তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রি করলেই তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে যাবে না। খবর সিএনএনের।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মিত্র নয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তারা (তুরস্ক) যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে। এরদোয়ান মোটেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আদর্শ মিত্র নন। তিনি আমার দেশ, একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার হুমকি দেন।’
তিনি আরও বলেন, তুরস্কের হাতে এ ধরনের উন্নত যুদ্ধবিমান তুলে দিলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন, যেন আঙ্কারার কাছে এফ-৩৫ বিক্রি না করা হয়।
এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য বোঝা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার শক্তি নয়। তাদের হাতে আরও সামরিক সক্ষমতা তুলে দিলে আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়বে।’
বর্তমানে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আলোচনা নাকচ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখেন, আমি ইসরায়েলের স্বার্থ দেখি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই দুই দেশের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়।’
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা নিয়েও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন। যদিও এ বিষয়ে তার সংশয় রয়েছে, তবুও তিনি ট্রাম্পকে সেই সুযোগ দিতে চান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়াবে ২,৮৮৬ ডলারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হবে ২,৭৪৯ ডলার। খবর আল-জাজিরার। সামগ্রিক অর্থনীতির দিক দিয়ে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে আট গুণ বড় হলেও, বিশাল জনসংখ্যার হিসাব বাদ দিয়ে মাথাপিছু গড়ে বাংলাদেশ এখন প্রতিবেশী এই দেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর গত দুই দশকে বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। মূলত দেশের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাকশিল্প, প্রবাসী ভাই-বোনদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। তবে এই সাফল্যের উল্টো পিঠে বেশ কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও উঁকি দিচ্ছে। একদিকে যেখানে ভারত চলতি বছর ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা করছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩.৬ শতাংশে। এছাড়া মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার হিসাব ধরলে ভারত বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাজার ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করলে ভারতের মানুষের জিনিসপত্র কেনার ক্ষমতা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি বাংলাদেশে ৮.৭ শতাংশের মতো উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ মেলাতে গিয়ে বেশ দমবন্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক বছর এই ব্যবধান এদিক-সেদিক হলেও ২০২৯ সালের দিকে ভারত মাথাপিছু আয়ে আবার এগিয়ে যেতে পারে। দুই দেশের অর্থনীতির কাঠামোতে রয়েছে বেশ বড় ধরনের তফাত। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। গত এক দশকে দেশের উৎপাদন খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও ভারত অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে প্রযুক্তি, বড় সেবা খাত এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার মিলে ভারতকে ভিন্ন এক শক্তিমত্তা দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দুই দেশের জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আনে এবং তৈরি পোশাকের চালানও এই পথেই বিদেশে যায়, ফলে পরিবহন খরচ বাড়ায় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সবশেষে বলা যায়, মাথাপিছু জিডিপির এই হিসাব মূলত একটি গড়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়, যা সমাজের ভেতরের প্রকৃত আয়বৈষম্য বা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান লুকিয়ে রাখে। বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেই গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও তার সুফল সব মানুষের ঘরে সমানভাবে পৌঁছায়নি, বরং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদ বেশি জমা হয়েছে। তাই এই পরিসংখ্যান যেমন দারুণ এক সফলতার গল্প শোনায়, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফেরাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈষম্য কমানোর তাগিদও দেয়।
বিক্ষোভে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, লিল, তুলুজ, নঁত, মার্সেই ও বোর্দোয় লাখো মানুষ রাজপথে নামে। গতকাল কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে প্যারিসের ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন, ল্যুভরসহ বড় জাদুঘর ও বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির প্রধান শহরগুলো অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। চালানো হয়েছে নজিরবিহীন তল্লাশি ও ধরপাকড়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়ার পর এবার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় ফরাসি সরকার। আগের সপ্তাহের তুলনায় গতকাল ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক কাঠামোর অধীন পুলিশ বাহিনীর সদস্য) মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট, সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার, পুলিশ কুকুর ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্যারিসের শঁজেলিজেস এলাকায় সেনাসদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে তল্লাশিতে ধাতব বল, সিসার ছররা, আতশবাজি, গুলতি, ইম্প্রোভাইজড অস্ত্র, কাতানা, এয়ারসফট অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না।’ রাজধানী প্যারিসের বড় একটি অংশ কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় দোকানপাটের কাচের সামনে কাঠের প্যানেল বসান ব্যবসায়ীরা। ল্যুভর, মিউজে দ’অরসে, প্যারিস অপেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ করা হয় ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে হাজার হাজার দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হওয়ায় এবার অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। প্যারিসে অনুমোদিত মূল মিছিলটি অবশ্য বড় ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ গন্তব্য পোর্ত দ্য ভিনসেনে পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভের পথ নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার ও আয়োজকদের মধ্যে টানাপড়েন ছিল। পুলিশ বাস্তিল থেকে নাসিওঁ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত পথ বাতিল করে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত দিয়ে নতুন পথ নির্ধারণ করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের সপ্তাহে যেসব এলাকায় ব্যাপক লুটপাট হয়েছিল, সেসব বাণিজ্যিক এলাকা এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত। বামপন্থী নেতারা অবশ্য একে বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি ছিল বেশি উত্তপ্ত। লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে দাঙ্গা পুলিশ। নঁতে নিষিদ্ধ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। বোর্দোয় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া এবং ব্যারিকেড তৈরির খবরও পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল দেশজুড়ে আনুমানিক ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। তবে বিক্ষোভের আয়োজক ট্রেড ইউনিয়নগুলোর অন্যতম সিজিটি দাবি করেছে, বিক্ষোভে মোট আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে, যা সরকারের হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ। আর প্যারিসে সিজিটি ইউনিয়নের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্যারিস পুলিশের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। চলমান আন্দোলনে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। গতকাল দেশজুড়ে ৭০০টির বেশি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও সরকারি সেবার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু। ৩১ অক্টোবর আবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার দাবি না মানলে আগামী ৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘট হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর হুমকির জবাবে ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জোর দিয়ে বলেছেন যে, আত্মরক্ষার জন্য ইরান কোনো শক্তির অনুমতি চায় না। হুমকি দিয়ে ইরানকে ধ্বংস করা যাবে না, শীর্ষক প্রকাশিত এক নোটে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, দেশ রক্ষায় ইরান কোনো শক্তির অনুমতির জন্য অপেক্ষা করবে না। প্রকাশিত নোটে তিনি উল্লেখ করেন, ইদানীং ইরানের শত্রুরা এমনভাবে একটি জাতির ভাগ্য নিয়ে কথা বলছে এবং তা ধ্বংস করার ক্ষমতার দাবি করছে, যেন একক কোনো আদেশে একটি দেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা যায় এবং একটি সভ্যতাকে ইতিহাসের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা সম্ভব। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, ইরানের ভাগ্য তাদের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী লেখা হয় না। এই জাতি হুমকিদাতাদের কাছে কখনো নিজের স্বাধীনতা বা স্বীয় ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সমর্পণ করবে না। বারবার হুমকি পুনরাবৃত্তি করলেই এই সত্য বদলে যায় না, ঠিক যেমন চিৎকার করে কথা বললেই কোনো দাবি বাস্তবে পরিণত হয় না। মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা যুদ্ধের সৃষ্ট যন্ত্রণা জানি। আমরা বুঝি যে প্রতিটি ধ্বংসলীলার পেছনে জীবন বিপর্যস্ত হয় এবং প্রতিটি অকালমৃত্যুর পেছনে একটি পরিবার চিরতরে শোকাহত হয়। এই কারণেই আমরা দায়িত্ববোধ নিয়ে শান্তির কথা বলি এবং যুদ্ধ রোধ করার চেষ্টা করি। তবে, এই দায়িত্ববোধকে ইরানের প্রতিরক্ষায় দ্বিধা হিসেবে দেখার ভুল কারো করা উচিত নয়। আমাদের জনগণের জীবন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এমন এক দায়িত্ব, যাতে আমরা কখনোই পিছপা হব না। ইরান নিজেকে রক্ষা করতে কোনো শক্তির অনুমতির জন্য অপেক্ষা করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভূখণ্ড রক্ষার দায়িত্ব দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত এবং আক্রমণকারীদের অনুধাবন করতে হবে যে, আগ্রাসনের সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই পরিণতি ছাড়া পার পাবে না। ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং এর জনগণের ইচ্ছাকে বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো মূল্যায়নই মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। সূত্র: মেহের নিউজ