২০১৬ সালের ১ জুলাই, দিনটি ছিল শুক্রবার। দিনের আলো নিভতেই গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার ৭৯ নম্বর রোডের রেস্তোরাঁ ‘হোলি আর্টিসান বেকারি’ রূপ নিয়েছিল এক বিভীষিকাময় রক্তাক্ত উপাখ্যানে।
রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে রেস্তোরাঁটিতে সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা, যা স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো দেশ। সেই রাতের হামলায় ২০ জন নিরীহ মানুষের নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে।
আজ প্রায় এক দশক পর, সেই ভয়াবহ স্মৃতি যখন মানুষের মনে এখনো দগদগে, ঠিক তখনই জনমনে নতুন প্রশ্ন—দেশে আবারও জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না?
গত কয়েক মাস আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানোর পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন বড় ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবুও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, দেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। উগ্রবাদী কিছু সংগঠন নীরবে পুনর্গঠিত হয়ে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা ছোট ছোট সেল গঠন এবং লো-প্রোফাইল কার্যক্রমের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাধিক বিস্ফোরণ এবং পরে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৭ জনের গ্রেফতারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আবারও সতর্ক অবস্থানে নিয়ে আসে। এছাড়া আন্তর্জাতিক একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে দেশীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার লিংক এবং দেশীয় জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র তৎপরতাও এসময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তদন্তে শুধু স্থানীয় নেটওয়ার্ক নয়, বরং পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে কিছু ব্যক্তির পরোক্ষ যোগাযোগ বা অনলাইন লিংকের তথ্যও উঠে এসেছে।
বর্তমান নিরাপত্তা সতর্কতার মুখে উগ্রবাদ দমনে গড়ে ওঠা বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের জঙ্গিবিরোধী দুই বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) ভূমিকা এখন বিভিন্ন মহলে সমালোচিত।
অভিযোগ রয়েছে, উগ্রবাদ মোকাবিলার জন্য তৈরি এ দুটি ইউনিট বর্তমানে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী, রাজনৈতিক মামলার আসামি এবং প্রচলিত অপরাধ দমনের কাজেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত সিটিটিসি মোট ১৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে মাত্র ১১ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বাকি ১৪১ জনই মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন প্রচলিত অপরাধে অভিযুক্ত।
একইভাবে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) ৫০ থেকে ৬০ জনকে গ্রেফতার করলেও তাদের অধিকাংশই প্রচলিত অপরাধী। জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বড় কোনো অভিযান বা তৎপরতা এ ইউনিটের পক্ষ থেকে চোখে পড়ছে না।
বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যখন জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, তখন এই বিশেষায়িত ইউনিটগুলো কেন প্রচলিত অপরাধ দমনে ব্যস্ত?
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়, দেশে জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভিন্ন এবং অনেক ঘটনায় অতীতের তুলনায় ভিন্ন ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। এরপর থেকেই সিটিটিসি ও এটিইউর জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়। পরবর্তীসময়ে ইউনিট দুটি মূলত প্রচলিত অপরাধ দমনের দিকেই বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। যার মধ্যে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট অভিযান বেশি দেখা যায়।
তবে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, আগে সিটিটিসিতে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বিষয়ে দক্ষ এবং দীর্ঘদিন কাজ করা বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইউনিটটিকে অনেকটাই ‘ডাম্পিং পোস্টিং’-এ পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করা অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অনেককে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
আবার কেউ কেউ জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে বর্তমানে সিটিটিসিতে জঙ্গিবাদ নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যারা বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন, তারা চেষ্টা করলেও জঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত অপরাধের ধরন অন্যসব অপরাধের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে তাদের সময় লাগছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইউনিটটির জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। আগের অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তার বদলি ও বিভিন্ন কারণে ইউনিটটিতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন আবার নতুন করে টিম গঠন ও কার্যক্রমকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। তবে পুরো সক্ষমতা ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে এটিইউতেও। ৫ আগস্টের পর কিছু কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন ধরনের চাপ ও বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এটিইউর একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীসময়ে ইউনিটটি জঙ্গিবিরোধী কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছিল। তবে ওইসব অভিযানের পর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। একপর্যায়ে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনায় অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। ফলে পরে ইউনিটটির তৎপরতা মূলত প্রচলিত অপরাধ দমন কার্যক্রমের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
