সর্বশেষ

জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সাইফুলের নয়া মিশন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘অতিথি ডটকম’ নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনব প্রতারাণার ফাঁদ পেতে বসেছেন সাইফুল ইসলাম সোহেল। যিনি প্রতারক হিসাবে চিহ্নিত। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক সর্বস্বান্ত হয়েছে। দুই দশক আগে যার প্রতারণা শুরু হয়েছিল ডেসটিনি ২০০০ দিয়ে। এরপর তার মতো প্রতারকদের সহায়তায় ইউনিপেটুইউ, যুবক, এমটিএফই এবং এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।

 

এই সোহেল ফের ‘অতিথি ডটকম’ নিয়ে মাঠে নেমেছে। এটিকে ডিজিটাল চেইন মার্কেটিং হিসাবে দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিকমানের এই ট্রাভেল ও সার্ভিস পোর্টালে বিনিয়োগ করলে ঝামেলামুক্ত বিপুল আয় নিশ্চিত। কেউ চাইলে দ্রুত কোটিপতিও হতে পারবেন। অলীক সব স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তবতা হলো-অতিথি ডটকমের আড়ালে রয়েছে এক অন্ধকার ফাঁদ। ইতোমধ্যে অনেকে এ ফাঁদে আটকা পড়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নীরব। ২০০০ সালের শুরুতে ডেসটিনি কার্যক্রম শুরু করলে সাইফুল সেখানে একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে যোগ দেন। পরে তিনি ‘পিএসডি’ (প্রফিট শেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন) পর্যায়ে উন্নীত হন। ডেসটিনি যখন ভেঙে পড়ে এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তারা জেলে যান, ততদিনে সাইফুল নিজের আখের গুছিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে সটকে পড়েন। সেই ডেসটিনিরই আদলে ২০১৬ সালে গড়ে তোলেন ‘নোভেরা প্রডাক্টস লিমিটেড’। মিরপুর ডিওএইচএসে আলিশান অফিস খুলে ই-কমার্সের নামে শুরু করেন পিরামিড স্কিম। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই স্কিমের নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন।

 

নারী নির্যাতন মামলায় পুলিশ সাইফুল ইসলাম সোহেলকে ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থেকে গ্রেফতার করে। তার পালিত পিতার নাম দলিল উদ্দিন। কয়েক মাস জেল খেটে ছাড়া পান। পরে প্রতারণা মামলায় ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল পল্লবী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের অরগানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিম। ওই বছরের শেষদিকে তিনি ছাড়া পান। ফের তিনি প্রতারণা ব্যবসা শুরু করেন। ই-কমার্স নামে ব্যবসা শুরু করার ঘোষণা দিয়ে পর্দার আড়ালে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা এমএলএম কারবার।

 

চল্লিশোর্ধ এই প্রতারকের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পূর্ব চাঁদপুরা। তার বিরুদ্ধে রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ডেসটিনি-২০০০ এবং নভেরা প্রডাক্টের শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতারণার কারণে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীরা মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

 

কিন্তু জেল থেকে বের হয়েই সেই ৬ বছর আগে ‘অতিথি ডটকম’ নামে আরও বড় প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেন। তবে প্রতারণা আড়াল করতে নতুন বেশ ধরে। আগে মানুষ পণ্য দেখে বিনিয়োগ করত, এখন বিনিয়োগ করছে ‘অ্যাপ’ দেখে। গুগল প্লে-স্টোরে থাকা ‘অতিথি ডটকম’ অ্যাপটিকে প্রচার করা হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিকমানের ট্রাভেল ও সার্ভিস পোর্টাল হিসাবে। এখানে দাবি করা হচ্ছে যে, এর মাধ্যমে দেশের যে কোনো প্রান্তের হোটেল বুকিং দেওয়া যাবে। খুব সহজে মিলবে প্রাইভেটকার এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এমনকি হেলিকপ্টার বা বিমান টিকিটও বুকিং দেওয়া যাবে। কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে নেমে মিলেছে একেবারে ভিন্ন তথ্য। প্রতিবেদক নিজেই সদস্য হতে কয়েক দফা অতিথি ডটকমের কার্যালয়ে গেলে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য ধরা পড়ে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বুকিং সেবাগুলো স্রেফ একটি আইনি ঢাল। মূলত স্রোতের মতো টাকা ঢুকছে এজেন্ট নিয়োগ থেকে। অ্যাপটিতে লগইন করার পর একজন সাধারণ গ্রাহককে ‘এজেন্ট’ হতে প্ররোচিত করা হয়। এই এজেন্টশিপের জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চেইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে একজন এজেন্ট যখন আরও দশজন এজেন্ট নিয়ে আসেন, তখন তিনি পান মোটা অঙ্কের কমিশন। এটিই হলো বিশুদ্ধ ‘পিরামিড স্কিম’, যা বাংলাদেশের আইনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। একটি সুসংগঠিত এবং পেশাদার এমএলএম বা পিরামিড স্কিম কোম্পানি যেভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে, ঠিক সেভাবে ফাঁদে ফেলছে ‘অতিথি ডটকম’। প্রতারণা সফল করতে মগজ ধোলাইসহ আধুনিক নানা কলাকৌশল ব্যবহার করা হয়। ডেসটিনি বা নোভেরা প্রডাক্টসের সনাতন পদ্ধতিকে তারা এখন রূপান্তর করেছে ডিজিটাল ও করপোরেট প্রলোভনে।

