সারাদেশ

দাম না পেয়ে নদীতে পেঁয়াজ ফেললেন কৃষক

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ন‌্যায‌্য দাম না পেয়ে ক্ষোভে হড়াই নদীর পানিতে সেগুলো ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক।

 

মঙ্গলবার উপজেলার সোনাপুর বাজার সংলগ্ন সেতুর ওপর থেকে নদীতে এসব পেঁয়াজ ফেলেন কৃষক পলাশ মিয়া। পরে এ ঘটনার ভিডিও বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের পাশে পেয়াজের বস্তা ভর্তি একটি ভ্যানের ওপরে উঠেছেন একজন ব্যক্তি। এরপর ভ‌্যানে থাকা বস্তার রশি খুলে পেঁয়াজ নদীর পানিতে ফেলে দিচ্ছেন তিনি।

 

এ সময় যে কৃষক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন তাকে পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে শোনা যায়।

 

নিজের ভাষায় তিনি বলেন, “এই যে পেজ পানিতে ফেলে দিতিচি।পেজ ফেলে দিয়ে খালি বস্তা নিয়ে যাতিছি। যে দাম কয় তাতে কৃষকের পোষায় না এজন্নি পেজ পানিতে ফ‌্যালা দিয়ে যাতিচি।

 

তিনি আরও বলেন, “কৃষকের মনে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট। এই দেহেন ভালো পেজ। আমরা পেজ ফ‌্যালা দিছি সোনাপুর ব্রীজির পর। এই দেহেন পানিতে ভাসে যাচ্ছে। কৃষক ম‌্যালা কষ্টে পেজ ফ‌্যালা দিচ্ছে, হাটে পেজ চলতেছে না। সোনাপুর বাজারে মঙ্গলবারের দিন।”

এরপর ভিডিওতে নদীর পানিতে পেয়াজগুলো ভেসে যেতেও দেখা যায়।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর খবর নিয়ে জানা যায় ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম পলাশ মিয়া। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

 

এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে, ভালো ফলন পেয়েছেন জানিয়ে পলাশ মিয়া বলেন, “বাজারে তো পেজের দাম নাই। যহন পেজ মাঠ থেকে তুলি তহন ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা মণ পেজ বিক্রি করছি। এহন আসে সেই পেজ ৬শ-৭শ টাকায় বিক্রি করা লাগতেছে।

“এক মণ পেজ ঘরে তুলতি প্রায় ১৫শ টাকা খরচ হইছে। আর বিক্রি হচ্ছে ৬শ-৭শ টাকায়। এতে তো অনেক লস যাচ্ছে আমাদের।”

 

পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে এ চাষি বলেন, “পেজের তো মেলা গ্রেড আছে। ভালো পেজ বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা মণ। মঙ্গলবার আমি যে পেজ আনছিলাম বাজারে তা ছিলো বি গ্রেডের পেজ। যে কারণে বাজারে কোনো ব‌্যাপারি দামই কয় নাই। যে কারণে রাগে-দুঃখে ব্রিজের ওপর থেকে পেজ নদী ফেলে দিয়ে খালি বস্তা কয়ডা নিয়ে আসি।”

 

তিনটি বস্তায় চার মণ পেঁয়াজ ছিল বলেও জানান তিনি।

 

‘পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা তাদের পেঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন‌্য আনছেন। কেউ ভ‌্যানে, কেউ ইঞ্জিন চালিত নছিমনে।

 

স্থানীয় ব‌্যাপারিরা কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা পেঁয়াজ তাদের শ্রমিক দিয়ে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।

 

এ বাজারে মানভেদে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। দাম কম থাকায় অনেক কৃষকই তাদের পেঁয়াজ বিক্রি না করেই চলে যাচ্ছে।

 

পেঁয়াজের হাটে কথা হয় কৃষক আয়নাল শেখের সঙ্গে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কৃষক এবার একদম শ‌্যাষ। পিজির দাম নাই। এক বিঘেয় পিজি উৎপাদনে ম‌্যালা খরচ হয়ছে। সারের দাম বেশি, ত‌্যালের দাম বেশি, শ্রমিকের দাম বেশি। প্রতি বিঘেয় খরচ পড়ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়।

 

“আর যারা জমি শোনকারি নিছে তাদের তো আরও খরচ বেশি। এই দামে পিজি বেচে খরচ উটতেছে না।”

 

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক পেঁয়াজ চাষি কাশেম প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। একে তো মণ প্রতি তিন চারশ করে লস যাচ্ছে তার ওপর বাড়িতে সংগ্রহ করে রাকতে গেলেও খরচ বাড়তেছে।

 

“পিজ যাতে না পচে তার জন‌্য ঘরে ফ‌্যান লাগাইছি। বিদুতের দাম বাড়েচে ডাবল। আগে ৫শ টাকা লাগলি এহন লাগে ১ হাজার। তালি কন কোন দিক যাবো।”

 

আরেক কৃষক সুলতান বিশ্বাস বলেন, “যে দাম পাচ্চি আরবছর আমি পিজির আবাদ কম করবো। পিজি যদি লস যায় তালি সেতা তো করা যাবি না। সরকার ব‌্যাটারে কন আমাগে ইটু বাচাক। পিজির দাম ইটু বাড়ালি আমরা বাচপো না হলি শ‌্যাষ।”

 

কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ‌্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ আবাদ না করে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করায় উৎপাদন বেড়েছে।

 

তিনি বলেন, “এখনো কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণে আছে। বর্তমানে বাজারে দাম কম পাওয়ায় কৃষকদের মনটা খারাপ। সাথে সংরক্ষণ খরচও রয়েছে। আমি আশা করি সামনে পেঁয়াজের দাম বাড়বে, কৃষক ন‌্যায‌্য মূল‌্য পাবে।”

 

রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, “পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণ করাটা চ‌্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের ওপরে মূল‌্য নির্ধারণ হয়ে থাকে।

“কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিবছর ন্যূনতম মূল‌্য বেঁধে দেয়। তবে এ বছর এখনো মূল‌্য নির্ধারণ করে দেয়নি।”

 

নাঈম আহম্মেদ আরও বলেন, “আমি মনে করি চাহিদার থেকে উৎপাদন যখন বেশি হয় তখন বাজারটা কমে যায়। এক্ষেত্রে কৃষকের বাজার বুঝে উৎপাদন করাটায় তাদের কমতি আছে। অতিরিক্ত উৎপাদন করেছে এবং চাষিরা সঠিক পেঁয়াজের জাত নির্বাচন না করায় তারা সংরক্ষণ করতে পারছে না।

 

তিনি বলেন, “কৃষক যদি উৎপাদনের আগে কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদন করে তাহলে তারা এ ধরণের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে।”

 

পেয়াজ চাষিদের জন্য সরকার কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জেলাতে সাড়ে ৫ হাজার ব্লোয়ার মেশিন দিয়েছে। সেটা দিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকার যদি উপজেলা পর্যায়ে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কালেকশন সেন্টার করে এবং টিসিবির মাধ‌্যমে সরকার যদি পেঁয়াজ ক্রয় করে তাহলে কৃষকেরা কিছুটা মুক্তি পাবে।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ন্যানো ইউরিয়া
কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা: অনুমোদন পেল যবিপ্রবির ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট

দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। আজ রোববার বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছে। দেশের কৃষি খাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এ অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।     বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।      গবেষকের দাবি, এক বিঘা জমি চাষ করতে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকার ন্যানো ইউরিয়া। যেখানে ভর্তূকিসহ বর্তমানে খরচ প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসেবে প্রচলিত সারের চেয়ে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ কমবে প্রায় ৮২ শতাংশ। দীর্ঘ গবেষণার পর মাঠ পর্যায়ে এ সার ব্যবহারেও মিলেছে সাফল্য। প্রতি কেজি ইউরিয়া সরকার ৯০-৯২ টাকা দরে আমদানি করে। সেই হিসেবে বস্তাপ্রতি দাম পড়ে প্রায় ৪,২০০ টাকা। তবে বিঘা জমি চাষে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা। এটি স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।   ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন তিনি। পেটেন্ট অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ পেটেন্টের অনুমোদন পেয়েছি। এ অর্জনের পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’    এ গবেষক আরও বলেন, ‘দেশের মাটি, কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, সারের অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।’     সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে 

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাল থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে মহানগর এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত

খিলক্ষেতে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের ঘটনায় ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি, মুক্তির দাবি

ছবি: সংগৃহীত

চুয়েটে শাটডাউন প্রত্যাহার, শর্তসাপেক্ষে ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম। ফাইল ছবি
কুবির সাবেক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পাশে চিরকুট

নারায়ণগঞ্জর একটি বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।  শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভূইগড় কবরস্থান সড়কের দেলোয়ারের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। নিহত ফারজানা ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসুল্লিবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। আটক স্বামী নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদারবাড়ি এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, ফারজানার শয়নকক্ষের বিছানার ওপর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে স্বামীর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর কটূক্তি ও মন্তব্যের কথাও চিরকুটে লেখা ছিল বলে জানা গেছে।  ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে পারিবারিক সম্মতিতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নাজমুল কর্মহীন থাকায় তাদের পরিবারই দম্পতির সংসারের ব্যয় বহন করত। প্রায় দেড় বছর আগে নাজমুল চাকরিতে যোগ দেন এবং মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। আরিফুলের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জে থাকার সময় থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তার বোনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় চলে আসেন। ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।  ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় শয়নকক্ষ থেকে একটি চিরকুটও জব্দ করা হয়। সেখানে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর আচরণের কারণে আত্মহত্যার কথা লেখা ছিল। তিনি বলেন, নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজের কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনা

হোসেনপুর থানা, কিশোরগঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত

ইউপি নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক

সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২ কোটি টাকার পাট

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অগ্নিকাণ্ডে সাতটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে পাটের গুদামে থাকা তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে।   শনিবার রাত ৮ টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে ঘটনাটি ঘটে।   আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সদস্যরা দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮ টার দিকে ফলিয়া বাজারের একটি পাটের গুদামে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা বাজারের আরো কয়েকটি গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে একে একে সাতটি পাটের গুদাম ও দুটি কাঁচা মালের দোকান, একটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়।   আগুন লাগার খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। আগুন নেভানোর আগেই পাটের গুদামসহ দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।   বাজারের ব্যবসায়ী কাশেম মন্ডল জানান, "রাত ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি, গুদামগুলোতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। এতে সাতটি গুদামে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে। এসব পাটের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।"   ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, "আগুন লাগার খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।"

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

রাজউকের ডিজিটাল পারমিট সেবায় ৭ মাসে ১১ হাজারের কাছাকাছি আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

সাঈদীর মামলার বাদী মানিকের মৃত্যু, অবশেষে দাফনের প্রস্তুতি, খোঁড়া হচ্ছে কবর

0 Comments