অতীতে জঙ্গি দমনে কাজ করা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, অতীতে দেশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিটগুলো সফলভাবেই একাধিক বড় অভিযান পরিচালনা করেছে এবং উগ্রবাদ দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
তার ভাষ্য—তখন গোয়েন্দা নজরদারি, অনলাইন মনিটরিং, তথ্য বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের অভিযান নিয়মিত ছিল। কিন্তু এখন সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে যদি আবার উগ্রবাদী তৎপরতার শঙ্কা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মূল ফোকাসও সেদিকেই থাকা উচিত।
এ বিষয়ে গত ২৫ এপ্রিল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমরা কাজ করছি, ইনশাআল্লাহ আমরা এটি ফেস করতে পারবো। দেশে জঙ্গি বা উগ্রবাদী আছে কি নেই, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করার মতো অবস্থায় এখনই যাওয়া সম্ভব নয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও নজরদারি চলমান রয়েছে।
নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ কখনো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল না; বরং ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও আড়ালে বিভিন্ন সময়ে তাদের তৎপরতা চলমান ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর কার্যক্রমে শিথিলতা তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে এ হুমকি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, দেশে উগ্রবাদ নতুন করে তৈরি হয়নি, বরং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সক্রিয় ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম ছিল। তারা তখন অন্য ফর্মে কাজ করেছে এবং নিজেদের অনেক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নও করতে পেরেছে। তবে এখন রাজনৈতিক সরকার আসায় সেই উদ্দেশ্যগুলো আগের মতো সহজে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জঙ্গিবাদকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। জঙ্গিদের অনেককে ঢালাওভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টিকে ইগনোর করা হয়েছে। ফলে তারা আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
‘অন্যসব অপরাধ মোকাবিলার জন্য পুলিশের সাধারণ ইউনিট তো আছেই। বিশেষায়িত ইউনিটগুলো গঠন করা হয়েছে বিশেষ ধরনের হুমকি মোকাবিলার জন্য। তারা যদি সেই কাজই না করে, তাহলে বুঝতে হবে রাষ্ট্র বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কিংবা অস্বীকার করছে। সিটিটিসি ও এটিইউ যদি সক্রিয়ভাবে উগ্রবাদ দমনে কাজ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেখা যেতে পারে’—যোগ করেন ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় ‘হোলি আর্টিসান বেকারি’তে সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেই রাতে ২০ জন নিরীহ মানুষ নির্মমভাবে প্রাণ হারান জঙ্গিদের হাতে। রাতভর চলা সেই জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটে পরদিন সকালে, সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে। ওই অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জন জিম্মিকে।
হামলার দায় স্বীকার করে ওই রাতেই বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তৎকালীন সরকার আইএসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এই হামলার জন্য দায়ী।
জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালির নাগরিক ছিলেন নয়জন, জাপানের সাতজন, ভারতের একজন ও বাংলাদেশি তিনজন। সেই রাতে জিম্মিদের মুক্ত করতে অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের বোমা হামলায় নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। ভয়াবহ এই জঙ্গি হামলায় সেই রাতে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ।
নৃশংস সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় দুটি ধাপ পেরিয়েছে। এ মামলায় বিচারিক আদালতের পর হাইকোর্টে রায় হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছেন দণ্ডিত আসামিরা, যা শুনানির অপেক্ষায়।
বিভীষিকাময় সেই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই সময়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সাংবাদিকতায় পড়াশোনার তাগিদে সংবাদ দেখা ও শোনার আগ্রহ ছিল অনেক। ওইদিন রাত প্রায় ৯টা ছুঁইছুঁই, তখন টিভির স্ক্রলে লেখা ভেসে এলো—গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক মানুষ সেখানে আটকা পড়েছে। অনেক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। হাতে ছিল ওয়ালটনের একটি স্মার্ট মোবাইল, বিষয়টি বিস্তারিত দেখতে ভিজিট করি গুলশানের ঘটনাস্থলে। কিন্তু তখনো জঙ্গি হামলার ঘটনার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, তখন দেখি মিরপুর-১ নম্বরের সি ব্লকের আকবর মসজিদের পাশের একটি দোকান থেকে বের হয়ে রাকিব নামের এক যুবক ফোনকল করেন তার বোনের কাছে। আগ্রহ প্রকাশ করে জানতে চাই—‘আপনার কেউ সেখানে আটকা পড়ছে কি না?’ উত্তরা তিনি বলেছিলেন, ওই রেস্তোরাঁর পাশের একটি ভবনে ভাড়া থাকেন তার বড় বোন।
‘বড় বোনের ভাষ্যে বিভীষিকাময় রাতের বর্ণনাটা ছিল এরকম—‘আমাকে আমার ড্রাইভার বললেন, আপা আপনি এখন বেরোবেন না, নিচে গোলাগুলি চলছে। তারপর দেখি আমার ড্রয়িং রুমের জানালার কাচ ফেটে গেল। তারপর থেকে অনবরত গুলির শব্দ শুনতে পাই। এরপর আমার মেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। আমরা সবাই কান্নাকাটি শুরু করি। কারণ খুবই আতঙ্কজনক একটা পরিস্থিতি চলছিলো’—বলছিলেন রাকিব।
রাত বাড়ার সঙ্গে ঘটনার বিস্তারও আরও বাড়তে থাকে। দেশ থেকে বিদেশ, সবার চোখ তখন হোলি আর্টিসান রেস্তোরাঁর জঙ্গি হামলার দিকে। কতজন জিম্মি করেছে, কতজনকে মেরে ফেলা হয়েছে—এসব প্রশ্ন যেন ওই রাতে সবার মুখে ও মনের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এরমধ্যে খবর এলো জঙ্গিদের গুলিতে পুলিশের দুই সদস্য মারা গেছে। তখন ভয় আরও বাড়তে শুরু করে। তার মানে জঙ্গিদের সংখ্যা অনেক ও তারা অনেক শক্তিশালী।
ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক এক টুইটে লেখেন—‘পুলিশ ইজ সারাউন্ডিং দ্য এরিয়া, গানফায়ার স্টিল অন’।
