ইরানে সামরিক অভিযানে শুরুতে সমর্থন না দেওয়ায় এ সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ অবনতি হতে দেখে তিনি দুঃখিত।
তিনি বলেন, “সম্পর্ক যে আগের মতো নেই, তা স্পষ্ট। এটা দেখে খুব খারাপ লাগছে। যুক্তরাজ্য এখন অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্নভাবে আচরণ করছে।”
ইরানে হামলায় অংশ নেয়নি যুক্তরাজ্য। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তি দেন, যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একটি কার্যকর ও সুচিন্তিত পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আকাশ থেকে বোমা ফেলে ‘সরকার পরিবর্তন’ করা তার নীতির অংশ নয়।
স্টারমার উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। কোনো অভিযানে যুক্ত হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক বৈধতা ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালাতে দেওয়ার জন্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়াগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রাথমিকভাবে রাজি হননি তিনি।
তবে পরে ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে রক্ষায় সহায়তার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেন স্টারমার।
স্টারমারের এই অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “মন পরিবর্তন করতে তিনি অনেক সময় নিয়েছেন।”
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে আঘাত হানতে তার যুক্তরাজ্যের সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তবে তাদের দেরি হতাশাজনক। দিয়াগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে স্টারমারের দ্বিধা এবং হামলার বৈধতা নিয়ে তার উদ্বেগে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “ফ্রান্স অসাধারণ সহযোগিতা করেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের এখন খুব শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।”
ইরান ইস্যুতে নিজ দেশেও চাপের মুখে রয়েছেন স্টারমার। বামপন্থি বিরোধীরা সামরিক অভিযানের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ডানপন্থি নেতা কেমি ব্যাডেনোক ও নাইজেল ফারাজ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান নিরাপত্তা সহযোগীকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়ে স্টারমার ব্রিটিশ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
জরিপ সংস্থা ইউগভ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ৪৯ শতাংশ মানুষ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরোধিতা করেন।
ব্রিটিশ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ড্যারেন জোনস বলেন, ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা বিশ্বাস করেন—আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তিতে ঐকমত্য ছাড়া কোনো যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।