প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর অফিস কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতির কথা বলা ছিল একে একে সে সমস্ত প্রতিশ্রুতির ফ্ল্যাগশিপ যেসব প্রতিশ্রুতিগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, আপনারা সেটা দেখেছেন- আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, আমাদের কৃষক কার্ড নিয়ে অলরেডি আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, সরকার প্রথম পর্যায়ে আসন্ন ঈদুল ফিতর ২০২৬ এর পূর্বেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা চালু করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪৯০৮ টি মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৯৯০ টি মন্দির। সারা দেশে ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুইটি করে মোট ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮ টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুইটি করে মোট ৩৯৬ টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেব পাবেন ৫,০০০ টাকা করে সম্মানী। মুয়াজ্জিন সাহেব পাবেন ৩,০০০ টাকা করে সম্মানী। খাদেম সাহেব পাবেন ২,০০০ টাকা করে সম্মানী। তার মানে প্রতিটি মসজিদে মাসিক ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
পুরোহিত মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫,০০০ টাকা। সেবা সায়েদ পাবেন ৩,০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫,০০০ এবং বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩,০০০। গির্জার যাজক পাবেন ৫,০০০ এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩,০০০ টাকা। মানে প্রতিটি গির্জা, মন্দির এবং বুদ্ধ মন্দিরে দেওয়া হচ্ছে ৮,০০০ টাকা করে এবং প্রতি মসজিদে দেওয়া হচ্ছে ১০,০০০ টাকা করে।
তিনি বলেন, এছাড়া প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে ১,০০০ টাকা করে এবং দুর্গাপূজা বৌদ্ধ মা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত সেবায়িত বিহার অধ্যক্ষ বিহার উপাধ্যক্ষ যাজক ও সহকারী যাজকদেরকে ২,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, এ সম্মানী দেওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত সব উপকার ভোগীর কাছ থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এ সম্মানী পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, সম্মানী হাতে হাতে দেওয়া হবে না। তাদের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে এ টাকা তাদের একাউন্টে পৌঁছে যাবে। অতএব কোনো ধরনের দুর্নীতির মত সুযোগ আমরা এ সিস্টেমের মধ্যে রাখিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শব্দদূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ থাকলেও এবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে দেখা গেছে হাসপাতাল এলাকাকেই—যা স্বাভাবিকভাবে ‘নীরব অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচিত। পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৫২৬টি স্থানের মধ্যে দিনের বেলায় সর্বোচ্চ শব্দদূষণ রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল এলাকায়। সেখানে শব্দমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ১১০ ডেসিবেলে, যা স্বাভাবিক মানমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে রাতে সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ ধরা পড়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়—প্রায় ১০০ ডেসিবেল, যা নির্ধারিত মানমাত্রার তুলনায় অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতাল এলাকায় এ ধরনের উচ্চমাত্রার শব্দ রোগীদের সুস্থতার পথে বড় বাধা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এসব এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দ থাকা উচিত। 🚨 কেন বাড়ছে শব্দদূষণ জরিপে উঠে এসেছে কয়েকটি প্রধান কারণ— অতিরিক্ত যানবাহন ও যানজট অহেতুক হর্নের ব্যবহার নির্মাণকাজ ও শিল্পকারখানার শব্দ উচ্চশব্দের জেনারেটর ও সাউন্ড সিস্টেম বিশেষ করে নগর এলাকায় যানবাহনের চাপ এবং হর্ন ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ⚠️ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘসময় উচ্চমাত্রার শব্দে থাকলে— শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে অনিদ্রা, মানসিক চাপ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস ঘটে শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। 🧭 করণীয় কী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন— অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার বন্ধ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন জনসচেতনতা বৃদ্ধি আইন প্রয়োগ জোরদার এসব পদক্ষেপ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। 👉 সার্বিকভাবে বলা যায়, যেখানে মানুষের সুস্থতার জন্য নীরবতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—সেই হাসপাতাল এলাকাই এখন সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণের শিকার, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ঔষধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই, আগামীকাল দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।’ ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে একটি খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিরপুর নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোলিও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে গতকাল একটা নিউজ হয়েছে। আমরা বিষয়টির খোঁজ নিয়েছি। রোগী ভ্যাকসিন হাতে পেলেও যাওয়ার সময় ব্যাগে আর নেয়নি। পরে এসে বলেছে পোলিও ভ্যাকসিনটা নাই। আর সাংবাদিক হয়তো পুরাটা শুনে বা না শুনে ভুলভাবে লিখে দিয়েছে। পোলিও ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। আমার কাছে সব হিসাব রয়েছে। টাকা থাকলেও এসব ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ১৭ বছর কোনো কাজ হয়নি দাবি করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঠিকমতো কোনো কিছু বাস্তবায়ন হয়নি। আমি কাউকে দোষ দিবো না। আমরা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছি।’ হামের সংক্রমণ ও টিকাদান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত ছয়টা বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয় নাই। আমরা জরুরি ভিত্তিতে তা শুরু করি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি হেল্প না করত, তাহলে দেশের এই মানচিত্র আজকে অন্যরকম হতে পারত। আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরেন, ‘আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারা দেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।’ বর্তমানে টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। এরইমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ হয়ে গেছে। হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একটাও হামের রোগী নাই।’ রোগীদের চাপ সামলানো এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগীর চাপ সামলাতে আমরা তাঁবুরও ব্যবস্থা করছি। আগামীকাল থেকে ইউনিভার্সিটি প্লেগ্রাউন্ডে তাঁবু স্থাপন শুরু হয়ে যাবে। আমরা চাই না ডেঙ্গু রোগী আসুক। আমি চিকিৎসা জন্য চেষ্টা করতে পারব, কিন্তু সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিরোধ করা। কাজেই আমরা সিটি করপোরেশনকে বলেছি যাতে ওনারা মশক নিধনে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করেন।’
চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডন সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ মে তিনি দেশ ত্যাগ করবেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, সফরে তার সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ৬-৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। এদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও থাকবেন। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। সফর শেষে আগামী ১৭ মে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দুই বছর পর চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশ যাচ্ছেন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সফরটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাজনিত এবং এতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সময়মতো তিনি তার সহধর্মিণীসহ নির্ধারিত দেশে রওনা দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালে হৃদরোগের কারণে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বয়স এখন ৭৬ বছরের কাছাকাছি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়। এরপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি দুবাই হয়ে লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান এবং সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর আর তিনি চিকিৎসা নিতে বা নিয়মিত চেকআপ করাতে দেশের বাইরে যাননি। রাষ্ট্রপতির বয়সজনিত কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি হলেও তা সবসময় বিদেশে সম্ভব হয় না। দেশের ভেতরে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কেবল বিদেশেই পাওয়া যায়। সাধারণত রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেশের ভেতরেই সম্পন্ন হয়। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি বিদেশে যান। কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারির পরে নিয়মিত চেকআপ প্রয়োজন হলেও তা বিলম্বিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নিলে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে চাইলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। যেহেতু রাষ্ট্রপতির ঘন ঘন বিদেশ সফর হয় না এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার কার্যক্রম মূলত আনুষ্ঠানিক, তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা করতে হলে সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি নিয়মিত চেকআপে যেতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি এক গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইলেও তা পাননি। লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হাসপাতালসহ বিদেশে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। এটিকে তিনি ‘মানসিক পীড়ন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় বিজয় লাভ করলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রেস উইং পুনর্বহাল করা হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। রাষ্ট্রপতির এ আসন্ন লন্ডন সফর তার পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সফরগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।