আন্তর্জাতিক

একটু একটু করে পুরো ফিলিস্তিনকেই নিজেদের মানচিত্রে জুড়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

একটু একটু করে পুরো ফিলিস্তিনকেই নিজেদের মানচিত্রে জুড়ে দিচ্ছে ইসরায়েল। গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও থামেনি তেলআবিবের দখলদারিত্ব। বিশেষ করে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসন কমছেই না। নতুন করে তেল আবিবের দখলকৃত অঞ্চলটিতে ১৯ টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ তাদের।  

 

গেল সপ্তাহেই অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় ১৩টি ফ্ল্যাটসহ একটি ভবন ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি।

 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি ও আউটপোস্টের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। 

 

দখলদারদের থাবা সবচেয়ে বেশি পড়েছে নাবলুস, রামাল্লা, সালফিত, বেথলেহেম ও জেরিকোয়। এর ফলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হবে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বসতি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। 

 

শুধু নিয়ন্ত্রণ নিয়েই শান্ত হচ্ছে না তেলআবিব। নিয়মিত চলছে হামলা ও আগ্রাসন। গাজায় অভিযান চলাকালেই পশ্চিম তীরে নিয়মিত ধরপাকড়, হত্যা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী। যুদ্ধবিরতির পর এই হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে আরও।

 

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলোয় প্রাণহানির শিকার হয়েছে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আহতের সংখ্যা বহু। গ্রেপ্তার হয়েছে ২১ হাজারের বেশি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানা না পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে উল্লিখিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান।   রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানান। খবর রয়টার্সের।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়ে বলেছিল, শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।   গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও দৃঢ়; ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।’   তিনি বলেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বুঝতে হবে, ‘(কূটনৈতিক) প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।’   পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা হবে না রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাবে নিজেদের সামগ্রিক অবস্থান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করেছে তেহরান। তবে আরও কিছু বিষয় ওয়াশিংটনকে জানানো বাকি রয়েছে।   মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমেরিকানদের প্রস্তাবগুলো কম-বেশি তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুর ক্ষেত্রে। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে এবং এই জলপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।’   তিনি আরও অস্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন কথা অস্বীকার করেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু করেনি ইরান।   আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানান, বর্তমানে যে নথিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে সাত দিনব্যাপী বিশ্বাস-স্থাপনের প্রক্রিয়ার রূপরেখা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে জুনে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের একটি উন্নত সংস্করণে ফিরিয়ে আনা, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।   ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মতপার্থক্যের মূল কারণ পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নয়, বরং পদক্ষেপগুলো কোন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে।   আরাগচির হুঁশিয়ারি রবিবার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথই বেছে নেবে বলে প্রত্যাশা তেহরানের। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।   বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি বড় আকারের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করে, তবে ইরান আরও ব্যাপক ও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   আরাগচি আরও বলেন, ‘তারা যদি আবারও সামরিক সমাধানের পথে এগোয়, তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকব এবং নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেব।’   রোববার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা

সংগৃহীত ছবি

দিল্লি বিক্ষোভে নারী সাংবাদিকদের হেনস্তা, পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত

সংগৃহীত ছবি
ফ্লাইদুবাই ঘটনার পর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানে হামলার হুমকি

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করার কথিত চেষ্টার পর এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যাত্রী বহনকারী বিমানে একই ধরনের হামলার আহ্বান জানিয়েছে আল-কায়েদার সমর্থক একটি প্রকাশনা।    ওই আহ্বানে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।’ ঘটনাটি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তা এবং বিদেশি পাইলটদের যাচাই-বাছাই নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার সমর্থকদের প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রকাশনা ‘আল-বায়ান’ এর সর্বশেষ সংখ্যায় এই আহ্বান জানানো হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশনাটি জুলাইয়ে চালু হয়েছে এবং আল-কায়েদাপন্থীদের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-বায়ানের ওই লেখায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত অন্যদের বহনকারী বিমানকে হামলার লক্ষ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখাটিতে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনারও উল্লেখ করা হয়।   আল-বায়ানের লেখায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এখন আগের তুলনায় বেশি শত্রু রয়েছে। প্রকাশনাটির বক্তব্য পরে আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব প্রচারণার সঙ্গে আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি সম্পৃক্ততা কতটা, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই হুমকির পটভূমিতে রয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর ঘটনা। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। উড়োজাহাজটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করার পর বিমানের এক সহকারী পাইলট মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যাত্রী ও অন্য ক্রুদের সহায়তায় হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, হামলায় আহত পাইলট ছিলেন ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। হামলার পর ইসরায়েল দেশটিতে আসা উড়োজাহাজের পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয়। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের পক্ষ থেকে তখনই সতর্ক করে বলা হয়, ঘটনার বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোই ভালো এবং অনেক বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়।   ঘটনার তদন্তে আটক করা হয়েছে ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামিকে। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু কার্যক্রমও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং অন্য জঙ্গি ব্যক্তিত্বদের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। তবে এসব পোস্ট হামাম নিজে করেছিলেন কি না, নাকি আগে থেকে নির্ধারিত বা অন্য কেউ প্রকাশ করেছিল- তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরে তার সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো মুছে দেওয়া হয়।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা হামামের সম্ভাব্য উগ্রপন্থী হয়ে ওঠার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি ধর্মীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং হামলার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সংগঠনগত যোগসূত্র চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনা এরই মধ্যে বিমান নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে- আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করা পাইলটদের যাচাই কতটা কার্যকর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯/১১ হামলার পর পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই অনেক কঠোর করা হলেও কোন দেশ ও এয়ারলাইন কীভাবে সেই যাচাই করে, তাতে পার্থক্য রয়েছে। বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটদের শুধু নিয়োগের সময় নয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতার মূল্যায়নও করা হয়।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানিয়েছেন, ইসরায়েলগামী প্রতিটি ফ্লাইটের পাইলটের পরিচয় ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই আরও বাড়ানো হবে। তবে ৪ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিদেশি পাইলটদের গোয়েন্দা পটভূমি যাচাই করার মতো সক্ষমতা তাদের নেই এবং বিদেশি এয়ারলাইনের পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই মূলত সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের দায়িত্ব।   আল-কায়েদাপন্থী প্রকাশনায় নতুন করে ‘কপিক্যাট’ হামলার আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও হামলাকারীর সম্ভাব্য আদর্শিক যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে হুমকিটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলার প্রমাণ না হলেও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এটি নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।    বিশেষ করে একটি বিমানের ভেতরে থাকা একজন ক্রু সদস্যই যদি নিরাপত্তার বড় ঝুঁকিতে পরিণত হন, তাহলে প্রচলিত যাত্রীনিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে পাইলট ও ক্রুদের পরিচয়, মানসিক অবস্থা, আদর্শিক ঝুঁকি এবং অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ব্যবস্থাও কতটা কার্যকর- সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তথ্য সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস। 

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬

স্পেনে আবাসন সংকট, রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

ছবি: সংগৃহীত

রুশ হামলায় দুই দিনে কিয়েভের দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতু অচল

সংগৃহীত ছবি
নেপালে বন্যার ৩৭ দিন পর জীবিত মিলল নিখোঁজ মালয়েশিয়ান নাগরিক

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ ৫৫ মালয়েশিয়ান নাগরিকের মধ্যে একজনকে ৩৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট বন্যায় নিখোঁজ হওয়া ওই মালয়েশিয়ান পর্যটক নিরাপদে দেশে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   বিবৃতিতে তিনি জানান, নেপাল ভ্রমণে যাওয়া ওই নাগরিক কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে নিজের সুরক্ষার কথা নিশ্চিত করেন। ভয়াবহ সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দীর্ঘ ৩৭ দিন পর তাকে জীবিত খুঁজে পাওয়ায় নিখোঁজ অন্য পরিবারগুলোর মনে কিছুটা স্বস্তি ও আশা ফিরে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থার (ইউএসজিএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে সৃষ্ট কম্পনের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য। এই ধ্বংসাত্মক ঘটনায় নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।   এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, নেপাল বন্যার পর কাঠমান্ডু দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ৫৫ মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ মিলছিল না। মনিভান্নান রেথিনাম জানান, গত ২৫ আগস্ট বিকাল ৩টা ২৬ মিনিটে (বন্যার ঠিক এক দিন আগে) ওই পর্যটক নাগথালি ভিউপয়েন্টে ছিলেন বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুৎ ও খাবার পানির তীব্র সংকটের কারণে তিনি ওই দুর্গম এলাকায় সাময়িকভাবে আটকা পড়েছিলেন। নেপালে সাম্প্রতিক ওই দুর্যোগের পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের নেপালের পর্যটন দপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

স্পেনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে জনস্রোত

ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশে বাধা

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণের দামে এবার কী হতে পারে, মিলছে যে পূর্বাভাস

0 Comments