রাতভর হোলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রাখার পর ২ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় সেনা, নৌ, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ কমান্ডো দল অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে কমান্ডো বাহিনী অভিযান শুরু করে। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দলের সদস্যরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় বাইরে থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
সকাল সোয়া ৮টায় ওই রেস্তোরাঁ থেকে প্রথম দফায় নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বের করে আনা হয়। ৮টা ৫৫ মিনিটে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় অভিযানকারীরা। গোয়েন্দা দল ভবনের ভেতর বিস্ফোরকের জন্য তল্লাশি শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে গোয়েন্দারা। ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযান শেষ হয়। কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে প্রায় ১২ ঘণ্টার রক্তাক্ত জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে।
সকাল ১০টায় চার বিদেশিসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর জানানো হয়। রেস্টুরেন্টের ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজনের মরদেহ পাওয়ার তথ্য জানায় পুলিশ। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে যৌথ অভিযানে জঙ্গিদের ছয়জন নিহত এবং একজন ধরা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকা-কুমিল্লার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ রেলপথ কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি, শ্যামপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–কুমিল্লা যাতায়াতের দূরত্ব কমার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবিত রেলপথটির নাম ‘কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ’। প্রচলিত রেলপথের বিকল্প হিসেবে এ কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রেলপথটির বড় অংশ উড়ালপথে নির্মাণ এবং এতে কোনো লেভেল ক্রসিং রাখা হবে না। বর্তমানে কুমিল্লা থেকে আখাউড়া, ভৈরব বাজার ও টঙ্গী হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। নতুন রেলপথ চালু হলে বিদ্যমান পথের তুলনায় দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমতে পারে। এতে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লার যোগাযোগ আরও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামমুখী রেল চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন রেলপথ চালু হলে ঢাকা–লাকসাম–চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় কমে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। রেলের বহরে নতুন কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, কুমিল্লা–ঢাকা সরাসরি নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তার মতে, নতুন কর্ড লাইন চালু হলে কুমিল্লার মানুষের রাজধানীকেন্দ্রিক যাতায়াত সহজ হবে। কুমিল্লায় বসবাস করেও ঢাকায় গিয়ে নিয়মিত অফিস করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা-ও জানতে চেয়েছে কমিটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর কার্যক্রম ও জনবল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মিশনগুলোর জনবল বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। কমিটি সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনগুলোর সেবার মানোন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত আধুনিকায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স, শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ সেবা ও হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেয়। বৈঠকে মিশনগুলোর জনবল সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। সৌদি আরবে বাংলাদেশের তিনটি মিশন রয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস, জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় (ওআইসি) বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন রয়েছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৪ জন কর্মকর্তা। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১১ জন কর্মকর্তা। আর ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন একজন কর্মকর্তা। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা, কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা, শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পাসপোর্ট ও ভিসাসেবা এবং হজ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় এসব মিশনকে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার তুলনায় বর্তমান জনবল অপ্রতুল বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে বলা হয়। ১৫৩তম আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং কমিটির সভাপতি আইপিইউর নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানানো হয়। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে সহযোগিতার জন্যও মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কমিটি। এ ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশ গমন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দেশে ফেরানোর পদক্ষেপ নিয়ে আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয় ছিল কার্যপত্রে। বৈঠকে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশল নিয়েও আলোচ্যসূচি ছিল। বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল। সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত যে রায় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দিয়েছিল সেটা বাতিল করেছে এবং জুডিশিয়ালি সেটা রিভাইভ (পুনর্বহাল) করেছে। লেজিসলেচার বা আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।’ এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকির ফলেই এ বছর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হয়েছে- যা আগামী বছরগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা করছি।