সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ-পরিবহন এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, তিন ধরনের যাত্রী মেট্রোরেল ও দূরপাল্লার রেলে ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট সুবিধা পাবে। তারা হলেন— বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং ছাত্র বা শিক্ষার্থী। তবে, তাদেরকে যথাযথ আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে।
আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, যেহেতু ঈদের অল্প দিন বাকি, আমরা ঈদের আগেই চেষ্টা করছি। সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা একটু কম, কিন্তু আগামী কোরবানির ঈদের আগে নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিত হবে এবং টিকিটের ২৫ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে চলতে পারবে।
ট্রেনের টিকিটগুলো তো অনলাইনে হয়, অনলাইনে ডিসকাউন্ট টিকিট কীভাবে হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে ওখানে অপশন থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, আপনি আইডি কার্ড দেখালে ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলেই আপনাকে ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট করতে হবে। স্টুডেন্ট আইডি কার্ড শো করতে হবে এবং যারা ডিজেবল পিপল আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও যেটা হবে, তাদেরও একটি কার্ড আছে। সেটা প্রদর্শন করলেই তারা সেই ডিসকাউন্টের সুবিধা পাবেন।
রেলের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার উপর বিগত সরকার কাজ করেও আসলে রেলের কোনো উন্নয়ন কাগজে-কলমে ছাড়া দেখাতে পারেনি। আমরা দেখি রেলের ইঞ্জিন কম, রেল চলে না, থেমে যায়।
এইসব বিষয়ে আসলে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, সহজ কথা হচ্ছে যে— আমরা রেলের একেবারে সার্বিক উন্নয়ন চাচ্ছি। এখন যে সমস্ত ট্রেন চালু আছে, তার গতি বৃদ্ধি এবং অল্প সময় যাতায়াত কীভাবে করা যায় তার জন্য বিদ্যমান কিছু প্রকল্প আরো বেগ পাবে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে।
তিনি বলেন, নতুন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। যার ফলে রেলের বিদ্যমান যে অবস্থা আপনারা দেখছেন যে— সেবা এবং যে সার্ভিস এখানে আছে, সেটা আরো শক্তিশালী হবে, জনবান্ধব হবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রীদের মানসম্মত যাত্রা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি ৮৫ থেকে ৮৬ টা লোকোমোটিভ ইউজ করতে পারি কি না। সেটা যদি আমরা করতে সক্ষম হই, আমার মনে হয় ট্রেনের শিডিউল ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী ঈদের সময়ে চলে আসে সেটাও আমরা বহন করতে সক্ষম হব। বিধায় মনে করছি, কোনো শিডিউল বিপর্যয় হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, সরকার ঈদের আগ মুহূর্তে রাস্তাঘাটে যে যানজট হয়, সড়কে হয় এবং লঞ্চেরও এক ধরনের চাপ থাকে— সার্বিক বিষয়ে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এটা নিয়ে গত প্রায় ধরেন ১০ দিন ধরে কাজ করছি। সমস্ত মন্ত্রণালয়গুলো এখানে যারা যুক্ত আছেন এবং যারা মাঠে কাজ করবেন, তারপর মোবাইল টিম, নৌ-পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনীও কাজ করবেন।
মন্ত্রী বলেন, রাস্তার ওপর যাতে যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান তৈরি না হয়, বাজার ঘাটগুলো লেনগুলোকে কাজে লাগানো যায়, দখল যাতে না থাকে অস্থায়ীভাবে যেমন বাজার বসে যায়, ঈদের সময় সেগুলো থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, যানবাহনে ভাড়া কেউ বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এটা নিয়ে বাস মালিক সমিতি আছে, লঞ্চ মালিক সমিতি আছে, তাদের সাথে বসেছি। তারা অঙ্গীকার করেছে এবং আমরা তাদেরকে কিন্তু নজরদারিতে রেখেছি এবং যেকোনো মূল্যে আমরা এটা প্রতিষ্ঠিত করবো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সাথে তাঁর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার Pranay Verma আজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও যুদ্ধের চ্যালেঞ্জিং মূহুর্তের বর্ননা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সরকার ও সাধারণ জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য তিনি ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারতের কূটনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস । তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। স্বাক্ষরিত এম এ খায়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মোবাইল ০১৭১৬০৬৬৮৮৮
গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে ঘোষিত সংস্কারসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। আজ মঙ্গলবার কুমিল্লা নগরীর স্টেশন ক্লাবে আয়োজিত এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো গণতান্ত্রিক চর্চার মূলভিত্তি। গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, দল দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বিরোধী অবস্থানে অটল রয়েছে। তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া বলেন, গণভোটের ফলাফলের প্রতিফলন ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংস্কার বাস্তবায়নে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এনসিপির উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ইফতার মাহফিলে এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, বিভাগীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহসহ মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অমর একুশে বইমেলা’র ৬ষ্ঠ দিনে আজ নতুন বই এসেছে ৬৫ টি। মোলা দুপুর ২ টায় মেলা শুরু হয়ে চলে রাত ৯ টা পর্যন্ত। বিকেল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। মহিউদ্দিন আহমদ প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছে তাজউদ্দীন আহমদ খুবই প্রাসঙ্গিক একটি নাম। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪০ এর দশকে ঢাকায় মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একপর্যায়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিহাস আমাদের এমন কিছু সময় ও ঘটনার মুখোমুখি করে, যেটাকে আমরা বলি ক্রান্তিকাল। তাজউদ্দীন আহমদ এমনই একটি সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৯৭১ সালে। ওই সময়টি তাঁর এবং সমগ্র জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতিতে যতদিন সক্রিয় ছিলেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে চালকের অবস্থানে বসে যুদ্ধের সমন্বয় ও পরিচালনা, সেইসঙ্গে স্বাধীনোত্তর দেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা তাজউদ্দীন আহমদকে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ও পরে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে উঠে এসেছিলেন তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত মনন ও ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টিই তাকে নেতা করে তুলেছিল। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আলী আহমদ। বিকেল ৪ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পরিবেশিত হয়। আগামীকালের বুধবার দুপুর ২ টায় মেলা শুরু হয়ে এবং চলবে রাত ৯ টা পর্যন্ত। বিকেল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : সন্জীদা খাতুন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করবেন ভীষ্মদেব চৌধুরী। এছাড়া বিকেল ৪ টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।