তেহরান ও তেল আবিবের সীমানা ছাড়িয়ে চলমান সংঘাত এখন সরাসরি আঘাত হেনেছে বৈশ্বিক জ্বালানির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিতে। একদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) তাদের ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ অভিযান শুরু করে হরমুজে মাইন বসাচ্ছে। অন্যদিকে তা ঠেকাতে সেখানে মাইন ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংসের দাবি করে নজিরবিহীন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৯ কিলোমিটার। কিন্তু এই সরু জলপথটিই বিশ্ব অর্থনীতির ধমনি। যেখান দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান এই কৌশলগত রুটটিতেই সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে এক ফোঁটা তেলও যেতে দেওয়া হবে না। আরব সাগরের এই ‘জ্বালানি যুদ্ধ’ শুধু মধ্যপ্রাচ্যকেই নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেই রীতিমতো এলোমেলো করে দিয়েছে।
এই আঞ্চলিক সংঘাত যেন দীর্ঘায়িত না হয় সেজন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে কূটনৈতিক বিশ্ব। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, পুরো অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার আগেই অবিলম্বে এই যুদ্ধ থামাতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্যদিকে সংঘাত ভুলে সব পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে কাতার।
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে ২ টনের দানবীয় মিসাইল ছুড়ছে ইরান। এর প্রচণ্ড আঘাতে কেঁপে উঠছে তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি। আকাশ থেকে ধেয়ে আসা অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাত নামলেই এখন শহরগুলোতে আতঙ্ক ভর করে। এ অবস্থায় সুর নরম করেছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন বলছেন, ‘আমরা অন্তহীন যুদ্ধ চাই না।’ কুয়েতের আল আবিদি এবং বাহরাইনের জুফায়ার ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন। এমনকি বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের ‘লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট ক্যাম্পে’ও হামলা চালানো হয়েছে। আরব আকাশসীমা ব্যবহার করে ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অন্তত ৬টি ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। আবুধাবি ও তেল আবিবে নিজেদের দূতাবাস এবং দুবাইয়ে কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন ৪৩ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক।
যুদ্ধের ১২তম দিনে নিহতের সংখ্যা ১৮শ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে ইরানে ১৩০০, লেবাননে ৫৭০, ইসরাইলে ১৫ ও ৮ মার্কিন সেনা রয়েছে। এছাড়া ১৪০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। ইরান ও লেবাননে নির্বিচারে বেসামরিক অবকাঠামোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায়ও হামলা চালানো হচ্ছে। এতে দেশ দুটিতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, হামলায় দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২৯৪৩টি বসতবাড়ি, ১৬১৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা, ৬৫টি স্কুল এবং ৩২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা ও তাসনিম নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।
হরমুজ দিয়ে ‘এক লিটার তেল’ও যেতে দেবে না ইরান : তেহরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেল’ও পৌঁছাতে দেবে না ইরান। তাদের উদ্দেশে যাওয়া যে কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার এখন থেকে ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসাবে গণ্য হবে। ইরানের এ মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেল আমদানিকারকরা প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর তেলের দাম নির্ভর করে, যা আপনারা অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি জাহাজে হামলা : হরমুজ প্রণালিতে পৃথক তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে বলে বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একটি জাহাজে হামলার পর সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং বেশির ভাগ কর্মীকে সরিয়ে নিতে হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমানের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ুরি নারি’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার হামলার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, জাহাজটির আগুন নেভানো হয়েছে এবং এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রয়োজনীয় কিছু কর্মী এখনো জাহাজটিতে অবস্থান করছেন।
রাত নামলেই আতঙ্কে ইসরাইলিরা : সূর্যাস্তের পরই ইসরাইলজুড়ে নেমে আসে এক অজানা আতঙ্ক। মঙ্গলবার রাত থেকে আইআরজিসি ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে ২ টন ওয়্যারহেডবাহী মিসাইল ছুড়তে শুরু করেছে। এই দানবীয় বোমার আঘাতে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্ষরিক অর্থেই ধসে পড়েছে। শহরগুলোতে যখনই সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, তখন জীবন বাঁচাতে হাজারো মানুষ হন্যে হয়ে মাটির নিচের বাংকারে ছুটতে থাকেন। লেবানন ও ইরান থেকে ধেয়ে আসা অবিরাম এই মিসাইল হামলার কারণে তেল আবিব থেকে হাইফা-পুরো দেশের মানুষেরই এখন নির্ঘুম রাত কাটছে।
