জাতীয়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোস্তফা সরায়ার ফারুকী। তার অধীনে মন্ত্রণালয় যেসব কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন তা হলো- বহু জাতি,বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশ। এই বহুত্বকে উদযাপন এবং বহুত্বের পৃষ্ঠপোষকতা করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক জাতীয় সংস্কৃতি নীতি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট থেকে ‘কুইন্টিসেন্স অফ নজরুল ’  (নজরুল নির্যাস) শিরোনামে নজরুল সাহিত্য ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে নজরুল সাহিত্যের বিশ্ব যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নজরুল সাহিত্য অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও অনেক ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করবে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় নজরুলের গানের রক কনসার্ট-যা দেশের তরুণ সংগীত পিপাসুদের কাছে দারুণ উপভোগ্য ছিল।  
ফেস্টিবল ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হচ্ছে : সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবসমূহকে সম্মান জানানো এবং উদযাপনের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ফেস্টিবল ক্যালেন্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং দেশের সকল অঞ্চলের শিল্পের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা কিংবদন্তি শিল্পীদের জন্ম ও মৃত্যু জয়ন্তী পালন।

একুশে পদক শুধু রাষ্ট্রীয় পদক বা একটি সম্মাননা নয়, এটা একইসঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দর্শনেরও প্রকাশ। নতুন বাংলাদেশের নতুন সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় বিগত দুই বছরে যে গুণিজনদের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে, তাদের নামের তালিকা দেখলেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের নতুন পথযাত্রার রূপরেখা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি গত বছর থেকে স্বাধীনতা পদক প্রদানের ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বদরুদ্দীন উমর, আবরার ফাহাদ, নভেরা আহমেদ এর মধ্যেই তার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভোটের গাড়ি কাজ করেছে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ভোটের আগ পর্যন্ত ঘুরেছে এসব ভোটের গাড়ি। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত ভিডিও, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র, পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ ও জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ’ ও জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং ২৫টি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান দুটি আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। 

বাংলার লোক ঐতিহ্যের যাত্রাশিল্পকে ঘিরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৫ টি যাত্রাদলের অংশগ্রহণে ‘ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব-২০২৫’। উৎসবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবন ও যুদ্ধকালীন ভূমিকা অবলম্বনে যাত্রাপালার আয়োজন। আগামী মার্চে সারা দেশে এটা প্রচারিত হবে। 

৬৪ জেলায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন-২০২৫, অ্যাক্রোবেটিক শো, যাত্রাপালা, বিজয় দিবস কনসার্ট, ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে বিজয় মেলায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান আয়োজন।

শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বছর জুড়ে ২৪ টি সাধুসঙ্গ ও বিভিন্ন ভাবগানের আসরের আয়োজন করা হয়েছে। 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শিল্প সংস্কৃতির নানা মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর্ট রেস্টোরেশন প্রশিক্ষণ- ১৫ জন বাংলাদেশি শিল্পী চীনে তিন সপ্তাহ ব্যাপী রেস্টোরেশন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। 

ড্রোন ডিসপ্লে সারা পৃথিবীতে দ্রুত প্রসারমান একটি নিউ মিডিয়া। গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম থেকে শুরু করে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের সচেতনতামূলক কাজসহ সারা দুনিয়াতেই এর ব্যাপক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া উৎসাহীদের এই নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য সম্প্রতি চীন সরকারের সহযোগিতায় চীনে একটি আবাসিক ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়েছে। মিউজিয়াম ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল দেশে ফিরে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে। 

আগামী বছর থেকে বিকন হাউসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আলাপের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য আর্কিওলজিক্যাল সাইটগুলোকে ঘিরে সাংস্কৃতিক উৎসবের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ছবিমেলা-বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবারের মতো এ মন্ত্রণালয় ছবিমেলার সঙ্গে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়ে ফটোগ্রাফি এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্ট ইভেন্টের সাথে যুক্ত থাকার বার্তা দিয়েছে। সেলিব্রেটিং বাংলাদেশি কালচার, হোম অ্যান্ড অ্যাবরোড এর আওতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো সদর দফতরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীতের মধ্য দিয়ে একুশ, জুলাই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া চীন ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হয়েছে। 

