আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানচিত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও কৌশলগত জলপথ হলো হরমুজ প্রণালি। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রস্থের সংকীর্ণ এই সমুদ্রপথটি এখন বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে। চলতি বছর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা এই প্রণালিকে সাধারণ একটি বাণিজ্যপথ থেকে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার ও শক্তির ভারসাম্যের এক জটিল কেন্দ্রে পরিণত করেছে। বিশ্বের অনেক দেশের কাছে হরমুজ এখন কেবলই একটি ‘ঝুঁকি’, কিন্তু ভারতের জন্য এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগত সক্ষমতার বিশাল এক পরীক্ষা।
প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ। যদিও এই পথের বিকল্প কিছু পাইপলাইন রয়েছে, তবে সেগুলোর কোনোটিই হরমুজের বিশাল প্রবাহের সমকক্ষ হতে পারে না। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি যেহেতু ‘জাস্ট ইন টাইম’ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাই হরমুজে সামান্য অস্থিরতাও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে—তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়, জাহাজ পরিবহন ও বীমা ব্যয় বাড়ে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। ফলে হরমুজ এখন আর শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং এক ভয়াবহ বৈশ্বিক ঝুঁকির উৎসে পরিণত হয়েছে।
এক সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ভারতের নির্ভরতা ছিল প্রশ্নাতীত। তবে গত এক দশকে নয়াদিল্লির বাণিজ্য কৌশল আমূল বদলেছে। ভারত এখন বাণিজ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বহুমুখী নীতি গ্রহণ করেছে।
এই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হলো পূর্বপ্রস্তুতি। ভারত তার কৌশলগত তেল মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, সংকটের সময়ও দেশটি দুই মাসের বেশি সময় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এটি আকস্মিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, ভারত তার আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। বর্তমানে ভারত শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়, বরং রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। এর ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংকট ভারতকে আগের মতো প্রভাবিত করতে পারছে না।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারতের ব্যালেন্সিং কূটনীতি। বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে ‘মাল্টি অ্যালাইনমেন্ট’ নীতির মাধ্যমে ভারত চরম উত্তেজনার মধ্যেও তার জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
একই সঙ্গে ভারতের নৌ সক্ষমতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি ‘অপারেশন সংকল্প’ এর আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী এখন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি নিরাপত্তা দিচ্ছে। অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান, হেলিকপ্টার ও রিয়েল টাইম তথ্য ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি মানবিক দিকও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দেশটির অগ্রাধিকার।
তবে এত প্রস্তুতির পরও ভারত পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি সংকট চললে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ব্যয়ের ওপর, যা পুরো অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করবে। এছাড়া যুদ্ধের আবহে জাহাজের বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়াও একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
এই বাস্তবতায় ভারত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজছে। ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর’ (আইএমইসি) প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রপথের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে একটি বিকল্প স্থল ও সমুদ্র সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন কেবল ভূগোলের অংশ নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির এক শক্তিশালী প্রতীক। এটি যেমন ঝুঁকি তৈরি করে, তেমনি সুযোগও সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যারা কূটনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার সঠিক সমন্বয় করতে জানে তাদের জন্য। ভারতের বর্তমান কৌশল সক্রিয় নৌ উপস্থিতি, কূটনৈতিক ভারসাম্য ও জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ—একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে দেশটির উত্থানকে ত্বরান্বিত করছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন সরবরাহ ব্যবস্থাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন সামুদ্রিক নেতৃত্ব আর ঐচ্ছিক বিষয় নেই, বরং অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি হয়তো আজও অপরিহার্য, কিন্তু ভারতের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন এক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে একক কোনো সমুদ্রপথ আর কোনো দেশের ভাগ্য নির্ধারণের একক চাবিকাঠি থাকবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারেন— এমন আশঙ্কায় নতুন পাঁয়তারা করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি তড়িঘড়ি করে ইরানে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি চান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব ইরানের সামরিক ক্ষতি করতে। এ অবস্থায় দেশ দুটির কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারে, তাই এর আগেই যতটা সম্ভব ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চান তিনি। বুধবার (২৫ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলা বাড়াতে বলেছেন নেতানিয়াহু, যাতে ইরানের অস্ত্র শিল্পের বড় অংশ ধ্বংস করা যায়। মূলত এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা যুদ্ধ-সমাপ্তি পরিকল্পনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সরকার ওই পরিকল্পনার কপি হাতে পাওয়ার পর মনে করেছে, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমাতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো সময় শান্তি আলোচনা ঘোষণা করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে একটি পরিকল্পনার কথা তিনি দেখেছেন, তবে সেটি হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেনি। তার দাবি, এতে কিছু সত্যতা আছে, কিন্তু সব তথ্য সঠিক নয়। এর আগে গত মঙ্গলবার সামরিক সদর দপ্তরে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই নির্দেশ দেন। সেখানে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাকে ব্রিফ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তাড়াহুড়ার পেছনে একটি বড় বাস্তবতা কাজ করছে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ট্রাম্পের হাতে। ফলে যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর প্রভাব সীমিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন। এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গত সোমবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে বলে জানা গেছে।
তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। একইসঙ্গে তেল আবিবের উত্তরে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বার্তায় বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে এ হামলা চালানোর তথ্য জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, কিরিয়া এলাকাটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের পাশাপাশি সরকারের আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে এ হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের লড়াই চলছে। ইসরায়েলও জানিয়েছে, বুধবার সেখানে তাদের আরও এক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টায় ‘আশার আলো’ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। যদিও তেহরান এখনও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল, তবুও আলোচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে চীন। দ্য স্ট্রেইটসম টাইমসের খবর জানায়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে ফেরার সংকেত দিচ্ছে। এর আগে গত ২৫ মার্চ মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই আলোচনার আগ্রহ দেখানোয় শান্তির একটি ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছে। চীনের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। এই মুহূর্তে আলোচনার কথা বলা মানে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পথ খুলে না দিলে বড় বড় বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংস করা হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে’ খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। তিনি জানান, হামলা শুরু হবে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিয়ে। এই হুমকি এমন এক সময় এলো, যখন হরমুজ প্রণালি প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগেও একবার ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানোর হুমকি দেন। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্রদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আঘাত করা হলে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে। ইরান বলছে, তারা যেকোনো হুমকির জবাব সমানভাবে দিতে প্রস্তুত। ইরান আরও বলেছে, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হতে পারে।