মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির জনপদে যুদ্ধের বারুদ যেন কিছুতেই নিভছে না। গত বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও ভয়াবহ রূপে ইরানের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই নতুন দফার লড়াই এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিল। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাক আক্রমণের যে ছক ওয়াশিংটন এঁকেছিল, বর্তমানের এই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ যেন তারই এক আধুনিক ও বিধ্বংসী সংস্করণ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো—মার্কিন-ইসরায়েলি নিশানায় এবার সবই অন্তর্ভুক্ত।
তবে, তেহরানের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ প্রশ্ন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য কী? তিনি কি কেবল গত বছরের অপূর্ণ থাকা সামরিক দম্ভ পূরণ করতে চান, নাকি নেপথ্যে সাজানো হয়েছে ইরানের শাসনব্যবস্থা আমূল বদলে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী কোনো ছক?
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের দুই দশকেরও বেশি সময় পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে যা এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিল। ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এবং উদ্দেশ্য নিয়ে নানা স্ববিরোধী তথ্য সামনে আসছে। ফলে একটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— ওয়াশিংটন আসলে কী চায়? যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের প্রায় ২,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
তেহরানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে এই অভিযানে হত্যা করা হয়েছে। অভিযানের পরের ধাপে হামলা চালানো হয়েছে পারমাণবিক স্থাপনা, জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং তেল শোধনাগার ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রের মতো অতি-গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইরান দ্রুত তার উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করে। এই উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত হেনেও ইরানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে ফাটল ধরানো সম্ভব হয়নি।
ইরানও ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের এই পাল্টা হামলা ছিল মূলত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং মার্কিন দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ১,২০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি স্কুলে বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১৬০ জনেরও বেশি শিশু শিক্ষার্থী। সাতজন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও পরিষ্কার করেনি যে এই যুদ্ধের শেষ কোথায় বা তারা আসলে কী অর্জন করতে চায়।
শাসক পরিবর্তন: লক্ষ্য কি বর্তমান ব্যবস্থার পতন?
ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ‘শাসক পরিবর্তন’ শব্দটি উচ্চারণ না করলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। পাকিস্তান-চীন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা হায়দার সৈয়দ ও দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম একমত যে, এই কৌশলের পেছনে লক্ষ্য ছিল সরকারের দ্রুত আত্মসমর্পণ এবং দেশে গণঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়া।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের প্রায় ২,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনা, তেল শোধনাগার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রের মতো জাতীয় অবকাঠামো রয়েছে। ১,২০০-এর বেশি ইরানি নিহতের পাশাপাশি একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৬০ শিশু নিহত হয়েছে। তবে ইরান এখনো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগে আভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রদর্শন করেছে।
আইআরজিসি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে ডিল: সমঝোতা নাকি সংঘাত?
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আত্মসমর্পণ চুক্তি কার্যকর হয়নি। আইআরজিসি দেশটির নতুন নেতৃত্বকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম বলেন, শত্রুর প্রত্যাখ্যান ইরানের নীতিনির্ধারকদের ঐক্যকে আরও শক্ত করেছে।
লক্ষ্য: সামরিক সক্ষমতা নির্মূল
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামরিক শক্তি, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনী ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন শুধুমাত্র সামরিক হামলা দিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
‘ক্ষমতা দখল করুন’ – তবে নেতা কে হবে, তা ঠিক করবেন ট্রাম্প!
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধের পর ইরানের সরকার হবে ‘মহান ও গ্রহণযোগ্য’ নেতার অধীনে। তিনি মোজতবা খামেনির বিরোধিতা করছেন এবং নিজের নির্বাচিত নেতা বাছাই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সম্ভাব্য স্থল অভিযান ও বাস্তবসম্মত পরিণতি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান ট্রাম্পের জন্য অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে ‘জোরপূর্বক সমঝোতা’, যেখানে ইরান কিছু ছাড় দিবে এবং ট্রাম্প সেটাকে নিজের বিজয় হিসেবে ঘোষণা করবেন।
ইসরায়েলের লক্ষ্য
ইসরায়েল ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং ২০২৩ সালের হামলার প্রেক্ষাপট কাজে লাগিয়ে পুরো অঞ্চল পুনর্গঠন করতে চায়।
সংক্ষেপে:
যুদ্ধ চলতে চলতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অটুট রয়েছে, ট্রাম্পের শাসক পরিবর্তনের পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ। সামরিক আঘাত সত্ত্বেও ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও আইআরজিসি শক্তিশালী প্রতিরোধ দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমাধান হতে পারে কৌশলগত সমঝোতা, স্থল অভিযান নয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের রাজধানী তেহরানে আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে তেহরানের রেসালাত স্কয়ারের কাছে কয়েকটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর এলাকায় ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করে যারা তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে, সেই দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, আরব বা ইউরোপের যে কোনো দেশ যদি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে এবং দুই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচলের ‘পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা’ পাবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। তাই এটি এখন বৈশ্বিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এক সংকটময় পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। মূলত দুটি কারণে দাম বেড়েছে—হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার প্রশাসন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি ভাবছে। ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট এই প্রণালি এখনো খোলা আছে, তবে এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি হোয়াইট হাউস বিবেচনা করছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের বেশি অবস্থান করছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বাড়িতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (৯ মার্চ) টাইমস অব ইসলামাবাদ স্কট রিটের বরাতে এক প্রতিবেনে এসব তথ্য জানিয়েছে। স্কট জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক। সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া এক সাক্ক্খাৎকারে এসব দাবি করেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ইদ্দো নেতানিয়াহু। তিনি পেশায় একজন নাট্যকার। স্কট রিটের দাবি, ইসরায়েলের সিজারিয়ায় অবস্থিত নেতানিয়াহুর পারিবারিক বাড়িতে ইরানের হামলায় ইদ্দো মারা গেছেন। স্কট রিট বলেন, ইসরায়েলের কয়েক স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সফলভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে। এটি দেশটির সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় বৃহত্তর প্রতিশোধের অংশ।