যুদ্ধ থামাতে হবে-এরদোগান : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলমান যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করতে হবে, নইলে তা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। এ যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করবে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি আরও বাড়বে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা : ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের সেনারা যে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে, তার পাশে এই হামলা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ওমানের সালালাহ বন্দরের তেলের ডিপোতে হামলা : ওমানের সালালাহ বন্দরের তেলের ডিপোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা আমব্রে। সংস্থাটির বরাতে ওমান টেলিভিশন জানিয়েছে, বন্দরের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাংকে হামলার হুমকি ইরানের : ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাংকে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের একটি ব্যাংকে হামলার পালটা ব্যবস্থা হিসাবে এই হুমকি দিল তেহরান।
কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা : ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কুয়েতের আল-উদাইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটি, মোহাম্মদ আল-আহমদ নৌ ঘাঁটি এবং আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
গুগলসহ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের নিশানা : চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আইআরজিসি। তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম চালানো বড় বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির অফিস ও স্থাপনাগুলোও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আইবিএম, ওরাকল ইত্যাদি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমান ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন আর কেবল তেলবাহী জাহাজের পথ নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল ‘চোকপয়েন্ট’। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার উপক্রম কেবল একটি আঞ্চলিক শঙ্কা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত। আজ এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আমরা কি তবে এক নজিরবিহীন বৈশ্বিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে? ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা এখন সুতার ওপর ঝুলছে। যদি তেহরান তার হুমকির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। এই সংকটের প্রভাব কেবল তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি রুদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলে এক ভয়াবহ ছেদ। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে এশীয় ও ইউরোপীয় বাজারে পৌঁছায়। ফলে শিল্পোন্নত দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হতে পারে। এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে উন্নত বিশ্বের শেয়ার বাজার ধসে পড়ার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সামরিক পাহারার যে ‘অপারেশন’ চালাচ্ছে, তা কার্যত আগ্নেয়গিরির ওপর বসে থাকার মতো। সামরিক শক্তির মাধ্যমে এই রুট সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির যুগে একটি বিমূর্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। তেহরান খুব ভালো করেই জানে যে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্রটি পারমাণবিক বোমা নয়, বরং এই ২১ মাইল চওড়া জলপথ। এই ‘ইকোনমিক লিভারেজ’ ব্যবহার করে তারা পশ্চিমাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। পরিশেষে, হরমুজ প্রণালি আজ কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মানদণ্ড। যদি কূটনীতির টেবিল ব্যর্থ হয় এবং কামানের গর্জন এই রুটটিকে স্থায়ীভাবে রুদ্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতির গলার এই ফাঁস আরও শক্ত হবে। বর্তমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তবে ২০২৬ সালটি ইতিহাসের পাতায় এক অন্ধকার অর্থনৈতিক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একযোগে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, রকেটগুলো ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েল–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব রকেট নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর বন্দরনগরী হাইফাসহ গালিলি ও গোলান উপত্যকা অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর এটিই হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় রকেট হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শীতল করার পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে ইউরোপের দেশ স্পেন। বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত স্পেনের সরকারি গেজেটে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর মাধ্যমে একদিন আগে সরকারের অনুমোদিত সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর মাদ্রিদ তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে। বিরোধের সূত্রপাত হয়, যখন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘোষিত কয়েকটি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। মূলত মার্কিন ডলারের মান বাড়া এবং ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ার কারণে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং পাল্টা হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনায় স্বর্ণের আকাশ ছোঁয়ার পূর্বাভাসের মধ্যেই দাম কমায় বাজারে কিছু স্বস্তি দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫,১৭৭.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্স ১.১ শতাংশ কমে ৫,১৮৫.২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। খবর রয়টার্সের। অন্যদিকে মার্কিন ডলার সূচকও (ডিএক্সওয়াই) প্রায় ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত পণ্য, বিশেষ করে স্বর্ণ, তুলনামূলকভাবে বেশি দামী হয়ে যায়। এর ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। এ কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম স্বল্পমেয়াদে চাপের মুখে পড়েছে।