 

সরেজমিন অনুসন্ধানকালীন এই প্রতিবেদক ছদ্মবেশে অতিথি ডটকমের এজিএম (ট্রেনিং) মাহবুব আলম খানের মাধ্যমে ২৫০০ টাকায় সদস্যপদ গ্রহণ করেন। যার আইডি নং ২০৩৮৩৮। এরপর মাহবুব আলম বিভিন্ন ভুঁইফোঁড় প্রজেক্টের নাম বলে প্রতিবেদককে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য নানাভাবে প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন। তিনি নিজেদের এমএলএম বলতে নারাজ। বরং তারা নিজেদের ‘ডিজিটাল চেইন মার্কেটিং’ বা ‘ই-কমার্স এফিলিয়েট পার্টনারশিপ’ হিসাবে প্রচার করতে চান।

 

সদস্য টানতে তারা মূলত তিনটি প্রধান প্রলোভন সামনে রাখেন। প্রথমত, আজীবন বা প্যাসিভ ইনকামের ফাঁদ পেতে শিক্ষিত বেকার যুবক এবং গৃহিণীদের টার্গেট করা। তাদের বলা হয়, আপনি মাত্র একবার এজেন্ট ফি দিয়ে যুক্ত হবেন। এরপর ঘুমিয়ে থাকলেও আপনার অ্যাকাউন্টে প্রতি মিনিটে টাকা জমা হতে থাকবে। বসে বসে এমন আয়ের প্রলোভনটি মানুষ সহজেই লুফে নিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সদস্য হিসাবে যোগ দিতে হয় তাদের জাঁকজমকপূর্ণ সেমিনার ও মোটিভেশনাল স্পিচ সেশনে। ঢাকার সদস্য হিসাবে অভিজাতপাড়া গুলশানের পুলিশ প্লাজার করপোরেট অফিসে শুরু হয় প্রথম সেমিনার। তবে দেশের অন্য জেলাগুলোর জেলা শহরের অভিজাত রেস্টুরেন্টে বসানো হয় মগজ ধোলাইয়ের সেশন। মোটিভেশন হিসাবে আগে থেকে নির্ধারিত তরুণ-তরুণীদের সফল সদস্য হিসাবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লাখ টাকার চেক। তারা শোনান বিলাসবহুল লাইফস্টাইলের গল্প। এতে সহজে প্রলুব্ধ আর বিমোহিত হন এই প্রতিবেদকের মতো অসংখ্য নবাগত। কিন্তু বাস্তবতা হলো-সবই সাজানো নাটক। তৃতীয়ত, নেটওয়ার্কিং বা চেইন বোনাসের মারপ্যাঁচে তারা সদস্যদের বোঝান যে, কেউ নিজে কাজ করলে পাবেন ১০%, কিন্তু তিনি যদি নিচের টায়ারে আরও ৫ জন ‘এজেন্ট’ যুক্ত করতে পারেন, তবে তাদের আয় থেকেও আজীবন কমিশন পাবেন। এই চেইন বোনাসের লোভই মূলত তাদের প্রধান টোপ। যার ফাঁদে পড়ে একজন সদস্য নিজের টাকা তুলতে গিয়ে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব-এমনকি পাড়া প্রতিবেশীদেরও এই ফাঁদে টেনে আনেন। পকেটে টাকা না থাকলে ধারদেনা করে নিয়ে আসেন। অনেকে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েও বিনিয়োগ করছেন।

 

