বিশ্ব

ড্রোন হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে ফের চালু দুবাইয়ের আকাশপথ

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আকাশপথে বিমান চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ)।

 

জিসিএএর বরাতে গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমস জানায়, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় আগে জারি করা অস্থায়ী সতর্কতামূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের পুরো আকাশসীমায় বিমান চলাচল এখন স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

 

সোমবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির মধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হঠাৎ আকাশপথ বন্ধ করে দেয় ইউএই। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় বিমান চলাচল চালু করা হয়।

 

মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফ্লাইট ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে।

 

এর আগে, ড্রোন হামলার জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন ধরে যায়। এর ফলে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করে জিসিএএ। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করে এমিরেটস। একই সময়ে আবুধাবি থেকে সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।

 

পরবর্তীতে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আকাশপথ স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দেয় জিসিএএ। সংস্থাটি জানায়, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল ঝুঁকির সার্বিক মূল্যায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

জিসিএএ জোর দিয়ে বলেছে, আকাশপথের নিরাপত্তা ও আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়।

 

সাম্প্রতিক এই অস্থিরতায় যাত্রী ও এয়ারলাইনগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কারিগরি ও অপারেশনাল টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পেতে জনগণকে কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় ২০০–এর বেশি মার্কিন সেনা হতাহত: সেন্ট্রাল কমান্ড

ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি অভিযানে দুই শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলেন জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর পর সোমবার পর্যন্ত অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও এই যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।   তিনি জানান, আহতদের বেশির ভাগের চোট তুলনামূলকভাবে সামান্য ও ইতোমধ্যে ১৮০ জন আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে কী ধরনের আঘাত পেয়েছেন বা কীভাবে আহত হয়েছেন—এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।   এর আগে, এবিসি নিউজ জানায়, আহতদের মধ্যে দগ্ধ হওয়া, শেল বা বিস্ফোরণের টুকরার আঘাত এবং মস্তিষ্কে আঘাত (ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি) রয়েছে। অন্তত ১০ জন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।   নিহত ১৩ মার্কিন সেনা   সোমবার পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।   এ ছাড়া কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে পরিচালনাকেন্দ্রে ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। আর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে হামলায় আহত হয়ে আরেকজন সেনার মৃত্যু হয়েছে।   বাড়ছে সামগ্রিক প্রাণহানি   জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত দেশটিতে ১৩শ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি লেবাননে শতাধিক বেসামরিক নাগরিক ও অন্তত ১৫ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংঘাত নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। একদিকে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালি রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রণালি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে জড়ানো প্রয়োজন নেই।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব, না জড়িয়েও মূল্য দেবে ইউরোপ

ছবি : সংগৃহীত

জয়ের দাবি সত্ত্বেও কেন মিত্রদের সাহায্য চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদের আপত্তি, চাপে ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
ন্যাটোর পর চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের বন্ধ করে দেওয়া তেল-গ্যাস পরিবহনের অন্যতম বৈশ্বির জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলতে মিত্রদেশগুলোর পাশাপাশি চীনের দ্বারস্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী ওই জলপথ বন্ধ হওয়ায় কার্যত বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়ছে তেলের দাম। নিজ দেশে চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার তিনি এ নৌপথ সচল করতে মিত্রদের সহায়তা চেয়েছেন। তবে ইরানের হুমকির মুখে তারা এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছেন। এর মধ্যে সামরিক জোট ন্যাটোকে সহায়তা চেয়ে হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এরপর চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছেন ট্রাম্প। তবে চীন অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানের জবাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় জ্বালানিকেন্দ্রে ইরানের হামলা শিল্প খাতে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের গতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা চালানোর ফলে তেলের মূল্য ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করতে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানানোর পর গতকাল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, সংবিধানের যুদ্ধবিরোধী বাধ্যবাধকতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাহারার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা জাপানের নেই।   ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রধান মিত্র অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো অনুরোধ আসেনি। তারাও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথরিন কিং এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা জানি, এটি (প্রণালি উন্মুক্ত করা) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের কাছে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না।’ আর যুক্তরাজ্য বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দাবি পূরণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।   এর মধ্যে চীনের সহায়তা চেয়েছেন ট্রাম্প। গত রোববার ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন, এ মাসের শেষে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের আগেই চীন হরমুজ প্রণালি সচল করতে সহায়তা করবে। যদি তারা সাহায্য না করে, তবে তিনি তার সফর পিছিয়ে দিতে পারেন।   ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনেরও সাহায্য করা উচিত। কারণ, চীন তাদের তেলের ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পায়। তারা যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে সহায়তা না দেয়, তবে আমরা সফর পিছিয়ে দিতে পারি।’ এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলতে সহায়তার জন্য ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ন্যাটো সদস্যরা ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হহলে এ জোটের ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে।   কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ছোট নৌ মিশন শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্থানীয় সময় বৈঠক করার কথা রয়েছে। তবে তারা এখনই অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ভূমিকা বৃদ্ধি করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে হয় না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে প্রণালিটি চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা ট্রাম্পের অনুরোধটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে। অবশ্য ইরানের কিছু জাহাজ এবং অন্য কয়েকটি দেশের অল্প কিছু জাহাজ সফলভাবে এ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করল ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত

আলোচনায় ইরানের ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ সেজিল

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরণ,বহু হতাহত

ছবি: সংগৃহীত
উত্তেজনার মধ্যেই ইউরোপের কাছে সাহায্য চাইল ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি চালু নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চাওয়ার পর এবার ইউরোপের কাছে সাহায্যের হাত পাতল ইসরায়েল। লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাহায্য চেয়েছে ইসরায়েল।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।   লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের ম্যাখোঁ যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লেবাননের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ এসেছে। তাই আলোচনা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। এর আগে হার্জোগ ইউরোপকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লড়াইয়ে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময় ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে স্থল অভিযান চালাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে ইউরোপের যে কোনো উদ্যোগকে এখনই সমর্থন করা উচিত’।   আলজাজিরা সোমবার জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এই অভিযান সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। লেবাননের খিয়াম শহরের আশপাশে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে স্থল অভিযানের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।   ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালালে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলমান। এতে প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ড্রোন হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে ফের চালু দুবাইয়ের আকাশপথ

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া পোস্ট, ১৯ ভারতীয়কে ধরার নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

আমিরাতের বড় তেলক্ষেতে ইরানের ড্রোন হামলা

0 Comments