তৃণমূল কংগ্রেসে যখন প্রতিদিন ভাঙন তীব্র হচ্ছে, সেসময় ২১ জুলাই ধর্মতলায় জমায়েতের ডাক দিলেন দলটির সভানেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতার আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোডে অবস্থিত রামমোহন লাইব্রেরিতে আয়োজিত এক কর্মীসভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর কলকতা সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি কুণাল ঘোষের আহ্বানে আয়োজন করা হয়েছিল এই কর্মীসভা। সেখানে অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ১২ মিনিটের ভাষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষণের বক্তব্যের মধ্যেই এ কর্মসূচির ডাক দেন তিনি।
মমতা বলেন, “২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। আমরা একটা দিনই মিটিং করি। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।’’
উল্লেখ্য, হাই কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে ২০১৮ সালের ২১ জুলাই সভা হয়েছিল বলে ইতিমধ্যেই আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এক জনস্বার্থ মামলাকারী। যার প্রেক্ষিতে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম বার ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতির ডাক দিলেন মমতা। রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, উত্তর কলকাতার কর্মীসভায় এ কথা বললেও, আসলে মমতা গোটা রাজ্যের সংগঠনের মধ্যেই একুশের বার্তা দিতে চেয়েছেন।
বামপন্থি সিপিএমের শাসনামলে তৃণমূল যখন বিরোধী পরিসরে ছিল, তখনও ২১ জুলাই বড় জমায়েত হত মমতার ডাকে। কিন্তু দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর এখন বিরোধী তৃণমূল দৃশ্যতই খানখান। ফলে এ বার ২১ জুলাই মমতার ডাকে জমায়েতের বহর কেমন হবে, তা একটি প্রশ্ন। নেতারা মমতার থেকে দূরত্ব রচনা করলেও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে এখনও মমতা-আবেগ কাজ করে কি-না, প্রশ্ন সেটিও।
বৃহস্পতিবারের ভাষণে এক দিকে নেতাদের শিবির বদল, অপর দিকে দলের কর্মীদের উপর হামলা নিয়ে বক্তৃতায় সরব হন মমতা। উল্লেখ করেন তার পরিবারের উপর ‘আক্রমণের’ কথাও।
মমতা বলেন, ‘‘কেউ কেউ নিজেকে বাঁচাতে, পরিবার বাচাতে বেইমানি করেছে। মা আপনাকে মানুষ করল, আর আজ যখন মা অসুস্থ তখন তাকে দেখবেন না?’’ মমতার এ কথা বলামাত্র করতালিতে ফেটে পড়ে রামমোহন লাইব্রেরি। সংসদীয় দল থেকে পরিষদীয় দলের বিদ্রোহীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘যাদের সুবুদ্ধি আছে, তারা ফিরে আসুন। আর যাঁরা ভাবছেন এই ভাবে চলবেন, তারা কিন্তু না ঘর কা না ঘাট কা হয়ে থাকবেন।”
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইডি, সিআইডির তলব, প্রতিটি বিষয়ে আদালতে যাওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তৃণমূলের নেত্রী। মমতা বলেন, “আজকে ভাবুন তো আমাদের পরিবারের উপর দিয়ে কী যাচ্ছে! আমার দুই ভাইকে আগেই আমি তাড়িয়ে দিয়েছি। সব পরিবারে সবাই সমান হন না; কিন্তু অভিষেকের বাবা-মা আমার সঙ্গে থাকেন। আজকে অভিষেককে রেগুলার কোর্টে যেতে হচ্ছে। রোজ সিআইডি, ইডি ডাকছে।”
সম্প্রতি বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভাঙাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পূর্ব উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার নির্দেশ নস্যাৎ করে, প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়ে ঋতব্রতই এখন বিরোধী দলনেতা। নাম না-করে মমতা আক্রমণ করেন ঋতব্রতকেও। তিনি বলেন, “বিজেপি স্পন্সর্ড সিপিএমের নেতা। তবে সিপিএম একটা কাজ ভাল করেছিল। এটাকে বহিষ্কার করেছিল।’’
এদিকে মমতার আক্রমণে প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “কুণালবাবু তো আমায় বলেছেন চারআনার নকুলদানা। তা হলে আমায় নিয়ে নেত্রী এত সময় নষ্ট করছেন কেন?”