ভুয়া প্রজেক্টের আড়ালে বিনিয়োগের ফাঁদ : টিকে থাকার জন্য এমএলএম কোম্পানিগুলোকে কোনো না কোনো অবাস্তব বা কাল্পনিক প্রজেক্টের গল্প তৈরি করতে হয়। অতিথি ডটকম মূলত ‘ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং ‘স্মার্ট বিজনেস’র স্লোগান দিয়ে মানুষকে প্রজেক্টের লোভ দেখায়। তারা বলে যে, কেউ যদি অতিথি ডটকম অ্যাপের মাধ্যমে কোনো হোটেল, গাড়ি বা বিমান টিকিট বুক করে, তবে তিনি বাজারের চেয়ে অর্ধেক দামে পাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় অঙ্কের ‘ক্যাশব্যাক’ বা মুনাফা পাবে। পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডার বা পার্টনারশিপের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে-কেউ যদি নির্দিষ্ট প্রজেক্টে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে তিনি কোম্পানির একজন ‘শেয়ারহোল্ডার’ বা ‘কো-ওনারশিপ’ হয়ে অন্তর্ভুক্ত হবেন। একই সঙ্গে কোম্পানির প্রতি মাসের মোট লভ্যাংশ থেকে একটা নির্দিষ্ট অংশ তার অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।

 

তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ‘অতিথি ডটকম’ বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রজেক্ট সামনে রেখে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে। এই প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্মার্ট হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং প্রজেক্ট’।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বাড়ল

বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনায় আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুবিধা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট দেশের বাইরে থাকা তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে কেনা যাবে।   সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটি ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনার সংশোধিত সংস্করণ।   সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ ভিসা থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিকেরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে পারবেন।   আগের নিয়মে এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির অর্থ বাংলাদেশের কোনো অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার শর্ত ছিল। নতুন নিয়মে বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের বাইরে তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করলেও আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে টিকিট কেনা যাবে।   বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নিজস্ব মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহার করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এসব বৈধ টিকিট ক্রয়ের লেনদেন শনাক্ত করবে।   নতুন নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এভাবে কেনা টিকিটের খরচ কার্ডধারীর বার্ষিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কোটার বাইরে রাখা হবে। টিকিট কেনার লেনদেন যাচাই ও নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কার্ডে ব্যবহৃত অর্থের সমপরিমাণ আবার যুক্ত করতে পারবে।   এ ছাড়া নির্ধারিত রিপোর্টিং পদ্ধতিতে এসব লেনদেনের তথ্য নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের তালিকা যাচাইয়ের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

ছবি: সংগৃহীত

এআই দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ পেলেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ, চাচা আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৭ বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাহিদুল (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত শিশুটির নাম মাহিদা। সে ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।   পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, জুমার নামাজের পর মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায় তার চাচা জাহিদুল। সেখানে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।   মেয়েকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মাহিদার মা মনিরা বেগম জাহিদুলের ঘরে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।   হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।   এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।   সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, হত্যার অভিযোগে জাহিদুলকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি নেতা বায়েজিদকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

‘বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি’—খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রী মৃত্যুর মামলা: গাজী নজরুলের আরও ৪ দিনের রিমান্ড

আজ দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে শুরু হচ্ছে শরৎকাল। এ দিন সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রম করবে। ফলে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হবে। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘শরৎ বিষুব’।   তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি একটু আলাদা। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন করে শরৎকাল শুরু হচ্ছে না। বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে শরৎকাল এরই মধ্যে চলছে।   ‘শরৎ বিষুব’ নামটি মূলত উত্তর গোলার্ধের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে এই দিনকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে শরতের শুরু ধরা হয়।   রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর ১টা ৬ মিনিটে ব্রিটিশ সময় বিষুব ঘটবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি হবে সকাল ৬টা ৬ মিনিটে।   বিষুবের সময় সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। ফলে দুই গোলার্ধ সূর্যের আলো প্রায় সমানভাবে পায়। এ কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কাছাকাছি সমান হয়।   তবে দিন ও রাত ঠিক ১২ ঘণ্টা করে হয় না। বায়ুমণ্ডলের কারণে সূর্যের আলো কিছুটা বাঁক নেয়। ফলে সূর্য ওঠার আগেই আলো দেখা যায় এবং সূর্য ডোবার পরও কিছুক্ষণ আলো থাকে।   বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তবে এর মানে এই নয় যে বিষুবের দিন থেকেই হঠাৎ ঠান্ডা পড়ে যাবে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটে।   বিষুবের বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতিতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জে প্রতি বছর এই দিন উপলক্ষে অনেকে জড়ো হন এবং সূর্যোদয় দেখেন।   তথ্যসূত্র: বিবিসি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রিমান্ডে গাজী নজরুলের স্ত্রী, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

0 Comments