আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ আমাদের জন্য ভালো, তবে জড়াব না

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধকে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে আদর্শ ফলাফল বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তবে তার মতে, শর্ত একটাই—ইসরায়েলিদের নিজেদের এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া চলবে না।

 

মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজের এক প্রতিবেদনে স্মোট্রিচের এই মন্তব্য প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, এই অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ইসরায়েলের নেই—বর্তমান পরিস্থিতিই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো। 

 

গাজায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আয়োজিত বার্ষিক সমাবেশ ‘কাতিফ কনফারেন্স ফর ন্যাশনাল রেসপনসিবিলিটি’-তে তিনি এসব কথা বলেন। 

 

স্মোট্রিচ এর আগে একাধিকবার গাজা দখল, সেখানে সামরিক শাসন জারি এবং ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের পাশাপাশি নতুন করে বসতি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিতভাবে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা করে। মূলত ওয়াশিংটনকে প্ররোচিত করেই ইসরায়েল এই সংঘাতে টেনে আনে, যার জেরে তেহরানও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এবং ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধটি নতুন করে শুরু হয়। তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি।

 

যুদ্ধে না জড়ালেও স্মোট্রিচ স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েল এই যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চায়। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের না-ও হতে পারে, তা হলো ইরানের বর্তমান সরকারকে দুর্বল করা এবং পতন ঘটানো। তার মতে, ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করাই এই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

 

ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে স্মোট্রিচ বলেন, বর্তমানে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৮৫ শতাংশ, মাত্র চার মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩৪ শতাংশের বেশি এবং প্রতি ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের বিনিময় হার ১৯ লাখে দাঁড়িয়েছে—এবং এটি বেড়েই চলেছে। এরপর তিনি আবারও নিজেদের যুদ্ধে না জড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য ভালো, আর এর ভেতরে নিজেদের অযথা জড়ানোর কোনো মানে নেই।

 

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করতে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন এবং সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে চাপ দেন। চুক্তির প্রথম শর্ত লেবাননে হামলা বন্ধ করার কথা থাকলেও ইসরায়েল তা অব্যাহত রেখে চুক্তিটি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে। 

 

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু ব্যক্তি ওয়াশিংটনকে কূটনীতি থেকে দূরে সরিয়ে ইরানের সঙ্গে আরও গভীর যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করেছে। জো রোগানের পডকাস্টে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কীভাবে অত্যন্ত গোপনে এবং বিপুল অর্থায়নের মাধ্যমে এই আলোচনা ও চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

 

ইসরায়েল হয়তো এই যুদ্ধকে নিজেদের জন্য ‘ভালো’ মনে করছে, কিন্তু এর চরম মূল্য চোকাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৪২০ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন একজন। 

 

‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’-এর গত ১৬ জুনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘ইরান ওয়ার এনার্জি কস্ট ট্র্যাকার’-এর তথ্যমতে, মার্কিন পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বাবদ ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থাৎ পরিবারপ্রতি প্রায় ৫৪৪ ডলার গুনতে হয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকায় এই খরচের পরিমাণ এখন আরও অনেক গুণ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়: কাতার

সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ, সফর এবং বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম বিন সুলতান আল হাশমি এ কথা জানান।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের একটি টেকসই ও তাৎক্ষণিক সমাধান কেবল সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব, যা এর নিষ্পত্তির একমাত্র পথ। সাপ্তাহিক গণমাধ্যম ব্রিফিং চলাকালে মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এমন একটি সমাধানে পৌঁছানোর জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চলমান উত্তেজনার ব্যয়ভার থেকে অঞ্চল, বিশ্ব, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহকে রক্ষা করার বিষয়ট আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না।   তিনি আরও বলেন, প্রচেষ্টা থেমে যায়নি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারকে অবশ্যই আশাবাদী থাকতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে। হরমুজ প্রণালিতে ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করে হামলার হুমকির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পরিচালক জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইরানের জনগণসহ এই অঞ্চলের জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, কৌশলগত এই প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ ঘটলে, জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়লে বা ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কার হয়।   তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সমুদ্রপথ থেকে বিশাল দূরত্বে অবস্থিত এবং উপসাগরের জলরাশি থেকে ইসরায়েল কোনো সুবিধা পায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এই জলসীমার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং একে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তিনি নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। এছাড়াও তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সেখানে হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় নির্বাচনে মুসলিমদের ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

বারবার কেন ছড়ায় কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের হয়ে আলোচনায় জেলেনস্কির বিকল্প চান ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পরিবর্তে অন্য কাউকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির এখন অন্য কাউকে আলোচনার জন্য বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবরও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে জেলেনস্কির সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।   যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকেই বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।   ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হয়। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয়রা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে।   এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকা পর্যন্ত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেনকে সহায়তার নীতি ও পরিমাণ নিয়ে পরিবর্তন আসে। এ সময় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কেও একাধিকবার উত্তেজনা দেখা গেছে।   এর আগে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে জেলেনস্কির পোশাক ও আচরণ নিয়ে ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।   ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের ৯ দেশে আন্দোলন, নতুন ‘আরব বসন্তের’ শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে চীনা নাগরিকের বাড়িতে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

ফাইল ছবি
হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   গতকাল সোমবার ইসরায়েল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে আকাশপথ বন্ধ হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং যাতায়াতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখতে মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।   এদিকে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যাতায়াতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।   অন্যদিকে, গত রোববার কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ ও বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।   আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। কাতার এয়ারওয়েজ গত সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জেদ্দায় প্রতিদিনের ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামানো হবে। সূত্র : ইউরোনিউজ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মক্কা চুক্তিতে ইরানের যোগদানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে রাশিয়া: লাভরভ

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, জরিপে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

সংগৃহীত ছবি

প্যারিস মুসলিমদের শহর হয়ে উঠবে, দাবি ট্রাম্পের

0 Comments