তেল ও গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একইসঙ্গে বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকসোদা মাকসোদির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্রপ্রিয়। গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। ভোটাররা নিজেদের পছন্দের দল ও প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাক্ষাতে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সুইডিশ পার্লামেন্টে ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। দেশটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট ও সরকারের হাতে ন্যস্ত। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও ককাস গঠন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্পিকার চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। উইনরকের সঙ্গে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা অপরদিকে, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক সুরক্ষা, তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ, কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়েও আলোচনা হয়। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নিঃসরণ করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয়, হাওর ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ক্রমাগত বিপন্ন হচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময়ের অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সাক্ষাতে স্পিকার প্রতিনিধি দলকে জানান, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে। পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে তিনি মার্কিন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। দুই বৈঠকেই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে অর্ধেক সদস্য ভোটের অনুপাতে এবং বাকি অর্ধেক সংসদীয় আসনের অনুপাতে নির্বাচনের প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। একই সঙ্গে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শনিবার সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাড়ে ছয় ঘণ্টার বৈঠকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষক উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, তার প্রস্তাবে অনেকে সমর্থন জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হতে পারে ১০৫। এর মধ্যে ৫০ জন নির্বাচিত হবেন সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০ জন নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি। প্রস্তাবদাতার মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন। তিনি উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব দেন ওই শিক্ষাবিদ। তার মতে, এতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও অন্তত একটি নির্বাচিত সংসদ সব সময় বহাল থাকবে। শনিবারের বৈঠকে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা অংশ নেন। কমিটির পক্ষ থেকে ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ জন। সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কাঠামো, প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় কেউ কেউ প্রস্তাব করেছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সরকার ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। এ ধরনের প্রস্তাব বিবেচনার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা যেতে পারে বলে অনেকে মতামত দিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে বৈঠকের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর মধ্যে শনিবারের আলোচনা সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বৈঠকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক, আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচারিক পর্যালোচনা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আলোচকরা মতামত দেন। বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের এখতিয়ারসংক্রান্ত উদাহরণও তুলে ধরা হয় বলে জানান কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করার উপায়, বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থা ভোট ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি।