উপকূলীয় জেলা ভোলার ৪১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) দিনভর জেলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দীন, তজুমুদ্দীন ও মনপুরা উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দীন) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি অনুষ্ঠানে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দীনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন।
প্রতিটি উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়ক হবে।
স্কুল ফিডিং বাস্তবায়নকারী সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এবং সংস্থার বাস্তবায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে দৌলতখান উপজেলার ১০৬টি, বোরহানউদ্দীন উপজেলার ১৫৬টি, তজুমুদ্দীন উপজেলার ১১০টি এবং মনপুরা উপজেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫২,৭২৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ডিম, কলা, রুটি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. খলিলুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, রাজবাড়ি ও গোপালগঞ্জ জেলার মোট ২, ৬৭৩টি প্রতিষ্ঠানে ৩,৬১,৭৩৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ডিম, রুটি ও কলা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা আগামী ১ বছর পর্যন্ত চলবে।
জিজেইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করবে, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াবে এবং ঝরে পড়া কমাবে। এ সংস্থাটির সাথে যৌথভাবে সরকার যে উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে, তা শিশুদের সুস্থ ও শিক্ষিত ভবিষ্যৎ গঠনে সহযোগী হবে।
জেলার বোরহানউদ্দীন উপজেলার ১ নং বোরহানউদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেদী মাসুদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. নাজনীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার সিআরইএ প্রকল্পের সমন্বয়কারী বাবুল আখতার। স্বাগত বক্তব্য দেন, সংস্থাটির পরিচালক (মনিটরিং ও ট্রেনিং) মো. হুমায়ুন কবির।
দৌলতখান উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার-পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদ উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন জিজেইউএস-এর এরিয়া ইনচার্জ প্রিয়লাল মণ্ডল। এ সময় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক মো. মজির উদ্দিন ও মাহাবুব আলম, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তজুমুদ্দীন উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মনপুরা উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পটুয়াখালীর বাউফলে এসএসসির ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষায় ৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) কালিশুরী এসএ ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের একটি ভিজিলেন্স টিম আকস্মিক পরিদর্শনে যায়। ভিজিলেন্স টিমের প্রধান বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের জীববিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান ২০২নং কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওই কক্ষের ৮ পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রে দাগ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে বাউফলের ইন্দ্রকূল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাকেরগঞ্জের কাঁকড়ধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন। এদিকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে কালিশুরী হাজেরা তালুকদার বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শংকর চন্দ্র ও শিরীন আক্তারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ইউসুফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার কেন্দ্রে মোট ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বেলা ১১টার দিকে ভিজিলেন্স টিম কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন।
৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল (বিমানের তেল) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘শিং তং ৭৯৯’। শনিবার বিকেলে জাহাজটি বন্দরে পৌঁছায়। তবে ১৮২ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটির ড্রাফট বেশি হওয়ায় সরাসরি মূল জেটিতে ভিড়তে পারেনি। ফলে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস শুরু হয়েছে। স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, আংশিক তেল খালাসের পর জাহাজটির ওজন কমলে সেটিকে বন্দরের জেটিতে নিয়ে আসা হবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট এ-১ ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এছাড়া একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘প্রিভে অ্যাঞ্জেল’ বন্দরে ভিড়েছে। এর আগের দিন তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ টন ডিজেল নিয়ে পাকিস্তানি ট্যাংকার ‘এমটি কোয়েটা’ বহির্নোঙরে অবস্থান নেয়। জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক এসব চালান দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের শিবনগর এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ডেপুটি স্পিকার ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তিনি সবাইকে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। তবে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সকল দলকে মিলিতভাবে একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশজুড়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আবারও সুজলা-সুফলা হয়ে উঠতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভর বিল থেকে আনছা বিল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।