বাংলার আবহমান কালের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে চর্যাপদ, মৈমনসিংহ গীতিকা, লালন, হাসন, শাহ আব্দুল করিমসহ নানা সময়ের ঐশ্বর্যের দিকে তাকালেই অনুধাবন করা যায় সংগীত আমাদের সৃজনশীল প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে ‘নদীপথে সুরভ্রমণ’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর আওতায় দেশের নানা অঞ্চলের নানা ধরনের গান এ সময়ের শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। এই আয়োজন দেশের শ্রোতাদের পাশাপাশি বিশেষভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।  

দেশের সকল শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। দেশজুড়ে সংগীত স্কুলগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। বান্দরবান থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত সারাদেশে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সকল সংগীত স্কুলকে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বছর শেষে এই সংগীত স্কুলগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শ্রেষ্ঠ পাঁচটি স্কুলকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হবে । এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। নারীদের জুলাই, জুলাইয়ের নারীরা-এ বিষয়ে ২০২৪ এর মৃতপ্রায় আন্দোলনকে জীবিত করেছে জুলাইয়ের নারীরা। এই নারীদের সেলিব্রেট করার জন্য জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হয় সেলিব্রেটিং জুলাই উইমেনস ডে দ্বারা। নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিধান। জুলাই পুনর্জাগরণ নিয়ে নানা অনুষ্ঠানমালা করেছে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নিত্যপণ্য ও এলপি গ্যাস বিক্রিতে অনিয়ম, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ফল, ভোজ্যতেল ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ৩০ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   রোববার (৪ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসব অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, কেনাবেচার ভাউচার সংরক্ষণ ও দেওয়া, সঠিক ওজন এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।   অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করাই এ তদারকির উদ্দেশ্য।   অভিযানে সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপি গ্যাস ডিলার পয়েন্টে অনিয়ম ধরা পড়ে। অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাজি আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ভাউচার সংরক্ষণ না করা, প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অপরাধ পাওয়া যায়। এসময় কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়।   তদারকিকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত ও পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।   ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশনার পাশাপাশি পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি না করতে বলা হয়েছে। ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক কিংবা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।   ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা এবং কেনার রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে।   কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

১০টি এয়ারবাস কিনতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ, চুক্তিসই বুধবার সন্ধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত

চকবাজারে প্লাস্টিক কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, রাবিতে লাঠি-বেসবল ব্যাট নিয়ে ছাত্রদল নেতা

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ, বাগেরহাটে এসআই প্রত্যাহার

বাগেরহাটে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠায় দ্বীপ মন্ডল নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।   রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দ্বীপ মন্ডলের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে এসআই দ্বীপ মন্ডলকে স্থানীয়রা আটক করেন। তার বিরুদ্ধে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।   দ্বীপ মন্ডল বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্বের কারণে ওই এলাকায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে জানা গেছে।   বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের পর এসআই দ্বীপ মন্ডলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই দ্বীপ মন্ডলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

উপকূলীয় ১৪ জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার স্বীকৃতির দাবি

সংগৃহীত ছবি

টেকসই নগরায়নে প্রতিটি সিটি ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যানের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে ফিক্সেশন শুরু, অক্টোবরেই মিলবে বকেয়া

নতুন বেতনকাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে পাবেন। তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না।     গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোতে নির্ধারিত মূল বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।       অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রম আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করতে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।       সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে।       এ জন্য চাকরিজীবীদের পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্ম তারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও মিলিয়ে দেখতে হবে।     পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্যও দিতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।       সংশ্লিষ্টরা বলছে, এসব তথ্য ঠিক না থাকলে নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে না। ভুল তথ্যে হতে পারে হিসেবে গরমিল। যার ফলে বিপদে পড়তে পারেন সরকারি চাকরিজীবী।         নতুন কাঠামোতে কার মূল বেতন কত হবে, তা বেতন নির্ধারণের মাধ্যমে ঠিক হবে। বেতন নির্ধারণের বিষয়টি সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে পে ফিক্সেশন হিসেবে পরিচিত।       নতুন ও আগের বেতনের পার্থক্য এবং কার্যকর তারিখ বিবেচনায় নিয়ে বকেয়া হিসাব করতে হবে।       বর্তমান বিএনপি সরকার গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।       প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, তার ভিত্তিতে নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণ করা হবে। নতুন ও পুরনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।         ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।       বেতন নির্ধারণ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের ‘সেবা দেওয়া সক্ষম করতে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি’র (এসপিএফএমএস) আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

জান্তা-আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি

আইপিইউ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পীকার

0 Comments