অন্যান্য

ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস, চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. রাজেশ মজুমদার সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখতে যান। এ সময় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার বিষয়টি সামনে আসে।

ঘটনাটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তিন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রথমত, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না—সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা সেবা প্রদান থেকে তাকে বিরত রাখতে তার চিকিৎসা লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তৃতীয়ত, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

এখন থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক যদি ডিউটির সময়ে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেন, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একই ধরনের ব্যবস্থা সবার জন্য গ্রহণ করব। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো চিকিৎসক যদি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এই ধরনের কাজের নজরদারি করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সব জায়গায় কিছু গোপন ব্যাপারে আছে, কীভাবে উদ্যোগ নিচ্ছি, এটা ডিসকাস করব না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্যোগ নিয়েছি।

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গোয়েন্দা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে—সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো। এ ঘটনা থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবেন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন না।

সরকারি হাসপাতালের আশেপাশেই বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠছে এবং প্রতিনিয়ত সরকারি হাসপাতালে কর্মচারীরা রোগী ভাগিয়ে দেন। ডাক্তারদের সঙ্গে তাদের একটা সংযোগ আছে। এগুলো বন্ধে আপনারা কোনো উদ্যোগ নিবেন কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কারো ব্যক্তিগত প্রপার্টি বন্ধ করতে পারব না। আমরা চিন্তা করছি কী করা যায়, কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য কীভাবে বন্ধ করা যায়। এজন্য আমাদের সার্ভিসটা বেটার করে কীভাবে রোগী আটকে রাখা যায়, অল্প খরচে সেবা দেওয়া যায়।

সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যা এখনও কম। এই সংকট কাটাতে সরকার পর্যায়ক্রমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে এবং আরও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস, চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. রাজেশ মজুমদার সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখতে যান। এ সময় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনাটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তিন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথমত, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না—সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা সেবা প্রদান থেকে তাকে বিরত রাখতে তার চিকিৎসা লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তৃতীয়ত, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক যদি ডিউটির সময়ে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেন, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একই ধরনের ব্যবস্থা সবার জন্য গ্রহণ করব। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো চিকিৎসক যদি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এই ধরনের কাজের নজরদারি করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সব জায়গায় কিছু গোপন ব্যাপারে আছে, কীভাবে উদ্যোগ নিচ্ছি, এটা ডিসকাস করব না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্যোগ নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গোয়েন্দা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে—সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো। এ ঘটনা থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবেন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন না। সরকারি হাসপাতালের আশেপাশেই বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠছে এবং প্রতিনিয়ত সরকারি হাসপাতালে কর্মচারীরা রোগী ভাগিয়ে দেন। ডাক্তারদের সঙ্গে তাদের একটা সংযোগ আছে। এগুলো বন্ধে আপনারা কোনো উদ্যোগ নিবেন কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কারো ব্যক্তিগত প্রপার্টি বন্ধ করতে পারব না। আমরা চিন্তা করছি কী করা যায়, কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য কীভাবে বন্ধ করা যায়। এজন্য আমাদের সার্ভিসটা বেটার করে কীভাবে রোগী আটকে রাখা যায়, অল্প খরচে সেবা দেওয়া যায়। সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যা এখনও কম। এই সংকট কাটাতে সরকার পর্যায়ক্রমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে এবং আরও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
আটক মাহবুবুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

কলঙ্কময় এক রাত থেকে রক্ষা পেল ঢাবি: সর্ব মিত্র চাকমা

ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার নিবিড় তদারকি জোরদার করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত

বাবা-মা, স্ত্রী ও নিজের ব্যাংক হিসাব উন্মুক্ত করলেন আসিফ মাহমুদ

ছবি : সংগৃহীত
অনিশ্চয়তা পেরিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। পূর্ণাঙ্গ ৪০০ নম্বরের সিলেবাসে আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি (১৫-১৮ এপ্রিল) হবে এ পরীক্ষা। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা মূলত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মেধা-ভিত্তিক পরীক্ষা।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারই প্রথম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। তবে ফল প্রকাশ ও বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটা ও পৃথক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার মান যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এরই মধ্যে পরীক্ষার নতুন খসড়া কাঠামো প্রস্তুত করেছে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই এই পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। পাঁচ বিষয়ে ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, গণিতে ৩০০ নম্বর এবং বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে ১০০ নম্বরের সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে একই প্রশ্নপত্রে সরকারি ও বেসরকারি— সব ধারার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও ফল প্রকাশ ও বৃত্তি বণ্টনে থাকবে আলাদা মোডালিটি। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং সাড়ে ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রথাটি মূলত ২০০৯ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে ওই বছর থেকেই সারা দেশে অভিন্ন ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী’ পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল এবং এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে আবারও আলাদা ‘বৃত্তি পরীক্ষা’ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তা আবারও স্থগিত থাকে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সাল থেকে পুনরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সে অনুযায়ী কেবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা ‘বৈষম্যমূলক’ দাবি করে বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন–সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রথমে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং পরে রায়ে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি, রেজিস্টার্ড কিন্ডারগার্টেন ও অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সূত্র : ঢাকা পোস্ট

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0
এনসিপির লোগো ও যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাকাতের আত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল

শফিকুর রহমান

ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। ফাইল ছবি
এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা তানভীরর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে রোববার এ আদেশ দেন। তবে বিষয়টি জানা যায় মঙ্গলবার। মঙ্গলবার দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি আনব্লক চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।” এ আবেদন করার কারণ হিসেবে দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক প্রতিবেদন দিয়ে তা আদালতকে অবহিত করে। এর পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়। চব্বিশের আন্দোলনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত দল এনসিসির শীর্ষস্থানীয় নেতা তানভীরের ‘হঠাৎ বিলাসী জীবন’ এবং তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দলটিতে আলোচনার ওঠে। দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ আসার পর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল দলের যুগ্ম সদস্য সচিবকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এনসিপি। তখন জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও এনসিটিবির বই ছাপার কাজে ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও ‘হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগে তার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানেও নামে দুদক। পরে ২৭ মে সংস্থাটির আবেদনের প্রেক্ষিতে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ হয়েছিল। তখন দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, “অভিযোগ ওঠা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নামে বেনামে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। “অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন মর্মে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করা প্রয়োজন।”

মারিয়া রহমান মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

এসএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা

আবহাওয়া ভবন।

বৃষ্টি-তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

ছবি: সংগৃহীত

মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ক্যালেন্ডার আপলোডের সময়সীমা বৃদ্ধি

0 Comments