আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও দলগুলোর দাবি, তারা কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরে গত বছরের মে মাসে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মতো ইসলামভিত্তিক দলগুলো জোট হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে এতে জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি যোগ দিলে ৮ দলীয় জোট হিসেবে বিভিন্ন সময় যুগপৎ কর্মসূচিতে এসব দলকে রাজনীতির মাঠে সরব হতে দেখা গেছে।
এরই মধ্যে অভ্যুত্থানের পরে তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরো দুইটি দলের এই জোটে অংশ নেওয়ার পর ভোটের রাজনীতি নিয়ে আবারও আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। এই ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আকাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় আসন না পাওয়ায় এই জোটের পুরাতন সঙ্গী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের অসন্তোষ যেমন রয়েছে, তেমনি জোটের প্রার্থীদের আসন দিতে গিয়ে বিভিন্ন আসনে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের নেতারা।
আসন সমঝোতার বাইরে, এই জোটের নেতৃত্ব নিয়ে তরুণদের দল এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ দুই দলের মধ্যে অনেকটা ঠাণ্ডা যুদ্ধও চলছে। এরই মধ্যে সব দলের প্রার্থীরাই বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
যদিও কয়েকটি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা দাবি করেছেন, আলোচনা এখনো চলছে। সমঝোতা সমন্বয় করেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জোটের সব দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
কিন্তু দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা সিদ্ধান্তে বিলম্ব এবং আপাতত যেসব আসনে সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো নিয়ে মাঠ পর্যায়ের অসন্তোষ বেশ প্রকট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে কখনো নির্বাচনে সফলতা লাভ করেনি বলে তাদের পরিধি বাড়িয়েছে। যাতে নির্বাচন বা ভোটের মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
সারা দেশে ৩০০ আসনে তিন হাজার ৪০৬ টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
নিজেদের দাবি অনুযায়ী কমপক্ষে দেড়শ আসন না পাওয়ায় চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট বলে গণমাধ্যমে বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৫টি আসনে নির্বাচন করতে নাখোশ দলটির নেতাকর্মীরা। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি।
যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় দলটি জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে শক্ত অবস্থান থেকে দর কষাকষি করতে চায় কিংবা এককভাবে নির্বাচন করে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা আলাদাভাবে প্রমাণ করতে আগ্রহী।
কিন্তু কত আসন চেয়েছে এবং কতগুলো পেয়েছে এমন প্রশ্নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের দাবি, আসন নিয়ে কোনো দাবি নেই তাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো দাবি নেই। আলোচনায় যৌক্তিকভাবে আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া ঠিক করছি। সেটার আলোকেই সমঝোতা সমন্বয় হবে। ক্রাইটেরিয়া হলো দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে সবাই ছাড় দেবে এটা একটা বিষয় এবং যেখানে যার অবস্থা ভালো সেখানে তাকে ছাড় দেওয়া যাবে এটা আরেকটা বিষয়, তবে সংখ্যাটা এখনো বলার মতো না, বলা যাবে না এটা।
কেবল আসন সমঝোতাই নয়, এনসিপির এই জোটে যোগ দেওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি জোটেরই কয়েকটি দল। যদিও এই কারণ একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন গাজী আতাউর রহমান। বরং গণ-অভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিকে সমর্থন জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলটির জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন বা সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র এ বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে এবং উভয়পক্ষই স্যাক্রিফাইসের মানসিকতা নিয়েই এগোচ্ছে।
তবে আসন সমঝোতা নিয়ে শুধু এই দলেই অসন্তোষ তা নয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরো কয়েকটি দলেও এমন ক্ষোভ রয়েছে। এই দল ৫০ আসন চাইলেও পরে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ১৩ আসন নিশ্চিত করেছে জোটের নেতৃত্ব দেওয়া জামায়াতে ইসলামী।
আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করলেও কতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেই সংখ্যা গণমাধ্যমে এখনই জানাতে চাননি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ। চূড়ান্ত হওয়ার পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের আসন সমঝোতাটা যদি আরো আগে হয়ে যেতো তাহলে অনেক ভালো হতো। প্রার্থীদের মাঠে কাজ করতে সুবিধা হতো। এটা সত্য আমরা অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছি।’ সমঝোতার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেলে প্রার্থীদের ক্ষোভ দূর হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর মধ্যে খেলাফত মজলিস ২৫টিরও বেশি আসন চেয়েছিলে। কিন্তু পাঁচটি আসন নিয়েই তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। আর আসন সমঝোতায় পিছিয়ে নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলন মাত্র দুইটি করে আসন নিশ্চিত করতে পেরেছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। যা আরো কমেছে বিডিপি এবং জাগপার ক্ষেত্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে তাদের জন্য মাত্র একটি করে আসন ছাড় দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে নতুন করে জোটে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি অর্ধশতাধিক আসন চাইলেও এখন পর্যন্ত ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৬টি আসনের মনোনয়ন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন এই দলটিকে। আবার জোটের প্রার্থীদের আসন বণ্টন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের প্রার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব?
কয়েকটি দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতার দাবি, জোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। যা নিয়ে অন্য দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদের দাবি, ‘এখানে ১১টি দল আসন সমঝোতা করছে। এখানে কেউ কারো নেতৃত্বে না। অর্থাৎ ইলেকশনে আমরা বিজয়ী হওয়ার জন্য একটি আসনে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এটাই আমাদের পলিসি।’
এদিকে, এনসিপি জোটে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক আলোচনায় এমন বিষয়ও উচ্চারিত হয়েছে যে, জোট নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান নাকি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম থাকবেন?
এমন প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, এমন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। এটা সেরকম কোনো জোট না। আসন সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এখানে পদ-পদবি নিয়ে, দায়িত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এখানে সবাই সমান মর্যাদার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।
সমঝোতার অগ্রগতি কতদূর?
নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি, এলডিপি এই জোটে যোগ দেয়। পরে এবি পার্টিরও যুক্ত হওয়ার খবর শোনা যায়।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ৮ দলের পূর্ব প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে জানান, শেষ পর্যায়ে আরো তিনটি দল জোটে যোগ দেওয়ায় আলোচনা যে অবস্থায় ছিলে ওই অবস্থায়ই সবার সম্মতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত মাসের ৯ তারিখ থেকে আমরা আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। শেষদিকে এসে আরো তিনটি দল আমাদের সঙ্গে এখানে জয়েন করল। এই অবস্থায় এসে প্রথম দিকের যে আলোচনা ছিল গত মাসের ২৪-২৫ তারিখের, সেটাকে আবার নতুন করে সাজাতে হলো। পরে সবাই একমত হয়ে জোটের সিদ্ধান্তেই ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
দুই-তিন দিনের মধ্যেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আজকেও আমরা বসছিলাম। প্রতিদিনই বসা হচ্ছে। স্যাটেল হয়ে যাবে আশা করি দুই-তিন দিনের মধ্যেই। কোন কোন আসনে কোন দল করবেন এই বিষয়ে মোটামুটি একটা আইডিয়া নিয়ে আমাদের যে কমিটি কাজ করছেন সে কমিটি প্রত্যেকটা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।’
আসন সমঝোতা নিয়ে অন্য দলগুলোর অসন্তোষের কথা স্বীকার করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, ‘কিছু কিছু বিষয়তো স্বাভাবিকভাবেই সবার মনমতো হয় না বা হচ্ছে না। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো দলের চাওয়া বা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নয় বরং কিছু ব্যতিক্রম বাদে যাকে যেখানে দিলে জয়লাভ করবেন তাকেই দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে কখনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেননি বলে দাবি করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার ভাষায়, ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অথচ ড. ইউনূস তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে নিয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, কিন্তু কোথাও “মাস্টারমাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেননি। মাস্টারমাইন্ড একটি বাজে শব্দ। আপনি বলবেন “হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড”? মাস্টারমাইন্ড সবসময়ই নেতিবাচক অর্থ বহন করে।’ মাহফুজ আলম দাবি করেন, তাকে নিয়ে ড. ইউনূস এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেওয়া বক্তব্যেও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ছিল না। তার ভাষায়, ‘স্যার খুবই স্পষ্টভাবে “ব্রেইনস বিহাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পশ্চিমা রাজনৈতিক আলোচনা বা বিতর্কে এ ধরনের শব্দগুচ্ছ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ফ্রেম করা হয়েছে।’ কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা কি কখনো বলি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি ষড়যন্ত্র ছিল? এ কথা আইয়ুব খান বলেছেন, ইয়াহিয়ার শাসনামল বলেছে, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বলেছে। আজকে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’ প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের বন্ধু বিল ক্লিনটনের সঙ্গে আলাপকালে সফরসঙ্গী কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেন ড. ইউনূস। সে সময় কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আলমকে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। একই সময়ে হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে মক্কায়। এছাড়া মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। ১৯ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৬৮ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ২১ হাজার ৪৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৩ জন হাজি। হজযাত্রীদের দেশে ফেরাতে এখন পর্যন্ত মোট ১৫২টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৭৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৪টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট। এদিকে, সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (ই-প্রেসক্রিপশন) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা প্রদান করা হয়। চলতি বছর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শেষ ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ জুন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-২-এর সহকারী পরিচালক মুহা. শফিউল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠক ইমরান হায়দার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চান। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষামেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। ইতোমধ্যে ৭৪ জন পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়াও একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান হাইকমিশনার। আলোচনার একপর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।