সূত্র : আনন্দবাজার
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ সম্পন্ন হবে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে রোববার এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত আগস্ট থেকে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দুই দেশ— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর একের পর এক নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর পোর্ট হুরনে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টির নিষ্পত্তি করব। এই মুহূর্তে তারা আমাদের যেকোনো কিছু দিতে প্রস্তুত।’ শহরটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমাবেশে ট্রাম্প আবারও কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করে আসছে। গত আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় পড়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও রয়েছে। এর জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প পরে কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন। তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউস এসব শুল্কের কিছু অংশ প্রত্যাহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সের অনুরোধের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মেইন অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এ লক্ষ্যে তারা কলিন্সের আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। তার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে। এ ছাড়া, তিনি কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকিকে সরাসরি রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
গত আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীনের বিরল খনিজ উপাদান (রেয়ার আর্থ) আমদানি ২৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২১ টনে পৌঁছেছে, যার ৭০ শতাংশই সরবরাহ করেছে মিয়ানমার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মিয়ানমারের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা এবং ভারতের আগ্রহের পর জান্তা সমর্থকেরা দাবি করছেন যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জান্তা সরকারের হাতে এই বিরল খনিজের খনিগুলো একটি বড় হাতিয়ার। কিন্তু বাস্তবে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ ও আঞ্চলিক তথ্যে দেখা গেছে, চীনের সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা মিয়ানমারের প্রায় ৬০০টি বিরল খনিজের খনিগুলোর প্রায় কোনোটিই জান্তা সরকারের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণে নেই। পাঁচ বছর পর মা সু চির সঙ্গে ফোনে কথা বলে যা জানালেন তার ছেলেপাঁচ বছর পর মা সু চির সঙ্গে ফোনে কথা বলে যা জানালেন তার ছেলে বৈদ্যুতিক যানবাহন, উইন্ড টারবাইন, স্মার্টফোন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল উপাদান হিসেবে ভারী রেয়ার আর্থ (এইচআরইই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বৈশ্বিক নিষ্কাশনের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের নিজস্ব মজুত মূলত হাল্কা রেয়ার আর্থ কেন্দ্রিক। ফলে দেশটি মিয়ানমারের উত্তরের খনি বলয়ের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় অর্ধেক ভারী রেয়ার আর্থ আসে মিয়ানমার থেকে, বিশেষ করে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য জরুরি ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম। স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, কাচিন রাজ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ খনি অবস্থিত, যার মধ্যে ছিপউই ও মোমাউক অঞ্চলে ৩৭০টিরও বেশি সক্রিয় খনি রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এগুলো জান্তা-মিত্র মিলিশিয়া নিউ ডেমোক্র্যাটিক আর্মি-কাচিনের (এনডিএ-কে) নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা থেকে জান্তা জেনারেলরা কোটি কোটি ডলারের কর পেতেন। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে এই খনিগুলো দখল করে নেয়। অন্যদিকে শান রাজ্যেও গত পাঁচ বছরে খনি কার্যক্রমে ৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা এখন তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মির (এনডিএএ) মতো সশস্ত্র দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও নির্ভুল পারমাণবিক আলোকঘড়ি বানালেন চীনা বিজ্ঞানীরাআরও নির্ভুল পারমাণবিক আলোকঘড়ি বানালেন চীনা বিজ্ঞানীরা খনিগুলো মূলত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় পরিবেশগত তোয়াক্কা না করে এসিড দ্রবণ ঢেলে ইন-সিটু লিচিং পদ্ধতিতে খনিজ উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব রাসায়নিক সরাসরি এনমাই খা নদীতে মিশে মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান জীবনরেখা ইরাবতী নদীকে মারাত্মক দূষিত করছে। এদিকে, বেইজিংয়ের প্রভাব রুখতে ওয়াশিংটনও এই খনিজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মিয়ানমারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা প্রকাশ করে। এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা টোকিওতে জান্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে জোড়া বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি ভারতও তাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে এসব খনি খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে খনিগুলোতে মিয়ানমার সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নাই।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সম্ভবত সিনেটেও জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হলে দুই বছর ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ তুলে ধরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণা ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধে চাপ চলতি বছরের শুর থেকে প্রায় ৮ মাস ধরে চলমান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ডেমোক্র্যাটরা একাধিকবার প্রস্তাব এনেছেন। রয়টার্স বলছে, তার মধ্যে একটি প্রস্তাবে কয়েকজন রিপাবলিকান সমর্থন দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা উপেক্ষা করে। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিরক্ষা ব্যয় কমিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে ট্রাম্পকে চাপ দিতে পারেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগও নিতে পারেন তারা। ইউক্রেনকে নতুন সহায়তা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইউক্রেনকে সরাসরি মার্কিন আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অনেকটাই বন্ধ রেখেছেন ট্রাম্প।তবে দুই দলের বহু আইনপ্রণেতা ইউক্রেনকে সহায়তার পক্ষে। আসন্ন নভেম্বরে উভয় কক্ষে জয় পেলে ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে নতুন সহায়তার প্রস্তাব ভোটে তুলতে পারবেন। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলে ট্রাম্পের ভেটোও অতিক্রম করা সম্ভব। রুশ ডিজেল বিশ্ববাজারে ফেরানোর পরিকল্পনা ঠেকাতেও উদ্যোগ নিতে পারেন তারা। ইসরায়েলকে সহায়তা কমানোর উদ্যোগ গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ব্যাপক প্রাণহানির কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে।গত অর্থবছরে ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেমোক্র্যাটরা এই সহায়তা কমানো বা বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সামরিক বাজেট বৃদ্ধি ঠেকানো এবং তার প্রশাসনের বাতিল বা আটকে রাখা বৈদেশিক সহায়তার অর্থ পুনর্বহাল করাও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রাধিকার হতে পারে। চলতি বছর সামরিক বাজেট ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেড় লাখ কোটি ডলারে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সামাজিক কর্মসূচিতে কাটছাঁট ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ না করার অভিযোগ তুলে ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন।