ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কলম্বিয়া। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে দেশটির পুয়ের্তো লেগুইজানোর নিকটবর্তী 'লা তাগুয়া' বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মুহূর্ত পরেই ১২১ জনেরও বেশি সৈন্য বহনকারী কলম্বিয়ান বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০এইচ হারকিউলিস বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক বিমান বিপর্যয় হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
'ফুয়েরজা পাবলিকা'র সৈন্যদের বহনকারী বিমানটি পেরু সীমান্তের কাছে দক্ষিণ পুতুমায়ো বিভাগের বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।
বেসরকারি সূত্রগুলো অন্তত ৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনের লাশ পেয়েছে কলম্বিয়ান সামরিক বাহিনী। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ২০ জনকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলের ওপর দিয়ে বিশাল ধূসর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং বিমানের চূর্ণ-বিচূর্ণ ধ্বংসাবশেষ আগুনে পুড়ছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল যখন বেসামরিক লোক এবং ইউনিফর্মধারী কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম কেন আসছে
এফএসি-১০১৬ বিমানটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের 'এক্সেস ডিফেন্স আর্টিকেলস' প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলম্বিয়ায় এসেছিল। ওয়াশিংটন থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া তিনটি সি-১৩০এইচ বা হারকিউলিস বিমানের মধ্যে এটি ছিল প্রথম, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার। এটি মূলত মার্কিন বিমান বাহিনীতে সিরিয়াল নম্বর ৮৩-০৪৮৮ এর অধীনে পরিচালিত হতো।
২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কলম্বিয়ান অ্যারোনটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের (সিআইএসি) তত্ত্বাবধানে বিমানটির বডি বা কাঠামোর নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, যার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত সংস্কার এবং ইঞ্জিনের আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হারকিউলিস বহরটি বোগোটার এল ডোরাডো বিমানঘাঁটি থেকে 'ট্রান্সপোর্ট স্কোয়াড্রন ৮১১' দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি কলম্বিয়ার কৌশলগত আকাশপথে পরিবহনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম জঙ্গলের আউটপোস্টগুলোতে পৌঁছানোর জন্য।
লকহিড মার্টিনের তৈরি সি-১৩০ হারকিউলিস ১৯৫০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত সামরিক পরিবহন বিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
চারটি অ্যালিসন টি৫৬ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন দ্বারা চালিত বিমানটি ছোট এবং অপ্রস্তুত রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই পুতুমায়োর মতো সীমিত অবকাঠামোর অঞ্চলে এটি অপরিহার্য।
দুর্ঘটনার সময় নিকটস্থ পুয়ের্তো আসিস স্টেশনের আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যে ২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৪° সেলসিয়াস ডিউ পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উচ্চ আর্দ্রতা নির্দেশ করে। এ ধরনের আর্দ্রতা উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এবং লিফট কমিয়ে দিতে পারে।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উড্ডয়নের জটিল মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি বা ওজনজনিত সমস্যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যদিও কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিমানটিতে যা ঘটেছিল
উড্ডয়নের প্রাথমিক ধাপে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এফএসি-১০১৬ নিবন্ধিত বিমানটি জাতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সৈন্য পরিবহনের মিশনে ছিল। উড্ডয়নের প্রাথমিক ধাপে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিমানঘাঁটি থেকে কিছু দূরে ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুয়ের্তো আসিসগামী তিনটি প্লাটুনের অন্তত ১১০ জন সেনাসদস্য বিমানে ছিলেন, যদিও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংখ্যাটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো আরনুলফো সানচেজ এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন: 'গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস বিমান পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়নের সময় আমাদের ফুয়েরজা পাবলিকার সৈন্যদের নিয়ে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।'
তিনি আরও যোগ করেন যে, সামরিক ইউনিটগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সানচেজ জনগণকে সরকারি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কলম্বিয়ান রেডিওতে কথা বলা এক স্থানীয় বাসিন্দা উদ্ধার অভিযানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'আমরা একটি খামার এলাকায় আছি যেখানে বিমানটি পড়েছে এবং আমরা সব আহতদের জড়ো করছি। আমরা তাদের পুলিশের গাড়িতে তুলে দিয়েছি এবং শহরের মানুষ মোটরসাইকেলে করে তাদের বহন করতে সাহায্য করছে।'
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। জানা গেছে, তেলের দাম বাড়াতে মঙ্গলবার জুমে জরুরি সভা করে সংস্থাটি। এতে পদ্মা অয়েল, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনসহ বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভ্যন্তরীণ রুটে দাম বৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে এক লাফে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বা ৮০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক রুটে দাম বৃদ্ধি এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। দর বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।
ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কলম্বিয়া। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে দেশটির পুয়ের্তো লেগুইজানোর নিকটবর্তী 'লা তাগুয়া' বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মুহূর্ত পরেই ১২১ জনেরও বেশি সৈন্য বহনকারী কলম্বিয়ান বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০এইচ হারকিউলিস বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক বিমান বিপর্যয় হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। 'ফুয়েরজা পাবলিকা'র সৈন্যদের বহনকারী বিমানটি পেরু সীমান্তের কাছে দক্ষিণ পুতুমায়ো বিভাগের বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। বেসরকারি সূত্রগুলো অন্তত ৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনের লাশ পেয়েছে কলম্বিয়ান সামরিক বাহিনী। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ২০ জনকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলের ওপর দিয়ে বিশাল ধূসর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং বিমানের চূর্ণ-বিচূর্ণ ধ্বংসাবশেষ আগুনে পুড়ছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল যখন বেসামরিক লোক এবং ইউনিফর্মধারী কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাম কেন আসছে এফএসি-১০১৬ বিমানটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের 'এক্সেস ডিফেন্স আর্টিকেলস' প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলম্বিয়ায় এসেছিল। ওয়াশিংটন থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া তিনটি সি-১৩০এইচ বা হারকিউলিস বিমানের মধ্যে এটি ছিল প্রথম, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার। এটি মূলত মার্কিন বিমান বাহিনীতে সিরিয়াল নম্বর ৮৩-০৪৮৮ এর অধীনে পরিচালিত হতো। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কলম্বিয়ান অ্যারোনটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের (সিআইএসি) তত্ত্বাবধানে বিমানটির বডি বা কাঠামোর নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, যার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত সংস্কার এবং ইঞ্জিনের আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। হারকিউলিস বহরটি বোগোটার এল ডোরাডো বিমানঘাঁটি থেকে 'ট্রান্সপোর্ট স্কোয়াড্রন ৮১১' দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি কলম্বিয়ার কৌশলগত আকাশপথে পরিবহনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম জঙ্গলের আউটপোস্টগুলোতে পৌঁছানোর জন্য। লকহিড মার্টিনের তৈরি সি-১৩০ হারকিউলিস ১৯৫০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত সামরিক পরিবহন বিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম। চারটি অ্যালিসন টি৫৬ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন দ্বারা চালিত বিমানটি ছোট এবং অপ্রস্তুত রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই পুতুমায়োর মতো সীমিত অবকাঠামোর অঞ্চলে এটি অপরিহার্য। দুর্ঘটনার সময় নিকটস্থ পুয়ের্তো আসিস স্টেশনের আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যে ২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৪° সেলসিয়াস ডিউ পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উচ্চ আর্দ্রতা নির্দেশ করে। এ ধরনের আর্দ্রতা উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এবং লিফট কমিয়ে দিতে পারে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উড্ডয়নের জটিল মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি বা ওজনজনিত সমস্যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যদিও কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিমানটিতে যা ঘটেছিল উড্ডয়নের প্রাথমিক ধাপে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এফএসি-১০১৬ নিবন্ধিত বিমানটি জাতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সৈন্য পরিবহনের মিশনে ছিল। উড্ডয়নের প্রাথমিক ধাপে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিমানঘাঁটি থেকে কিছু দূরে ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুয়ের্তো আসিসগামী তিনটি প্লাটুনের অন্তত ১১০ জন সেনাসদস্য বিমানে ছিলেন, যদিও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংখ্যাটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো আরনুলফো সানচেজ এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন: 'গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস বিমান পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়নের সময় আমাদের ফুয়েরজা পাবলিকার সৈন্যদের নিয়ে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, সামরিক ইউনিটগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সানচেজ জনগণকে সরকারি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কলম্বিয়ান রেডিওতে কথা বলা এক স্থানীয় বাসিন্দা উদ্ধার অভিযানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'আমরা একটি খামার এলাকায় আছি যেখানে বিমানটি পড়েছে এবং আমরা সব আহতদের জড়ো করছি। আমরা তাদের পুলিশের গাড়িতে তুলে দিয়েছি এবং শহরের মানুষ মোটরসাইকেলে করে তাদের বহন করতে সাহায্য করছে।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি এখনও জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি চান না মোজতবা খামেনি নিহত হোক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে গত ৮ মার্চ তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিনেই আলি খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হন। তবে তার আঘাতের মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। উত্তরসূরি ঘোষণার পর থেকে তিনি এখনো জনসম্মুখে আসেননি বা কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা দেননি। এ পর্যন্ত তার নামে দুটি লিখিত বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কোনো দৃশ্যমান বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ ধরনের গুঞ্জন নাকচ করে বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।